স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা বা মেডিকেড নিলে ঝুঁকিতে গ্রিন কার্ড, নতুন নিয়ম কার্যকর
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই নীতির আওতায় মেডিকেড, স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা, শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা ও ফ্রি স্কুল লাঞ্চসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি কিছু আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার সিদ্ধান্তে বিবেচনায় আসতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন নিয়মে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি মূল্যায়নের আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটি নির্ধারণের সময় বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হবে, এমন নিয়ম নয়।
নতুন নীতির আওতায় মেডিকেড ও স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কলেজের টিউশন সহায়তা, ফ্রি স্কুল লাঞ্চ এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তাও কর্মকর্তাদের বিবেচনায় আসতে পারে। কোন সুবিধা কীভাবে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নিয়মটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই নীতি ‘পাবলিক চার্জ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সহায়তা বিবেচনা করে আসছেন। নতুন নিয়ম সেই বিবেচনার আওতা আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাসাইলামপ্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসী নতুন নিয়মের বাইরে থাকবেন। অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট পারিবারিক সদস্য, দক্ষ ও ধর্মীয় কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রিন কার্ড আবেদনকারী এই নীতির আওতায় পড়তে পারেন।
নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিটি সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীদের সেই সুবিধা নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে অতিরিক্ত ও অস্পষ্ট ক্ষমতা দিতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোই এই নীতির উদ্দেশ্য। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন নিয়মের কারণে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে যেতে পারেন বা নতুন করে এসব কর্মসূচিতে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ব্যয় বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার কমতে পারে বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের হিসাব উদ্ধৃত করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও একই ধরনের পাবলিক চার্জ নীতি চালু হয়েছিল। পরে আদালতে তা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ হয় এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২২ সালে নীতিটি বাতিল করে তুলনামূলক সংকীর্ণ নিয়ম চালু করেছিল। ২০২৬ সালের নতুন নীতি সেই বিস্তৃত পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন করেছে।
নতুন নিয়মের ফলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের আগে নিজেদের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং কোন সুবিধা তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে, তা বুঝে নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে একজন সদস্য গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন এবং অন্য সদস্যরা সরকারি সহায়তা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে আবারও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জন অসফ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে সিনেটে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। রিপাবলিকানদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেও অসফের এই জয়কে দলটির বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে জন অসফকে বিজয়ী ঘোষণা করে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোর পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক ফলাফলে অসফ প্রায় ৫৯ শতাংশ এবং মাইক কলিন্স প্রায় ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার ভিত্তিতে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। ভোটের আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। ৩৯ বছর বয়সী জন অসফ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। ২০২১ সালের বিশেষ রানঅফ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। সে সময় তাঁর বিজয় জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দেয়। এবার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করলেন অসফ। এবারের নির্বাচন জন অসফের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে রিপাবলিকান পার্টি অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসন পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক কলিন্সকে সমর্থন দেন। তবে ব্যাপক প্রচারণা এবং প্রেসিডেন্টের সমর্থন পেয়েও ভোটারদের মন জয় করতে ব্যর্থ হন কলিন্স। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি দুর্নীতির অভিযোগকে গুরুত্ব দেন অসফ। বিশেষ করে জর্জিয়ার মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী পরিবারের ওপর বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে তিনি সরব ছিলেন। অন্যদিকে মাইক কলিন্স সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসননীতি এবং রক্ষণশীল মূল্যবোধের পক্ষে প্রচারণা চালান। দুই প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতিগত পার্থক্য এবারের নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহেও প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন অসফ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মাইক কলিন্সের তুলনায় প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন। বিপুল অর্থনৈতিক সমর্থন এবং ধারাবাহিক প্রচারণা তাঁর নির্বাচনী অবস্থান শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজয়ের পর আটলান্টায় সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে অসফ ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জর্জিয়ার ভোটাররা বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এই জয়কে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জর্জিয়ায় অসফের বিজয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় পাওয়া একটি অঙ্গরাজ্যে সিনেট আসন ধরে রাখা দলটির রাজনৈতিক শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। আগামী দিনে কংগ্রেসে আইন প্রণয়ন, বাজেট এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক লড়াইয়ে এই জয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস , জর্জিয়া পাবলিক ব্রডকাস্টিং।
বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর, বাড়ছে চাকরির সুযোগ, নতুন হিসাবে শূন্যপদ ৭৫ লাখ
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও জয়ী দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর, কমিউনিটিতে আনন্দের জোয়ার
‘এবার স্পেস লেজার কাজ করেনি’, নির্বাচনে হারের পর মাস্কের রসিকতা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন বলে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২তম ডিস্ট্রিক্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন কাওয়াস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর তাঁর বিজয়ের খবর প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আবের কাওয়াস দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনী রাজনীতিতে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় শ্রমিক, অভিবাসী এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় কাওয়াসের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, উন্নত গণপরিবহন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা। পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা ও যুদ্ধে সরকারি অর্থায়ন বন্ধের পক্ষেও অবস্থান নেন তিনি। তাঁর নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। প্রচারণায় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিবের সমর্থন পান কাওয়াস। অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান রয়েছে তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, আইসিইর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার কাওয়াস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্বাচনী এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ও মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা আগামী দিনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে প্রত্যাশা করছেন সমর্থকেরা। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ট্রাম্পের সকল অভিযোগ-কটুক্তিকে পিছনে ফেলে নির্বাচনে জয়ী মুসলিম কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর
ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ওবামার বার্তা, বিভাজন নয় ঐক্যের রাজনীতি চান মার্কিনিরা
নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সাঈদ। মিশিগানের বহুল আলোচিত সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিজ দলের একাংশের বিরোধিতা এবং তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও ঐতিহাসিক জয় পান ৪২ বছর বয়সী এই প্রগতিশীল নেতা। বুধবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস তাঁর জয় নিশ্চিত করেছে। মিশিগানের এই নির্বাচন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। সেই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। এল-সাঈদের জয়কে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে নিজ দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। প্রাইমারিতে মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারসহ দলের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন ছিল স্টিভেন্সের প্রতি। তবে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটে নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে। নিজের দলের প্রার্থী এল-সাঈদকে সমর্থন দেওয়ার পরিবর্তে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন হেইলি স্টিভেন্স। এল-সাঈদের ইসরায়েলবিষয়ক অবস্থান ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এল-সাঈদের নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্ব পায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানোর বিষয়গুলো। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা, ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স নির্বাচনি প্রচারণায় কর কমানো, উৎপাদনশিল্পে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে আনেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রজার্স এল-সাঈদের রাজনৈতিক অবস্থানকে মিশিগানের জন্য অতিরিক্ত বামপন্থী বলে সমালোচনা করেন। মিশিগানে বড় মুসলিম, ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এল-সাঈদের ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়ে কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা ও ইহুদি ভোটারের আপত্তি থাকলেও বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো প্রগতিশীল নেতারা তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালান। মিশিগানের বাসিন্দা এল-সাঈদ এর আগে ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এবার সিনেট নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এই জয় একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এর আগে মুসলিম রাজনীতিকেরা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হলেও সিনেটে কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি। এল-সাঈদের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাস বদলে গেল। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে আফগান অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন সাময়িক স্থগিত করলেন ফেডারেল বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী মুসলিম নারী ইলহান ওমর ও রশিদা তালিব