সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিড়াল

সাবেক আইনজীবী ক্যাথরিন থিওডোটুর প্রিয় বিড়াল রিটা
বিড়াল কেড়ে নেওয়ার পর মৃ ত্যু, ম র দে হ দেখতে আদালতে মালিকের মা ম লা

যুক্তরাজ্যে একটি বিড়ালকে ঘিরে মালিক ও প্রাণীকল্যাণ সংস্থা আরএসপিসিএ এবং মেট পুলিশের মধ্যে আইনি বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক আইনজীবী ড. ক্যাথরিন থিওডোটু তাঁর প্রিয় বিড়াল রিটার ম র দে হ শেষবার দেখতে চান। একই সঙ্গে আরএসপিসিএ ও পুলিশের বিরুদ্ধে মোট ৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।   রিটা ছিল ১৭ মাস বয়সী সাদা-কালো একটি বিড়াল। ২০২৬ সালের মার্চে প্রাণীটির যত্ন নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আরএসপিসিএ পুলিশের সহায়তায় লন্ডনে থিওডোটুর বাড়িতে গিয়ে বিড়ালটিকে নিয়ে যায়। থিওডোটুর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আরএসপিসিএতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হয়েছিল এবং রিটাকে তিনি যথাযথ যত্নেই রেখেছিলেন।   অন্যদিকে আরএসপিসিএর আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, বাড়ি থেকে নেওয়ার সময় রিটার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, প্রাণীটির পরিচর্যা, পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। মেট পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা অনুযায়ী তারা আইনগতভাবেই বাড়িতে প্রবেশ করে বিড়ালটি আরএসপিসিএর কাছে হস্তান্তরে সহায়তা করেছিল।   রিটা জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিল এবং তার পেছনের দুই পা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারত না। এ কারণে তার মূত্রথলিতে মাঝে মাঝে সংক্রমণও হতো। থিওডোটুর দাবি, রিটাকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল এবং সে ধীরে ধীরে চার পায়ে হাঁটতে শিখছিল।   ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে জুলাইয়ে। তখন জানা যায়, আরএসপিসিএর তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় রিটার মৃ ত্যু হয়েছে। এরপর বিড়ালটির মালিকানা নিয়ে চলা বিরোধ পরিণত হয় তার ম র দে হ ও মৃ ত্যু র কারণ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে।   আগের এক আদালতের আদেশে আরএসপিসিএর একজন পশুচিকিৎসক এবং থিওডোটুর বেছে নেওয়া একজন স্বাধীন পশুচিকিৎসকের যৌথভাবে রিটার ম য় না ত দ ন্ত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে আরএসপিসিএ যৌথভাবে পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত পশুচিকিৎসক খুঁজে না পাওয়ায় বিষয়টি আবার আদালতে ওঠে।   সর্বশেষ শুনানিতে বিচারক মি. জাস্টিস কটার বলেন, রিটার মৃ ত্যু র কারণ জানতে পরীক্ষা করা প্রয়োজন হলেও থিওডোটুর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আরএসপিসিএ ও বিড়ালের মালিককে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান।   আদালত নির্ধারণ করেছে, লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে রিটার ম য় না ত দ ন্ত করা হবে এবং থিওডোটুর মনোনীত চিকিৎসক সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে রিটার ম র দে হ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে থিওডোটু চাইলে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়ে আদালতে যেতে পারেন।   থিওডোটুর করা ৫ লাখ পাউন্ডের ক্ষতিপূরণের মা ম লাটি রিটার মৃ ত্যু কে কেন্দ্র করে নয়; বরং বিড়ালটিকে তাঁর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আরএসপিএর বিরুদ্ধে হয়রানি ও অবহেলার অভিযোগ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে আ ক্র ম ণ, বেআইনি প্রবেশ ও অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২০টি বিড়ালকে নির্মমভাবে নির্যাতন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ব্যবহার করে ক্যানসারের চিকিৎসার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   গত বুধবার ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে অবস্থিত হেনরিকো কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ২৭ বছর বয়সী রডনি ট্র্যাভিস জুনিয়র নামের ওই ব্যক্তি প্রাণী নিষ্ঠুরতা এবং কম্পিউটার জালিয়াতির অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করেন। বিচারক লিন্ডা ল্যাম্বার্ট প্রসিকিউটরদের প্রস্তাবিত একটি ‘প্লি এগ্রিমেন্ট’ বা চুক্তি গ্রহণ করেন, যার অধীনে রডনিকে ১৫ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।   শুধু তাই নয়, জীবনে আর কখনোই কোনো প্রাণী পালন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সংস্পর্শে আসার ওপরও তার ক্ষেত্রে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রডনি ট্র্যাভিস বিড়ালগুলোকে পিটিয়ে এবং মারাত্মক জখম করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভিডিও আপলোড করত। ভিডিওতে বিড়ালগুলোর মিথ্যা ক্যানসারের গল্প সাজিয়ে চিকিৎসার নামে সে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে চার লাখ (৪ লাখ) ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিল।   হেনরিকো কমনওয়েলথের অ্যাটর্নি শ্যানন টেলর জানিয়েছেন, ভার্জিনিয়ার ইতিহাসে প্রাণী নির্যাতনের দায়ে এটিই সর্বোচ্চ মেয়াদের কারাদণ্ড। তিনি বলেন, এই শাস্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরীহ বিড়ালগুলোর ওপর চালানো ভয়াবহ অপরাধের মাত্রাটিই পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে।   দোষ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে রডনিকে ২৫ হাজার ডলার জরিমানার পাশাপাশি মুক্তির পর আরও পাঁচ বছর আইনি নজরদারিতে বা প্রবেশনে থাকতে হবে।   গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভার্জিনিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং চেস্টারফিল্ড কাউন্টি অ্যানিমেল কন্ট্রোল কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যথায় কাতর বিড়ালের ভিডিওগুলো দেখে হেনরিকো পুলিশকে সতর্ক করলে এই তদন্তের শুরু হয়। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত সেই জায়গাটি শনাক্ত করে, যেখান থেকে ভিডিওগুলো তৈরি করা হচ্ছিল।   পরদিনই চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে রডনির নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেখান থেকে উদ্ধার করা বিড়ালগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পশুচিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। মামলার একটি নথিতে ‘হেডেন’ নামের একটি বিড়ালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। রডনি ভিডিওতে হেডেনের ক্যানসারের কথা বলে সাহায্য চাইলেও, পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায় যে বিড়ালটির মাথার খুলি, পাঁজরের হাড় এবং মেরুদণ্ড নির্মমভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইয়ুঙ্গাস বনাঞ্চলে সন্ধান পাওয়া নতুন প্রজাতির ছোট বন্য বিড়াল ‘টিলকায়ো’
এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর ঘরোয়া বিড়ালের চেয়েও ছোট নতুন বিড়ালের সন্ধান বলিভিয়ায়

বলিভিয়ার মেঘে ঢাকা পাহাড়ি বনাঞ্চলে সন্ধান মিলেছে ছোট আকারের এক বন্য বিড়ালের, যেটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ‘টিলকায়ো’ নামে পরিচিত এই প্রাণীটি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাওয়া ‘টাইগার ক্যাট’ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর কোনো জীবিত বিড়াল প্রজাতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত ও বর্ণনা করা হলো।   গবেষকদের মতে, প্রাণীটির আবাস বলিভিয়ার ইয়ুঙ্গাস বনাঞ্চলে। পাহাড়ি এই এলাকায় প্রায়ই মেঘে ঢাকা থাকে বন, পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতাও অনেক বেশি। নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে লেপার্ডাস টিলকায়ো।   টিলকায়োর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১ দশমিক ৪ কেজি। অর্থাৎ এটি একটি সাধারণ পোষা বিড়ালের চেয়েও ছোট। এর শরীরের লোম হালকা বাদামি রঙের এবং পুরো শরীরে অনিয়মিত আকৃতির ছোপ বা রোসেট রয়েছে।   প্রাণীটির জীবনযাপন সম্পর্কে এখনো খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। গবেষকদের সংগ্রহ করা মল নমুনায় ছোট ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এর খাদ্যের অংশ হতে পারে। ক্যামেরা ট্র্যাপের ছবিতেও ইঙ্গিত মিলেছে যে প্রাণীটি রাতে বেশি সক্রিয় থাকতে পারে।   গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘টাইগার ক্যাট’ গোত্রের প্রাণীগুলোকে ক্রিপটিক স্পিসিস বলা হয়। কারণ শুধু চেহারা দেখে এদের আলাদা প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা বেশ কঠিন। বলিভিয়ার এই বিড়ালটির ক্ষেত্রেও এর বৈশিষ্ট্য প্রচলিত বর্ণনার সঙ্গে মিলছিল না।   গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী জোনাস লেসক্রয়ার্ট জানান, তাদের ধারণা ছিল না যে বলিভিয়ার এই টাইগার ক্যাটটি আলাদা একটি প্রজাতি। এর আগে কেউ এটিকে পৃথক প্রাণী বা উপপ্রজাতি হিসেবেও প্রস্তাব করেননি।   নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করতে গবেষক দল দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা ৩৮টি টাইগার ক্যাটের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে। এর মধ্যে আটটি ছিল জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা। জেনেটিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণ আমেরিকার টাইগার ক্যাটগুলো আসলে পাঁচটি পৃথক প্রজাতিতে বিভক্ত।   গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, টিলকায়োর বংশধারা অন্য টাইগার ক্যাটগুলোর থেকে প্রায় ১৪ লাখ বছর আগে আলাদা হয়ে যায়। গবেষণাটি নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্যও সামনে এনেছে।   এ গবেষণায় পেরুর ইয়ুঙ্গাস অঞ্চলে আরেকটি নতুন টাইগার ক্যাট উপপ্রজাতিরও বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম লেপার্ডাস টাইগ্রিনাস অ্যান্টিসুয়ো। প্রাচীন ইনকা সাম্রাজ্যের যে অঞ্চলের মধ্যে প্রাণীটির আবাসস্থল পড়ত, সেই ‘অ্যান্টিসুয়ো’ নাম থেকেই উপপ্রজাতিটির নাম নেওয়া হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
গলার বিশেষ কলার খুলে বিড়ালটির তল্লাশি চালাচ্ছেন কারা কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার কারাগারে ধরা পড়ল মাদক পাচারকারী বিড়াল, তদন্ত শুরু

রাশিয়ার একটি কারাগারে বন্দিদের কাছে নিষিদ্ধ মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজে একটি বিড়ালকে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। গলায় বিশেষভাবে তৈরি কলারের ভেতরে মাদক বহন করার সময় প্রাণীটিকে আটক করে কারা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   ইউরোনিউজের তথ্যের বরাত দিয়ে রাশিয়ার ফেডারেল পেনিটেনশিয়ারি সার্ভিস (এফএসআইএন) জানিয়েছে, কারাগারের একটি সংশোধনাগারের বাইরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে বিড়ালটিকে আটক করেন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। পরে প্রাণীটির গলায় বাঁধা দুটি কাপড়ের তৈরি বিশেষ কলার খুলে তল্লাশি চালানো হলে সেখান থেকে নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কারা কর্মকর্তারা বিড়ালটির গলায় থাকা কালো রঙের চওড়া কলার খুলে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছেন। তল্লাশির সময় কলারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা মাদক উদ্ধার করা হয়। জব্দ প্রক্রিয়া শেষে বিড়ালটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এফএসআইএনের ভাষ্য, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি পরিকল্পিত পাচারচক্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারা বন্দিদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, কীভাবে বিড়ালটিকে এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার কৌশল কী ছিল। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা অভিযুক্ত করার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতীতেও কারাগারে মোবাইল ফোন, মাদক কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পৌঁছে দিতে প্রাণী ব্যবহারের বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে। রাশিয়ার সর্বশেষ এই ঘটনাও কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পাচারচক্রের নতুন কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
এমিলি কারোলস্কি I ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে নবজাতকদের সেবায় নিয়োজিত নার্সের বাড়িতে মিলল ৮০টি মৃত বিড়াল, হতবাক স্থানীয়রা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এক নার্সের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গা শিউরে ওঠা এক বীভৎস দৃশ্য আবিষ্কার করেছে পুলিশ। এমিলি কারোলস্কি নামের ওই নার্সের বাড়ি থেকে প্রায় ৮০টি মৃত এবং ১০০টিরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি পেশায় কোরওয়েল হেলথের একজন নার্স প্র্যাকটিশনার, যিনি হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন। এমন একটি সংবেদনশীল পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে চরম অবহেলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রাণীদের আটকে রাখার এই ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সেখানকার ভয়াবহ দুর্গন্ধের কারণে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ভাব ও মাথা ঘোরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের রেসপিরেটর বা বিশেষ শ্বাসযন্ত্র ব্যবহার করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বাড়িটি ছিল চরম নোংরা ও আবর্জনায় পূর্ণ। রান্নাঘরের বিভিন্ন স্থানে এবং এমনকি রেফ্রিজারেটরের ভেতরেও মৃত বিড়াল স্তূপ করে রাখা ছিল, যা দেখে উদ্ধারকর্মীরাও হতবাক হয়ে যান।   এই অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনার পর এমিলি কারোলস্কির বিরুদ্ধে প্রাণী নিষ্ঠুরতা এবং মৃত প্রাণী যথাযথভাবে সৎকার না করার অভিযোগে ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এত ভয়াবহ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে মাত্র আড়াই হাজার ডলারের বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তির ওপর হাসপাতালে নবজাতক শিশুদের জীবনের ভার তুলে দেওয়া হয়েছিল, তার এমন ভয়াবহ মানসিকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এখন সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০