পোপ লিও

ছবি: সংগৃহীত
‘মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসক বিশ্বকে ধ্বংস করছে’—ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে পোপ লিওর কড়া বক্তব্য

বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও। তিনি বলেছেন, মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসকের কারণে বিশ্ব ধ্বংসের মুখে পড়ছে। ক্যামেরুনে দেওয়া এক বক্তব্যে পোপ লিও বলেন, মানবিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও পুনর্গঠনের পরিবর্তে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে যুদ্ধ ও অস্ত্রায়নে, যা মানবতার জন্য গভীর হুমকি।   তার এই মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সমালোচনার জবাবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প পোপকে লক্ষ্য করে একাধিক মন্তব্য করেন এবং তাকে ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করেন।   পোপ লিও আরও বলেন, যুদ্ধের পক্ষে ধর্মকে ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যারা ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করে সামরিক বা রাজনৈতিক স্বার্থকে বৈধতা দিতে চায়, তারা পবিত্রতাকে অপবিত্র করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এটি এক উল্টে যাওয়া বিশ্ব, যেখানে ঈশ্বরের সৃষ্টিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে”—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   এদিকে আফ্রিকা সফরের অংশ হিসেবে ইয়াউন্দে সফর করেন পোপ লিও। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট পল বিয়া-কে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে ধনী ও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে হবে। পরবর্তীতে তিনি বানমেন্ডা সফর করেন, যেখানে ২০১৭ সাল থেকে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।   ঔপনিবেশিক ইতিহাস থেকে উদ্ভূত এই সংকটে ইংরেজিভাষী অঞ্চলগুলোর স্বাধীনতার দাবির সঙ্গে ফরাসিভাষী কেন্দ্রীয় সরকারের সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। পোপের সফর উপলক্ষে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।   তবে শান্তি আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলেও পোপ লিও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সংঘাত এখনো ধর্মীয় যুদ্ধে রূপ নেয়নি এবং খ্রিষ্টান ও মুসলিম নেতাদের যৌথ উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
পোপ লিওকে উদ্দেশ্য করে নতুন বার্তা ট্রাম্পের
পোপ লিওকে উদ্দেশ্য করে নতুন বার্তা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরান ইস্যুতে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ভ্যাটিকানের প্রধান পোপ লিওকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া উচিত নয়।   বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, গত দুই মাসে ইরানে হাজারো নিরস্ত্র বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। তিনি পোপকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, এ বিষয়টি যেন গুরুত্বসহকারে দেখা হয় এবং ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। পোস্টের শেষে তিনি ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’ বলেও মন্তব্য করেন।   এর আগে, কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প পোপ লিওর সমালোচনা করে তাকে অপরাধ দমন ও পররাষ্ট্রনীতিতে দুর্বল বলে উল্লেখ করেছিলেন। জবাবে পোপ জানান, তিনি কোনো চাপ বা ভয়কে গুরুত্ব দেন না এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী পদক্ষেপের সমালোচনা করেন তিনি।   তবে ট্রাম্পের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার দাবি অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি হলেও ইরান সরকার জানিয়েছে, জানুয়ারির বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের কিছু বেশি। দেশের বাইরে থাকা বিভিন্ন সংগঠন এই সংখ্যা সাত হাজারের মতো বলে উল্লেখ করেছে।   অন্যদিকে, জাতিসংঘের একজন বিশেষ প্রতিবেদকের মতে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে বিশ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।   এদিকে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
মার্কিন অবরোধের ফলে চীনে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করবে রাশিয়া

ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধের কারণে চীনে যে জ্বালানি ও সম্পদের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে মস্কো প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ল্যাভরভ এই আশ্বাস দেন।    তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া নিঃসন্দেহে চীনের সম্পদের এই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম এবং যারা রাশিয়ার সঙ্গে ন্যায্য ও পারস্পরিক লাভজনক উপায়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সবার জন্যই মস্কোর সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। মূলত ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে চীন বর্তমানে মার্কিন অবরোধের কারণে ব্যাপক সংকটে পড়েছে, আর এই সুযোগেই রাশিয়া তাদের জ্বালানি অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার প্রস্তাব দিল।     সের্গেই ল্যাভরভ তার বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সব ধরনের প্রতিকূলতার মুখেও এই দুই দেশের সম্পর্ক অটল রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বিশ্বজুড়ে চলমান নানা অস্থিরতা মোকাবিলায় দুই দেশকে উচ্চমাত্রার সহনশীলতা ও শক্তি জোগাচ্ছে।  ল্যাভরভের মতে, পশ্চিমের চাপ বা কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার কৌশলগত মৈত্রী ভাঙতে পারবে না, বরং এই ধরনের সংকটময় পরিস্থিতি দেশ দুটিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে।   উল্লেখ্য যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনী কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই অবরোধ চলাকালীন বেইজিং কোনোভাবেই ইরান থেকে তেল কিনতে পারবে না।   চীন তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশের জন্য তেহরানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির শিল্প ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাবটি চীনের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে এবং এটি বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।   বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় উত্তেজনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি যে ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে, তা মোকাবিলায় রাশিয়া ও চীন একে অপরের প্রধান সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ল্যাভরভের বেইজিং সফর এবং পুতিন-শি জিনপিংয়ের মধ্যকার সমন্বিত অবস্থান মূলত পশ্চিমা শক্তিগুলোকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া যদি সফলভাবে চীনের জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে পারে, তবে বিশ্ববাজারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার এই নতুন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চীন কতটা নির্ভর করে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প–ভ্যাটিকান বিরোধে নতুন মাত্রা, পোপের পাশে ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্যাটিকানের ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ-এর মধ্যে চলমান বিরোধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা পেয়েছে। এবার পোপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান পোপের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের অপমান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহনকারী ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে অসম্মান করা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।   এর আগে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাব দেন পোপ লিও চতুর্দশ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো রাজনৈতিক চাপ বা সমালোচনায় ভীত নন এবং খ্রিস্টধর্মের মূল শিক্ষা অনুসরণ করেই ভ্যাটিকান বিশ্বশান্তির পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।   আলজেরিয়া সফরের সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পোপ বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের সমালোচনা করা কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে নয়, বরং এটি একটি নৈতিক অবস্থান।   উল্লেখ্য, রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প পোপকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, পোপ ‘ভালো কাজ করছেন না’ এবং তাকে ‘কট্টর বামপন্থিদের’ খুশি করার চেষ্টা বন্ধ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি জানান, পোপের প্রতি তার ব্যক্তিগত সমর্থন নেই।   এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা সেই এআই ছবি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
নিজের ছবি যিশুর রূপে শেয়ার, সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যিশু খ্রিস্টের আদলে নিজের একটি এআই-নির্ভর ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। পোপ লিও-র সমালোচনার পরই এই পোস্টটি সামনে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল এ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ছবিটি শেয়ার করেন ট্রাম্প। এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কড়া মন্তব্য করে পোপ বলেছিলেন, যারা যুদ্ধ শুরু করে তাদের হাত রক্তে রঞ্জিত থাকে এবং ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা গ্রহণ করেন না। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।   ট্রাম্প তার পোস্টে পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ ও ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যর্থ’ বলে সমালোচনা করেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, তিনি ক্ষমতায় না থাকলে পোপের পক্ষে ভ্যাটিকানে টিকে থাকা কঠিন হতো। তবে এই পোস্ট ঘিরে তার সমর্থকদের মধ্যেও ভিন্নমত দেখা গেছে; কেউ কেউ ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   এর আগেও ট্রাম্প বিভিন্ন জনপ্রিয় সিনেমা বা চরিত্রের আদলে এআই ছবি প্রকাশ করেছিলেন, যা প্রায়ই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনেও তিনি সরাসরি জানান, পোপের কর্মকাণ্ডে তিনি সন্তুষ্ট নন এবং অভিযোগ করেন, পোপ ইরানের পারমাণবিক ইস্যু ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অপরাধ নিয়ে নরম অবস্থান নিচ্ছেন—যদিও এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   অন্যদিকে পোপ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের মন্তব্যে তিনি বিচলিত নন। তার বক্তব্য, শান্তির আহ্বান কেবল ধর্মীয় শিক্ষার ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে এবং তিনি রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চান না। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতীকের অপব্যবহার না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই এই বাকযুদ্ধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে পোপ শান্তির বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান ও বিতর্কিত পোস্ট পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।   এদিকে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অস্থিরতাও বেড়েছে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   সূত্র: স্কাই নিউজ

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন পোপ চতুর্দশ লিও। অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনার সময় ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স চত্বরের দিকে মুখ করে অ্যাপোস্টলিক প্রাসাদের জানালা থেকে, ২২ মার্চ ২০২৬। ছবি: এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ‘মানবতার কলঙ্ক’: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান পোপ লিও’র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ‘সমগ্র মানব পরিবারের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন পোপ চতুর্দশ লিও। রোববার ভ্যাটিকান সিটি-র সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সাপ্তাহিক অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।   পোপ বলেন, চলমান যুদ্ধে নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু ও দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। “এত মানুষের কষ্ট এবং এই সংঘাতের শিকার নিরপরাধদের দুর্দশার মুখে আমরা নীরব থাকতে পারি না। তাদের যন্ত্রণা পুরো মানবজাতিরই যন্ত্রণা,”—যোগ করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই ধর্মীয় নেতা জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ সহিংসতায় বিপর্যস্ত অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি তিনি গভীর হতাশার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আরও বলেন, আমি আবারও জোর দিয়ে আহ্বান জানাচ্ছি—আমরা যেন প্রার্থনায় অবিচল থাকি, যাতে শত্রুতা বন্ধ হয় এবং শান্তির পথ উন্মুক্ত হয়।   পোপ লিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংঘাত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ হয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

নিহত দুই শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি

ডেস্ক রিপোর্ট মে ৫, ২০২৬ 0