বিএসএফ

সহকর্মীর গুলিতেই প্রাণ গেল দুই বিএসএফ সদস্যের
শত্রু নয়, সহকর্মীর গুলিতেই প্রাণ গেল দুই বিএসএফ সদস্যের, ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর বিএসএফ ক্যাম্পে সহকর্মীর গুলিতে দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও এক জওয়ান গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পের ১১৯ নম্বর এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কয়েকজন জওয়ানের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।   জানা গেছে, রাজশাহীর ওপারে মালদহের বৈষ্ণবনগরে অবস্থিত ওই ক্যাম্পে জওয়ানরা বিশ্রামে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ও ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান শিবম মিশ্র তার সহকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান।   এতে ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের দুই জওয়ান—৫১ বছর বয়সী অজয় কুমার সিং এবং ৩৭ বছর বয়সী আম্বদর সুরেশ দরগু প্রাণ হারান। এ ছাড়া বিকাশ ব্রম্ম (৪৪) নামের আরেক জওয়ান গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত দুই জওয়ানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।   অভিযুক্ত শিবম মিশ্রের বিরুদ্ধে আগেও এমন বেপরোয়া আচরণের রেকর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, প্রায় এক বছর আগে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে তিনি বাহিনীর নিজস্ব আইনে শাস্তি পেয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে বাড়িতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, আর এর মাঝেই তিনি পুনরায় এই প্রাণঘাতী কাণ্ড ঘটালেন।   এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিবমকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। বিএসএফের মালদহ সেক্টরের ডিআইজি সুরেন্দ্র কুমার ঝা জানিয়েছেন, বাহিনীর নিজস্ব তদন্তের পাশাপাশি বৈষ্ণবনগর থানা পুলিশও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সীমান্ত হত্যা কমাতে দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের বৈঠক সম্পন্ন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত হত্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা এবং অবৈধ, অসতর্ক ও জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার বন্ধের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে সমাপ্ত হওয়া চার দিনব্যাপী মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে এসব বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আজ শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   নয়াদিল্লির বিএসএফ সদর দপ্তরে গত ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই ৫৭তম দ্বিবার্ষিক ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের পক্ষে মূল নেতৃত্বে ছিলেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বিএসএফ জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য চোরাচালান রোধসহ মানব পাচার এবং অবৈধ সীমান্ত পারাপারের মতো সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেছে।   এ ছাড়া দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ এবং সীমান্ত এলাকার উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর—উভয় দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২২১৬ কিলোমিটার) অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দেশই সীমান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে তাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দুই পক্ষই সমন্বিত যৌথ টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রচেষ্টা আরও গতিশীল করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সীমান্ত এলাকার জনগণকে সচেতন করতে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেয় উভয় পক্ষ।   বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে সামগ্রিক বৈঠকটিকে অত্যন্ত আন্তরিক, ইতিবাচক এবং দূরদর্শী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সম্মেলন শেষে সব সিদ্ধান্ত সন্তোষজনক হলেও, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। আলোচনার চূড়ান্ত দিনে যৌথ কার্যবিবরণী স্বাক্ষরের পর ঐতিহ্যগতভাবে দুই বাহিনীর মহাপরিচালকদের যে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে, তা এবার কোনো অজ্ঞাত কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী নভেম্বর মাসে এই দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত সম্মেলনের পরবর্তী পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার জন্য ভারতীয় বিএসএফ প্রতিনিধি দলটি ঢাকা সফর করবে।

তাবাস্সুম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
জামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছেন এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মাতৃভূমিও তাকে ছুঁড়ে ফেললো!

বাংলাদেশ-ভারতের জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর-রামরামপুর সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানার শূন্যরেখায় কয়েকদিন ধরে আটকা পড়ে আছেন এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওই চেষ্টা প্রতিহত করার পর থেকে তিনি দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছেন।   একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বন্দুকের নল, অন্যদিকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির কড়া নজরদারি—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে প্রখর রোদ আর বৈরী আবহাওয়ায় অনাহারে দিন কাটছে তার। বাঁচার তাগিদে তিনি যেদিকেই একটু পা বাড়াচ্ছেন, সেদিক থেকেই তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাথে রয়েছে বাংলাদেশের উচ্ছুক জনতা। তিনি এখন ও দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছেন।    স্থানীয় সূত্র জানা যায়, গত শনিবার ভোররাতে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের পাশ দিয়ে সাতজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ সময় পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন অন্ধকারের সুযোগে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যেতে সক্ষম হলেও ওই বৃদ্ধ শূন্যরেখা এলাকায় থেকে যান।   আটকে পড়া ওই ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং কাজের সন্ধানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয় ও ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন। তবে তার পরিচয় ও জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে সীমান্তের শূন্যরেখায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে তিনি বাংলাদেশ কিংবা ভারতের কোনো অংশেই প্রবেশ করতে পারছেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।   এদিকে মানবিক বিবেচনায় সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা তাকে পানি ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন বুলাল বলেন, বৃদ্ধ ব্যক্তি কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তার অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে সাধারণ ও মুসলিম মানিুষদের জোরপূর্বক পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে পুশইনের অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির দাবি, এসব ব্যক্তির বেশিরভাগই বাংলাদেশি নাগরিক, যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।    এদিকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সাময়িকভাবে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।   তিনি বলেন, “বর্ডার জেলারগুলোতে হোল্ডিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন। তাদেরও দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”   সীমান্তের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আটকে থাকা বৃদ্ধের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।   জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিএসএফ একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছিল। বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখনো শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   বিএসএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Unknown জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ডেইলি স্টার
অস্ত্র ঠেকিয়ে নারী ও শিশুদের বাংলাদেশে পুশ ইন করছে ভারতের বিএসএফ

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে বাংলাদেশি সন্দেহে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর) সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চরম অমানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই জোরপূর্বক ‘পুশ ইন’ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এবং জিরো পয়েন্টে আটকে পড়া মানুষদের অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার (১১ জুন) মালদা শহরে এক প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।   মূলত পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট’ (চিহ্নিতকরণ, ফেরত পাঠানো এবং মুছে ফেলা) বা ‘থ্রি ডি’ নীতির বাস্তবায়নই বর্তমান এই সীমান্ত সংকটের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি কথিত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্র চালুর নির্দেশ দেন।   এরপর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার এই বেআইনি প্রক্রিয়া। এপিডিআরের দাবি, বিএসএফ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সীমান্তে বাংলাদেশি সন্দেহে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঢোকানোর চেষ্টা করছে।   তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের সীমানায় ঢুকতে না দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দিনের পর দিন সেখানে খোলা আকাশের নিচে চরম অমানবিক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার বা পানীয় জল নেই। রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বন্দুকের নলের সামনে এক বিভীষিকাময় জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।   বিএসএফ দাবি করছে এরা বাংলাদেশি, তাই তাদের দায় নেই। অন্যদিকে, বিজিবির অবস্থান হলো, এদের বাংলাদেশি হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই, বরং এরা ভারতীয়। দুই বাহিনীর এই টানাপোড়েনে চরম বিপাকে পড়েছেন আটকে পড়া নিরীহ মানুষেরা।   এপিডিআরের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর ভারতের এই ‘থ্রি ডি’ নীতিকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই নীতি ভারতের সংবিধানের ১৪ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন, যা প্রতিটি ব্যক্তির সমান মৌলিক অধিকার, জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। অবিলম্বে নো ম্যানস ল্যান্ডে ফেলে আসা এই মানুষদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া এবং মানবতাবিরোধী এই পুশ ব্যাক নীতি বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে এপিডিআর।   একইসঙ্গে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০