বিশ্ব রাজনীতি

মার্কিন অবরোধের ফলে চীনে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করবে রাশিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ছবি - সংগৃহিত

ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধের কারণে চীনে যে জ্বালানি ও সম্পদের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে মস্কো প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ল্যাভরভ এই আশ্বাস দেন। 

 

তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া নিঃসন্দেহে চীনের সম্পদের এই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম এবং যারা রাশিয়ার সঙ্গে ন্যায্য ও পারস্পরিক লাভজনক উপায়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সবার জন্যই মস্কোর সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। মূলত ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে চীন বর্তমানে মার্কিন অবরোধের কারণে ব্যাপক সংকটে পড়েছে, আর এই সুযোগেই রাশিয়া তাদের জ্বালানি অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার প্রস্তাব দিল।

 

 

সের্গেই ল্যাভরভ তার বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সব ধরনের প্রতিকূলতার মুখেও এই দুই দেশের সম্পর্ক অটল রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বিশ্বজুড়ে চলমান নানা অস্থিরতা মোকাবিলায় দুই দেশকে উচ্চমাত্রার সহনশীলতা ও শক্তি জোগাচ্ছে। 

ল্যাভরভের মতে, পশ্চিমের চাপ বা কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার কৌশলগত মৈত্রী ভাঙতে পারবে না, বরং এই ধরনের সংকটময় পরিস্থিতি দেশ দুটিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে।

 

উল্লেখ্য যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনী কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই অবরোধ চলাকালীন বেইজিং কোনোভাবেই ইরান থেকে তেল কিনতে পারবে না।

 

চীন তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশের জন্য তেহরানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির শিল্প ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাবটি চীনের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে এবং এটি বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

 

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় উত্তেজনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি যে ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে, তা মোকাবিলায় রাশিয়া ও চীন একে অপরের প্রধান সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ল্যাভরভের বেইজিং সফর এবং পুতিন-শি জিনপিংয়ের মধ্যকার সমন্বিত অবস্থান মূলত পশ্চিমা শক্তিগুলোকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। 

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া যদি সফলভাবে চীনের জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে পারে, তবে বিশ্ববাজারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার এই নতুন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চীন কতটা নির্ভর করে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব রাজনীতি

View more
ছবি - সংগৃহিত
যে স্থানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী শান্তি আলোচনা

য়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলেও, কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার ক্ষেত্র প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দুটি শহরকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।   আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পরবর্তী ২০ বছর সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে, তেহরান পাঁচ বছরের একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে এই সময়ের ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।   অবরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন, এই কৌশলগত জলপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।   পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট একটি জটিলতা নিরসনেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আমেরিকানদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক স্থাপনায় ৪৫০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুঁতে রাখা হয়েছে।   ইরানিদের মতে, এই ইউরেনিয়াম অপসারণ করে সেটিকে তিন শতাংশেরও কম পরিমাণে লঘু করা সম্ভব, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার উদ্বেগকে অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।   এ সব বিষয়ে বর্তমানে আলোচনার জন্য দুটি সম্ভাব্য স্থান—ইসলামাবাদ ও ইস্তাম্বুলকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।   যদিও ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানের নাম নিশ্চিত করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে- বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

মার্কিন অবরোধের ফলে চীনে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করবে রাশিয়া

ছবি - সংগৃহিত

ট্রাম্পকে মোকাবিলায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ঐতিহাসিক জয় ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন

ছবি - সংগৃহিত

ইউরোপে ট্রাম্প ও পুতিনের ‘পোস্টার বয়’ অরবানের বিদায়: হাঙ্গেরির নতুন পথ

ছবি - সংগৃহিত
জেফরি এপস্টাইন বিতর্ক নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের আকস্মিক সাফাই: হোয়াইট হাউসে নতুন তোলপাড়

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ক্রস হল থেকে জেফরি এপস্টাইন বিতর্ক নিয়ে এক অভাবনীয় ও সরাসরি বিবৃতি দিয়েছেন।   টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দেওয়া এই ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, তিনি এপস্টাইনের কোনো শিকার নন এবং এই কলঙ্কিত ধনকুবেরের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়নি।   মেলানিয়া ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও বলেন যে, এপস্টাইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল না এবং তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সব মিথ্যা তথ্য এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।   ইরান যুদ্ধ নিয়ে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে রয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ফার্স্ট লেডির এমন বক্তব্য হোয়াইট হাউসকে নতুন এক রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, মেলানিয়া সম্ভবত এই বিতর্ক ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিষয়টি হিতে বিপরীত হয়ে আবারও নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে।   ভাষণে তিনি ২০০২ সালে এপস্টাইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার ইমেল বিনিময়ের বিষয়টিও তুচ্ছ ও নিছক একটি সাধারণ সৌজন্য বার্তা বলে বর্ণনা করেছেন।   তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রতিটি নারীর প্রকাশ্যে নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং তাদের সাক্ষ্য স্থায়ীভাবে কংগ্রেসের নথিতে সংরক্ষণ করা উচিত যা এক বিশেষ বার্তা বহন করে।   তবে এপস্টাইন কাণ্ডে বেঁচে ফেরা নারীদের একটি পক্ষ মেলানিয়ার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে একে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তারা অভিযোগ করেন যে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও এপস্টাইন ফাইল স্বচ্ছতা আইন পুরোপুরি পালন করছে না এবং বিচার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।   এদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা মেলানিয়াকে কংগ্রেসের সামনে সশরীরে হাজির হয়ে শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি তুলেছেন যা ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসের সাথে বড় লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে যে তিনি মেলানিয়ার এই পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই অবগত ছিলেন।   ইরান যুদ্ধের অস্থিরতা এবং এপস্টাইন কাণ্ডের এই নতুন মোড় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ভাবমূর্তিকে এক কঠিন ও অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   সব মিলিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের এই ছয় মিনিটের ভাষণ মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যার রেশ আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

সোমালিয়ায় গভীর কূপ খননে তুরস্কের ইতিহাস

ছবি - সংগৃহিত

জাইনবাদের পতন ও নৈতিক বিপর্যয়: গাজা যুদ্ধের পর এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার উদয়

ছবি - সংগৃহিত

ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্টে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের আবেদন: নজিরবিহীন আইনি লড়াই

আলোচনার টেবিলে ইরানই আপাতত এগিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা । ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ নয়, শান্তির পথ: যেভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি টানা যেতে পারে- ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপরেখা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বন্ধে একটি কূটনৈতিক সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেছেন জাভেদ জারিফ। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   জারিফের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কেবল প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বাড়াবে, কিন্তু কোনো পক্ষের জন্য টেকসই সমাধান আনবে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।   তার প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্য চলাচল পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।   দ্বিতীয় ধাপে একটি বিস্তৃত চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা ইস্যুগুলো সমাধানের প্রস্তাব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক তদারকি মেনে নিতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।   এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অনাগ্রাসন চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেছেন জারিফ। তার মতে, এতে কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই উন্নত হবে না, বরং পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।   বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে বড় শক্তিগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।   তবে জারিফ স্বীকার করেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এই প্রক্রিয়ার বড় বাধা। তাই চীন ও রাশিয়া-এর মতো দেশগুলো গ্যারান্টর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, বর্তমান সংঘাত যতই তীব্র হোক একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির সুযোগ তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

'ইরানের শক্তি শেষ' - ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরেই ইসরায়েলে বড় হামলা

ছবি - সংগৃহিত

ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এবার ইরানে স্প্লিন্টার ছাড়া গ্রেনেড ব্যাবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি - সংগৃহিত

চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি : চীনের গোপন পরমাণু প্রকল্পের রোমহর্ষক তথ্য ফাঁস

0 Comments