নর্থ ক্যারোলিনার কারাগারে কয়েদিদের দখলচেষ্টা, জিম্মি দুই কারারক্ষীকে ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের উইন্ডসর শহরের বার্টি–মার্টিন রিজিওনাল ডিটেনশন সেন্টারে কয়েদিদের দখলচেষ্টার পর কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে শুরু হওয়া এ ঘটনায় দুইজন কারারক্ষীকে জিম্মি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এসবিআই) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৫টার দিকে কারাগারে থাকা ৮৮ জন কয়েদি দায়িত্বরত তিনজন কারারক্ষীর ওপর হামলা চালিয়ে স্থাপনাটির একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় একজন কারারক্ষী নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অপর দুইজনকে জিম্মি করা হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এসবিআই), এফবিআই এবং একাধিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর প্রথমে জিম্মি দুই কারারক্ষীকে নিরাপদে মুক্ত করা হয়। পরে বিশেষায়িত বাহিনী কারাগারে প্রবেশ করে ধাপে ধাপে পুরো স্থাপনাটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের পর সব কয়েদি ও কারাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের সামান্য আঘাত লেগেছে, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
বার্টি কাউন্টির শেরিফ টায়রন রাফিন জানান, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারাগারটির ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং কয়েদিদের অন্য নিরাপদ সংশোধনাগারে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে কী কারণে কয়েদিরা এই দখলচেষ্টায় নামে এবং ঘটনার সময় কেন মাত্র তিনজন কারারক্ষী দায়িত্বে ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বার্টি–মার্টিন রিজিওনাল ডিটেনশন সেন্টার মূলত বার্টি ও মার্টিন কাউন্টির বন্দিদের জন্য পরিচালিত একটি আঞ্চলিক আটককেন্দ্র। সাম্প্রতিক এই ঘটনা কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনবল সংকট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকানাডা থেকে নির্দিষ্ট কিছু মদ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আজ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর হয়েছে। চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ঘোষিত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর ২০২৫ সালের আমদানিমূল্য প্রায় ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার, আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের হিসাব অনুযায়ী। এর ৮৭ শতাংশ মদজাতীয় পানীয়। এটি আগের বছরের আমদানি ধরে করা হিসাব; আজ সীমান্তে আটকে দেওয়া পণ্যের মূল্য নয়। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় তালিকাভুক্ত কানাডীয় পণ্যের আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। দুগ্ধপণ্যের মধ্যে রয়েছে দুধ থেকে তৈরি হুইজাতীয় কিছু পণ্য। মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক কুইবেকের প্রতিষ্ঠান বিআরপি জানিয়েছে, তাদের তিন চাকার ক্যান-অ্যাম স্পাইডার ও ক্যানিয়ন মডেল নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। তবে চলতি মৌসুমের বেশির ভাগ উৎপাদন ও চালান শেষ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছরের আগে বড় প্রভাব আশা করছে না। বিরোধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের পণ্যে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। জবাবে কানাডা ৮ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক কার্যকর করেছে। কানাডার অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যভেদে সেই শুল্কের হার ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ। হোয়াইট হাউসের দাবি, মার্কিন মদ, দুগ্ধপণ্য ও যানবাহনের প্রতি কানাডার আচরণ বৈষম্যমূলক। অন্যদিকে কানাডা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবেই তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। দুই দেশের এই বিরোধের মধ্যেই এবার কিছু কানাডীয় পণ্যে শুল্কের বদলে সরাসরি আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলো। নিষেধাজ্ঞায় তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে এপিকে জানিয়েছেন বাণিজ্য আইনজীবী প্যাট্রিক চাইল্ড্রেস। তাঁর যুক্তি, তালিকাভুক্ত অনেক পণ্যে আগে থেকেই ৫০ শতাংশ শুল্ক ছিল, যা সেগুলোর আমদানি ব্যয়বহুল করে তুলেছিল। তবে নতুন পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ল।
নিউইয়র্কের সরকারি ভবনে প্রায় ৪ হাজার এফোর্ডেবল হাউসিং নির্মাণের পরিকল্পনা মামদানির
ট্রাম্প এতই জঘন্য যে, আমার লেখা যেকোনো ভয়ের গল্পের চেয়েও তা ভয়ংকর : স্টিফেন কিং
রেস্তোরাঁয় খেয়ে বিল ফাঁকি: গ্রাহকদের শায়েস্তা করতে সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করছেন নিউইয়র্কের মালিকরা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের স্টেটেন আইল্যান্ডে পার্সেল ডেলিভারি দিতে যাওয়া এক নারীকে বন্দুকের মুখে ধর্ষণের অভিযোগে চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডঙ্গান হিলস এলাকায় গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এই নির্মম যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গত সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, সাঁইত্রিশ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী এবং অভিযুক্ত কিশোর একে অপরের সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন। ভয়ংকর এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পুলিশ সন্দেহভাজনের একটি স্কেচ প্রকাশ করে তাকে খুঁজছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে ডঙ্গান হিলস অ্যাভিনিউ এবং জেফারসন স্ট্রিট এলাকায় ওই নারী একটি পার্সেল ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মাস্ক এবং হুডি পরা ওই কিশোর তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। অভিযুক্ত কিশোরের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং ওজন দুইশ পাউন্ডের কাছাকাছি হওয়ায় সে শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিল। আচমকা সে ওই নারীর মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত করে এবং এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। জঘন্য এই অপরাধ সংঘটিত করার পরপরই ওই কিশোর ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে ওই নারী ঘটনার সময় নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারি কোম্পানির হয়ে কাজ করছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে বয়স কম হওয়ায় অভিযুক্ত কিশোরের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হামলা, যৌন নিপীড়ন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা, জোরপূর্বক স্পর্শ করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই থেকে ভিসা ইন্টারভিউ, কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মা ও তার প্রেমিককে হত্যায় ১৮ বছরের তরুণীর ৫০ বছরের কারাদণ্ড
২০০ বছর পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে। তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা।
নিউইয়র্কে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধ র্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ৭ শিক্ষার্থী
মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে মিশিগানে বাংলাদেশি বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু