নিউইয়র্ক সিটিতে মেয়র জোহরান মামদানির বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ একটি বোমাসদৃশ ডিভাইস নিক্ষেপের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার পেনসিলভানিয়ার দুই ব্যক্তি, এমির বালাত এবং ইব্রাহিম কায়ুমি, সন্দেহজনক একটি ডিভাইস পুলিশের দিকে ছুড়েছিলেন। প্রথমে এই ডিভাইসগুলোকে ধোঁয়াশা সৃষ্টিকারী বোমা মনে করা হয়, তবে পরে পরীক্ষায় এগুলো সম্ভাব্য বিস্ফোরক ডিভাইস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মেয়রের বাড়ি, গার্সি ম্যাসনের সামনের রাস্তার অংশে। ঐদিন ডানপন্থি কর্মী জ্যাক লাং মুসলিমবিরোধী বিক্ষোভ পরিচালনা করছিলেন। তার প্রতিবাদে বড়সংখ্যক লোক পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তেজনার সময় একজন পাল্টা বিক্ষোভকারী একটি আগুন লাগানো ডিভাইস পুলিশের দিকে নিক্ষেপ করেন। ডিভাইসটি আকাশে উড়ার সময় আগুন ও ধোঁয়া ছড়ায়, তবে পরে এটি একটি ব্যারিকেডে আঘাত করে নিভে যায়।
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জ্যাসিকা টিচস জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় ডিভাইসটি একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) হতে পারে, যা গুরুতর ক্ষতি ঘটাতে পারত। আরও তদন্তের জন্য এগুলো এফবিআই-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।
মেয়র মামদানি এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, নিউইয়র্কে ঘৃণা এবং সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পবিত্র ওমরাহ পালনে যাওয়া সাধারণ বাংলাদেশিদের ওপর। যুদ্ধের কারণে হঠাৎ একের পর এক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় মক্কা ও মদিনায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী (মুতামির)। অনেকেরই প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করছে, ফলে অর্থাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ধর্মপ্রাণ এই মানুষগুলো। মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এয়ার অ্যারাবিয়া ও এমিরেটসসহ বেশ কয়েকটি প্রধান এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট স্থগিত করে। এতে গত ৭ মার্চ থেকে কয়েক শ যাত্রীর দেশে ফেরা আটকে যায়। রাজশাহীর মো. আজাদ বা মুন্সীগঞ্জের রিয়াজুল হায়দারের মতো শত শত মুতামির এখন সহায়তার আশায় মক্কার হজ মিশনে ভিড় করছেন। টিকিট বাতিল হওয়া যাত্রীদের দেশে ফিরতে নতুন করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দাবি করছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। দরিদ্র এসব মানুষের পক্ষে হুট করে এত বিশাল অংকের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন অনেক যাত্রী খাবার ও হোটেলের বিল দিতে না পেরে মিশনের শরণাপন্ন হচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হোটেলের দৈনিক ভাড়া ৪০০ রিয়াল পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। হজ মিশন থেকে ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকিটের টাকায় ভর্তুকি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে কলকাতা হয়ে বিকল্প পথে ঢাকা বা চট্টগ্রামে ফেরার চেষ্টা করছেন। সরকার আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে বিমান বাংলাদেশের দুটি বিশেষ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিলেও অতিরিক্ত খরচের কারণে তা স্থগিত করতে হয়েছে। খালি উড়োজাহাজ পাঠিয়ে যাত্রী আনতে গেলে জনপ্রতি টিকিটের দাম ১ লাখ টাকার ওপরে পড়ে যেত। বর্তমানে নিয়মিত ফ্লাইটের খালি আসনে পর্যায়ক্রমে যাত্রীদের পাঠানোর চেষ্টা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাড়ে তিন হাজার যাত্রীর এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবর্তনে অতিরিক্ত প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে বর্তমানে এক বুক আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা নিয়ে স্বদেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন হাজারো বাংলাদেশি।
কাতারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষা করতে একটি বিশেষ অভিযানে ৩১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা বিভ্রান্তিকর তথ্য ধারণ ও ছড়ানোর অভিযোগে আটক হয়েছেন। কাতার সরকারের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং আইনত দণ্ডনীয়। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আটককৃতরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তবে তাদের পরিচয় এবং তারা ঠিক কী ধরনের তথ্য ছড়িয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কাতারের আইন অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে অপ্রমাণিত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আরও তদন্ত চলমান রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরান কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না। তাঁর মতে, ইরানের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। স্থানীয় সময় রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের ওপর আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং হামলাকারীদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, যদি অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তাহলে তেহরান তার উপযুক্ত জবাব দেবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার নেয়। এরপর থেকে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র: রয়টার্স