ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৫৮৯, ধ্বংসস্তূপে আটকা অনেকে
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৯৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারাকাস এবং লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দিন-রাত অবিরাম উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও আটকে পড়া মানুষের বাঁচার আকুতি শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের প্রধান দুটি হাসপাতাল রোগীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এবং চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।
ভয়াবহ এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড থেকে ৮০ সদস্যের একটি বিশেষায়িত দল এবং মেক্সিকো, এল সালভাদরসহ কয়েকটি দেশের উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা এই আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।
পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম'-এর আওতায় স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, লুক্সেমবার্গ, চেকিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে মানবিক সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এই বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, জাতিসংঘ এই সহায়তা সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেবে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূকম্পনটিকে ১৯০০ সালের পর দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভূতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার উপকূলজুড়ে বিস্তৃত 'সান সেবাস্তিয়ান ফল্ট'-এ ফাটল সৃষ্টির কারণেই এই দুর্যোগের সূত্রপাত। যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যার প্রভাষক ড. অ্যামি গিলিগানের মতে, এত বড় মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফল্ট লাইনে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি করতে সক্ষম।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View more২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট কুয়েতের জাহরা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নারীদের তাঁবুতে আগুন লেগে ৫৭ জন নারী ও শিশু নি হ ত হন। বর দ্বিতীয় বিয়ে করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর প্রথম স্ত্রী নাসরা ইউসুফ মোহাম্মদ আল এনেজি তাঁবুতে আগুন দিয়েছিলেন বলে পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁকে দো ষী সাব্যস্ত করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়া এবং তাঁবু থেকে বের হওয়ার পথ একটি হওয়ায় প্রা ণ হা নি এত বেশি হয়েছিল। দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানটি চলছিল নারী ও পুরুষ অতিথিদের জন্য আলাদা আয়োজনে। আগুন লাগে নারীদের অংশে, যেখানে শিশুদেরও অনেকে ছিলেন। তদন্ত ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, নাসরা তাঁবুর কাছে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রায় ২০০ জনের বসার উপযোগী তাঁবুটিতে বের হওয়ার জন্য ছিল একটি পথ। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অতিথিরা সেই পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার পরদিন নাসরাকে গ্রে প্তার করা হয়। ২০১০ সালের মার্চে কুয়েতের একটি আদালত তাঁকে পূর্বপরিকল্পিত হ ত্যা এবং হ ত্যার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগের দায়ে মৃ ত্যু দণ্ড দেয়। পরে আপিল আদালতও সেই সাজা বহাল রাখে। বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নি হ তের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য থাকলেও ২০১০ সালের রায়ের সংবাদে ৫৭ জনের মৃ ত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। দণ্ডাদেশের প্রায় সাত বছর পর, ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি কুয়েতে আরও ছয়জনের সঙ্গে নাসরার মৃ ত্যু দণ্ড কার্যকর করা হয়। যে বিয়েকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছিল, সেদিনের আগুনে প্রা ণ হারিয়েছিলেন এমন বহু নারী ও শিশু, যাঁদের সঙ্গে ওই দাম্পত্য বিরোধের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
ভাতিজিকে নিজ হাতে খু ন করেছিলেন হিটলার, ছিল প্রেমের গুঞ্জন - নতুন তথ্যে বদলাচ্ছে ইতিহাস
গাজায় নিজেদের ড্রোনের বিস্ফোরণেই নিহত দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা
সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের দুটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ইয়েমেনের হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে সৌদি তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পথটি সচল রাখার লক্ষ্যেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ফরাসি বাহিনীর কাজ হবে ইয়ানবুর স্থাপনা রক্ষা করা; কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নয়। কতজন সেনা পাঠানো হবে, কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে কিংবা কবে থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে ইয়ানবু গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর। উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি পথে বিঘ্ন ঘটলে লোহিত সাগর হয়ে তেল পাঠানোর বিকল্প পথ হিসেবে এর গুরুত্ব আরও বাড়ে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ানবু হয়ে তেল পরিবহনের পথে সাম্প্রতিক হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ফ্রান্স কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্যও। তবে ব্রিটিশ সহায়তার ধরন ফ্রান্সের ঘোষিত ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা। যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা হলো, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করা।
১০০ ফুট লালগালিচায় শি জিনপিংকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা
মিয়ামিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ
ইসরায়েলকে ঘিরে অপপ্রচার চালিয়ে নতুন প্রজন্মকে আমেরিকা-ইসরায়েলবিরোধী করা হচ্ছে: নেতানিয়াহু
ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজেদের মাতৃভূমি কোনোভাবেই ছাড়বে না এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতিও মেনে নেবে না বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। একই সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে যোগ দিতে পারেননি আব্বাস। তবে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের সামনে ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে এই জোরালো বার্তা তুলে ধরেন তিনি। ভাষণে আব্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল বা সংযুক্তিকরণ রোধ এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ইসরায়েলের অব্যাহত ভূমি দখলের তীব্র সমালোচনা করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করা এবং নিজেদের ভূমিতে টিকে থাকার সক্ষমতা ধ্বংস করার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই দখলদারিত্ব চালানো হচ্ছে। গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনকে ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মাহমুদ আব্বাস বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবিচারের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিরা হত্যা, ধ্বংস ও অনাহারের শিকার হচ্ছে। গাজা উপত্যকায় নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানকার আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল থেকে শুরু করে মসজিদ-গির্জাসহ সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, পশ্চিম তীরকে খণ্ডিতকরণ এবং দখলদার বাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মাহমুদ আব্বাসের এই ভার্চুয়াল বক্তব্য প্রদানের অনুমোদনের পক্ষে ১৫২টি দেশ ভোট দেয়, বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩টি এবং ৪টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
তাইওয়ানে ৮৫ বছরের মাকে বুকে আগলে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন ৬১ বছরের ছেলে, ভাইরাল হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক