সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ, ১,৫০০ ডলারের নিচে ভাড়ায় মিলছে অ্যাপার্টমেন্ট

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২২:৫৫
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কসে সুলভ মূল্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়া হচ্ছে (ছবি: সংগৃহীত)
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কসে সুলভ মূল্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়া হচ্ছে (ছবি: সংগৃহীত)

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে একটি ভালো অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়া অনেকের জন্যই রীতিমতো স্বপ্নের মতো। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট। সম্প্রতি এই কর্তৃপক্ষের অধীনে শত শত অ্যাপার্টমেন্ট মাত্র ১৫০০ ডলারের চেয়েও কম ভাড়ায় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, সুলভ মূল্যের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলো নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কস এলাকায় অবস্থিত। আবেদনকারীদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে স্টুডিও, এক বেডরুম এবং দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই আবাসন প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছে।

 

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প হলো স্টারহিল ফেজ টু। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৩০ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ ডলারের মধ্যে, তারা এখানে ভাড়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে বাসিন্দাদের জন্য খোলা জায়গা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সরঞ্জাম, লিফট এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগসহ আরও নানা ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

 

আরেকটি আকর্ষণীয় প্রকল্প হচ্ছে ব্লন্ডেল কমনস। এখানকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য আবেদন করতে হলে বার্ষিক আয় হতে হবে ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। যারা নিজেদের সাথে পোষা প্রাণী রাখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি জায়গা। এছাড়া এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, শরীর চর্চার জন্য ব্যায়ামাগার বা জিম এবং শিশুদের জন্য আলাদা খেলার ঘর রয়েছে।

 

যাদের আয় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি, তাদের জন্য রয়েছে সোলেস নামের অপর একটি আবাসিক প্রকল্প। ৩৮ হাজার ৯৪৯ থেকে শুরু করে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার বার্ষিক আয়সম্পন্ন ব্যক্তিরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। সাধ্যের মধ্যে থাকা এই আবাসন ব্যবস্থায় একটি মিডিয়া রুম, জিম এবং ইয়োগা ও ড্যান্স স্টুডিও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

 

এছাড়া কলাম্বিয়া কমনস ওয়ান নামের আরও একটি আবাসন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে বার্ষিক ৩০ হাজার ৪৪৬ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার আয়ের মানুষেরা ভাড়ার সুযোগ পাবেন।

 

নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত এবং ব্যয়বহুল শহরে এমন উদ্যোগ অনেক সাধারণ মানুষের জন্যই স্বস্তির খবর। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই আবাসন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং অনলাইনেই ভাড়ার জন্য আবেদন করা যাবে।

 

সংবাদসূত্র: পিক্স১১ ও নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর পোশাকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি কচ্ছপ। ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বাসে লুকিয়ে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ নেওয়ার চেষ্টা, মিয়ামি বিমানবন্দরে ধরা পড়লেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর ব্রায়ের ভেতর থেকে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা স্ক্যানারে তার শরীরের বুকের অংশে অস্বাভাবিক কিছু শনাক্ত হওয়ার পর তল্লাশি চালিয়ে কচ্ছপ দুটির সন্ধান পান পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) কর্মকর্তারা।   ঘটনাটি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটলেও টিএসএ বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে জুলাইয়ে। ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়নি। টিএসএর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, কচ্ছপ দুটিকে গজের মতো কাপড় ও প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কচ্ছপগুলোর কোন প্রজাতির ছিল, তা সংস্থাটি জানায়নি।   নিরাপত্তা স্ক্যানারে প্রথমে ওই নারীর শরীরের বুকের অংশে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়ে। এরপর তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হলে পোশাকের ভেতর থেকে দুটি কচ্ছপ বেরিয়ে আসে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছেও ঘটনাটি ছিল বেশ অস্বাভাবিক। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো, দুটি কচ্ছপের একটি পরে মারা যায়। বেঁচে যাওয়া কচ্ছপটিকে ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্দেশে অদ্ভুত কিন্তু স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয় টিএসএ। সংস্থাটি জানায়, ছোট পোষা প্রাণী নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়া সম্ভব হলেও সেগুলো পোশাকের নিচে লুকিয়ে নেওয়া যাবে না। টিএসএর নিয়ম অনুযায়ী, ছোট পোষা প্রাণী নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রাণীকে তার বহনকারী খাঁচা বা ব্যাগ থেকে বের করে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় হাতে বহন করতে হয়। একই সঙ্গে বিমানে পোষা প্রাণী নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিজস্ব নিয়মও আগে জেনে নিতে হয়।   মায়ামির এই ঘটনা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রাণী লুকিয়ে নেওয়ার প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্যক্তিকে প্যান্টের ভেতরে একটি জীবন্ত কচ্ছপ লুকিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ওই কচ্ছপটি পরে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।   এ ছাড়া মায়ামি বিমানবন্দরে ২০২৩ সালে একটি ব্যাগ থেকে পাখির ডাক শোনার পর অ্যামাজন প্রজাতির পাখির ডিম ও জীবন্ত পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও এক ব্যক্তিকে ব্যাগে সাপ নিয়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা থেকে আটক করা হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত যাত্রী, বিমান ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। তাই প্রাণী বহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে টিএসএ। বিশেষ করে প্রাণীকে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তার নিজের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি প্রাণীটির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।   মায়ামির ঘটনায় দুটি কচ্ছপের একটি মারা যাওয়ার বিষয়টি সেই ঝুঁকিকেই সামনে এনেছে। নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে যাত্রার আগে এয়ারলাইনসের পোষা প্রাণী পরিবহনের নিয়ম এবং টিএসএর নিরাপত্তা নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সংবাদসূত্র: সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২৩:৪৭
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কসে সুলভ মূল্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়া হচ্ছে (ছবি: সংগৃহীত)

নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ, ১,৫০০ ডলারের নিচে ভাড়ায় মিলছে অ্যাপার্টমেন্ট

নিজের দক্ষতা ও সময় অনুযায়ী টিউটরিং, ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন কাজ থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ: যে ১০টি কাজ বিবেচনা করতে পারেন

মন্টানার বিলিংসে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একই পরিবারের আট সদস্য (ছবি: সংগৃহীত)

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় একই পরিবারের ৮ জনকে গুলি করে হত্যা, নিহতদের মধ্যে রয়েছে চার শিশু

কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন (ছবি: সংগৃহীত)
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদন সাময়িক স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপরও

সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাদের ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে সেই সূচিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় তাদের জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আরও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়ার অর্থ হলো, এটা নিশ্চিত করা যে ভিসা আবেদনকারীরা মার্কিন আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা বা পাবলিক চার্জ হয়ে দাঁড়াবেন না। পাশাপাশি, তারা যেন অভাবগ্রস্ত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   মুখপাত্র আরও জানান, প্রতিটি ভিসা আবেদনকারীকে যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আর বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘটনাটি সেগুলোরই সর্বশেষ সংযোজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাকে অন্যতম প্রধান নীতি বানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন এবং প্রায় সব ধরনের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়ার পরই ভিসা স্থগিতের এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। ওই নিষেধাজ্ঞায় ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ধারণা ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের দেশ।   ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ফ্রেগোমেন এর আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের অনেকেই নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন এবং নিজেদের দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।   কবে নাগাদ এসব সাক্ষাৎকার পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে ভিসা সেবার নির্ধারিত সূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কারণে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি উদ্যোগ ফেডারেল আদালত আটকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির একটি সীমিত সংস্করণ কার্যকরের অনুমতি দেয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস গত শুক্রবার এক রায়ে জানান, ৭৫টি দেশের অভিবাসন আবেদনের ওপর ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের দেওয়া কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করেছে। গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল।   বিচারক ভার্গাস ট্রাম্পের এই নীতি এবং এর ভিত্তিতে হওয়া সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার বাকি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম করেছে যে, অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করেছেন বা তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।   ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এই সর্বশেষ বাধায় ইন্টারনেট মেসেজ বোর্ডগুলোতে মুম্বাই থেকে শুরু করে নেপলস পর্যন্ত অনেকেই চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, মানুষজন এই কাজটুকু সম্পন্ন করার জন্য দেশের বাইরে ভ্রমণ করে আসে, আর তারা শেষ মুহূর্তে এসে সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেয়, বিষয়টি সত্যিই খুব বিরক্তিকর।   আরেকজন সতর্ক করে লিখেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে ভারতে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কারণে এখনও অনেকে বিদেশে আটকা পড়ে আছেন এবং অনেকেই তাদের চাকরি হারিয়েছেন।   তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২১:২৭
আবাসন ব্যয় বাড়ায় অনেক আমেরিকানের জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের নাগালের বাইরে, কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই সাশ্রয়ী

পেনসিলভেনিয়ায় হামে ২ জনের  মৃ ত্যু, ৩৫ বছর পর প্রথম প্রাণহানি; টিকাবিহীন ছিলেন উভয়েই

পেনসিলভেনিয়ায় হামে ২ জনের মৃ ত্যু, ৩৫ বছর পর প্রথম প্রাণহানি; টিকাবিহীন ছিলেন উভয়েই

ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের I ছবি: আমেরিকা বাংলা

ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের

মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন
মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসের ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চসহ দেশটির বেশ কয়েকটি চার্চ ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে ছদ্মবেশী এজেন্ট পাঠিয়ে গোপন নজরদারি চালিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস)।   গত সপ্তাহে ডিএইচএস-এর প্রকাশিত গোপন নথিপত্রে এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এসেছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটসের একজন বিচারক ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চকে ‘সুরক্ষিত এলাকা’ বা প্রোটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো আইনি বলপ্রয়োগ বা অভিযান পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।   কিন্তু নতুন প্রকাশিত নথিগুলো বলছে, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত একাধিকবার এই চার্চের ভেতরে গিয়ে তদন্ত চালিয়েছেন ছদ্মবেশী এজেন্টরা। এমনকি অন্তত একটি ক্ষেত্রে গোপনে আড়িপাতার যন্ত্র (ওয়্যার) পরিধান করে চার্চের ভেতরে অডিও রেকর্ড করার প্রমাণও মিলেছে।   গত ২৮ মে চার্চের বেসমেন্টে আয়োজিত একটি আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ ক্লাসেও এক ছদ্মবেশী এজেন্ট অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গত ১১ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন চার্চ ও বৈঠকে এই ধরনের ছদ্মবেশী উপস্থিতির রেকর্ড রয়েছে।   আইনজীবী কেভিন রিয়াচের দায়ের করা একটি নথির অংশ হিসেবে ডিএইচএস-এর ‘অপারেশন পাপেট মাস্টার’ এবং ‘প্রজেক্ট হুইপল শিল্ড’ সংক্রান্ত এসব অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশ্যে আসে। রিয়াচ মূলত আইজ্যাক স্যান্ট নামের এক ব্যক্তির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন, যিনি ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৫ জনের একজন।   ডিএইচএস কর্তৃপক্ষের দাবি, সহিংস সুযোগসন্ধানী এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করতেই এসব অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে চার্চের নেতারা একে ধর্মীয় পবিত্রতার মারাত্মক লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।   ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চের এক নেতা জানান, এটি তাদের পবিত্র স্থানের চরম অবমাননা; চার্চ হলো আশ্রয় ও নিরাপত্তার স্থান, সরকারি এজেন্টদের অনুপ্রবেশের জায়গা নয়। এদিকে, মিনিয়াপলিসের ফার্স্ট ইউনিভার্সালিস্ট চার্চের রেভারেন্ড জেনিফার ক্রো এই নজরদারিকে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তারা কেবল সাধারণ ধর্মীয় স্বাধীনতা চর্চা করতে চেয়েছিলেন।   তিনি আরও বলেন, যদিও এ ধরনের সরকারি নজরদারি এখন অনেকটাই সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে, তবু এটিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ডিএইচএস-এর একজন মুখপাত্র চলমান তদন্ত ও পদ্ধতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৮:৩৯
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ

নিউইয়র্কে রেস্টুরেন্টে গুলিতে বাংলাদেশি কর্মী নি হত রাজুর মরদেহ দেশে নিতে সহায়তার আহ্বান

ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন I ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

0 Comments