সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পুলিশ

তিন দিনের ক্রুজে যাওয়ার সময় বাসায় একা পড়ে ছিল দুই মাসের শিশুসহ চার সন্তান
তিন দিনের ভ্রমণে মা, বাসায় একা পড়ে ছিল ২ মাসের শিশুসহ ৪ সন্তান

ফ্লোরিডার এক মা তিন দিনের বাহামাস ক্রুজে যাওয়ার সময় দুই মাস বয়সী শিশুসহ নিজের চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিন দিনের ভ্রমণ শেষে সোমবার ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পরই তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   আদালতের নথি অনুযায়ী, নর্থ মায়ামি বিচের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাথালি বেলিজেয়ারকে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা কার্নিভাল কনকোয়েস্ট ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পর আটক করেন। পরে তাকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে শিশুদের অবহেলার চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।   পুলিশ জানতে পারে, চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। দুই মাস বয়সী শিশুটির বাবা পুলিশকে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি বেলিজেয়ারের একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্টোরি দেখেন, যেখানে ক্রুজের টিকিট দেখা যাচ্ছিল। ওই মা তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি শিশুদের তাদের প্রপিতামহীর কাছে রেখে যাবেন।   কিন্তু দুই দিন পর ওই ব্যক্তি বেলিজেয়ারের বাসায় গিয়ে দেখতে পান, টেলিভিশন চালু রয়েছে এবং ভেতর থেকে শিশুদের শব্দ শোনা যাচ্ছে। পরে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন চার শিশুকে একসঙ্গে বাথরুমে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।   আদালতের অভিযোগপত্রে চার শিশুর সবার বয়স উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের বয়স দুই বছর এবং আরেকজন দুই মাস বয়সী শিশু।   তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শিশুদের দেখাশোনার কথা ছিল তাদের প্রপিতামহীর। তিনি পুলিশকে জানান, বেলিজেয়ার তাকে বলেছিলেন যে তিনি বাইরে যাচ্ছেন এবং শিশুদের তার কাছে দিয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি শিশুদের নিয়ে যাননি।   বেলিজেয়ারের ভাইও পুলিশকে জানান, তাকে শিশুদের খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছিল।   তদন্তের সময় পুলিশ আরও জানতে পারে, বেলিজেয়ার শুক্রবার যাত্রা শুরু হওয়া তিন দিনের একটি ক্রুজের টিকিট কিনেছিলেন। জাহাজটি তিন দিন পর ফিরে আসার সময় স্থানীয় ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।   গ্রেপ্তারের পর বেলিজেয়ারকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বর তাকে আবার আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী
কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কারাবন্দি এক নারীর আর্থিক বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্ব পেয়ে প্রায় ৬৫ হাজার ডলার আত্মসাতের অভিযোগে জেসিকা এলিজাবেথ ম্যাকভে (৪৮) নামের এক সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত জেসিকা ফ্লোরিডার ১২তম জুডিশিয়াল সার্কিটের পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসে ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   সারাসোটা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মানাটি কাউন্টি জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় এক ভুক্তভোগী নারী ভরসা করে জেসিকাকে নিজের আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু এই বিশ্বাসের চরম অপব্যবহার করে জেসিকা অননুমোদিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংক ট্রান্সফার, এটিএম থেকে অর্থ উত্তোলন এবং কেনাকাটার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।   পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী জেলে থাকাকালীন তার অজান্তেই জেসিকা নিজের নামে খোলা একাধিক ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করেছেন ওই নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে আইনজীবী নিয়োগের কথা বলে জেসিকা একটি 'পাওয়ার অব অ্যাটর্নি' নথিতে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেন।   কিন্তু পরবর্তীতে কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করেই জেসিকা সেই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন। গত ১৩ আগস্ট জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী যখন জেসিকার সঙ্গে দেখা করেন, তখন জেসিকা দাবি করেন যে, সাক্ষীরা যেন আদালতে হাজির না হন সেজন্য তিনি এক লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছেন এবং সে কারণেই ওই নারী মুক্তি পেয়েছেন।   পরদিন ১৫ আগস্ট ব্যাংক স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী তার অ্যাকাউন্টে এসব অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ১৮ আগস্ট তিনি সারাসোটা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে কর্তৃপক্ষ।   ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেসিকার বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড থেফট, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরিসহ মোট পাঁচটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সারাসোটা কাউন্টিতে জেসিকা ম্যাকভের বিচারকাজ চলছে এবং আগামী ৩০ অক্টোবর আদালতে তার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই প্রতারণার শিকার আরও কেউ আছেন কি না, তা নিয়েও নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ভারতে মসজিদ ভাঙা ঘিরে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ
ভারতে মসজিদ ভাঙা ঘিরে উত্তেজনা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাথর নিক্ষেপ, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।   বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু পুরো মসজিদ নয়, বরং সড়ক সম্প্রসারণের প্রস্তাবিত সীমানার মধ্যে পড়া মসজিদের একটি অংশ। উজ্জয়নের কান্থাল চৌরাস্তা থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত সড়কটি প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ। সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের সিমহাস্থ মেলায় বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে শহরের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।   প্রস্তাবিত অপসারণ ঠেকাতে রোববার রাত থেকেই স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন। তাদের কেউ কেউ মসজিদের ভেতরেও রাত কাটান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়।   স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য মসজিদের অংশ সরানোর পরিবর্তে বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে বিকল্পভাবে রাস্তা প্রশস্ত করা যেতে পারে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকেও ধর্মীয় স্থাপনাটি বাদ রেখে বিকল্প পরিকল্পনার দাবি জানানো হয়েছে।   সোমবার প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত অপসারণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে মসজিদের আশপাশে লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। পরে এলাকায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও মোতায়েন করা হয়।   স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একজন নারী পুলিশ পরিদর্শক আহত হয়েছেন বলে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে।   সংঘর্ষের আশঙ্কায় মসজিদের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলাকায় প্রায় দুই হাজার বা তার বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় ব্যারিকেড বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।   প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল সংঘর্ষ যাতে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।   উজ্জয়নে ২০২৮ সালে সিমহাস্থ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। তাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।   কান্থাল চৌরাস্তা থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রকল্পে একাধিক স্থাপনা রাস্তার নির্ধারিত অংশের মধ্যে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় ২৭২ থেকে ২৭৪টি স্থাপনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মীয় স্থাপনাও রয়েছে।    প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তা প্রশস্ত করার কাজটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না; প্রকল্পের সীমানায় থাকা বিভিন্ন স্থাপনা সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ এ বিষয়ে করা দুটি আবেদন খারিজ করেছিল বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।   আদালত বলেছিল, পৌর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং সড়ক সম্প্রসারণের বিষয়টি জনস্বার্থ ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালত সিমহাস্থ মেলার সময় উজ্জয়নে সম্ভাব্য ব্যাপক জনসমাগমের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়।    তবে মসজিদ কমিটি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর বেঞ্চে আবেদন করে। ২৮ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে শুনানির কথাও ছিল। একই দিনে মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়াটিও নতুন করে আলোচনায় আসে।    শাহী মসজিদটির বয়স নিয়েও বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। স্থানীয় ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম মসজিদটি প্রায় ৬৩৬ বছরের পুরোনো এবং ১৩৯০ সালের দিকে নির্মিত বলে দাবি করেছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মসজিদের বয়স নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ফলে ৬৩৬ বছরের দাবিটিকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।    এ কারণে বর্তমান বিরোধে মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের দাবি এবং সরকারি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প—দুই বিষয়ই আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সোমবারের সংঘর্ষের পর উজ্জয়নের শাহী মসজিদ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে আদালতের কার্যক্রমও বিরোধটির পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রস্তাবিত ১৫ মিটার সড়ক সম্প্রসারণের মধ্যে পড়া মসজিদের নির্দিষ্ট অংশ অপসারণ নিয়েই বর্তমান বিরোধ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষই এখন উজ্জয়নের সবচেয়ে আলোচিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
রক্তে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পাওয়ার পর ৬ মাসের শিশুকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়
৬ মাসের শিশুর রক্তে ভয়াবহ মাত্রার অ্যালকোহল, ফ্লোরিডায় গ্রে প্তার বাবা-মা

ফ্লোরিডায় ৬ মাসের এক শিশুর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে শিশু অবহেলার অভিযোগে গ্রে প্তার করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, আরও কিছুটা দেরি হলে শিশুটির মৃ ত্যু হতে পারত।   ঘটনাটি ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর। পুলিশ জানায়, শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাই স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে বসার ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে সে তার ছোট বোনকে দেখতে গিয়ে তাকে প্লে-পেনের ভেতর অ চেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করা হয়।   প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল, কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে শিশুদের একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর শিশুটির রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়া যায়।   চিকিৎসকদের মতে, রক্তে ০.৩ শতাংশের বেশি অ্যালকোহল থাকলে অ্যালকোহল পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা প্রাণ ঘা তী হতে পারে। হাসপাতালে করা আরও কিছু পরীক্ষায় শিশুটির পেটে, মাথায় ও উরুতে কালশিটের দাগ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রতিবেদনে এসব আঘাতকে ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   চিকিৎসাকর্মীরা পুলিশকে জানান, শিশুটির অবস্থা ছিল ‘গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল’। তাদের ধারণা, আরও দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারত। এ ঘটনায় শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাইয়ের দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারা এবং সাহায্য চাওয়া তার জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে কর্মকর্তারা জানান।   জনস হপকিন্স অল চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক মেঘান মার্টিন জানান, অল্প বয়সী শিশুদের শরীরে অ্যালকোহল গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম কমে যেতে পারে। পাশাপাশি চেতনার পরিবর্তন, বমি এবং বমি শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে।   শিশুটির বাবা ৩৬ বছর বয়সী জেসি ওয়ালড্রপ এবং মা ২৭ বছর বয়সী দেশিরে উজুনবয়লুকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। দুজনই দাবি করেন, কীভাবে শিশুটির শরীরে অ্যালকোহল গেল সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তারা নিজেদের মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের কথাও অস্বীকার করেন।   মা পুলিশকে জানান, ঘটনার আগের দিন তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, পরিবারের কেউ হয়তো একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে দিয়েছিল। পরে সেই বোতল থেকেই বাবা শিশুটির জন্য দুধ তৈরি করে থাকতে পারেন। জিজ্ঞাসাবাদে বাবাও একই ধরনের বক্তব্য দেন।   তদন্তে পরিবারের এক সদস্য জানান, তিনি একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে সেটি বন্ধ ব্যাকপ্যাকে রেখেছিলেন। পরে তিনি দেখতে পান বোতলটি ব্যাকপ্যাকের বাইরে চলে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের এক প্রাপ্তবয়স্ক ভাই ওই বোতল থেকে কিছু ভদকা পান করেছিলেন।   ওয়ালড্রপ ও উজুনবয়লুকে ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রে প্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়া শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে তারা জা মিনে মুক্তি পেলেও আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন আইনজীবী ব্রায়ান্ট কামারেনো জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি ও আঘাতের মাত্রার ওপর নির্ভর করে অভিযুক্তদের কয়েক বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাজা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাহকের পিৎজা হাতে দরজায় হাজির দুই পুলিশ কর্মকর্তা
পিৎজা নিয়ে যাওয়ার আগেই হেফাজতে ডেলিভারি চালক, অর্ডার পৌঁছে দিল পুলিশ

বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে এক ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর তার গাড়িতে থাকা গ্রাহকের পিৎজার অর্ডারটি নিজেরাই পৌঁছে দিলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টেম্পি শহরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঘটে এই অদ্ভুত ঘটনা। বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে ট্রাফিক স্টপের সময় এক গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে চালককে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়িতে একজন গ্রাহকের পিৎজার অর্ডার পড়ে ছিল।   চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর পিৎজাটি কীভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে, তা নিয়ে ভাবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই অর্ডারটি পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর দুই কর্মকর্তা পিৎজার বাক্স হাতে ওই নারীর বাড়ির দরজায় গিয়ে হাজির হন।   দরজা খুলে সামনে পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখে বিস্মিত হয়ে যান গ্রাহক। তখন এক কর্মকর্তা তাকে জানান, তার গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে, তাই তারা পিৎজাটি পৌঁছে দিতে এসেছেন। পাশে থাকা আরেক কর্মকর্তা মজা করে বলেন, পিৎজাটি এখনো গরম থাকার কথা।   অপ্রত্যাশিত এই ডেলিভারিতে অবাক হলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ওই নারী। পরে টেম্পি পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা বডিক্যাম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ঘটনাটি দেখা যায়।   ঘটনাটি নিয়ে টেম্পি পুলিশও রসিকতা করে জানায়, ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়া হলেও পিৎজার ডেলিভারি শেষ পর্যন্ত ঠিকই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে একটি সাধারণ ট্রাফিক স্টপই পরিণত হয় অস্বাভাবিক এক পিৎজা ডেলিভারির ঘটনায়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার
মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো দুই ডিপোর্টিকে দেশটির পুলিশ মাথায় বস্তা পরিয়ে, হাত-পা বেঁধে এবং অস্ত্র দিয়ে মারধর করে সিঁড়ি দিয়ে ঠেলে নামিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তাদের আইনজীবীদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর মালাবোর কাছে একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই হোটেলটিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ডিপোর্টিদের আটক রাখার কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।   অভিযোগের শিকার দুই ব্যক্তি হলেন মিশরের নাগরিক আহমেদ সোলিমান এবং ইরিত্রিয়ার নাগরিক স্যামসন বিরহানে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর বসবাসের পর ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট কর্মসূচির আওতায় ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে মালাবোর লা লুনা পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পুলিশ স্টেশনে নেওয়ার পর তারা দুই ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না।   আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে সোলিমান ও বিরহানে আটককেন্দ্রে থাকা মানুষের জীবনযাপন এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে বাইরে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। হোটেলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ এবং ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে হোটেলের একটি আয়না ভাঙার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তবে তাদের আইনজীবীরা বলছেন, গ্রেপ্তার ও পরবর্তী নির্যাতনের পেছনে মূল কারণ ছিল আটককেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কথা বলা।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়েছে, পুলিশ দুই ব্যক্তির মাথায় বস্তা পরিয়ে হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে। এরপর তাদের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা এবং সিঁড়ি দিয়ে ঠেলে নামানোর ঘটনা ঘটে। অন্য আটক ডিপোর্টিরা ঘটনাটি দেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় পুলিশ তাদের মোবাইল ফোনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির সরকারের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ওই হোটেলে মার্কিন ডিপোর্টিদের সঙ্গে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির পুলিশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের অভিবাসীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করতে দেখা যায়। ঘটনাটি মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে ওই ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা ভিডিও দেখে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মালাবো শহরের বামি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা অভিবাসীদের রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট সংক্রান্ত একটি চুক্তির আওতায় তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থার আওতায় ৪০ জনের বেশি মানুষকে ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকির কথা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালতে জানিয়েছিলেন।   এই ধরনের ব্যবস্থাকে তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট বলা হয়। এতে কোনো অভিবাসীকে সরাসরি তার নিজ দেশে না পাঠিয়ে অন্য একটি দেশে পাঠানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ডিপোর্টের জন্য আইনসম্মত বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি আইসিইর হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার দায়িত্বও আইসিইর ওপর থাকে না।   তবে মানবাধিকার সংগঠন ও ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট করার এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্য, নিজ দেশে ফেরত গেলে নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের অন্য দেশে পাঠানো হলে তাদের সুরক্ষা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সোলিমান ও বিরহানেকে আটক করার ঘটনাটি তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তারা মানবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।   বামি হোটেলে থাকা ডিপোর্টিদের অভিযোগের মধ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া, আইনি সহায়তায় বাধা এবং খাবার ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার ঘাটতির বিষয়ও রয়েছে। এর আগে সেখানে পুলিশের সহিংস আচরণের আরও অভিযোগ সামনে এসেছে। আইনজীবীদের একটি জোট জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে মুখোশধারী পুলিশ কয়েকটি কক্ষে ঢুকে কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরায় এবং অস্ত্রের মুখে হুমকি দেয়।   এদিকে সোলিমান ও বিরহানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাদের আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের লা লুনা পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়েছে বলে জানা গেলেও, আইনজীবীরা জানিয়েছেন তারা দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আটক ডিপোর্টিদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
গাড়ির গ্রিল থেকে উদ্ধার করা ৩ ফুট লম্বা বল পাইথন
গাড়ির গ্রিলের ভেতর ৩ ফুটের অজগর, আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির সোমারসেট এলাকায় একটি গাড়ির সামনের গ্রিলে আটকে পড়া প্রায় ৩ ফুট লম্বা একটি সাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপের ওকল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ের একটি আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   পুলিশ জানায়, গাড়ির গ্রিলের ভেতর সাপ আটকে থাকার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তবে সাপটিকে বের করা সহজ ছিল না। নিরাপদে সেটিকে বের করতে গাড়ির সামনের বাম্পারসহ কয়েকটি অংশ খুলতে হয়।   পরে পুলিশ সদস্যরা সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এরপর সেটিকে ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপ অ্যানিমেল শেল্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা সাপটিকে একটি বল পাইথন হিসেবে শনাক্ত করেন।   তবে সাপটি কীভাবে গাড়ির ভেতরের গ্রিলে ঢুকেছিল বা কতক্ষণ সেখানে আটকে ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটির পর ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপের পাবলিক সেফটি ডিরেক্টর লয়েড ফ্রেডেরিকস বাসিন্দাদের বিদেশি বা অপ্রচলিত পোষা প্রাণী বাইরে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাণী প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া শুধু বেআইনিই নয়, স্থানীয় প্রাণী ও অন্যান্য পোষা প্রাণীর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   কোনো ব্যক্তি যদি পোষা সাপ আর দেখাশোনা করতে না পারেন, তাহলে সেটিকে বাইরে ছেড়ে না দিয়ে স্থানীয় অ্যানিমেল শেল্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে হস্তান্তরের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জঙ্গলে মিলল ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ
মায়ের আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ, জঙ্গলে মিলল ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ

কুমিল্লায় মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ি এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।   এর আগে শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।   নিখোঁজের একদিন পর শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে মরদেহ উদ্ধারের খবরে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।   পুলিশের তদন্তে অপ্রতিমের মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং তার সঙ্গে সর্বশেষ কারা ছিলেন, এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মাথায় আঘাতের ধরনসহ অন্যান্য আলামতও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র ২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরি পেলেন সিলেটের রিজভী ইসলাম
মাত্র ২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরি পেলেন সিলেটের রিজভী ইসলাম

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের কানলী গ্রামের তরুণ রিজভী ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে চাকরি পেয়েছেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, এনওয়াইপিডিতে তিনি ট্রাফিক-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে কাজ করবেন। এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   রিজভী ইসলাম কানলী গ্রামের শাহিনুল ইসলাম ওরফে দুলালের ছেলে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তিনি স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে যাওয়ার পর নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান।   রিজভীর চাচা সাইদুল ইসলাম সেলিম জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর থেকেই রিজভী নিজের পেশাগত ভবিষ্যৎ গড়তে নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এনওয়াইপিডির ট্রাফিক-সংশ্লিষ্ট বিভাগে চাকরির সুযোগ পান তিনি।   রিজভীর এই অর্জনে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি কানলী গ্রামের মানুষের মধ্যেও আনন্দ দেখা দিয়েছে। বিয়ানীবাজারের একজন তরুণ হিসেবে নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগে কাজের সুযোগ পাওয়াকে স্থানীয়রা তাঁর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে দেখছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পরিবেশে বসবাস শুরু করার পর অল্প সময়ের মধ্যে পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে রিজভীর এই অর্জন তাঁর পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এনওয়াইপিডিতে তাঁর নির্দিষ্ট পদবি, নিয়োগের তারিখ এবং দায়িত্বের বিস্তারিত বিষয়ে প্রকাশ্য সরকারি সূত্রে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রচেষ্টার পর পাওয়া এই চাকরির মাধ্যমে রিজভীর যুক্তরাষ্ট্রের পেশাজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ
পরিশ্রমে স্বপ্নজয়, নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক এজেন্ট হিসেবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের তরুণ আবদুল্লাহ। তিনি বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খাসা বিলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং বিলাল উদ্দিনের ছেলে। তাঁর এই সাফল্যের খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শৈশব থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহ প্রবাসে গিয়েও নিজের লক্ষ্য ধরে রাখেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ের পর তিনি নিউইয়র্কের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদে সফল হয়েছেন।   আবদুল্লাহর এই অর্জনে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন মহল থেকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সাফল্যের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   নিউইয়র্কে ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টরা শহরের সড়কে যানবাহন ও পার্কিংসংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কাজটির মধ্যে ট্রাফিক ও পার্কিং বিধি প্রয়োগ, রাস্তায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যান চলাচল ব্যবস্থাপনার মতো দায়িত্ব রয়েছে।   প্রবাসজীবনে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এমন পেশায় জায়গা করে নেওয়া আবদুল্লাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাঁর সাফল্যের খবর বিয়ানীবাজারের স্থানীয় পর্যায়ে আনন্দের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। সূত্র: বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
কোহাটে পুলিশ কমপ্লেক্সের মসজিদের কাছে বোমা হামলায় নিহত অন্তত ১৬
পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদে বো মা হা ম লা, নি হত অন্তত ১৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি মসজিদের কাছে আ ত্ম ঘা তী গাড়ি বো মা হা মলায় অন্তত ১৬ জন নি হত হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় চালানো এই হা মলায় নি হতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আ হ ত হয়েছেন অন্তত ৫৭ জন। পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হা মলার পর ঘটনাস্থলে গু লি বি নি ময়ও হয়েছে।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বি স্ফো র ক বোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ কমপ্লেক্সের বাইরের দেয়ালে ধাক্কা দেওয়ার পর বি স্ফো র ণ ঘটে। ওই সময় কমপ্লেক্সের ভেতরের মসজিদে পুলিশ সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায় করছিলেন। বি স্ফো র ণের পর কয়েকজন স শ স্ত্র হা ম লা কারী কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গু লি বি নি ময় শুরু হয়।   খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ জানিয়েছেন, এটি একটি আ ত্ম ঘা তী হা ম লা ছিল। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আরও এক আ ত্ম ঘা তী হা ম লা কারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে বি স্ফো র ণ ঘটায়। হা মলায় জড়িত সাতজন হা ম লা কারী নি হত হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে কোনো গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে হা ম লার দায় স্বীকার করেনি।   বি স্ফো র ণে মসজিদ ও আশপাশের স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে ভবনের দেয়াল ও মসজিদের অংশবিশেষ ধসে পড়তে দেখা গেছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আ হ তদের বের করে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠায়। আ হ তদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   হা ম লার পর স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় হ তা হ তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে নি হ তের সংখ্যা কম ছিল, পরে কর্মকর্তারা তা ১৬ জনে উন্নীত করেন। ফলে পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল।   আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স শ স্ত্র হা ম লার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং তাদের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হা ম লা নিয়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তবে শুক্রবারের হা ম লার দায় কোনো গোষ্ঠী নিয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এই হা ম লার এক দিন আগেই একই প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহরে রাস্তার পাশে বো মা হা মলায় ছয় সেনা নি হত হন। এরপর পাকিস্তানি বাহিনী হাঙ্গু ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ১০ জন সন্দেহভাজন জ ঙ্গিকে হ ত্যার করার কথা জানিয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   কোহাটের এই হা ম লা পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা স্থাপনার সঙ্গে থাকা মসজিদগুলো কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে। ২০২৩ সালে খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ারের একটি পুলিশ কমপ্লেক্সের মসজিদে আ ত্ম ঘা তী হা ম লায় শতাধিক মানুষ নি হত হয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পুলিশ সদস্য।   পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান সহিংসতার মধ্যে শুক্রবারের হা ম লাটি সর্বশেষ বড় প্রাণঘাতী ঘটনা। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান ও তল্লাশি চালাচ্ছে এবং হা ম লার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ওসি মাহবুবকে ঘিরে বিয়ে ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক
যে জেলায় পোস্টিং, সেখানেই বিয়ে! ওসি মাহবুবকে নিয়ে বিতর্ক

রাজশাহীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারীকে শুক্রবার সকালে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাঁদের বের করে আনা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী ওই ফ্ল্যাটে অন্য এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তবে আন্নির করা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।   মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলাও চলমান রয়েছে। প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমতি বা ছুটি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে গিয়েছিলেন।   শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্নি আক্তার নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে যান। তাঁর দাবি, তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম সেখানে অবস্থান করছেন এবং তাঁর সঙ্গে সানজিদা মৌ নামের আরেক নারী রয়েছেন। দীর্ঘ সময় দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দরজা না খোলায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর মাহবুব ও সানজিদাকে থানায় নেওয়া হয়।   নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাধারণত তাঁর পালিত মেয়ে ও জামাই থাকেন বলে জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেন আন্নি। সানজিদা সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি।   থানায় নেওয়ার পর মাহবুব আলম সানজিদা মৌকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর দাবি, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি মাহবুবের ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   আন্নির অভিযোগ, মাহবুব আলম বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকার সময় একাধিক নারীকে বিয়ে করেছেন বা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে তাঁর সঙ্গে দেখেছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   অন্যদিকে মাহবুব আলম দাবি করেছেন, তিনি আন্নি আক্তারকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। পুলিশকে তিনি তালাকের একটি কাগজ দিয়েছেন বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি এবং তালাকের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন না। ফলে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের বর্তমান আইনি অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   ঘটনার পর আন্নি আক্তার মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন। চন্দ্রিমা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় নেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।   এদিকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল থেকে রাজশাহীতে যাওয়ার অভিযোগটিও আলাদাভাবে আলোচনায় এসেছে। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট জানিয়েছেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং তিনি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই রাজশাহীতে যান। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার
পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার, ভিডিও ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার লেক চার্লস শহরে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তিকে ব্লিচ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে তারই হোম কেয়ার কর্মীর বিরুদ্ধে। পুলিশের অভিযোগ, ৩০ বছর বয়সী রেজিনাল্ড আন্দ্রে উইলসন একটি পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে ওই ব্যক্তিকে তা পান করতে দিয়েছিলেন। ঘটনাটি ধরা পড়ে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায়।    পরিবারের প্রকাশ করা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, উইলসন একটি বড় পাত্র থেকে বোতলে তরল ঢালছেন। এরপর তিনি পাত্রটি লন্ড্রি এলাকার দিকে রেখে বোতলটি ঝাঁকিয়ে নেন। পরে ওই বোতল নিয়ে তিনি তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে যান এবং সেটি পান করতে বলেন বলে পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বোতল থেকে পান করার পর তরলটির স্বাদ ব্লিচের মতো অনুভব করেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের এক সদস্যকে জানান। পরে ওই পরিবারের সদস্য উইলসনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের দাবি, তখন উইলসন বোতলের পানিতে ব্লিচ ঢালার কথা স্বীকার করেন। পরিবার পরে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।    উইলসন লেক চার্লসের হেভেন অন আর্থ নেটওয়ার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হোম কেয়ার কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত যত্ন ও দৈনন্দিন কাজে সহায়তা দেওয়ার সেবা প্রদান করে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাকে ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ইমার্জেন্সি রুমে নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি ভালো আছেন।    লেক চার্লস পুলিশ উইলসনকে ক্ষতিকর পদার্থ মেশানো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর নিষ্ঠুরতা এবং গুরুতর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই উইলসন সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরে তাকে খুঁজে বের করে কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়।    হেভেন অন আর্থ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, তাদের কাছে সেবাগ্রহীতার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো ধরনের নির্যাতন তারা মেনে নেয় না। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের তদন্তে সহযোগিতা করছে। গোপনীয়তা আইনের কারণে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনার পেছনে উইলসনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কী ছিল, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া
বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে গু/লিতে নি/হত ভারতীয় নারী

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিতকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। ৮ সেপ্টেম্বর একটি শপিং সেন্টারে শালিনীকে ধাওয়া করে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হাইওয়ে ৫০-এ পুলিশের সঙ্গে অবস্থানের সময় রোহিতকে গাড়ির ভেতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি নিজের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন।   তদন্তে জানা গেছে, শালিনী ও রোহিতের পরিচয় হয়েছিল শালিনীর কর্মস্থলের সূত্রে। রোহিত DoorDash-এর খাবার সরবরাহের কাজ করতেন এবং শালিনীর কর্মস্থলে অর্ডার নিতে যেতেন। আদালতে দেওয়া শালিনীর আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে রোহিত তার পিছু নেওয়া ও বিরক্ত করা শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সেই আচরণ আরও বাড়তে থাকে।   শালিনীর অভিযোগ অনুযায়ী, রোহিত প্রায়ই তার বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন। ২৩ এপ্রিলের একটি ঘটনায় তিনি কয়েক ঘণ্টা বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়। শালিনী আরও অভিযোগ করেন, রোহিত তার গাড়ির টায়ারের বাতাস ছেড়ে দিতেন এবং পরে সাহায্য করার অজুহাতে তার কাছে আসতেন।   এরপর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার অভিযোগ ওঠে। জানুয়ারি মাসে শালিনীর গাড়ির হুডের নিচে একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ পাওয়া যায়। তার অভিযোগ ছিল, এই যন্ত্রের মাধ্যমে তার চলাফেরার ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। তদন্তকারীরা আরও জানান, রোহিত তার অ্যাপার্টমেন্টের চাবির একটি কপি সংগ্রহ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাসায় ঢুকেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   শালিনী আদালতে আরও অভিযোগ করেছিলেন, রোহিত তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেন এবং অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতেন। এমনকি তিনি বিয়ে না করলে নিজেকে বা অন্যদের গুলি করার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শালিনী। এসব তথ্য শালিনীর আদালতে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে মে মাসে শালিনী আদালতের কাছে সুরক্ষা আদেশ নেন। এই আদেশে রোহিতকে তার কাছ থেকে দূরে থাকার এবং তাকে হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, এর আগে কর্মকর্তারা শালিনীকে আদালতের এই সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন।   কিন্তু জুলাইয়ে আবারও ওই আদালতের নির্দেশ ভঙ্গের অভিযোগ করেন শালিনী। তিনি পুলিশকে জানান, রোহিত তার বাড়ির দরজার সামনে বাজারসামগ্রী রেখে গেছেন। শেরিফের কার্যালয় বলেছে, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের সম্ভাব্য কারণ ছিল। কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও কয়েকবার তাকে পাওয়া যায়নি।   এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ঘটে প্রাণঘাতী ঘটনা। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শালিনীকে তার গাড়ির কাছে দেখতে পেয়ে রোহিত তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। শালিনী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রোহিত তাকে ধাওয়া করেন এবং গুলি করেন। পরে তিনি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করে হাইওয়ে ৫০-এ। সেখানে কিছু সময়ের পুলিশি অবস্থানের পর রোহিতকে গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   ঘটনার পর সামনে এসেছে প্রায় এক বছরের ধারাবাহিক অভিযোগ—শালিনীর পিছু নেওয়া, তার গাড়িতে নজরদারি, গাড়ির টায়ারে হস্তক্ষেপ, বাসায় প্রবেশ এবং আদালতের সুরক্ষা আদেশ ভঙ্গের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি, কারণ শালিনী হত্যার পর রোহিতও মারা গেছেন।   এখন পর্যন্ত প্রকাশিত আদালতের নথি ও তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে পুরোনো কোনো শত্রুতা বা পারস্পরিক বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রেমের সম্পর্ক ছিল—এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। বরং শালিনীর আদালতে দেওয়া অভিযোগে রোহিতের পক্ষ থেকে বিয়ের চাপ, পিছু নেওয়া ও হয়রানির ধারাবাহিকতার কথাই উঠে এসেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
কৌতূহলের টানে দৌলতদিয়ায় ৫ শিশু
কৌতূহলের টানে দৌলতদিয়ায় ৫ শিশু, পরে পুলিশের হাতে উদ্ধার

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের খবর দিয়ে থানায় এনে শিশুদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   উদ্ধার হওয়া পাঁচ শিশু হলো মো. হিরোন (১১), জিসান (১৩), আবুজার (১৩), মো. আব্দুল্লাহ (১৩) ও খালিদ বিশ্বাস (১০)। তাদের সবার বাড়ি মাগুরা সদর থানার কাদিরাবাদ এলাকায়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ শিশু পরস্পরের বন্ধু। কৌতূহল ও দুরন্তপনার বশে তারা সোমবার সকালে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। মাগুরা সদর থানা এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে তারা দৌলতদিয়ায় পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করছিল।   এ সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানার টহল পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। পুলিশ সদস্যরা শিশুদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুরা জানায়, কৌতূহল থেকেই তারা একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।   এদিকে সন্তানদের বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ ফোন করে তাদের সন্তানদের দৌলতদিয়ায় পাওয়ার খবর জানালে অভিভাবকরা দ্রুত থানায় উপস্থিত হন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পাঁচ শিশুকে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।    গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা কৌতূহলবশত মাগুরা থেকে একসঙ্গে বের হয়ে দৌলতদিয়ায় চলে আসে। পরে তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা থানায় এসে শিশুদের নিয়ে যান।    ঘটনাটি শিশুদের নিরাপত্তা এবং অভিভাবকদের নজরদারির বিষয়টিও সামনে এনেছে। বাড়ি থেকে দূরে যাওয়ার আগে শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত, যোগাযোগের ব্যবস্থা এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। সূত্র: কালবেলা

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী
নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী

ভারতের উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলার হারদৌলি গ্রামে দীর্ঘদিনের ৫জি নেটওয়ার্ক সমস্যার জেরে এক টেলিকম টেকনিশিয়ানকে মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় টেকনিশিয়ান আদিত্য ভান সিংকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক সমস্যার অভিযোগ দেখতে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন সিং। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে এবং ৫জি সংযোগের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। একপর্যায়ে তাকে টাওয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় প্রায় দুই বছর ধরে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা চলছে। সেখানে একটি বেসরকারি টেলিকম টাওয়ার স্থাপিত থাকলেও ৫জি সেবা ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও নেটওয়ার্ক কাজ করত না বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে ফোন কল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছিলেন বাসিন্দারা।    পুলিশ জানিয়েছে, বাসিন্দাদের একটি অংশ ৫জি প্যাকেজের জন্য অর্থ দিলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি ছিল, টেলিকম কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত টেকনিশিয়ানকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অবশ্য সিংকে ছেড়ে দেওয়া হয়।    পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সিং প্রায় তিন মাস আগে ওই টেলিকম কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ওই টাওয়ারে সেটিই ছিল তার প্রথম সফর। স্থানীয়দের দাবি, এর আগে কয়েক মাস ধরে সেখানে কোম্পানির কোনো কর্মী আসেননি। ফতেহপুরের পুলিশ সুপার অভিমন্যু মাঙ্গলিকের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখেছিলেন।    ঘটনার পর সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে। ঘটনাস্থলে থাকা সাতজনকে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের মধ্যে ছয়জনকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে তারা জামিনে মুক্তি পান। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেটার তৈরি 'স্মার্ট গ্লাস' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চশমা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশের কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট সম্প্রতি তাদের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে 'রে-ব্যান মেটা গ্লাস'-কে নতুন "নিরাপত্তা ও কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ঝুঁকি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।   সাধারণ চশমার মতো দেখতে এই ডিভাইসে থাকা ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করে অপরাধীরা বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পুলিশ স্টেশন এবং কারাগারের ভেতরের স্পর্শকাতর তথ্য গোপনে ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   'প্রপার্টি অব দ্য পিপল' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার প্রকাশ করা নথিতে দেখা গেছে, মেইন থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তারা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অপরাধী ও সন্ত্রাসীরাও এই চশমার মাধ্যমে পুলিশি স্থাপনার লেআউট, নজরদারি ক্যামেরার অবস্থান এবং টহল ব্যবস্থার গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারে।   দৃষ্টান্ত হিসেবে মেমোটিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যেখানে এক ব্যক্তি মেটা গ্লাস ব্যবহার করে সাউথ ক্যারোলিনার একটি ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের শোচনীয় অবস্থা গোপনে ধারণ করে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন।   নিরাপত্তার এই ঝুঁকির কারণে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ইতোমধ্যে তাদের ফেডারেল ওয়ার্কস্পেসে কর্মীদের মেটা গ্লাস পরা নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে মেটা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের চশমাগুলো গোপনে রেকর্ডিংয়ের জন্য তৈরি হয়নি; বরং ছবি বা ভিডিও ধারণ করার সময় ডিভাইসে থাকা একটি উজ্জ্বল সাদা এলইডি আলো জ্বলে ওঠে যা বন্ধ করার কোনো উপায় নেই।   তবে ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ যখন সাধারণ মানুষের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায় তখন সেটি বৈধ থাকে, কিন্তু জনগণ যখন পুলিশের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে সক্ষম হয়, তখনই তারা একে 'নিরাপত্তা ঝুঁকি' বলে অভিহিত করে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
কুইন্সে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় হঠাৎ  এনওয়াইপিডি রিক্রুটের মৃত্যু
কুইন্সে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় হঠাৎ এনওয়াইপিডি রিক্রুটের মৃত্যু

নিউইয়র্কের কুইন্সে পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা গেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) এক রিক্রুট। সোমবার স্টিফেন ডি. ম্যাকডোনাল্ড পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্র ও পুলিশ ইউনিয়ন।   নিহত রিক্রুটের নাম কামির লুব্যারিয়া। তিনি প্রশিক্ষণরত প্রোবেশনারি পুলিশ অফিসার ছিলেন এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এনওয়াইপিডিতে যোগ দিয়েছিলেন। সোমবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে কলেজ পয়েন্টের পুলিশ একাডেমিতে ওয়ার্কআউটের সময় তিনি হঠাৎ পড়ে যান।   ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সিপিআর দেন। কিছু সময়ের জন্য তার শ্বাস-প্রশ্বাস ও জ্ঞান ফিরে এসেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে তাকে কুইন্সের বুথ মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   এনওয়াইপিডি এক বিবৃতিতে লুব্যারিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তিনি মানুষের সেবা করা এবং নিউইয়র্ক সিটিকে নিরাপদ রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো পুলিশ বিভাগ শোকাহত বলেও জানানো হয়েছে।   পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্যাট্রিক হেনড্রি বলেন, প্রশিক্ষণের সময় সহকর্মী পুলিশ অফিসারের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। তার পুলিশ ক্যারিয়ার মাত্র শুরু হলেও নিউইয়র্কবাসীকে সেবা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়েই তিনি ইতোমধ্যে সম্মানের দাবিদার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন হেনড্রি।   ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহান মামদানি এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ হাসপাতালে যান। তবে ঠিক কী কারণে লুব্যারিয়া প্রশিক্ষণের সময় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন এবং তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
এনওয়াইপিডির বিশেষ স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশী সার্জেন্ট মোহাম্মদ হক
এনওয়াইপিডির বিশেষ স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশী সার্জেন্ট মোহাম্মদ হক

নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) ১ম প্রিসিঙ্কট থেকে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন সার্জেন্ট মোহাম্মদ হক। জননিরাপত্তায় অবদান, দায়িত্বনিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে একটি সার্টিফিকেট অব রিকগনিশন দেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক বার্তায় সার্জেন্ট মোহাম্মদ হককে অভিনন্দন জানিয়েছে। তিনি বাপার ১ম প্রিসিঙ্কট ডেলিগেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।   বাপার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে তার নিষ্ঠা, পেশাদার আচরণ এবং জননিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের জন্য এই স্বীকৃতি তার প্রাপ্য। সংগঠনটি তার এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছে।   নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।   সার্জেন্ট মোহাম্মদ হকের এই স্বীকৃতিকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতির পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কমিউনিটির জন্যও একটি সম্মানজনক অর্জন হিসেবে দেখছে বাপা।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথন ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
এআই চ্যাটে স্কুলে হামলার পরিকল্পনা, এফবিআইয়ের কাছে তথ্য যাওয়ার পর টেক্সাসে যুবক গ্রেপ্তার

এআই চ্যাটবটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ওপর গুলি চালানোর পরিকল্পনার কথা লেখার অভিযোগে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথনে সার্না এলিমেন্টারি স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকির কথা উঠে আসে। স্কুলটি তার বাসার পাশেই অবস্থিত।   আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট কারাসকো অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লডে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা লেখেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দ্রুত একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে স্কুলে ঢুকে শিশুদের ওপর হামলা চালানোর কথা বলেন। এমনকি স্কুলে আহত বা মৃত শিশুদের ছবি খুঁজে দিতে চাওয়ার কথাও ওই কথোপকথনে ছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   কারাসকোর কথোপকথন নিয়ে ২৮ আগস্ট এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেকশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। এরপর তদন্তকারীরা টি-মোবাইল, চার্টার কমিউনিকেশনস ও গুগলের কাছ থেকে জরুরি তথ্য সংগ্রহ করে ওই এআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কারাসকোর ফোন নম্বর, আইপি তথ্য ও বাসার ঠিকানা মিলিয়ে দেখেন।    এরপর ২৯ আগস্ট রাত ১১টার পর সান অ্যান্টোনিও পুলিশ কারাসকোকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার তৃতীয়-শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে বেক্সার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।    ঘটনায় কোনো হামলা হয়নি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। পুলিশও কারাসকোর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেছে বা তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন - এমন তথ্য প্রকাশ করেনি। তিনি এখনো অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন।    ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সার্না এলিমেন্টারি স্কুলের অধ্যক্ষ জেনিফার লোমাস জানিয়েছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরুতে হুমকিটির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশের পর ৩১ আগস্ট তিনি অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি জানান।    এদিকে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব নীতিমালায় গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং জীবনহানির আশঙ্কা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি তথ্য-অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
পরীক্ষার হলে মা, বাইরে শিশুকে কোলে নিয়ে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্য
পরীক্ষার হলে মা, বাইরে শিশুকে কোলে নিয়ে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্য

পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক নারী পরীক্ষার্থীর কোলের শিশুকে আগলে রেখে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরায় কর্মরত পুলিশ সদস্য শিল্পী। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে জেলা প্রশাসনের অধীনে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে এই অনন্য দায়িত্বশীলতার চিত্র দেখা যায়।   নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা এক নারী পরীক্ষার্থী তাঁর ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছান। তবে শিশুটিকে দেখাশোনা করার মতো কেউ না থাকায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার মুহূর্তে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন ওই মা। সন্তানকে কোথায় রাখবেন আর কীভাবে পরীক্ষা দেবেন—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।   ঘটনাটি নজরে আসে কেন্দ্রে ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্য শিল্পীর। মায়ের অসহায় পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি উদ্যোগী হয়ে শিশুটিকে নিজের জিম্মায় নেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষার পুরো এক ঘণ্টা সময় শিশুকে কোলে নিয়েই কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।   পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মা নিশ্চিন্তে হলে ঢুকে পরীক্ষা শেষ করেন। অন্যদিকে কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরোটা সময় শিশুটিকে আগলে রাখেন নারী পুলিশ সদস্য শিল্পী।   শিল্পী সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে কর্মরত। সরকারি কলেজের পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে সেদিন নিয়োজিত ছিলেন তিনি।   ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি কাড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকরির পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সন্তানের নিরাপত্তার উদ্বেগ দূর করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।   নিজের প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সদস্য শিল্পী জানান, নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সময় এক মাতৃত্বের সংকট তাঁর চোখে পড়ে। শিশুটিকে দেখার কেউ না থাকায় ওই নারী দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তাই সহানুভূতির জায়গা থেকেই তিনি শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে অভিভাবককে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০