সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, চরম অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৫:৬
বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, চরম অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা
বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, চরম অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন 'পাবলিক চার্জ' নিয়মের কারণে বিশ্বজুড়ে হঠাৎ স্থগিত করা হলো গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার। এর ফলে আগে থেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

নতুন এই নিয়মের আওতায়, কোনো আবেদনকারী যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হবেন বলে মনে হয়, তবে কনস্যুলার অফিসাররা তাঁর আবেদন বাতিল করে দিতে পারবেন।

 

মূলত দূতাবাস ও কনস্যুলার কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে এই অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

 

এই নতুন স্থগিতাদেশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে ‘কনস্যুলার প্রসেসিং’-এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ওপর। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য যারা অপেক্ষা করছিলেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার বাতিল বা স্থগিত হওয়ার নোটিশ পেতে শুরু করেছেন।

 

তবে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবস্থান করে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, তাদের ওপর এই স্থগিতাদেশের তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে।

 

এই স্থগিতাদেশের সময়কাল নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেমফিসের সিসকাইন্ড সুসারের অংশীদার ও অভিবাসন আইনজীবী এলিসা তউব সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থবছর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে।

 

এই সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত সকল অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার বদলে সরকার হঠাৎ করেই গণহারে সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে এবং কবে নাগাদ এগুলোর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি।

 

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার বরাদ্দকৃত সব ভিসা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে, যা বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য চরম হতাশাজনক।

 

এছাড়া তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট গোপনে নতুন নিয়ম তৈরি করছে, অথচ আবেদনকারীদের এ বিষয়ে প্রস্তুত হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইনি অভিবাসন ব্যবস্থাকে সংকুচিত বা ধীর করার এটি প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

 

সব মিলিয়ে ভিসা সাক্ষাৎকার নতুন করে কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি। যার ফলে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা বহু মানুষের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ আরও বাড়ল, মর্টগেজ রেট বেড়ে ৬.৬৬ শতাংশে
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ আরও বাড়ল, মর্টগেজ রেট বেড়ে ৬.৬৬ শতাংশে

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি হোম লোনের গড় সুদের হার বা মর্টগেজ রেট আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজ বেড়ে ৬.৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। গত বছরের ঠিক একই সময়ে এই সুদের হার ছিল ৬.৫৬ শতাংশ।   সুদের এই বৃদ্ধির ফলে গৃহঋণ গ্রহণকারীদের মাসিক খরচ কয়েকশ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাকে সীমিত করে দিচ্ছে।   আর ক্রমবর্ধমান খরচের কারণেই অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে মার্কিন আবাসন বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে।   ফ্রেডি ম্যাকের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমান রেটটি ঠিক চার সপ্তাহ আগের অবস্থানে ফিরে গেছে এবং এটি এই মাসের শুরুতে পৌঁছানো এ বছরের সর্বোচ্চ হার ৬.৬৯ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে।   শুধু ৩০ বছর মেয়াদি ঋণই নয়, বরং ১৫ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের ক্ষেত্রেও খরচের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সাধারণত পুরনো ঋণ পরিশোধ করে নতুন ঋণ নেওয়ার (রিফাইন্যান্সিং) ক্ষেত্রে এই রেটটি বেশি ব্যবহৃত হয়।   গত সপ্তাহে এই হার ৫.৯৫ শতাংশ থাকলেও চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে ৫.৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যেখানে এক বছর আগে এই রেট ছিল মাত্র ৫.৬৯ শতাংশ।   মূলত মর্টগেজ রেটের এই ওঠানামার পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের পলিসি রেট বা সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা।   মর্টগেজ রেট সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ডের গতিপথ অনুসরণ করে নির্ধারিত হয়, যা ঋণদাতারা হোম লোনের মূল্য নির্ধারণে একটি অন্যতম নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৬:৪৩
৭ মাস আইসিই হেফাজতে বন্দি থাকার পর মিলল গ্রিন কার্ড, তবু আনন্দ নেই মার্কোসের

৭ মাস আইসিই হেফাজতে বন্দি থাকার পর মিলল গ্রিন কার্ড, তবু আনন্দ নেই মার্কোসের

বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, চরম অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা

বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, চরম অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা

নিউইয়র্কের রাস্তায় দেশি সবজি বিক্রি করা বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নিউইয়র্কের রাস্তায় দেশি সবজি বিক্রি করা বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নিউ অরলিন্সের সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডে চাকরির সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
নিউ অরলিন্সে সরকারি চাকরির সুযোগ, অফিস সহকারীসহ একাধিক পদে নিয়োগ

নিউ অরলিন্সের সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডে অফিস সহকারীসহ একাধিক পূর্ণকালীন সরকারি চাকরির সুযোগ রয়েছে। সংস্থাটির সরকারি ক্যারিয়ার পাতায় বর্তমানে বিভিন্ন পদে নিয়োগের তথ্য দেওয়া হয়েছে।    এর মধ্যে অফিস সহকারী পদটি সিটিওয়াইড শ্রেণির পূর্ণকালীন চাকরি। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, এ পদের বেতন ৩১ হাজার ৮৮৯ ডলার এবং আবেদনের শেষ তারিখ নির্ধারিত নেই।   অফিস সহকারী পদের কাজে মাঝারি ধরনের বিভিন্ন দাপ্তরিক ও কেরানিসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। এ পদের জন্য উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ বা সমমানের যোগ্যতার পাশাপাশি তিন বছরের পূর্ণকালীন কেরানি, প্রশাসনিক, কম্পিউটার, জনসেবা বা প্রেরণকেন্দ্রিক কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে।   তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পদভেদে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, সংস্থাটির আরেকটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন বিশ্লেষক পদের জন্য স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পদে বেতন ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও আলাদা।    সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ড জানিয়েছে, কর্মীদের জন্য বার্ষিক ও অসুস্থতাজনিত ছুটি, জীবনবীমা, স্বাস্থ্য, ডেন্টাল ও ভিশন বীমা, পেনশন, শিক্ষাব্যয় ফেরত এবং কর্মী সহায়তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। সংস্থাটি সমান সুযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়।   নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থাটির একাধিক ধাপের প্রক্রিয়া রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট পদের সর্বশেষ যোগ্যতা, বেতন ও অন্যান্য শর্ত দেখে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্যারিয়ার পাতায় চলমান পদগুলোর তালিকাও পাওয়া যাচ্ছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার সময় বর্তমানে বসবাসের নির্দিষ্ট শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তবে পূর্ণকালীন কর্মীদের নিয়োগের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অরলিন্স প্যারিশে বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এ শর্ত থেকে অব্যাহতির সুযোগও রয়েছে।   চাকরিপ্রার্থীদের তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আবেদন করার আগে সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডের সরকারি চাকরির তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট পদের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৩:২২
দুই নারীকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত স্টেসি হামফ্রিস। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় ২০০৩ সালের দুই নারী হত্যায় দণ্ডিত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড ১৬ সেপ্টেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরের তীব্র স্রোতে আটকে পড়া শিশুদের বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন জশ কোলেট। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানদের বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ, ঘাড় ভেঙে শরীরের নিচের অংশ অবশ বাবার

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে স্কুলবাসের স্টপেজের কাছ থেকে অভিভাবকদের আটকের অভিযোগ উঠেছে আইসের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

স্কুলবাসে সন্তান তুলে দেওয়ার পর অভিভাবকদের আটকের অভিযোগ আইসিইর বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ক্যানসার আক্রান্ত ১৩ বছর বয়সী কাজিনের প্রতি সংহতি জানাতে নিজের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করছে ছয় বছরের শিশু জ্যাক্সন মেইসন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যানসারে আক্রান্ত কাজিনের পাশে দাঁড়াতে মাথা ন্যাড়া করল ছয় বছরের শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার লোগানভিলের ছয় বছর বয়সী জ্যাক্সন মেইসন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ১৩ বছর বয়সী কাজিন মেসন জোন্সের পাশে দাঁড়াতে নিজের মাথার চুল ন্যাড়া করেছে। কাজিনের ক্যানসারের লড়াইয়ে সে একা নয়, এই বার্তা দিতেই দীর্ঘদিনের চুল কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় জ্যাক্সন। তার এই আবেগঘন উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে।   জ্যাক্সনের বাবা রডনি মেইসন বাড়িতে ছেলের চুল কাটার দৃশ্য ধারণ করেন। ভিডিওতে জ্যাক্সন জানায়, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা তার কাজিনকে সমর্থন করতেই সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জীবনের পুরো সময় দীর্ঘ চুল রাখা জ্যাক্সন চুল কাটার আগে বাবার কাছ থেকে সিদ্ধান্তটি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে পারে। কিন্তু সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিল।   জ্যাক্সন বলেন, তিনি কাজিনের জন্যই এটি করতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেসনের ক্যানসার হয়েছে এবং তিনি তাকে দেখাতে চেয়েছেন যে তার পাশে থাকার মতো মানুষ রয়েছে। নিজের চুল কেটে ফেলার মাধ্যমে কাজিনের কঠিন লড়াইয়ে একাত্মতা প্রকাশ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।   অন্যদিকে, ১৩ বছর বয়সী মেসন জোন্স বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছে। তার তীব্র মায়েলয়েড লিউকেমিয়া ধরা পড়ে প্রথমবার ১১ বছর বয়সে। বর্তমানে টেক্সাসে তার চিকিৎসা চলছে এবং কঠিন এই সময়ে তার বাবা-মা ক্রিস ও ক্রিস্টিন জোন্স তার পাশে রয়েছেন।   জ্যাক্সন নতুন করে চুল কাটার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে মেসনের সঙ্গে কথা বলে। তখন কাজিনের নতুন চেহারা দেখে মেসন আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। মেসন জানান, ঘটনাটি তাকে কাঁদিয়েছে, তবে সেটি ছিল আনন্দের কান্না। জ্যাক্সনকে এমন কিছু করতে হতো না, তবুও সে এটি করেছে, যা তাকে খুব আনন্দ দিয়েছে বলে জানান মেসন।   মেসনের পরিবার জানিয়েছে, সন্তানকে দ্বিতীয়বার ক্যানসারের মধ্য দিয়ে যেতে দেখা সহজ নয়। তার বাবা-মা ক্রিস ও ক্রিস্টিন এই কঠিন সময়ে তার পাশে রয়েছেন এবং তার জন্য প্রার্থনা করছেন। তারা জানিয়েছেন, এটি সহজ কোনো পথ নয় এবং কোনো বাবা-মাই চান না তাদের সন্তানকে একবার, বিশেষ করে দুইবার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে হোক।   জ্যাক্সনের এই উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মেসনের চিকিৎসার খরচে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে টেক্সাসে মেসনের বর্তমান চিকিৎসা কতদিন চলবে, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছোট্ট জ্যাক্সনের এই উদ্যোগ মানুষের নজর কেড়েছে। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা কাজিনকে মানসিকভাবে সমর্থন জানাতে নিজের চুল ত্যাগ করে সে যে ভালোবাসা ও একাত্মতার বার্তা দিয়েছে, সেটিই এই ঘটনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১১:৪০
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে ভিডিও পোস্ট করায় মার্কিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পকে ভুলে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কে মার্কিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়

নিউইয়র্কে পৃথক দুটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন যিশুস আকোস্তাকে ধরতে ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত

দুই বাংলাদেশির ওপর হামলায় একজন নিহতের ঘটনায় অভিযুক্তকে ধরতে ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার এফবিআইয়ের

নিউইয়র্কে ক্লার্ক বা অফিস সহকারী পদের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বর্তমানে একাধিক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে একাধিক ক্লার্ক পদে নিয়োগ, আবেদন ও যোগ্যতা জেনে নিন

0 Comments