একটি অদ্ভুত অনুভূতি বা ‘স্বপ্নের ইঙ্গিত’ অনুসরণ করে লটারির টিকিট কিনেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার এক ব্যক্তি। পরে সেই টিকিটেই জিতে নেন ৫ লাখ ডলার। ঘটনাটি সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দক্ষিণ ক্যারোলিনা এডুকেশন লটারির তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ী ব্যক্তি জানান, একদিন হঠাৎ তার মনে হয়েছিল নির্দিষ্ট একটি দোকানে গিয়ে লটারির টিকিট কিনতে হবে। তিনি সেই অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রিনভিল শহরের পেন্ডলেটন স্ট্রিটে অবস্থিত ‘ক্র্যাকার জ্যাক’ স্টোর থেকে দুটি ১০ ডলারের ‘গোল্ড ভল্ট এক্সট্রা প্লে!’ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কেনেন।
দুটি টিকিটের একটি ঘষতেই তার সামনে আসে জীবনের সবচেয়ে বড় চমক। সেটিই ছিল ৫ লাখ ডলারের শীর্ষ পুরস্কারজয়ী টিকিট।
লটারি কর্তৃপক্ষকে ওই ব্যক্তি বলেন, এটি তার কাছে যেন এক ধরনের বিশেষ ইঙ্গিত ছিল। সেই অনুভূতি অনুসরণ করেই তিনি টিকিট কিনেছিলেন। তবে এত বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের পরও তার আনন্দ উদযাপনের খুব বেশি সময় ছিল না। কারণ, পুরস্কার জেতার খবর জানার পরও তাকে নিয়মিত কাজের জন্য কর্মস্থলে যেতে হয়েছে।
বিজয়ী জানান, পুরস্কারের অর্থের একটি অংশ তিনি পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করবেন। বাকি অর্থ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
নর্থ ক্যারোলিনা এডুকেশন লটারির তথ্যমতে, ‘গোল্ড ভল্ট এক্সট্রা প্লে!’ গেমে ৫ লাখ ডলারের শীর্ষ পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রায় ১১ লাখ ৭৬ হাজারে ১টি। বিজয়ী টিকিটটি বিক্রি করায় সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাও ৫ হাজার ডলার কমিশন পেয়েছে।
লটারির ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে, যেখানে বিজয়ীরা স্বপ্ন, অন্তর্দৃষ্টি বা ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে যারা লটারি খেলেন তারা মনে করিয়ে দেন, লটারি সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর একটি খেলা। স্বপ্ন বা অনুভূতির সঙ্গে জয়ের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক প্রমাণিত নয়। তাই দায়িত্বশীলভাবে এবং সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই লটারিতে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন নীতি ও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ফলে কিছু শ্রেণির আবেদনকারীর সুযোগ বাড়লেও অন্যদের জন্য প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতা, সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা এবং আবেদনকারীর অভিবাসন শ্রেণি এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন নীতিতে মার্কিন নাগরিকের স্বামী-স্ত্রী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং কিছু নিকট আত্মীয় এখনও তুলনামূলকভাবে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এছাড়া উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন—এমন আবেদনকারীরাও তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ও আর্থিক যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি ভাতা, খাদ্য সহায়তা, মেডিকেইড বা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীল আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আবারও ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি ফিরিয়ে আনছে, যার ফলে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা মূল্যায়ন করবেন। সংশ্লিষ্ট নীতি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এছাড়া প্রশাসন এমন একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে, যেখানে বিদেশে থাকা কিছু গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে এক লাখ ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, এর উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়া আরও কঠিন হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের কর্মসংস্থানভিত্তিক ও পারিবারিক অভিবাসনের আবেদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। অনেক আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যা সময় ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন নীতির ফলে অনেক পরিবার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বা খাদ্য সহায়তা নিতে ভয় পেতে পারে। তাদের মতে, এতে নিম্ন আয়ের অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড নীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা, কর্মদক্ষতা এবং অভিবাসনের আইনি ভিত্তি। ফলে যাদের স্থিতিশীল আয়, উচ্চ দক্ষতা বা শক্তিশালী পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে তারা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও নিম্ন আয়ের ও সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল অনেক আবেদনকারীর জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
মার্কিন সংগীতজগতের প্রখ্যাত সেশন কণ্ঠশিল্পী এবং কিংবদন্তি গায়ক স্টিভি ওয়ান্ডারের দীর্ঘদিনের সহশিল্পী জিম গিলস্ট্র্যাপ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে স্বাভাবিক কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ প্রকাশ করা হয়নি। জিম গিলস্ট্র্যাপের মৃত্যুতে মার্কিন সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ছিলেন সেই শিল্পীদের একজন, যাঁদের কণ্ঠ কোটি মানুষ শুনেছেন, কিন্তু অনেকেই তাঁর নাম জানতেন না। নেপথ্যের কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই তিনি বিশ্বসংগীতে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন। বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী স্টিভি ওয়ান্ডারের অমর গান ‘ইউ আর দ্য সানশাইন অব মাই লাইফ’-এর শুরুতে যে পুরুষ কণ্ঠ শোনা যায়, সেটি ছিল জিম গিলস্ট্র্যাপের। পরে গানটিতে যুক্ত হন লানি গ্রোভস এবং এরপর স্টিভি ওয়ান্ডার নিজে গানটি এগিয়ে নেন। গানটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং স্টিভি ওয়ান্ডারের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। শুধু একটি গানেই নয়, গিলস্ট্র্যাপ স্টিভি ওয়ান্ডারের ব্যাকিং ভোকাল দল ওয়ান্ডারলাভ–এর সদস্য হিসেবে একাধিক ঐতিহাসিক অ্যালবামে কাজ করেন। এর মধ্যে ‘টকিং বুক’, ‘ইনারভিশনস’ এবং ‘ফুলফিলিংনেস ফার্স্ট ফিনালে’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর কণ্ঠ এসব অ্যালবামের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জিম গিলস্ট্র্যাপের সংগীতজীবন পাঁচ দশকেরও বেশি সময় বিস্তৃত। তিনি শুধু স্টিভি ওয়ান্ডারের সঙ্গেই নয়, বিশ্বের বহু খ্যাতিমান শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কুইন্সি জোন্স, মাইকেল জ্যাকসন, অ্যারেথা ফ্র্যাঙ্কলিন, হুইটনি হিউস্টন, জর্জ বেনসন, বিল উইদার্স, গ্ল্যাডিস নাইট, লুথার ভ্যান্ড্রস, প্যাটি লাবেল, ডলি পার্টন, জেমস ইনগ্রাম, টেডি পেন্ডারগ্রাস, কেনি লগিনস এবং আরও অনেকে। সেশন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তাঁর অবদান মার্কিন জনপ্রিয় সংগীতের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ব্যাকিং ভোকালিস্ট হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও তিনি পরিচিতি পান। ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত তাঁর গান ‘সুইং ইয়োর ড্যাডি’ যুক্তরাজ্যের সংগীত তালিকায় চতুর্থ স্থানে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর-অ্যান্ড-বি তালিকায়ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। একই নামে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবামও শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। পরে তিনি ‘লাভ টক’ নামে আরেকটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন। জিম গিলস্ট্র্যাপ টেলিভিশন জগতেও স্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন। জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘গুড টাইমস’–এর থিম সংগীতে তাঁর কণ্ঠ ব্যবহৃত হয়, যা সে সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এছাড়া বিভিন্ন চলচ্চিত্র, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং অ্যালবামে তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে। জিম গিলস্ট্র্যাপ ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যিনি নিজে সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকলেও তাঁর কণ্ঠ অসংখ্য কালজয়ী গানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আধুনিক মার্কিন পপ, সোল ও আর-অ্যান্ড-বি সংগীতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।” তিনি নিউইয়র্ক সফরের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও অবাধ উপস্থিতির বিষয়েও আশ্বাস দেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনগতভাবে কী করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” করছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, আইন যা অনুমতি দেয়, তার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। মামদানির বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মনে করেন মেয়র মামদানি “গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করেন”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এসব মন্তব্য সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। এদিকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য আশ্বাসের পর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত অভিযোগে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির এই এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনও আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আদালতের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।