রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না। তাই বাহিনীর গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আগের যেকোনো একটি পোশাকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না; বরং তারা হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে 'পুলিশ সংস্কার কমিশন' গঠন করা হয়েছে, যার সুফল দেশবাসী খুব দ্রুতই ভোগ করবে। উল্লেখ্য, এবারের ৪৩তম বিসিএস ব্যাচের মোট ৭২ জন এএসপি তাদের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্মৃতিসৌধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত পুলিশ স্মৃতিসৌধে তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর আইজিপি আলী হোসেন ফকির শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিউব্লিউএন)-এর পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পেল নতুন অভিভাবক। অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা আজ বুধবার (২৫ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক জাঁকজমকপূর্ণ বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই রদবদল সম্পন্ন হয়। একই অনুষ্ঠানে বিদায়ী সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম-কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সিআইডিকে আরও গতিশীল এবং জনগণের আস্থার সুদৃঢ় প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "সিআইডির অর্জিত সুনাম ও ব্র্যান্ডিং ধরে রাখতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যের প্রচেষ্টাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।" অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ তার মেয়াদে ৫ আগস্ট পরবর্তী জটিল পরিস্থিতি এবং মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডির সাফল্যের কথা স্মরণ করেন। ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের এই চৌকস কর্মকর্তা এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটসহ ডিএমপি, সিএমপি এবং বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সার্জেন্টকে জড়িয়ে ধরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সার্জেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে দেখে এগিয়ে এসে স্যালুট ও হাত মেলাতে চাচ্ছেন। এ সময় তারেক রহমান তাকে কাছে টেনে নিয়ে কোলাকুলি করেন এবং হাসিমুখে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। ঘটনাটি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য AZM Zahid Hossain। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “এই দৃশ্য ঈদের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। যেমন রাষ্ট্র চাই, ঠিক সেই পথে।” এরপর থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও সহজ-সরল আচরণে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিনে পৃথক দুই দফা সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ভলাকুট ইউনিয়ন এবং সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যক্তিকে দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে চোর সন্দেহে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে একই কৌশলে আরেকজনকে ডেকে এনে নির্যাতন করলে স্বজনরা উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। অপরদিকে, ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সকালেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের নামাজের পর দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
লাক্কি মারওয়াত এলাকায় টহলরত একটি পুলিশ গাড়ির কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সামা টিভি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের এই এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এতে একটি টহল গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন সদস্য নিহত হন। জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা (ডিপিও) জানান, বিস্ফোরণটি একটি পুলিশ যানবাহনের খুব কাছে ঘটে। সে সময় টহলরত দলটি দায়িত্ব পালন করছিল। শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সদর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) আজমসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল শাহ বাহরাম, শাহ খালিদ, হাজি মুহাম্মদ, গুলজাদা ও সাখি জাদা। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং কারা এ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে মেয়র জোহরান মামদানির বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ একটি বোমাসদৃশ ডিভাইস নিক্ষেপের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার পেনসিলভানিয়ার দুই ব্যক্তি, এমির বালাত এবং ইব্রাহিম কায়ুমি, সন্দেহজনক একটি ডিভাইস পুলিশের দিকে ছুড়েছিলেন। প্রথমে এই ডিভাইসগুলোকে ধোঁয়াশা সৃষ্টিকারী বোমা মনে করা হয়, তবে পরে পরীক্ষায় এগুলো সম্ভাব্য বিস্ফোরক ডিভাইস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মেয়রের বাড়ি, গার্সি ম্যাসনের সামনের রাস্তার অংশে। ঐদিন ডানপন্থি কর্মী জ্যাক লাং মুসলিমবিরোধী বিক্ষোভ পরিচালনা করছিলেন। তার প্রতিবাদে বড়সংখ্যক লোক পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তেজনার সময় একজন পাল্টা বিক্ষোভকারী একটি আগুন লাগানো ডিভাইস পুলিশের দিকে নিক্ষেপ করেন। ডিভাইসটি আকাশে উড়ার সময় আগুন ও ধোঁয়া ছড়ায়, তবে পরে এটি একটি ব্যারিকেডে আঘাত করে নিভে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জ্যাসিকা টিচস জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় ডিভাইসটি একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) হতে পারে, যা গুরুতর ক্ষতি ঘটাতে পারত। আরও তদন্তের জন্য এগুলো এফবিআই-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। মেয়র মামদানি এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, নিউইয়র্কে ঘৃণা এবং সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সোমবার ভোরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সকাল ছয়টায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন। ভোরের আলো ফুটতেই ড্রোন ব্যবহার করে এলাকার কিছু স্পট চিহ্নিত করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীর এপিসি ট্যাংক, পুলিশের জলকামান, সাজোয়াযান, ডগ স্কোয়াডসহ ভারি অস্ত্র সজ্জিত গাড়ি এবং অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে। র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযানটি জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সেনাবাহিনী, র্যাবের বিভিন্ন ইউনিট, চট্টগ্রাম মেট্রো ও রেঞ্জের পুলিশ এবং বিজিবি অংশগ্রহণ করছে। জঙ্গলের সলিমপুর এলাকায় রুকন ও ইয়াসিন বাহিনীর আধিপত্য মূলত পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং চাঁদা আদায় নিয়ে। এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনকে গ্রেফতার করতে গেলে র্যাবের ওপর হামলা চালায় তার বাহিনী। এই ঘটনায় একজন র্যাব কর্মকর্তা প্রাণ হারান। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি এবং এখনও পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য চলছে। এই বাণিজ্য এবং দখল রক্ষা করতে এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় ২০–২৫ হাজার বাড়িতে আনুমানিক দেড় লাখ মানুষ বসবাস করছে, যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত।
উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন জনপ্রিয় ইরানি অভিনেত্রী এলনাজ নরোজি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানি পুলিশের হাতে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। অভিনেত্রীর দাবি, ইরানে নারীদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং সেখানে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। জার্মান নাগরিকত্ব থাকায় এবং ভারতে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলনাজ নিজেকে কিছুটা নিরাপদ মনে করলেও, সাধারণ ইরানি নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তাকে অপরাধীদের মতো আচরণ সহ্য করতে হয়েছে। তার রেকর্ড রাখা থেকে শুরু করে ছবি তুলে রাখা—সবই ছিল এক ভীতিকর অভিজ্ঞতা। এলনাজের ভাষায়, "সেখানে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর রয়েছে এবং মহিলাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হয় না।" ইরানি সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু উদযাপন এবং শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলাকে অভিনেত্রী কোনো ঝুঁকি নয় বরং নিজের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করেন। নিজের আত্মীয়স্বজন ইরানে থাকলেও এবং নিজে সেখানে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি দমে যেতে রাজি নন। এলনাজ বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর তাকে এমন এক অবস্থানে বসিয়েছেন যেখান থেকে তিনি নিপীড়িত নারীদের কণ্ঠস্বর হতে পারেন। তেহরানে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী বর্তমানে ভারতে ক্যারিয়ার গড়লেও নিজ জন্মভূমির নারীদের মুক্তির জন্য বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে বদ্ধপরিকর। জেনে নিন এলনাজের পরিচয় এলনাজের জন্ম ইরানের তেহরানে। এরপর তিনি তার পরিবারের সাথে জার্মানিতে চলে যান। তারপর তিনি ভারতে ফিরে আসেন এবং একজন অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। তবে, এলনাজের অনেক আত্মীয় এখনও ইরানে থাকেন। তবে, এলনাজকে ইরানে যেতে দেওয়া হয় না। এলনাজ বলেন যে তিনি সেখানকার শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করেন, কিন্তু তাঁর দেশকে ভালোবাসেন।
হবিগঞ্জের বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জহিরুল ইসলামকে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। তাকে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৪ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকিরের পক্ষে অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শামিমা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জহিরুল ইসলামকে ৫ মার্চের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছিন খাতুন সংবাদমাধ্যমকে জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। দাপ্তরিক প্রয়োজনেই পুলিশ কর্মকর্তাদের এ ধরনের বদলি বা সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়ে থাকে।
নাটোরে নিজের সরকারি পিস্তলের গুলিতে দেওয়ান মামুন নামে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নাটোর পুলিশ লাইন্সে তার নিজ বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল ওয়াহাব জানান, বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা ডিউটি শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন এসআই দেওয়ান মামুন। বাসায় ফিরে তিনি ব্যবহৃত পিস্তলটি বিছানার ওপর রেখে ওয়াশরুমে যান। এ সময় তার শিশু পুত্র পিস্তলটি নিয়ে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত গুলি বের করে ফেলে। এতে এসআই মামুনের বাম পায়ে গুলি বিদ্ধ হয়। ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিক হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান নাটোরের পুলিশ সুপার আবদুল ওয়াহাব। তিনি জানান, ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে।
গত বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় একটি গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ নকল টাকা উদ্ধারের দাবি করা হয়েছিল। তবে পুলিশের বিশেষ তদন্তে দেখা গেছে, ওই অভিযানটি ছিল সাজানো নাটক; প্রকৃতপক্ষে ঐদিন সেখানে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের সদস্যরা এক ব্যবসায়ীর নগদ পৌনে চার কোটি টাকা লুকিয়ে নিয়ে গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশের সোর্সের জবানবন্দি এবং বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি পুনরায় এবং অভ্যন্তরীণভাবে তদন্তে পেয়েছে যে, অভিযানের নামে টাকা লোপাটের বিষয়টি সত্য রয়েছে। তদন্তে পোস্টের হাতে আসা ভিডিও বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার এক সোর্স ঢাকায় পরিচিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে ওয়ারীর একটি বাসায় বিপুল টাকার খবর দেন। ৮ নভেম্বর রাতে ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার তারেক সেকান্দারের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের আভিযানিক টিম ওই বাসায় অভিযান চালায়। তল্লাশিতে একটি কক্ষে ৪–৫ কোটি টাকার মতো নগদ টাকা পাওয়া যায়। তল্লাশি চালানোর পর ডিবি পুলিশ ওই টাকা কয়েকটি ব্যাগে ভরে নিচে পাঠায়। পরে গণমাধ্যম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখানোর জন্য সেখানে ১০–১৫ লাখ টাকা এবং কিছু ব্যাগে জাল নোট রাখা হয় এবং অভিযানে আটক দুজনকে জাল টাকার সাথে জড়িত দেখানো হয়। পরে ওই তথ্য ভিত্তিতে পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সোর্স ও জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, অভিযান শেষের পর এএসআই সুম্ময় শর্মা সোর্সদের অর্থিক ‘মানি’ হিসেবে নগদ টাকা দেয় এবং ঘটনায় অংশগ্রহণকারী পুলিশের কিছু সদস্য টাকা ভাগের পেছনের পরিকল্পনাকে স্বীকার করেছে। পরে প্রকৃত মালিকের অভিযোগে এবং আলামতের ভিত্তিতে পুনঃতদন্ত শুরু হয়। ডিবি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও নির্দোষ ব্যাখ্যা না পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নতুন তদন্ত শুরু করেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল সিডিআর বিশ্লেষণে অপরাধীদের অবস্থান ও ঘটনাস্থলের তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তের একটি পর্যায়ে ডিবি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-এর কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইকারীদের অপরাধের বৃত্ত থেকে বের করে আনতে এক কঠোর ও ব্যতিক্রমী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনকালে তিনি স্পষ্ট জানান, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর অপরাধীরা যাতে পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে, সেজন্য তাদের নিয়মিত থানায় এসে ওসির কাছে হাজিরা দিতে হবে। আইজিপি বলেন, "অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হয়। এখন থেকে এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হবে এবং জামিনে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সপ্তাহে থানায় এসে নিজেদের ভালো হয়ে চলার প্রমাণ দিতে হবে।" পুলিশের কাজের ধরনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও জানান: মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স: প্রধানমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য অনুযায়ী মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ। সন্তানদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে অভিভাবকদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান। পোশাক ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন: শুধু পুলিশের পোশাক বদলানোই যথেষ্ট নয়, বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মানসিকতায় সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পজিটিভ অ্যাটিচিউড থাকতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করা: রাস্তার ওপর দোকানপাট ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট স্থানে 'হলিডে মার্কেট' চালুর মাধ্যমে হকারদের পুনর্বাসন ও যানজট নিরসনের পরিকল্পনা রয়েছে। আইজিপি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের টহল ও সক্রিয়তা বাড়াতে তিনি নিজেই নিয়মিত রাজপথে উপস্থিত থেকে তদারকি করবেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেনেভা ক্যাম্পে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া এই সাঁড়াশি অভিযানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, রাত সোয়া ৮টা নাগাদ পুলিশের এই বিশেষ অভিযান চলছিল। এর আগে মাত্র একদিন আগেই বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় টানা চার ঘণ্টার এক ঝটিকা অভিযানে শতাধিক চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজানের নেতৃত্বে পরিচালিত সেই অভিযানে সাফল্য আসার পর আজ আবারও জেনেভা ক্যাম্পে এই বড় ধরনের পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ডিসি মো. ইবনে মিজান জানিয়েছেন, এলাকায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য নির্মূল করতেই এই ধারাবাহিক অভিযান। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ডিএমপির এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে (১৪) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে তাকে জনতা ও পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি ও জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বিন্তি রায়েরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। গতকাল বুধবার রাতে নিজ বাসার সামনেই বখাটে সিয়ামের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারায় সে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে ছোট ভাই নাবিলকে নিয়ে বাসার নিচে নামে বিন্তি। এর কিছুক্ষণ পরই চিৎকার ও হট্টগোল শুনে স্বজনরা নিচে গিয়ে বিন্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় শিকদার মেডিকেল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সোয়া ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে বিন্তি তার ওপর হামলাকারী হিসেবে সিয়ামের নাম বলে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিহতের মা নাদিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে বিন্তিকে মুঠোফোনে এবং সরাসরি বিরক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "আমার নিস্পাপ মেয়েটাকে ওরা বাঁচতে দিল না। আমি সিয়ামের ফাঁসি চাই।" ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, নিহতের কাঁধ ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। হাজারীবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই ঘাতককে ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেফতার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। মঙ্গলবার এক গোপনীয় চিঠির মাধ্যমে এই কঠোর বার্তা পাঠানো হয়েছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারদের। ডিআইজির পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সকল নেতাকর্মী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় দলকে সংগঠিত করা বা মাঠপর্যায়ে তৎপরতা দেখানোর সক্ষমতা রাখেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে যারা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত পুনরায় গ্রেপ্তারের প্রয়োজন নেই। যদিও চিঠিতে সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম নেওয়া হয়নি, তবে 'ফ্যাসিস্ট সংগঠন' শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হয়েছে। চিঠিটি ফাঁস হওয়ার পর ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে একে পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি জানান, এটি নির্দিষ্ট কোনো দলের জন্য নয়, বরং সমাজে বিশৃঙ্খলা রোধে একটি আগাম সতর্কতামূলক বার্তা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এমন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসভবনের সামনে অবস্থান করায় ৫ নারীসহ মোট ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় তাদের গুলশান থানায় নেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটককৃতরা ভিক্ষার উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। আটককৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জের খোদা বক্স আক্তার (২৬), বাড্ডার খাদিজা বেগম (৪০), মগবাজারের খাদিজা বেগম (৩৫), কড়াইল বস্তির সাহেদা বেগম (৪৮), মোহাম্মদ সিদ্দিক (৪০) এবং টঙ্গীর রিনা আক্তার (৪৮)। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানান, আটককৃতরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তা কর্মীরা একাধিকবার সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তারা অনড় থাকায় জননিরাপত্তার স্বার্থে তাদের থানায় আনা হয়। তিনি আরও জানান, থানায় আনার পর আটককৃতদের ইফতার করানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে রাতের খাবারের ব্যবস্থাও করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ নিজ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সরকার গঠনের পর বুধবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে মব কালচার শেষ এবং এটি আর কোনোভাবে উৎসাহিত করা যাবে না। মন্ত্রী বলেন, দাবির যে কোনো অভিযোগ অবশ্যই যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে। মিছিল বা সমাবেশ করা যাবে, তবে দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে মহাসড়ক বন্ধ করা যাবে না। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, মব কালচার সহ্য করা হবে না। পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের বন্ধু হিসেবে পুলিশকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং পূর্বের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তির পুনর্নির্মাণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “টোটালি করাপশন ফ্রি মিনিস্ট্রি” নিশ্চিত করতে হবে। সবার দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, এবং যে কেউ বাহিনীর মধ্যে অপরাধে জড়িত থাকলে সাথে সাথে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন লম্বরী ও মিঠাপানিরছড়া সৈকতের পৃথক দুটি স্থান থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। সৈকতের বালুচরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় জেলেরা পুলিশে খবর দিলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে জোয়ারের স্রোতে মরদেহ দুটি তীরের আলাদা স্থানে ভেসে আসে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য এগুলোকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, নিহতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। এটি কি কোনো নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভ ও সংলগ্ন সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বিশেষ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার পদকে ঘিরে প্রশাসনিক অন্দরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার ও মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে নতুন নেতৃত্ব বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা–কল্পনা। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আইজিপি পদে কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)–এর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য। পেশাগত দক্ষতা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সরকারের আস্থার প্রশ্ন—এই তিন সূচকে তাদের নাম সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে এ কে এম শহিদুর রহমানকে নিয়ে প্রশাসনে আলাদা আলোচনা চলছে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর বাহিনী পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার নেতৃত্বে র্যাবের কার্যক্রমে গতি এসেছে—এমন মূল্যায়নও রয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকায় তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। অবসরপ্রাপ্ত হলেও আলোচনায় রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠান। অতীতে তাদের দায়িত্ব পালন ও তদন্ত–অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের জন্য কাজে লাগতে পারে—এমন ধারণা থেকেই তাদের নাম সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এখনো বহাল রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তাকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাকে সরিয়ে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা হবে, নাকি মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে—এ নিয়েও প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে। ডিএমপি কমিশনার পদ নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কূটনৈতিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে এ পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য নতুন কমিশনার হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদের নাম আলোচনায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তাদের এগিয়ে রাখা হচ্ছে। বর্তমান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ২১ নভেম্বর। সরকার চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিবর্তন আনতে পারে, আবার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও নতুন নিয়োগ দিতে পারে—এমন ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের বসানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে নীতি বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয় বাড়ে। তবে হঠাৎ বড় ধরনের রদবদল বাহিনীর ভেতরে মানসিক চাপও তৈরি করতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে পুলিশের শীর্ষ পদে সম্ভাব্য রদবদল এখন সময়ের অপেক্ষা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও প্রশাসনের অন্দরমহলে হিসাব–নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সরকারের অগ্রাধিকার, পেশাগত দক্ষতা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে পুলিশের নতুন নেতৃত্ব।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।