- প্রচ্ছদ
- Topic
ব্রুকলিন
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে হলিউড অভিনেতা মাইকেল বি. জর্ডানের আসন্ন সিনেমা 'মায়ামি ভাইস ৮৫'-এর শুটিং সেটে এক ক্রু মেম্বারের ওপর ছুরি নিয়ে চড়াও হওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বে পার্কওয়ে এবং ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ বছর বয়সী অ্যালেক্স পেরেজ নামের ওই যুবক সেটের প্রোডাকশন টিমের ৪৩ বছর বয়সী এক সদস্যের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে একটি বড় কসাইয়ের ছুরি বের করে তাকে ভয় দেখান। ওই প্রোডাকশন কর্মী নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়ার পরপরই পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) জানিয়েছে, হামলাকারীকে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় কেউ আহত হননি। অভিযুক্ত পেরেজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। টিএমজেড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের বাসিন্দা পেরেজ এর আগেও গ্যাং-সম্পর্কিত অপরাধ, আগ্নেয়াস্ত্র হামলা এবং চুরিসহ একাধিক অপরাধের দায়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৮০-এর দশকের জনপ্রিয় আন্ডারকভার গোয়েন্দা সিরিজের রিমেক 'মায়ামি ভাইস ৮৫' সিনেমাটি পরিচালনা করছেন 'টপ গান: ম্যাভেরিক' খ্যাত নির্মাতা জোসেফ কোসিনস্কি। এতে রিকার্ডো টাবসের চরিত্রে অভিনয় করছেন জর্ডান এবং জেমস 'সনি' ক্রকেট চরিত্রে রয়েছেন অস্টিন বাটলার। শুক্রবার রাতের এই শুটিং চলাকালীন জর্ডান নিজেও সেটে উপস্থিত ছিলেন। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিভিন্ন স্থানে চিত্রায়িত হওয়া এই ক্রাইম ড্রামা সিনেমাটি ২০২৮ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্কে ‘ইনোভেটিভ আরবান ভিলেজ’ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৩৮৬টি স্থায়ী সাশ্রয়ী বাসা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ৪৫৩টি বাসা এবং শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র যুক্ত করার কাজ এগিয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার সাশ্রয়ী বাসা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পটি খ্রিষ্টান কালচারাল সেন্টারের প্রায় ১০.৫ একর জমিতে গড়ে উঠছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে ১০টি ভবনে প্রায় ২ হাজার সাশ্রয়ী বাসা থাকবে। আবাসনের পাশাপাশি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, কমিউনিটি সেবা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ, দোকানপাট, পারফর্মিং আর্টস সেন্টার এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য খোলা জায়গাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব সুবিধা এখনই চালু হয়নি। পরবর্তী ধাপে আরও ৪৫৩টি সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের কাজ এগিয়েছে। এ ধাপে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, খেলার মাঠ এবং বাণিজ্যিক জায়গা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের ওয়েবসাইটে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের জুলাই উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ ধাপগুলোও বাস্তবায়িত হলে আবাসনের সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রকল্পের প্রথম ধাপের বাসাগুলো এলাকার মধ্যম আয়ের নির্দিষ্ট অংশের ভিত্তিতে বরাদ্দের জন্য পরিকল্পিত। প্রকল্পের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রথম ধাপের আবাসনের আয়ের যোগ্যতার সীমা এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ থেকে ৮০ শতাংশ। যোগ্যতা নির্ভর করে পরিবারের মোট আয়, সদস্যসংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট বাসার নির্ধারিত শর্তের ওপর। তাই শুধু কম আয় হলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রকল্পের প্রথম ধাপের জন্য আগে একটি আবেদন-লটারি চালু হয়েছিল, যার সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৮ জুন। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের ওয়েবসাইটে আবেদনসংক্রান্ত তথ্য থাকলেও নতুন আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না, তা সরাসরি নিশ্চিত না হয়ে আবেদন খোলা আছে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদনের জন্য সাধারণত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পরিচয়পত্র, বর্তমান আয়ের প্রমাণ, কর জমার নথি এবং বর্তমান বাসস্থানের তথ্য চাওয়া হতে পারে। চূড়ান্ত নথির তালিকা সংশ্লিষ্ট আবেদনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে আবাসনসংকট মোকাবিলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইস্ট নিউইয়র্কের ইনোভেটিভ আরবান ভিলেজ আবাসন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৩৮৬টি স্থায়ী সাশ্রয়ী বাসা চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটির পরবর্তী পর্যায়ে আরও ৪৫৩টি বাসা এবং একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র যুক্ত করার কাজ এগিয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পে ১০টি ভবনে প্রায় ২ হাজার সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কমিউনিটি কার্যক্রম, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ, খুচরা দোকান এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খোলা জায়গা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী বাসার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকল্পের বাসাগুলো কারা পাবেন, আয়ের যোগ্যতা কী এবং আবেদন কখন শুরু হবে—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে প্রকাশ করা উচিত।
নিউ জার্সি ও নিউইয়র্কের মধ্যে হাডসন নদীর নিচ দিয়ে নতুন রেল টানেল নির্মাণে বড় ধাপ এগিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউ জার্সির নর্থ বার্গেনে হাডসন টানেল প্রকল্পের প্রথম টানেল খননযন্ত্র চালুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে গেটওয়ে ডেভেলপমেন্ট কমিশন। চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে যন্ত্রটি খননকাজ শুরু করবে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউ জার্সি থেকে নদীর নিচ দিয়ে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন পর্যন্ত নতুন দুটি টানেল নির্মাণ করা হবে। নতুন টানেল চালু হলে বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো নর্থ রিভার টানেলের সংস্কার করা যাবে। ওই টানেলটি ১৯১০ সাল থেকে চালু রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে খননযন্ত্রগুলো নর্থ বার্গেনের টনেলি অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে নিউ জার্সির প্যালিসেডস পাহাড়ের নিচে টানেল তৈরি করবে। গেটওয়ে ডেভেলপমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ অংশে দুটি যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রকল্পের অন্যান্য অংশে খনন ও নির্মাণকাজ চলবে। নতুন টানেল চালুর লক্ষ্য ২০৩৫ সাল। পুরোনো টানেলের সংস্কার শেষ করার লক্ষ্য ২০৩৮ সাল। এটি নির্মাণ শেষ হওয়ার খবর নয়; সোমবারের আয়োজনটি ছিল প্রকল্পের প্রথম খননযন্ত্র চালুর আনুষ্ঠানিক ধাপ। এই রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন নিউ জার্সি ও নিউইয়র্কের মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন টানেল চালু এবং পুরোনোটি সংস্কার হলে দুই রাজ্যের মধ্যে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে এ ট্রেনের দরজায় ব্যাগ আটকে ট্রেনের সঙ্গে টেনে নেওয়ার পর ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃ ত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটের কিছু আগে বেডফোর্ড-স্টাইভেস্যান্ট এলাকার ইউটিকা অ্যাভিনিউ সাবওয়ে স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। এবিসি সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুলটন স্ট্রিটের কাছে স্টেশনটিতে ট্রেনের দরজা বন্ধ হওয়ার সময় ওই ব্যক্তির ব্যাগ আটকে যায়। এরপর ট্রেনটি চলতে শুরু করলে তিনি সেটির সঙ্গে টেনে নেওয়া হন। প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানানো হয়নি। কীভাবে ব্যাগটি দরজায় আটকাল এবং দুর্ঘটনার অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে প্রায় এক দশক ধরে পলাতক দাভুদ আনসারিকে জর্জিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী আনসারি উজবেকিস্তানের নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিক। ২৩ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসি থেকে তাকে নিউইয়র্কে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আনসারির বিরুদ্ধে আইসিস এবং আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট জজ লারা কে. এশকেনাজির সামনে হাজির করার কথা জানানো হয়। তবে অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, আনসারি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনকেন্দ্রিক একটি উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ছিলেন। ওই নেটওয়ার্কের সদস্যদের কেউ সিরিয়ায় গিয়ে আইসিস বা আল-নুসরা ফ্রন্টের যোদ্ধা হওয়ার পরিকল্পনা করতেন, আবার অন্যরা তাদের সিরিয়া যাওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ভ্রমণের ব্যবস্থা করতেন। নেটওয়ার্কটির সদস্যরা নিজেদের দলকে ‘চাইখানা’ নামে ডাকতেন। উজবেক ভাষায় এর অর্থ ‘টি হাউস’ বা ‘টি পার্টি’। বিচার বিভাগের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক সিরিয়ায় যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সেখানে যাওয়া যোদ্ধাদের পরিবার এবং যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের বিধবা স্ত্রী ও পরিবারের জন্যও অর্থ সংগ্রহ করত। প্রসিকিউটরদের দাবি, ‘চাইখানা’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করে আনসারি ও তার সহযোগীরা ২০১৩ সালে অন্তত তিন ব্যক্তির সিরিয়া যাওয়ার খরচ জুগিয়েছিলেন। ওই তিনজনই পরে সিরিয়ায় নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে মার্কিন সরকার। তবে এটিও সরকারের মামলায় আনা অভিযোগের অংশ। ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে আনসারি একমুখী টিকিটে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তুরস্কে চলে যান। তার এক কথিত সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ দিন পর তিনি দেশ ছাড়েন। এরপর প্রত্যর্পণের আগে পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেননি। ২০২১ সালের নভেম্বরে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৬ সালের আগস্টে উজবেকিস্তান থেকে জর্জিয়ার তিবলিসিতে যাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক দপ্তর, তিবলিসিতে এফবিআইয়ের আইনশৃঙ্খলা অ্যাটাশে অফিস এবং জর্জিয়ার প্রসিকিউটর অফিসের সহযোগিতায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। আদালতের ডিটেনশন মেমো অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর আনসারিকে বহনকারী ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রত্যর্পণের পর তাকে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটররা তাকে আটক রাখার আবেদনও করেছেন। মামলাটি তদন্ত করেছে এফবিআই। তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, পোর্ট অথরিটি পুলিশ এবং ইউএস মার্শালস সার্ভিস সহায়তা করেছে। আনসারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক, ফেডারেল কোর্ট ডিটেনশন মেমো, এফবিআই
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি কর্মী ইউসুফ রাজুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং ব্রঙ্কসে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে খোঁজা সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখায় দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সার্জেন্ট ভূঁইয়া ও অফিসার আহমেদের সাহস, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্টুরেন্টে গুলির ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মী ইউসুফ রাজু নিহত হন। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ রাসেল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে পুলিশ তদন্তে ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে এই হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রুকলিনের ঘটনার দুই দিন পর ব্রঙ্কসের একটি বডেগায় গুলি চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী টেইভন শুলারকে হত্যা করা হয়। তদন্তকারীরা দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার পর আকোস্তাকে দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই যুক্ত সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজতে শুরু করেন। টানা কয়েকদিনের অনুসন্ধানের পর ২৯ আগস্ট ব্রঙ্কসের ওয়াটসন ও মরিসন অ্যাভিনিউ এলাকার একটি পার্ক থেকে আকোস্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, একজনের বেনামি ৯১১ কলের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। আকোস্তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা ও দুটি হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তী আদালত কার্যক্রমে অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এক বার্তায় বলেছে, কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্জেন্ট ভূঁইয়া ও অফিসার আহমেদের সাহস, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। তাদের অসাধারণ কাজের জন্য সংগঠনটি তাদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছে। ইউসুফ রাজুর হত্যাকাণ্ড নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজুই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে থাকা স্ত্রী, মা ও দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাকে দেশে নিয়ে দাফন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির পক্ষ থেকে সহায়তা সংগ্রহও করা হয়েছে। একই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ব্রুকলিনে বাংলাদেশি কর্মী হত্যার অভিযোগ এবং এর মাত্র দুই দিন পর ব্রঙ্কসে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ থাকায় ঘটনাটি নিউইয়র্কজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত সন্দেহভাজনের গ্রেপ্তার স্বস্তি এনেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিতে। এই গ্রেপ্তারে দায়িত্ব পালনকারী দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার স্বীকৃতি পাওয়াকে কমিউনিটির পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ রানা মহসিনের জানাজা মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। জানাজা শেষে শাহেদ রানার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। শনিবার সকালে টেনেসি থেকে তার মরদেহ নিউইয়র্কে আনা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানাজার পর মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। গত ২৩ আগস্ট বেলস শহরের সাফারি কর্নার মার্কেটে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন শাহেদ রানা। টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র ডাকাতির সময় তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, নিহতের নাম শাহেদ রানা মহসিন এবং তার বয়স ৩৬ বছর। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে শাহেদ রানা ও হামলাকারীর মধ্যে আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। এ ঘটনায় কোরি উইলিয়াম ডগলাস হিউজ নামে ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্র্যান্ড জুরি হত্যাসহ আটটি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, ডাকাতির সময় হত্যা এবং আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রসিকিউশন এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে শাহেদ রানা ও অভিযুক্তের মধ্যে পূর্বপরিচয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রসিকিউটর জানিয়েছেন। ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আকস্মিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে শাহেদ রানা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। টেনেসিতে কর্মরত অবস্থায় তার এমন মৃত্যুতে স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তান রেখে গেছেন। এদিকে শাহেদ রানার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি তহবিল খোলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ব্রুকলিনে জানাজা শেষে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে একটি ভালো অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়া অনেকের জন্যই রীতিমতো স্বপ্নের মতো। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট। সম্প্রতি এই কর্তৃপক্ষের অধীনে শত শত অ্যাপার্টমেন্ট মাত্র ১৫০০ ডলারের চেয়েও কম ভাড়ায় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুলভ মূল্যের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলো নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কস এলাকায় অবস্থিত। আবেদনকারীদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে স্টুডিও, এক বেডরুম এবং দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই আবাসন প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প হলো স্টারহিল ফেজ টু। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৩০ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ ডলারের মধ্যে, তারা এখানে ভাড়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে বাসিন্দাদের জন্য খোলা জায়গা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সরঞ্জাম, লিফট এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগসহ আরও নানা ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আরেকটি আকর্ষণীয় প্রকল্প হচ্ছে ব্লন্ডেল কমনস। এখানকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য আবেদন করতে হলে বার্ষিক আয় হতে হবে ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। যারা নিজেদের সাথে পোষা প্রাণী রাখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি জায়গা। এছাড়া এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, শরীর চর্চার জন্য ব্যায়ামাগার বা জিম এবং শিশুদের জন্য আলাদা খেলার ঘর রয়েছে। যাদের আয় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি, তাদের জন্য রয়েছে সোলেস নামের অপর একটি আবাসিক প্রকল্প। ৩৮ হাজার ৯৪৯ থেকে শুরু করে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার বার্ষিক আয়সম্পন্ন ব্যক্তিরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। সাধ্যের মধ্যে থাকা এই আবাসন ব্যবস্থায় একটি মিডিয়া রুম, জিম এবং ইয়োগা ও ড্যান্স স্টুডিও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এছাড়া কলাম্বিয়া কমনস ওয়ান নামের আরও একটি আবাসন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে বার্ষিক ৩০ হাজার ৪৪৬ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার আয়ের মানুষেরা ভাড়ার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত এবং ব্যয়বহুল শহরে এমন উদ্যোগ অনেক সাধারণ মানুষের জন্যই স্বস্তির খবর। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই আবাসন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং অনলাইনেই ভাড়ার জন্য আবেদন করা যাবে। সংবাদসূত্র: পিক্স১১ ও নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ, পরিচিতজনদের কাছে তিনি রাজু নামে পরিচিত, তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্ত্রী, মা ও দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। একই সঙ্গে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে দাফনের খরচ জোগাড় করাও পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৩ আগস্ট রাতে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী রাজু। ঘটনাটি ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তাই তার মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিতের চেয়ে এখন পরিবারের জরুরি প্রয়োজনই সামনে এসেছে। পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন, রাজুই ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ের ওপরই স্ত্রী, মা এবং ১২ ও ৩ বছর বয়সী দুই মেয়ে নির্ভরশীল ছিলেন। হঠাৎ করে তাকে হারানোর পর পরিবারের নিয়মিত খরচ চালানোর মতো কোনো আয় এখন নেই। এমন পরিস্থিতির জন্য পরিবারটি আগে থেকে প্রস্তুতও ছিল না। সবচেয়ে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজুর মরদেহ দেশে পাঠানো ও দাফনের ব্যবস্থা করা। এর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের আগামী কয়েক মাসের মৌলিক জীবনযাত্রার খরচ চালানোর জন্যও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে রাজুর পরিবারকে সহায়তা করতে গোফান্ডমি এর মাধ্যমে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে প্রথমে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো ও দাফন-সংক্রান্ত খরচ মেটানো হবে। এরপর তার স্ত্রী, মা ও দুই মেয়ের জরুরি জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অর্থ ব্যবহার করা হবে। স্বজনরা বলছেন, রাজুর মৃত্যুতে পরিবারটি শুধু একজন প্রিয় মানুষকেই হারায়নি, হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসও। বিশেষ করে দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে সামনে কীভাবে সংসার চলবে, সেটিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। এই কঠিন সময়ে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে রাজুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার পাশাপাশি যারা সরাসরি সহযোগিতা করতে পারবেন না, তারা তহবিল সংগ্রহের আবেদনটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। পরিবারের স্বজনদের মতে, এই অর্থ রাজুকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তবে তার মরদেহ শেষবারের মতো পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এবং স্বামী, বাবা ও একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারানো পরিবারটিকে অন্তত সামনের কঠিন কয়েকটি মাস পার হতে সহায়তা করতে পারে। রাজুর পরিবারের জন্য শুরু করা গোফান্ডমি তহবিলে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। সহায়তার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://gofund.me/e97a3bd4b
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আবারও বন্দুক হামলার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি রাইডশেয়ার চালক। ব্রুকলিনে এক যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর সামান্য সড়ক দুর্ঘটনার জেরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তার মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে দায়িত্ব পালনরত চালকদের ওপর এটি দ্বিতীয় বন্দুক হামলার ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকার নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ে ঘটনাটি ঘটে। ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি অভিবাসী ও টিএলসি লাইসেন্সধারী চালক মোহাম্মদ আমিন একজন যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর তার গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের সামান্য সংঘর্ষ হয়। এরপর দুই চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন উপস্থিত হন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সংঘর্ষে জড়িত কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা এক ব্যক্তি পাশের হুইটম্যান হাউজেস আবাসন এলাকা থেকে বেরিয়ে এসে হঠাৎ চালকের জানালার কাছে গিয়ে তার ডান গালে গুলি করে। হামলার পরপরই ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোহাম্মদ আমিনকে দ্রুত নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও বলেন, মোহাম্মদ আমিন কোনো ঝগড়ায় জড়াননি। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকার কারণেই তিনি হামলার শিকার হন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, কুইন্সের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন গত ১৬ বছর ধরে নিউইয়র্কে গাড়ি চালিয়ে পরিবার চালিয়ে আসছেন। তার চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হামলাকারীকে শনাক্তে তথ্যদাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে। ঘটনার পর আবারও ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন ফার্নান্দো মাতেও। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের প্রতিটি টিএলসি লাইসেন্সধারী ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত। এতে চালকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সহজ হবে। এই হামলার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ব্রুকলিনেই আরেক চালক, পাকিস্তানি অভিবাসী ড্যানিশ সারওয়ার, ডাকাতির চেষ্টা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের সময় গুলিবিদ্ধ হন। তার ঘাড়ে গুলি লাগে এবং দীর্ঘ সময় তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরপর দুটি ঘটনায় নিউইয়র্কে ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, হামলার কারণ এবং বন্দুকধারীর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। হামলাকারীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।