প্রাকৃতিক দুর্যোগ

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দুর্গত এলাকায় ব্যাহত উদ্ধারকাজ; আড়াই লাখ ৬৮ হাজার পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে টানা বর্ষণে বন্যা ও পাহাড়ধস: প্রাণহানি বেড়ে ৪৪, পানিবন্দি ১০ লাখের বেশি মানুষ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় আড়াই লাখ ৬৮ হাজার পরিবারের দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার, তবে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক এলাকায় এখনও সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।   দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাতটি জেলায় বন্যার পানি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার।   ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক যোগাযোগ এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় বাড়িঘরে এখনও পানি থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। শুকনো খাবারের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চিড়া, মুড়ি ও বিস্কুটের মতো খাবারের ওপর নির্ভর করছে।   চট্টগ্রামের এক বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, বাড়ির ভেতরে এখনও পানি রয়েছে। রান্নার কোনো সুযোগ নেই। শুকনো খাবারও প্রায় শেষ। বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানদের নিয়ে অন্ধকারেই রাত কাটাতে হচ্ছে।   বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা নৌকায় করে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।   দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ইকবাল হোসেন চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, সরকার দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। যাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে, তাদের নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   এদিকে, সপ্তাহের শুরুতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতেও ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত হন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই শরণার্থী শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। পাহাড় কেটে তৈরি অস্থায়ী বসতিগুলো বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরই বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।   বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রতিবছর মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, নদীভাঙন ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে।   আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নিচু এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়া ভলকানো দাবানলের ধোঁয়া। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুত ছড়াচ্ছে ‘ভলকানো’ দাবানল, নিরাপত্তার জন্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড কাউন্টিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি দাবানল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ‘ভলকানো ফায়ার’ নামে পরিচিত এই দাবানল মঙ্গলবার বিকেলে মুরিয়েটা এলাকার লা ক্রেস্তা কমিউনিটির কাছে শুরু হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় বাধ্যতামূলকভাবে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগ (ক্যাল ফায়ার) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫২ মিনিটের দিকে ভিয়া ভলকানো ও তেনাহা রোডের কাছ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিকেল পর্যন্ত আগুনে প্রায় ৭৫ একর এলাকা পুড়ে গেছে এবং তখনও আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের কারণ এখনও তদন্তাধীন।   আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মাই ভ্যালি নিউজ জানিয়েছে, ১২৫ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক সদস্য ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় রয়েছে ১৯টি ফায়ার ইঞ্জিন, তিনটি হেলিকপ্টার, দুটি বুলডোজার, চারটি বিশেষ অগ্নিনির্বাপক দল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা একাধিক বিমান, যেগুলো সুযোগ পেলেই আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্নি প্রতিরোধক রাসায়নিক ছিটিয়ে দিচ্ছে।   আগুনের কারণে ঘন ধোঁয়ায় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে। দাবানল যাতে আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তেনাহা রোডের অ্যাভোকাডো মেসা থেকে অ্যাভেনিদা লা ক্রেস্তা পর্যন্ত এবং লস গ্যাটোস রোডের কারানচো রোড অংশ যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে দমকলকর্মীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারছেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সহজ হচ্ছে।   যেসব বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছে, তাদের জন্য টেমেকুলার চ্যাপারাল হাই স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে গৃহপালিত প্রাণীও নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ঘোড়াসহ বড় আকারের প্রাণীগুলোকে মুরিয়েটা ইকুয়েস্ট্রিয়ান সেন্টারে স্থানান্তর করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আগুনের এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে জরুরি সেবাকর্মীদের চলাচল সহজ হবে এবং নির্ধারিত সরিয়ে নেওয়ার পথগুলো খোলা রাখা সম্ভব হবে।   গ্রীষ্মকালে শুষ্ক আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রবল বাতাসের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায়ই বড় ধরনের দাবানলের ঘটনা ঘটে। এসব আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে বসতবাড়ি, বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই ভলকানো দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকা l ছবিঃ এপি
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৫৮৯, ধ্বংসস্তূপে আটকা অনেকে

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৯৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারাকাস এবং লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।   স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দিন-রাত অবিরাম উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও আটকে পড়া মানুষের বাঁচার আকুতি শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের প্রধান দুটি হাসপাতাল রোগীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এবং চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।   ভয়াবহ এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড থেকে ৮০ সদস্যের একটি বিশেষায়িত দল এবং মেক্সিকো, এল সালভাদরসহ কয়েকটি দেশের উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা এই আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।   পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম'-এর আওতায় স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, লুক্সেমবার্গ, চেকিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে মানবিক সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এই বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, জাতিসংঘ এই সহায়তা সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেবে।   উল্লেখ্য, বুধবার রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূকম্পনটিকে ১৯০০ সালের পর দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভূতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার উপকূলজুড়ে বিস্তৃত 'সান সেবাস্তিয়ান ফল্ট'-এ ফাটল সৃষ্টির কারণেই এই দুর্যোগের সূত্রপাত। যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যার প্রভাষক ড. অ্যামি গিলিগানের মতে, এত বড় মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফল্ট লাইনে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি করতে সক্ষম।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকা l ছবিঃ এপি
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৫৮৯, ধ্বংসস্তূপে আটকা অনেকে

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৯৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারাকাস এবং লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।   স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দিন-রাত অবিরাম উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও আটকে পড়া মানুষের বাঁচার আকুতি শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের প্রধান দুটি হাসপাতাল রোগীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এবং চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।   ভয়াবহ এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড থেকে ৮০ সদস্যের একটি বিশেষায়িত দল এবং মেক্সিকো, এল সালভাদরসহ কয়েকটি দেশের উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা এই আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।   পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম'-এর আওতায় স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, লুক্সেমবার্গ, চেকিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে মানবিক সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এই বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, জাতিসংঘ এই সহায়তা সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেবে।   উল্লেখ্য, বুধবার রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূকম্পনটিকে ১৯০০ সালের পর দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভূতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার উপকূলজুড়ে বিস্তৃত 'সান সেবাস্তিয়ান ফল্ট'-এ ফাটল সৃষ্টির কারণেই এই দুর্যোগের সূত্রপাত। যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যার প্রভাষক ড. অ্যামি গিলিগানের মতে, এত বড় মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফল্ট লাইনে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি করতে সক্ষম।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা কর্মীরা | ছবি: রয়টার্স
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪, আহত কয়েক হাজার

কারাকাস: ভেনেজুয়েলার উপকূলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।   স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও এলাকায় ভবন খালি করা হয়। কম্পন অনুভূত হয় প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরের ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চল পর্যন্ত।   বুধবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পে দেশটির প্রধান বিমানবন্দর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক দিনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, “আমরা জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি।”   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা শুরুতে ৭ দশমিক ১ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ২ নির্ধারণ করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন এলাকার পশ্চিমে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে। এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।   সংস্থাটি আরও জানায়, প্রথম ভূমিকম্পের মাত্র এক মিনিট পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মোরন থেকে ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।   এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে বুধবারের এই জোড়া ভূমিকম্প অন্যতম বলে মনে করা হচ্ছে।   স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ পর ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী কারাকাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুলতে থাকা ভবন থেকে বাসিন্দারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও দেয়াল ধসে পড়ায় রাস্তা থেকেই ভবনের ভেতরের অংশ দেখা যাচ্ছিল। রাজধানীর অন্তত দুটি এলাকায় ধুলার বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে। এসব এলাকায় রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেশি থাকায় সেখানে মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক বেশি ছিল।   এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন দেশ।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈদেশিক সহায়তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেরেমি লিউইন জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসাসামগ্রী এবং মানবিক সহায়তা পাঠানো হবে। তিনি বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি দুর্যোগ সহায়তা দল ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।   লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।   এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে জানিয়েছেন, তার দেশ ৫০ টন সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত করেছে। পাশাপাশি ৩০০ উদ্ধারকর্মী কারাকাসে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া আজিনও জানিয়েছেন, তার দেশ তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।   ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি ভেনেজুয়েলাকে ব্রাজিলের “বন্ধুপ্রতিম দেশ” হিসেবে উল্লেখ করেন।   মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রবার্তো ভেলাস্কো আলভারেজও ভেনেজুয়েলাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও সংহতি প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছেন।   উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এবং বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
৩৯ সেকেন্ডে জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা
৩৯ সেকেন্ডে জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, প্রাণহানি বেড়ে ১৬৪

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা ভয়াবহ এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং ভবন ধসে পড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানান, অনেক দুর্গম এলাকায় এখনও উদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার শঙ্কা রয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকা। প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। এত অল্প ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।   রাজধানী কারাকাসেও এই ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জরুরি সেবা কার্যক্রম পরিচালনায়ও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।   ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের আর্তনাদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।   প্রধান ভূমিকম্পের পর থেকে দেশজুড়ে ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে নতুন করে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা মাঠ, সড়ক ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ। ইউএসজিএসের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি অগভীর ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং’-এর কারণে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে ভূত্বকের দুটি অংশ অনুভূমিকভাবে দ্রুত সরে গিয়ে তীব্র কম্পন সৃষ্টি করে।   ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঞ্চলগুলো। লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফ্যালকন এলাকায় বহু বাড়িঘর, সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রথম কম্পনের পরই অনেকে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু দ্বিতীয় ও আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। আতঙ্কে অনেকে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেন।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুর্যোগ শুধু একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, বরং ভেনেজুয়েলার জন্য বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং চলমান আফটারশকের ঝুঁকি দেশটির পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।   এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন ভেনেজুয়েলার জন্য সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।  

নীলুফা নিশাত জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলায় বুধবারের শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাস এবং অন্যান্য শহর-গ্রামের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধারকাজ চলছে । ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প: নিহত ৩২, আহত অন্তত ৭০০

ভেনেজুয়েলায় ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ জানান, এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও অন্তত ৭০০ জনকে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি কম্পনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। এ অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার রয়েছে।   ভূমিকম্পের পরপরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। কয়েকটি ভিডিওতে পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত একাধিক ভবন ধসে পড়তে দেখা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা গেছে। অনেকেই নিজেদের পরিবারের সদস্য ও পোষা প্রাণী নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। বুধবার দেশটিতে সরকারি ছুটির দিন ছিল। প্রতি বছর ২৪ জুন সেইন্ট জন ব্যাপটিস্টের জন্মদিবস এবং জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভেনেজুয়ায় সরকারি ছুটি পালন করা হয়। ছুটির কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরে বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন, ফলে ভূমিকম্পের সময় অনেকেই ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।   ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, এই দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক এবং পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও অনেক ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।   এদিকে ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Unknown জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া জলিবি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁর সামনে জড়ো হয়েছেন পুলিশের সদস্যরা । ছবি: এএফপি
৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ফিলিপাইনে নিহত বেড়ে ৩২, আহত ১৩৪

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৩৪ জন। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান জোরদার করা হয়েছে।   ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। শক্তিশালী এই কম্পন মিন্দানাওজুড়ে ব্যাপকভাবে অনুভূত হয় এবং প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও কাঁপুনি অনুভূত হয়।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মিন্দানাওয়ে ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে ৩২ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাসের শহর জেনারেল সান্তোস সিটি। সেখানে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী জোজো কালমা বলেন, এই প্রথম এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখেছেন তিনি। তিনি জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ভবনের সামনে মোটরচালিত থ্রি-হুইলার ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন এবং পরে ভবনটি ধসে পড়ে। তবে তিনি অক্ষত থাকেন। তাঁর সন্তানরা তখন স্কুলে ছিল, তারা নিরাপদ রয়েছে। তবে তাঁর ভাইয়ের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলেও জানান তিনি।   স্থানীয় সরকারের প্রকাশ করা ভিডিওতে একটি ফাস্টফুড দোকানসংবলিত ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভবনটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশে আতঙ্ক তৈরি হয়।   দীর্ঘ ছুটির পর স্কুল খোলার পরদিনই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে মোতায়েন করেছে সরকার।   ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয় এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশও তুলে নেওয়া হয়।   এর আগে গত বছর ফিলিপাইনে একাধিক ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে মিন্দানাওয়েও আরও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছিল।

Unknown জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও অঞ্চলে সোমবার ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। ফিলিপাইনের ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফিভলকস জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে সারাঙ্গানি প্রদেশের জেনারেল সান্তোস সিটি উপকূলের কাছে।   ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ফিভলকস। মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা জানিয়েছে, ফিলিপাইনের কিছু এলাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের উচ্চতার তুলনায় ১ থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আঘাত হানতে পারে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, জেনারেল সান্তোস সিটির বিভিন্ন ভবন ও দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াল ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।   নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে দাভাও দেল সুর-এর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাদের অংশ ধসে পড়তে দেখা যায়। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর বাসিন্দাদের সুনামি সতর্কতা মেনে চলতে হবে এবং দ্রুত উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন যেকোনো সম্পদের চেয়ে বেশি মূল্যবান।   ক্ষতিগ্রস্ত সারাঙ্গানি প্রদেশে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। সারাঙ্গানির আলাবেল শহরের পুলিশ প্রধান বেনজি আনচেতা জানান, ভূমিকম্পের সময় পুলিশ সদস্যরা পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। কম্পনের পরপরই পুলিশ ভবনে ফাটল দেখা দেয়।   তিনি বলেন, “এটাই আমাদের অনুভব করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।” যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তীব্র কম্পনের কারণে কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়া তাদের উত্তর-পূর্ব উপকূলের জন্য এবং জাপান ইবারাকি থেকে ওকিনাওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।   ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, মার্কিন আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে হাওয়াইয়ের জন্য কোনো সুনামি ঝুঁকি শনাক্ত হয়নি।

Unknown জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানে ভয়াবহ তুষারপাত ও আকস্মিক বন্যা: প্রাণহানি বেড়ে ৬১

আফগানিস্তানে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও অস্বাভাবিক তুষারপাতের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জন আহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।   তালেবান প্রশাসনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বন্যায় দেশটির ২ হাজার ৪০০-এর বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জাবুলসহ কয়েকটি প্রদেশে ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বন্যার তোড়ে বেশ কিছু প্রদেশের প্রধান সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ফলে দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ভয়াবহ এই বন্যায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি হাজার হাজার একর কৃষি জমি তলিয়ে গেছে, যা আফগানিস্তানের গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে। কৃষির ওপর নির্ভরশীল বিশাল এক জনগোষ্ঠী এখন জীবিকা হারানোর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক গবাদি পশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে দেশটিতে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা ও প্রাণহানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিপর্যয় কবলিত এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রদান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে শীতকালীন চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও তুষারপাতের কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন স্থানীয়রা।   সূত্র: আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল

তাবাস্সুম এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সাহারা থেকে ধেয়ে আসা লাল ধূলিঝড়ে লণ্ডভণ্ড গ্রিস; এবার অভিমুখ উত্তর আফ্রিকা!

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী 'লাল ধূলিঝড়' এখন পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং উত্তর আফ্রিকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সাহারা মরুভূমি থেকে আসা এই ধূলিকণার প্রভাবে আকাশ পুরোপুরি লালচে-কমলা বর্ণ ধারণ করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। গত দুই দিন ধরে ক্রিট দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর এই ধূলিমেঘ এখন মিশর ও লিবিয়ার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।   সাহারা মরুভূমি থেকে শক্তিশালী বাতাসের মাধ্যমে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ধূলিকণা ইউরোপের এই অংশে পৌঁছেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অস্বাভাবিক এই লাল আকাশের কারণে সড়ক ও আকাশপথে দৃষ্টিসীমা (Visibility) মারাত্মকভাবে কমে গেছে, যা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং তীব্র বায়ুদূষণের আশঙ্কায় লোকজনকে বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা রোগীদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। সাধারণত এই ধরনের 'সাহারান ডাস্ট স্টর্ম' মাঝেমাঝে ঘটলেও, বর্তমান ঝড়ের তীব্রতা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানানো হয়েছে। তীব্রতা বাড়লে এই ধূলিমেঘ ইউরোপের মূল ভূখণ্ডেও পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: সামা টিভি

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০