মাত্র কয়েক দিন আগেও তীব্র তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস করছিল নিউইয়র্ক। সেন্ট্রাল পার্কে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছুঁয়ে যায়, যা ২০১২ সালের পর প্রথম। সেই রেকর্ড গরম কাটতে না কাটতেই এবার ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল এই শহর।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (NWS) এবং নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় একাধিক দফায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ১ থেকে ২ ইঞ্চি হারে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি মোট বৃষ্টির পরিমাণ ২ থেকে ৪ ইঞ্চি, আর কিছু এলাকায় ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে নিচু এলাকা, আন্ডারপাস এবং দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থার এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ফ্ল্যাশ ফ্লাড জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করেছেন। ড্রেন পরিষ্কার, বন্যাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন এবং জরুরি সেবা দল প্রস্তুত রাখাসহ বিভিন্ন সংস্থাকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে, আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বিশেষ করে বেজমেন্টে বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তীব্র তাপপ্রবাহের পর বায়ুমণ্ডলে জমে থাকা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণেই এই ভারী বর্ষণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
নিউইয়র্কে কয়েক দিনের ব্যবধানে রেকর্ড গরম থেকে আকস্মিক ভারী বর্ষণে আবহাওয়ার নিউইয়র্কে কয়েক দিনের ব্যবধানে রেকর্ড গরম থেকে আকস্মিক ভারী বর্ষণে আবহাওয়ার এই দ্রুত পরিবর্তনকে চলতি মৌসুমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আবহাওয়াগত ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মাত্র কয়েক দিন আগেও তীব্র তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস করছিল নিউইয়র্ক। সেন্ট্রাল পার্কে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছুঁয়ে যায়, যা ২০১২ সালের পর প্রথম। সেই রেকর্ড গরম কাটতে না কাটতেই এবার ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল এই শহর। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (NWS) এবং নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় একাধিক দফায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ১ থেকে ২ ইঞ্চি হারে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি মোট বৃষ্টির পরিমাণ ২ থেকে ৪ ইঞ্চি, আর কিছু এলাকায় ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে নিচু এলাকা, আন্ডারপাস এবং দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থার এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ফ্ল্যাশ ফ্লাড জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করেছেন। ড্রেন পরিষ্কার, বন্যাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন এবং জরুরি সেবা দল প্রস্তুত রাখাসহ বিভিন্ন সংস্থাকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে, আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বিশেষ করে বেজমেন্টে বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তীব্র তাপপ্রবাহের পর বায়ুমণ্ডলে জমে থাকা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণেই এই ভারী বর্ষণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। নিউইয়র্কে কয়েক দিনের ব্যবধানে রেকর্ড গরম থেকে আকস্মিক ভারী বর্ষণে আবহাওয়ার নিউইয়র্কে কয়েক দিনের ব্যবধানে রেকর্ড গরম থেকে আকস্মিক ভারী বর্ষণে আবহাওয়ার এই দ্রুত পরিবর্তনকে চলতি মৌসুমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আবহাওয়াগত ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লেক ইরিতে নৌভ্রমণে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক প্রতিবেশী নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই নৌকায় থাকা আরেক ব্যক্তির মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে শিশুটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, New York Post এবং ১৩ Action News–এর খবরে বলা হয়, গত ১ জুলাই ওহাইওর জেরুজালেম টাউনশিপের মেইঙ্কে মেরিনা থেকে ছোট একটি মোটরচালিত নৌকায় বেড়াতে বের হয় ১১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিক কানিংহাম। তার সঙ্গে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী প্রতিবেশী ক্রিস্টেন গেরি এবং ৩৮ বছর বয়সী জনাথন সিহা। কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌযাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড, লুকাস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর, ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এরপরের দিন লেক ইরির পানিতে জনাথন সিহার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, ক্রিস্টেন গেরি সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে (Child Endangerment) গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে, কয়েক দিনের টানা অনুসন্ধানের পর লেক ইরির তীরবর্তী এলাকায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেটি নিখোঁজ অ্যাঞ্জেলিক কানিংহামের কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। লুকাস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, নৌকায় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং এতে কারও অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া এবং একই নৌযাত্রায় একজনের মৃত্যু—দুই ঘটনাই তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি অভিবাসন ডিটেনশন সেন্টারে খাবারে কৃমি ও পোকামাকড়, চিকিৎসাসেবার সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ তুলে গণস্বাক্ষরযুক্ত চিঠি দেওয়ার পর এক অভিবাসীকে একাকী সেলে রাখা, পরে একাধিকবার অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং তার ওপর কঠোর নজরদারি আরোপের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির অভিবাসন আটক কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম স্পটলাইট পিএ ও ডব্লিউআইটিএফ-এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, হন্ডুরাসের নাগরিক এদিন ড্যানিয়েল চিনচিলা-রোকে পেনসিলভানিয়ার ক্লিয়ারফিল্ড কাউন্টিতে অবস্থিত মশ্যানন ভ্যালি প্রসেসিং সেন্টারে আটক রয়েছেন। গত ৩ মার্চ তিনি ৬৮ জন আটক ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ একটি চিঠিতে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রটিতে পরিবেশিত খাবার পচা এবং তাতে কৃমি বা পোকামাকড় পাওয়া যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা না পাওয়া, এমনকি টয়লেট পেপার ও হাত ধোয়ার সাবানের মতো মৌলিক সামগ্রীর সংকটের কথাও উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অভিযোগের কিছুদিন পর খাবার পরিবেশনের সময় এক আটক ব্যক্তি সবুজ রঙের বমি করলে কয়েকজন বন্দি খাবার গ্রহণে বিরত থাকেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, চিনচিলা-রোকে অন্যদের এ কর্মসূচিতে উৎসাহিত করেছিলেন। তবে তার আইনজীবী ক্রেইগ শ্যাগিন বলেন, তিনি প্রতিবাদে অংশ নিলেও এর আয়োজক ছিলেন না। এরপর চিনচিলা-রোকেকে সাত দিনের জন্য একাকী সেলে রাখা হয়। তার দাবি, এ সময় তাকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ট্যাবলেটও কেড়ে নেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ নথিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবাদ নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে তাকে আলাদা করে রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পরবর্তীতে তাকে প্রথমে টেক্সাসের পোর্ট ইসাবেল সার্ভিস প্রসেসিং সেন্টার এবং পরে লুইজিয়ানার উইন কারেকশনাল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। গত ৬ জুন তাকে আবার পেনসিলভানিয়ার মশ্যানন ভ্যালি কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হলেও তার নিরাপত্তা শ্রেণি নিম্ন ঝুঁকির ‘ব্লু’ থেকে ‘ইয়েলো’তে উন্নীত করা হয়েছে বলে জানান তার আইনজীবী। এর ফলে তার ওপর নজরদারি এবং চলাফেরার বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া তার বান্ধবীর ফোন নম্বরও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। চিনচিলা-রোকের আইনজীবীর ভাষ্য, ২০২৩ সালে একজন অভিবাসন বিচারক জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের আওতায় তাকে হন্ডুরাসে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে তৃতীয় কোনো দেশে, বিশেষ করে মেক্সিকোতে পাঠানোর চেষ্টা করছে। চিনচিলা-রোকে জানান, টেক্সাসে অবস্থানকালে তাকে মেক্সিকো সীমান্তগামী একটি বাসে উঠতে বলা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ মেক্সিকোতে তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। এদিকে ডিটেনশন সেন্টারটি পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপ নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর কাছে পাঠায়। ICE এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিদিন তিন বেলা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এদিন ড্যানিয়েল চিনচিলা-রোকের অভিযোগ বা তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংস্থাটি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি।