সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্বের সুযোগ ঠেকাতে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রাখার একদিন পরই তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' ঠেকাতে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, পর্যটক, দর্শনার্থী বা অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার এই প্রবণতা রোধে এখন থেকে কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরালোভাবে কাজ করবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং এফবিআইকে ভিসা প্রক্রিয়ার অপব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। টড ব্লাঞ্চ জোর দিয়ে বলেন, যারা ভ্রমণের কথা বলে এসে শুধু মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দেয়, তাদের সেই সুযোগ সীমিত করতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা জরুরি।
বিচার বিভাগের জালিয়াতি দমন শাখার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ডও এক দাপ্তরিক নির্দেশনায় বার্থ ট্যুরিজম সংক্রান্ত জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতারণামূলক অপব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় এনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের পবিত্রতা রক্ষা করবে বিচার বিভাগ।
তবে অবাক করা বিষয় হলো, গত এপ্রিলে ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার শুনানিতে খোদ সরকারি আইনজীবীই স্বীকার করেছিলেন যে, এই বার্থ ট্যুরিজম সমস্যাটি আসলে কতটা ব্যাপক, তা নিশ্চিতভাবে কারও জানা নেই। অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন থিংকট্যাংক ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’-এর দেওয়া তথ্যমতে, ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা নারীদের মাধ্যমে বছরে ২০ থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জন্মগ্রহণকারী মোট শিশুর ১ শতাংশেরও কম।
পরিসংখ্যানগত দিক থেকে হার এত কম হওয়া সত্ত্বেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের যুক্তিতে বার্থ ট্যুরিজমকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন হাউস স্পিকার মাইক জনসনও দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সুযোগের চরম অপব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেকেই শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক সুবিধাগুলো ভোগ করতে চাইছেন।
মূলত মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, অবৈধ অভিবাসী বা ট্যুরিস্ট ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মতো অস্থায়ী ভিসায় থাকা নাগরিকদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ বিচারিক আওতাধীন নয়, তাই তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হতে পারে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দেন।
সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা খাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন স্থায়ী আইনি মর্যাদাহীন বাবা-মায়ের সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়ে নতুন আইন পাসের জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিতর্কিত এই বিলটি পাস করাতে হলে তাকে ৬০ ভোটের ‘ফিলিবাস্টার’ বাধা অতিক্রম করতে হবে, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কার্যত প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের এবং বিশেষ করে রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রায়ের ব্যাপারে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, একজন অবৈধ অভিবাসী বা ছুটিতে এসে সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো পর্যটকের পুরো পরিবার এভাবে রাতারাতি মার্কিন নাগরিকত্বের সুবিধা পেয়ে যাবে, তা কখনোই সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র গরম ও উচ্চ আর্দ্রতা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার সতর্কতা অনুযায়ী, প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এই তাপপ্রবাহের প্রভাবে রয়েছেন। কিছু এলাকায় প্রকৃত তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে, আর আর্দ্রতা যোগ হয়ে শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। আবহাওয়াবিদরা ‘হিট ডোম’ বা তাপ-গম্বুজ পরিস্থিতির কথা বলছেন। এতে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অঞ্চলের ওপর অবস্থান করে এবং নিচের স্তরে গরম ও আর্দ্র বাতাস আটকে রাখে। ফলে দিনের তাপমাত্রা যেমন বাড়ে, তেমনি রাতেও পর্যাপ্ত ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ থাকে না। বিশেষ করে সেন্ট্রাল প্লেইনস, সাউদার্ন প্লেইনস, লোয়ার মিসিসিপি ভ্যালি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার একাধিক অঙ্গরাজ্যে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি বা তার ওপরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে তাপের চাপ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। রাতেও মিলছে না স্বস্তি এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো রাতের তাপমাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকা। কিছু শহরে রাতের তাপমাত্রা প্রায় ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত থাকতে পারে। ফলে দিনের প্রচণ্ড গরমের পর শরীর রাতে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ কম পাচ্ছে। এতে দীর্ঘসময় ধরে তাপের সংস্পর্শে থাকা মানুষের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় তীব্র গরম স্কুলগুলোর জন্যও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কোথাও শিক্ষার্থীদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় অতিরিক্ত গরমের কারণে ফুটবল দলের অনুশীলনী ম্যাচ বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে। বাইরে কাজ করা শ্রমিক, নির্মাণকর্মী, কৃষিশ্রমিক এবং দীর্ঘসময় রোদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।গরমের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। আগস্টের শেষভাগেও গরমের আশঙ্কাতা পপ্রবাহটি খুব দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনাও কম। জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে। সেন্ট্রাল ও সাউদার্ন গ্রেট প্লেইনস, মিসিসিপি ভ্যালি ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সমন্বিত অনুভূতি ১০৫ থেকে ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হতে পারে। চলতি তাপপ্রবাহের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ ২০২৬ সালের জুলাই ছিল সংলগ্ন ৪৮ অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ মাস। এনওএএ-এর হিসাবে জুলাইয়ে গড় তাপমাত্রা ছিল ৭৬ দশমিক ৮৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা ১৮৯৫ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ১৯৩৬ সালের জুলাইয়ের। এনওএএ জানিয়েছে, জুলাইয়ে সংলগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা ছিল। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকা বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়, কারণ এতে মানুষ ও অবকাঠামো উভয়ের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে তাপের চাপ তৈরি হয়। সার্বিকভাবে, আগস্টের এই তাপপ্রবাহ শুধু অস্বস্তিকর গরম নয়—এটি জনস্বাস্থ্য, স্কুল, কর্মক্ষেত্র, বিদ্যুৎ ব্যবহার ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ উপসাগরীয় মিত্ররা, মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে খুঁজছে বিকল্প নিরাপত্তা বলয়
সৌদির অর্থ, তুরস্কের প্রযুক্তি আর পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি, নতুন সমীকরণে উদ্বেগ ভারতের
২০২৮-এর লড়াইয়ে তরুণ ডেমোক্র্যাটদের প্রথম পছন্দ কমলা হ্যারিস, পেছনে মিশেল ওবামা
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের সাবেক সেনাসদস্য জেমস ব্র্যাডফোর্ডকে ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স বা ভিএর কেয়ারগিভার সুবিধা থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি ফেডারেল জুরি। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী ব্র্যাডফোর্ড জাংশন সিটির বাসিন্দা। তাকে সরকারের সঙ্গে প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং সরকারি অর্থ, সম্পদ বা নথি চুরির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত ব্র্যাডফোর্ড ও তার কেয়ারগিভার ভিএর প্রোগ্রাম অব কমপ্রিহেনসিভ অ্যাসিস্ট্যান্স ফর ফ্যামিলি কেয়ারগিভার্স কর্মসূচির আওতায় তার প্রয়োজনীয় সেবার মাত্রা নিয়ে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক তথ্য দেন। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ভেটেরান ও সাবেক সেনাসদস্যদের দেখাশোনা করা ব্যক্তিদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ব্র্যাডফোর্ড ও তার কেয়ারগিভার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের দৈনন্দিন মৌলিক কিছু কাজ নিজে করতে সক্ষম নন। এর মধ্যে ওষুধ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক বিষয় গোছানো এবং যাতায়াতের মতো কাজও ছিল। এসব কাজে তার কেয়ারগিভারের সহায়তা প্রয়োজন বলে তারা দাবি করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাস থেকে প্রায় ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব্র্যাডফোর্ড টোপেকায় জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিএসএ-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বহু মিলিয়ন ডলারের চুক্তি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তার এই চাকরি এবং কেয়ারগিভার সুবিধা পাওয়ার জন্য দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মামলাটি তদন্ত করেছে ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্সের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়। মার্কিন বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি সারা ওয়ালটন ও লিন্ডসি ডেবেনহাম মামলাটি পরিচালনা করছেন। ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্সের তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেগরি বিলিংসলি বলেন, ভেটেরানদের জন্য নির্ধারিত সুবিধা যাতে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক লাভের জন্য ব্যবহার না করা হয়, তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার। জিএসএর মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা জর্জ রিচার্ডসনও বলেন, ভেটেরানদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি কর্মসূচিতে প্রতারণা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে। ব্র্যাডফোর্ডের সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে খাবারের মান নিয়ে নতুন অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নৌবাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থা
ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অনুমোদনে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাঙ্কাস্টারে একটি বাড়িতে চারজনকে হত্যার পর আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২১ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়েগো স্যান্ডোভাল চারটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২১ বছর বয়সী জানভি মাকুইনদাং, ২৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিন আকা-আক, ২৪ বছর বয়সী এডউইন গার্সিয়া এবং ২১ বছর বয়সী ম্যাথিউ মন্টেবেলো। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, স্যান্ডোভাল নর্থ ট্যাবলার অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ভেতরের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে পড়ার পর তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং চারজনকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন স্যান্ডোভাল। আগুনে পরিবারের তিনটি কুকুরও মারা যায়। একই সময়ে বাড়ির ভেতরে থাকা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আটকা পড়ে। তাদের একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে জরুরি নম্বরে ফোন করলে পরে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফের ডেপুটিরা তাকে উদ্ধার করেন। চারটি হত্যার পাশাপাশি স্যান্ডোভাল একটি হত্যাচেষ্টা, বসতবাড়িতে প্রথম-ডিগ্রির চুরি, বসবাসরত স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার তিনটি অভিযোগ এবং শিশু নির্যাতনের দুটি অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন। হত্যার অভিযোগগুলোর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার বিশেষ পরিস্থিতি এবং ওত পেতে থেকে হত্যার অভিযোগও যুক্ত রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে মামলাটি আরও গুরুতর মাত্রা পেয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি নাথান জে. হকম্যান বলেন, সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধ নিতে স্যান্ডোভাল এই ‘পরিকল্পিত সহিংসতা’ চালিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ড নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। দোষ স্বীকারের ফলে স্যান্ডোভালের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পথে রয়েছে। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ নভেম্বর তাঁর আনুষ্ঠানিক সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা। মামলার নথি ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে স্যান্ডোভালের গতিবিধি এবং তদন্তকারীরা কীভাবে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন, তার সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ২০২৪ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের হোমিসাইড ব্যুরো, জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে। দোষ স্বীকারের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সাজা ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে চাকরি ছাড়তে পারছেন না ২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে ছবি তুলতে গিয়ে ১৭৭ ফুট উঁচু ঝরনা থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু