মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার এক পলাতক আসামিকে ফিলিপাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, ৬০ বছর বয়সী হারবার্ট লিওন কিম্বলকে ফিলিপাইনে আটক করা হয়েছে। তিনি গত বছর নির্ধারিত সাজা ঘোষণার শুনানিতে হাজির না হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কিম্বল একটি জটিল মেডিকেয়ার জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার মাধ্যমে ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বিল সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমে মূলত বয়স্ক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পরিচালিত এই চক্র বিভিন্ন কল সেন্টার, টেলিমেডিসিন সেবা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোগীদের কাছে অর্থোপেডিক ব্রেস ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বিপুল পরিমাণ দাবি জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জামের বড় একটি অংশ ছিল চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় বা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই বিল করা। কিম্বল ২০১৯ সালে জালিয়াতি-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তার সাজা ঘোষণার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাকে পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। সম্প্রতি এফবিআই “মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স” নামে একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিম্বল ওই তালিকার অন্যতম সদস্য ছিলেন। তার গ্রেপ্তার এ তালিকা প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কিম্বলকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে আদালতের মুখোমুখি হয়ে তাকে সাজা শুনতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে। এসব অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, কিম্বলের গ্রেপ্তার শুধু একটি বড় মামলার অগ্রগতি নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে আত্মগোপনে গেলেও আর্থিক অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ফিলিপাইনে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প শুধু প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞই ডেকে আনেনি, দেশটির ভূপ্রকৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিক এক আকাশ জরিপে দেখা গেছে, এই কম্পনের ফলে উপকূলরেখা কয়েকশো মিটার পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গেছে এবং সমুদ্রতলও উল্লেখযোগ্যভাবে ওপরে উঠে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকশো মানুষ। বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও দ্বীপের কাছে সারাঙ্গানি প্রদেশ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কয়েকশো কিলোমিটার দূরের ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপেও কম্পন অনুভূত হয়। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলকস) জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজারের বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। এই ভয়াবহ কম্পনের পর উপকূলীয় এলাকায় যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তাকে বিজ্ঞানীরা ‘কোস্টাল আপলিফট’ বা উপকূলীয় ভূমি উত্থান হিসেবে বর্ণনা করছেন। ফিভোলকসের প্রাথমিক মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ভূমি প্রায় ২ মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে এসেছে এবং উপকূলরেখা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে সরে গেছে। সংস্থাটির মতে, ভূমিকম্পের সময় দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কোটাবাটো খাতের তীব্র নড়াচড়া সারাঙ্গানি ও দাভাও অঞ্চলের বিস্তীর্ণ উপকূলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে সমুদ্রের নিচে থাকা অংশ হঠাৎ করেই ওপরে উঠে আসে। স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা গেছে, অনেক জায়গায় আগে পানির নিচে থাকা প্রবাল এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ফিভোলকস প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উন্মুক্ত সমুদ্রতলে ছড়িয়ে রয়েছে প্রবাল, সি-গ্রাস, মৃত মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। এছাড়া সারাঙ্গানির বারাঙ্গে বুরিয়াস ও গ্ল্যান পৌরসভার মাঝামাঝি এলাকায় উপকূলীয় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে প্রায় দুই মিটার উচ্চতার ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে একটি বাড়ি ধ্বংস করে এবং সমুদ্রে থাকা ছোট নৌকাগুলোকে ভাসিয়ে তীরে নিয়ে আসে। স্বাধীন বিশ্লেষণেও এই ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সত্যতা মিলেছে। জিওস্পেশিয়াল বিশ্লেষক সের্জিও অগাস্টো জারডিম ভলকমার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক মানচিত্রে ১৬ মে থেকে ১০ জুনের মধ্যে দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, “এটি এমন একটি ব্যাপক উত্থান, যা আগে খুব কমই দেখা গেছে।” ভূতাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এই অঞ্চলে অসংখ্য ফল্ট লাইন ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর আগে ১৯৭৬ সালে কোটাবাটো খাতের নড়াচড়ার ফলেই মোরো উপসাগরে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল, যাতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইন সাগরীয় প্লেটের সীমান্ত বরাবর সিসমিক কার্যকলাপের কারণে অতীতে ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী সাতটি ভূমিকম্প এবং ৭ মাত্রার বেশি অন্তত ২৫০টি বড় কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এর সঙ্গে একাধিকবার সুনামির ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্প আবারও প্রমাণ করল—ফিলিপাইনের উপকূলীয় অঞ্চল শুধু তাৎক্ষণিক দুর্যোগের ঝুঁকিতেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তনের মুখেও রয়েছে।
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৩৪ জন। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। শক্তিশালী এই কম্পন মিন্দানাওজুড়ে ব্যাপকভাবে অনুভূত হয় এবং প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও কাঁপুনি অনুভূত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মিন্দানাওয়ে ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে ৩২ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাসের শহর জেনারেল সান্তোস সিটি। সেখানে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী জোজো কালমা বলেন, এই প্রথম এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখেছেন তিনি। তিনি জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ভবনের সামনে মোটরচালিত থ্রি-হুইলার ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন এবং পরে ভবনটি ধসে পড়ে। তবে তিনি অক্ষত থাকেন। তাঁর সন্তানরা তখন স্কুলে ছিল, তারা নিরাপদ রয়েছে। তবে তাঁর ভাইয়ের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকারের প্রকাশ করা ভিডিওতে একটি ফাস্টফুড দোকানসংবলিত ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভবনটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশে আতঙ্ক তৈরি হয়। দীর্ঘ ছুটির পর স্কুল খোলার পরদিনই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে মোতায়েন করেছে সরকার। ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয় এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশও তুলে নেওয়া হয়। এর আগে গত বছর ফিলিপাইনে একাধিক ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে মিন্দানাওয়েও আরও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বিশ্বজুড়ে টালমাটাল জ্বালানি বাজার। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফিলিপাইনে, যেখানে তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ডিজেল ও পেট্রোলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে রাজপথে নেমে এসেছেন শত শত মানুষ। পরিবহন ইউনিয়নগুলোর ডাকা দুই দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের প্রথম দিনেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা জীবনযাত্রার ব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পাঁচ সন্তানের জনক ও স্থানীয় জিপনি চালক মাইকেল ল্যাবোর আর্তনাদ যেন সাধারণ ফিলিপিনোদেরই প্রতিধ্বনি। তিনি বলেন, "সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর ৫০০ পেসো আয় করি। সন্তানদের স্কুলের খরচ মেটাতেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। দিনশেষে খাবার কেনার টাকা থাকছে না। কোম্পানিগুলো কেন প্রতিদিন দাম বাড়াচ্ছে, প্রেসিডেন্টকে এর জবাব দিতে হবে।" ৪৬ বছর বয়সী আরেক চালক অ্যালান জানান, এখন সন্তানদের স্কুলের টিফিন বা হাতখরচ দেওয়ার মতো সামর্থ্যও তার নেই। জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মারিয়া তেরেসা লাজারো সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, দেশে বর্তমানে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিনের পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে। উল্লেখ্য, ফিলিপাইনের মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় ৯৮ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফিলিপাইন এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সরকার তেলের মজুতদারি ও কারসাজি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও সাধারণ মানুষের হাহাকার থামছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্ট Ferdinand Marcos Jr. এক নির্বাহী আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। সরকার বলছে, বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন এবং দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। ফিলিপাইনের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানির দাম একাধিকবার বেড়েছে এবং বর্তমানে ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্য আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিদ্যমান জ্বালানি মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই সীমিত মজুতকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সরকার জ্বালানি খাতে বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছে। এখন থেকে সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয় ও মজুত করা যাবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য বাজারে কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিকভাবে এই জরুরি অবস্থা এক বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী এর সময়সীমা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ফিলিপাইন সরকার আশা করছে, এই বিশেষ ব্যবস্থা দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।