বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলে তিনি জানান। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উভয় পক্ষ বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বর্তমান সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মূলত ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য। ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সময়োপযোগী করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধনী অভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে নিউজিল্যান্ডের নতুন ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচি বা অ্যাক্টিভ ইনভেস্টর প্লাস (AIP) ভিসা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। চালুর মাত্র এক বছরের মধ্যেই এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটিতে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (নিউজিল্যান্ডের মুদ্রায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বুধবার নিউজিল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন মন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১.৪৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ২.৪১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। গত বছর ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬০৯টি আবেদন জমা পড়েছে, যার আওতায় ১৯৮৮ জন ব্যক্তি নিউজিল্যান্ডে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন। কীভাবে কাজ করে এই গোল্ডেন ভিসা? ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি প্রধান বিভাগ রাখা হয়েছে: ১. গ্রোথ (Growth) ক্যাটাগরি: এতে সর্বনিম্ন ৫ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। এই বিনিয়োগটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ তবে দেশের উৎপাদনশীল খাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। ২. ব্যালেন্সড (Balanced) ক্যাটাগরি: এতে বিনিয়োগের পরিমাণ সর্বনিম্ন ১০ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার। এটি তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ যেমন বন্ড বা শেয়ার বাজারে করা যায়। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এই ভিসার জন্য কোনো ইংরেজি ভাষার দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হয় না। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের সশরীরে নিউজিল্যান্ডে থাকার সময়সীমাও আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। পরিবারসহ (স্বামী/স্ত্রী এবং ২৪ বছরের কম বয়সী সন্তান) স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ থাকায় ধনী বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন থেকে। এর বাইরে জার্মানি, হংকং, তাইওয়ান এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকরাও তালিকায় রয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভারতের মাত্র ২ জন বিনিয়োগকারী এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন যাদের রয়েছে, বিশেষ করে বিনিয়োগ কোটায় (ইবি-৫ ভিসা), তাদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সাম্প্রতিক এক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ ভারত ও চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসার সহজলভ্যতা বা 'প্রায়োরিটি ডেট' অনেক পিছিয়ে যেতে পারে। যদিও এই সতর্কতা মূলত ভারতীয় ও চীনা নাগরিকদের জন্য, তবে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশি উচ্চবিত্ত বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ইবি-৫ ভিসা আসলে কী? যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ (বর্তমানে সাধারণত ৮ লাখ ডলার থেকে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার) এবং অন্তত ১০ জন মার্কিন কর্মীর কর্মসংস্থান তৈরির বিনিময়ে যে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়, তাকেই ইবি-৫ বা 'গোল্ডেন ভিসা' বলা হয়। মে ২০২৬-এর সতর্কবার্তায় কী আছে? স্টেট ডিপার্টমেন্টের মে ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ওই সময়ের মধ্যে আবেদনের সংখ্যা ভিসা কোটার চেয়ে অনেক বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে তৈরি হবে ‘ব্যাকলগ’। অর্থাৎ, আজ যারা আবেদন করবেন, তাদের গ্রিন কার্ড পেতে বর্তমান সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এর গুরুত্ব: বাংলাদেশ থেকে যারা বৈধ পথে বা বিদেশে থাকা সম্পদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পেতে চান, তাদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি ভারত ও চীনের মতো বিশাল ব্যাকলগ অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়, তবে দ্রুত আবেদন না করলে কয়েক বছরের দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবার। এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিটকয়েনে বিনিয়োগের ফলে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে তাদের। ফোর্বস সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে বাজারের অস্থিরতা এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। ট্রাম্পের দুই ছেলে—এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের নেতৃত্বে পরিবারটি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করে। তাদের প্রত্যাশা ছিল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে উচ্চ অবস্থানে থাকা বিটকয়েনের দাম বছর শেষে আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এই ধারণার ভিত্তিতে তারা নিজেদের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও রূপান্তরযোগ্য ঋণপত্র বিক্রি করে বিপুল অর্থ বিটকয়েনে বিনিয়োগ করে। শুরুর দিকে বাজার তাদের অনুকূলে থাকলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কয়েক মাসের মধ্যে বিটকয়েনের দাম দ্রুত কমে গেলে বিনিয়োগের মূল্যও কমতে থাকে। ফলে কোম্পানির ক্রিপ্টো সম্পদের মোট মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ক্ষতি কমানোর জন্য পরবর্তীতে বিনিয়োগের একটি অংশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হলেও তাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। এরপর সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণার পর বাজারে আরও চাপ তৈরি হয় এবং বিটকয়েনের দাম আবারও কমে যায়। বর্তমানে বিটকয়েনের দর আগের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করায় ট্রাম্প পরিবারের বিনিয়োগের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুরুতে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তার তুলনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশার কারণে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ থেকেও বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ এবং স্বল্পমেয়াদি বাজার ওঠানামার ভিত্তিতে এর সাফল্য বা ব্যর্থতা মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।
নির্বাচনের পরেও দেশের বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ বাড়েনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.০৩ শতাংশ হয়েছে, যা জানুয়ারির সঙ্গে সমান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ সময় নতুন বিনিয়োগ হয়নি। এছাড়া সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা—বিশেষত ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ—ও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে প্রভাব ফেলেছে। ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, এক বছর আগে যা ছিল ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। এর অর্থ, এক বছরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.০৩ শতাংশ হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) লক্ষ্য ছিল ৮.৫ শতাংশ। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে উচ্চ সুদহার কমানো হবে এবং বন্ধ শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করা হবে। তিনি আশা করছেন, এই পদক্ষেপে বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফিরবে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, উচ্চ সুদহার বিনিয়োগে বড় বাধা হলেও এটি একমাত্র সমস্যা নয়। গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দরসহ অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান না হলে বিনিয়োগকারীরা এগোতে পারছেন না। অন্যদিকে, সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণও বেসরকারি ঋণের প্রবাহ কমানোর একটি বড় কারণ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণ হয়েছে ৯৮ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫%। ব্যাংকগুলো বর্তমানে খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদহারের কারণে নতুন ঋণ অনুমোদনে সতর্ক। বাণিজ্যিক ঋণের সুদ প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নতুন ঋণ নেওয়া থেকে বিরত রাখছে। ফলস্বরূপ, শিল্প খাতে মন্থরতা, বিনিয়োগ হ্রাস, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঋণ প্রবৃদ্ধি দ্রুত না বাড়লে বেসরকারি খাত ও শিল্প উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এবং অর্থনৈতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার (১ এপ্রিল) দেশটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আগ্রহের কথা জানান দক্ষিণ কোরিয়ার গণকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী লিম সাং উ। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই একটি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর হতে পারে, যা বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে বলে সিউল মনে করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৌফিক ইসলাম শাতিল, দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে গত পাঁচ দশকে অবকাঠামো, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল খাতে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশের নবনির্বাচিত সরকার সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় দেশকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ঢাকা। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে দুই দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় উভয় দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার। এই আয়োজন কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।