যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) বাতিলের প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্টে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে বিদেশিদের দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফেডারেল কৌঁসুলিদের। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ খারিজ করে দেয়। আদালতের রায় বহাল থাকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিচার বিভাগ একটি স্মারক জারি করে দেশজুড়ে ফেডারেল কৌঁসুলিদের নির্দেশ দেয়, যাতে তারা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে বার্থ ট্যুরিজম-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার তদন্তকে অগ্রাধিকার দেন। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ড স্মারকে বলেন, প্রতি বছর হাজারো বিদেশি ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং সেখানে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। বিচার বিভাগের ভাষ্য, এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা অপব্যবহার করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো বিদেশি নাগরিকের দেশটিতে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই অপরাধ নয়। অপরাধ তখনই ঘটে, যখন কেউ ভিসার আবেদন বা অভিবাসন সংক্রান্ত নথিতে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন বা মিথ্যা তথ্য দেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে ভিসা জালিয়াতি, অর্থপাচার, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা আর্থিক প্রতারণার মতো আইনে মামলা করা যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, বিচার বিভাগের লক্ষ্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নয়, বরং আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে পরিচালিত বার্থ ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। তিনি জানান, এ কাজে বিচার বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) এবং এফবিআই যৌথভাবে কাজ করবে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী অ্যান্ড্রু নিয়েটর মনে করেন, বিচার বিভাগের সীমিত জনবল ও সম্পদ রয়েছে। তার ভাষায়, যদি প্রসিকিউটরদের বড় অংশ অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলায় ব্যস্ত রাখা হয়, তাহলে মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, গত মাসে প্রকাশিত পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মোট জন্মের ০ দশমিক ৩ শতাংশেরও কম বার্থ ট্যুরিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার শিশু এভাবে জন্ম নেয়। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত ধারণার বিপরীতে এসব জন্মের বড় অংশ হিস্পানিক, বিশেষ করে মেক্সিকান মায়েদের মাধ্যমে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী মূলত দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য ছিল, বিদেশি ধনীদের সন্তানদের জন্য নয়। তবে আদালত তার এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি এবং দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতিই বহাল রেখেছে। বিচার বিভাগের স্মারকে অতীতে বার্থ ট্যুরিজম পরিচালনাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সফল বিচারের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকদের অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল এবং কয়েকজন দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ডও পেয়েছেন। তবে নতুন নির্দেশনার আওতায় মূল লক্ষ্য ব্যক্তি নাকি এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। শুধু বলা হয়েছে, যারা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা বা এর প্রচার ও বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করলেও তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। ভিসা আবেদনের সময় প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাগুলোকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচার বিভাগের জালিয়াতি দমন শাখার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ড ফেডারেল প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে পাঠানো এক স্মারকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহার করার যেকোনো প্রচেষ্টা তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে যারা ভিসা আবেদনে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ফৌজদারি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, অনেক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ কার্যক্রমেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভিসা নেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত ফৌজদারি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। স্মারকে অতীতে পরিচালিত কয়েকটি মামলার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালে ‘ইউএসএ হ্যাপি বেবি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগে মাইকেল ওয়েই ইউয়ে লিউ ও জিং ডং দম্পতির প্রত্যেককে ৪১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, তারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে মার্কিন ভিসা পেতে সহায়তা করতেন। এর আগে ২০২২ সালে নিউইয়র্কভিত্তিক ইব্রাহিম আকসাকালকে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি তুর্কি ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা প্রচার করতেন এবং কীভাবে গর্ভধারণের তথ্য গোপন রাখতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। এছাড়া ২০২০ সালে চাও ‘এডউইন’ চেন পরিচালিত ‘ইউ উইন ইউএসএ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত আদায় করত এবং ৫০০-এর বেশি গ্রাহককে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে সহায়তা করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় চেনকে ৩৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মাধ্যমে বছরে কত শিশু জন্ম নিচ্ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তবে অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের হিসাবে, প্রতিবছর প্রায় ২৬ হাজার শিশুর জন্ম এ ধরনের ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের দাবি, শুধু পর্যটক ভিসায় আসা নারীদের কাছেই বছরে প্রায় ৩৩ হাজার শিশুর জন্ম হয়। এছাড়া অস্থায়ী ভিসাধারী ও অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের কাছেও আরও কয়েক লাখ শিশুর জন্ম হয়। এদিকে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ‘বার্থ ট্যুরিজম’কে দ্রুত বিস্তার লাভ করা একটি শিল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি গর্ভবতী অবস্থায় শুধুমাত্র সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বানানোর উদ্দেশ্যে এখানে আসে, তাহলে সেটি আইন লঙ্ঘনের শামিল। আমরা এটি বন্ধে কাজ করছি এবং তা করেই ছাড়ব।” এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে, যাতে অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। আদালতের ওই রায়ের পরই ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে বিদ্যমান আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের ঘোষণা দেয় মার্কিন বিচার বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রাখার একদিন পরই তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' ঠেকাতে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, পর্যটক, দর্শনার্থী বা অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার এই প্রবণতা রোধে এখন থেকে কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরালোভাবে কাজ করবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং এফবিআইকে ভিসা প্রক্রিয়ার অপব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। টড ব্লাঞ্চ জোর দিয়ে বলেন, যারা ভ্রমণের কথা বলে এসে শুধু মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দেয়, তাদের সেই সুযোগ সীমিত করতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বিচার বিভাগের জালিয়াতি দমন শাখার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ডও এক দাপ্তরিক নির্দেশনায় বার্থ ট্যুরিজম সংক্রান্ত জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতারণামূলক অপব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় এনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের পবিত্রতা রক্ষা করবে বিচার বিভাগ। তবে অবাক করা বিষয় হলো, গত এপ্রিলে ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার শুনানিতে খোদ সরকারি আইনজীবীই স্বীকার করেছিলেন যে, এই বার্থ ট্যুরিজম সমস্যাটি আসলে কতটা ব্যাপক, তা নিশ্চিতভাবে কারও জানা নেই। অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন থিংকট্যাংক ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’-এর দেওয়া তথ্যমতে, ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা নারীদের মাধ্যমে বছরে ২০ থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জন্মগ্রহণকারী মোট শিশুর ১ শতাংশেরও কম। পরিসংখ্যানগত দিক থেকে হার এত কম হওয়া সত্ত্বেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের যুক্তিতে বার্থ ট্যুরিজমকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন হাউস স্পিকার মাইক জনসনও দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সুযোগের চরম অপব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেকেই শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক সুবিধাগুলো ভোগ করতে চাইছেন। মূলত মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, অবৈধ অভিবাসী বা ট্যুরিস্ট ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মতো অস্থায়ী ভিসায় থাকা নাগরিকদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ বিচারিক আওতাধীন নয়, তাই তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হতে পারে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দেন। সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা খাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন স্থায়ী আইনি মর্যাদাহীন বাবা-মায়ের সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়ে নতুন আইন পাসের জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিতর্কিত এই বিলটি পাস করাতে হলে তাকে ৬০ ভোটের ‘ফিলিবাস্টার’ বাধা অতিক্রম করতে হবে, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কার্যত প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের এবং বিশেষ করে রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রায়ের ব্যাপারে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, একজন অবৈধ অভিবাসী বা ছুটিতে এসে সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো পর্যটকের পুরো পরিবার এভাবে রাতারাতি মার্কিন নাগরিকত্বের সুবিধা পেয়ে যাবে, তা কখনোই সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের টানা প্রায় পাঁচ মাসব্যাপী তেল অবরোধের কারণে যখন কিউবার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভেঙে পড়ছে, তখন দেশটির সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির জনগণের বড় একটি অংশ আশা করছে, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ হয়তো তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করবে অথবা অন্ততপক্ষে আগামী ১৯ জুলাই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত সাময়িক স্বস্তি দেবে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাবের মুখে কিউবানরা এখন বিশ্বকাপকে তাদের এক ধরনের সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিযুক্ত কিউবার সাবেক রাষ্ট্রদূত কার্লোস আলজুগারে এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, “বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই মুহূর্তে কিউবায় কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের খুবই কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে যেকোনো মার্কিন হামলার জবাবে কিউবা ড্রোন বা অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে দক্ষিণ ফ্লোরিডার বহু লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। যা এই বিশ্বমঞ্চের আয়োজনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এবারের বিশ্বকাপের স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল ম্যাচসহ মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খেলা কিউবার উত্তর উপকূল থেকে মাত্র ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত মার্কিন শহর মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডসহ মোট আটটি দেশের ফুটবল দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও এই ফ্লোরিডাতেই অবস্থিত। আগামী ১৫ জুন মিয়ামিতে উরুগুয়ে বনাম সৌদি আরবের মধ্যকার প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, যা দেখতে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফুটবল অনুরাগী ইতিমধ্যেই ওই শহরে জড়ো হতে শুরু করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর নজর যেখানে এই অঞ্চলের দিকে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই ধারণা করছেন কূটনৈতিক মহল। তবে কিউবার ওপর মার্কিন চাপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা নথির বরাতে জানা গেছে, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার রাশিয়া ও ইরান থেকে প্রায় ৩০০টি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোনের পাল্লা ১,৫০০ মাইল পর্যন্ত। এই রিপোর্টের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গুয়ান্তানামো বে সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনকালে কিউবাকে সতর্ক করে বলেছেন যে, আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে এমন অস্ত্র সংগ্রহ করা কিউবা সরকারের জন্য মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এর জবাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন সামরিক হামলার পরিণতি হবে এক ‘ভয়াবহ রক্তগঙ্গা’। বর্তমানে কিউবার ভেতরের পরিস্থিতি তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে, যার ফলে রাজধানী হাভানায় বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। এই জনঅসন্তোষের মাঝেই মার্কিন নজরদারি বিমান দ্বীপটির ওপর চক্কর কাটছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী ইউএসএস নিমিটজ কিউবার পশ্চিম উপকূলে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের মাঝে হাভানার একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা কার্লোস বুস্তামান্তে অবশ্য কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, “বিশ্বকাপের সময়েই কিউবায় আক্রমণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপযুক্ত সময়। কারণ এই বিশ্ব কিউবার চেয়ে ফুটবলকে অনেক বেশি ভালোবাসে এবং পরোয়া করে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।