- প্রচ্ছদ
- Topic
পাবলিক চার্জ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই নীতির আওতায় মেডিকেড, স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা, শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা ও ফ্রি স্কুল লাঞ্চসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি কিছু আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার সিদ্ধান্তে বিবেচনায় আসতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নিয়মে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি মূল্যায়নের আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটি নির্ধারণের সময় বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হবে, এমন নিয়ম নয়। নতুন নীতির আওতায় মেডিকেড ও স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কলেজের টিউশন সহায়তা, ফ্রি স্কুল লাঞ্চ এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তাও কর্মকর্তাদের বিবেচনায় আসতে পারে। কোন সুবিধা কীভাবে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নিয়মটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই নীতি ‘পাবলিক চার্জ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সহায়তা বিবেচনা করে আসছেন। নতুন নিয়ম সেই বিবেচনার আওতা আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাসাইলামপ্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসী নতুন নিয়মের বাইরে থাকবেন। অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট পারিবারিক সদস্য, দক্ষ ও ধর্মীয় কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রিন কার্ড আবেদনকারী এই নীতির আওতায় পড়তে পারেন। নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিটি সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীদের সেই সুবিধা নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে অতিরিক্ত ও অস্পষ্ট ক্ষমতা দিতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোই এই নীতির উদ্দেশ্য। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন নিয়মের কারণে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে যেতে পারেন বা নতুন করে এসব কর্মসূচিতে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ব্যয় বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার কমতে পারে বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের হিসাব উদ্ধৃত করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও একই ধরনের পাবলিক চার্জ নীতি চালু হয়েছিল। পরে আদালতে তা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ হয় এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২২ সালে নীতিটি বাতিল করে তুলনামূলক সংকীর্ণ নিয়ম চালু করেছিল। ২০২৬ সালের নতুন নীতি সেই বিস্তৃত পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন করেছে। নতুন নিয়মের ফলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের আগে নিজেদের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং কোন সুবিধা তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে, তা বুঝে নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে একজন সদস্য গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন এবং অন্য সদস্যরা সরকারি সহায়তা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে। ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে। মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন 'পাবলিক চার্জ' নিয়মের কারণে বিশ্বজুড়ে হঠাৎ স্থগিত করা হলো গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার। এর ফলে আগে থেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন এই নিয়মের আওতায়, কোনো আবেদনকারী যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হবেন বলে মনে হয়, তবে কনস্যুলার অফিসাররা তাঁর আবেদন বাতিল করে দিতে পারবেন। মূলত দূতাবাস ও কনস্যুলার কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে এই অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এই নতুন স্থগিতাদেশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে ‘কনস্যুলার প্রসেসিং’-এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ওপর। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য যারা অপেক্ষা করছিলেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার বাতিল বা স্থগিত হওয়ার নোটিশ পেতে শুরু করেছেন। তবে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবস্থান করে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, তাদের ওপর এই স্থগিতাদেশের তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে। এই স্থগিতাদেশের সময়কাল নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেমফিসের সিসকাইন্ড সুসারের অংশীদার ও অভিবাসন আইনজীবী এলিসা তউব সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থবছর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত সকল অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার বদলে সরকার হঠাৎ করেই গণহারে সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে এবং কবে নাগাদ এগুলোর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার বরাদ্দকৃত সব ভিসা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে, যা বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য চরম হতাশাজনক। এছাড়া তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট গোপনে নতুন নিয়ম তৈরি করছে, অথচ আবেদনকারীদের এ বিষয়ে প্রস্তুত হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইনি অভিবাসন ব্যবস্থাকে সংকুচিত বা ধীর করার এটি প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে ভিসা সাক্ষাৎকার নতুন করে কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি। যার ফলে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা বহু মানুষের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য আবারও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’ (Public Charge) নীতি পুনর্বহাল করছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা কর্মসূচি ব্যবহার করা হলে তা গ্রিন কার্ড আবেদনের মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন নিয়ম আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধি অনুযায়ী, অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা মূল্যায়নের সময় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি বা ফুড স্ট্যাম্প), মেডিকেইড, হাউজিং ভাউচারসহ নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারবেন। তবে এসব সুবিধা গ্রহণ করলেই গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান হবে না। আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন নিয়মে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আয়, সম্পদ, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, এই নীতির উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া নিশ্চিত করা এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা কর্মসূচির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীলতা নিরুৎসাহিত করা। ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চালু হয়ে ২০২০ সালে কার্যকর হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২২ সালে সেই নীতি বাতিল করে অপেক্ষাকৃত শিথিল নির্দেশনা জারি করে। এবার ট্রাম্প প্রশাসন আগের কঠোর নীতিটি আবার কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন নিয়মের কারণে অনেক অভিবাসী পরিবার—বিশেষ করে যেসব পরিবার আইনগতভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য—তারা ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড আবেদনে প্রভাব পড়ার ভয়ে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা কিংবা আবাসন সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। যাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন চলমান বা শিগগির আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানা এবং প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি এখন থেকে আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।