- প্রচ্ছদ
- Topic
ব্রঙ্কস
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে প্রকাশ্য দিবালোকে হোসে মার্সেডিজ নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম করেছে ছিনতাইকারীরা। শুক্রবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে নরউড এলাকার রোচ্যাম্বো অ্যাভিনিউ এবং ইস্ট ২০৮ স্ট্রিটে এই ঘটনা ঘটে। মার্সেডিজ যখন তার গাড়ির ডিকি থেকে জিনিসপত্র বের করছিলেন, তখন ই-বাইকে করে আসা দুই ছিনতাইকারী তার গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তারা ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে সাতবার ছুরিকাঘাত করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ফুটপাতে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্মম হামলার সাথে জড়িত দুই অভিযুক্তই ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ২৫ বছর বয়সী ডি'অ্যাঞ্জেলো ক্যারাবালোকে হামলাকারী এবং ২৪ বছর বয়সী স্নাইডার মেজিয়াকে ই-বাইক চালক হিসেবে শনাক্ত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, মেজিয়া ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং ক্যারাবালো ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল। বর্ডার পেট্রোল তাদের আটক করলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়। এমনকি অতীতে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং হত্যার হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইসিই (ICE)-এর নির্দেশিকা উপেক্ষা করে তাদের জামিনে মুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিনক্টে কর্মরত এই কর্মকর্তাকে জ্যাকোবি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। গত সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি উপস্থিত সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে থাম্বস আপ দেখিয়ে তার সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ। এদিকে, অপরাধীদের বারবার ছেড়ে দেওয়ার নিয়মে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত পুলিশ কর্মকর্তার চাচা রিকার্ডো মার্সেডিজ। তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধীদের ধরে ঠিকই, কিন্তু বিচার ব্যবস্থা তাদের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় আচরণ করে পুনরায় রাস্তায় ছেড়ে দিচ্ছে। বিচার ব্যবস্থার এই দুর্বলতার দ্রুত অবসান এবং অপরাধীদের প্রতি আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে প্রস্তাবিত নতুন পার্কচেস্টার/ভ্যান নেস্ট মেট্রো-নর্থ স্টেশনের কাছে অবস্থিত ৭ দশমিক ৪ একরের একটি বিশাল আবাসন ও বাণিজ্যিক সাইট বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হচ্ছে। 'হিমেল + মেরিঙ্গফ (এইচ+এম)' এবং তাদের যৌথ উদ্যোগের অংশীদার 'অ্যাফিনিউস ক্যাপিটাল' ১৬০১ ব্রঙ্কসডেল অ্যাভিনিউয়ের এই আকর্ষণীয় প্রজেক্টটি বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিউইয়র্ক শহরের সবচেয়ে বড় ও সম্পূর্ণ অনুমোদিত এই আবাসন উন্নয়ন সাইটটি ব্রঙ্কসের আবাসন খাতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৯ সালে প্রায় ৮৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই জায়গাটি কিনেছিল এইচ+এম। ইতিমধ্যে সেখানে ২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন বর্গফুটের ছয়টি ভবন নির্মাণের জন্য শহরের প্রয়োজনীয় সব অনুমোদনও পেয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে থাকছে ২৩০০টি পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্ট, পাবলিক প্লাজা, খুচরা বিক্রি বা রিটেইল ও কমিউনিটি স্পেস এবং ৬৪০টি পার্কিং স্পেস। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, প্রস্তাবিত নতুন মেট্রো-নর্থ স্টেশনের সঙ্গে এর সরাসরি হাঁটার পথ সংযুক্ত থাকবে, যা মূলত ব্রঙ্কসে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে রাজ্য ও শহরের বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অংশ। বর্তমানে এই জায়গায় একটি ৩ লাখ ৫৪ হাজার বর্গফুটের শিল্প ভবনসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে, যা থেকে মালিকপক্ষের নিয়মিত নগদ আয় (ক্যাশ ফ্লো) আসছে। প্রপার্টিটি বাজারজাত করার জন্য সিইও বব ন্যাকালের নেতৃত্বাধীন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান 'বিকেআরইএ'-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মালিকপক্ষ জায়গাটি বিক্রি করে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করছেন। সিইও বব ন্যাকালের মতে, এই প্রপার্টিটি নিউইয়র্ক শহরের রিয়েল এস্টেট বাজারের একটি অনন্য উদাহরণ; যেখানে একই সঙ্গে বর্তমানের বাণিজ্যিক আয়, সুবিশাল জমি, ভবিষ্যৎ ট্রানজিট সংযোগ এবং হাজার হাজার বাড়ি তৈরির অবারিত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।
দুই এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১১ মাসের এক শিশুকে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার পর তাদের ধন্যবাদ জানাতে মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটের স্টেশনে হাজির হয় শিশুটি। শুক্রবারের ওই সাক্ষাতে পরিবার ও দুই কর্মকর্তার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউজ ১২ ব্রঙ্কসের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৬ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৬৮তম স্ট্রিট ও গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার কাছে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা জুলিও আরিয়াস ও ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া। তারা একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী তাদের থামিয়ে দেন। তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় থাকা ২১ বছর বয়সী জ্যানিবেল মন্টানোর দিকে ইঙ্গিত করেন। তার কোলে তখন অচেতন অবস্থায় ছিল ১১ মাসের ছেলে জাইহলার মন্টানো। পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত শিশুটিকে কোলে তুলে নেন আরিয়াস। শিশুটিকে উপুড় করে ধরে তার পিঠে একের পর এক চাপড় দিতে থাকেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তখন ডাইনোসরের পোশাক পরা ছিল এবং তার এক পায়ে ডোরাকাটা মোজা ছিল। কয়েকবার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর হঠাৎ শিশুটি কেঁদে ওঠে। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পান আরিয়াস। ভিডিওতে তাকে শিশুটিকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, সে ঠিক আছে কি না। পরে সাংবাদিকদের কাছে আরিয়াস বলেন, শিশুটির কান্না শোনার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে সে ঠিক আছে। তার সঙ্গী আব্রেউ-গার্সিয়া এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রেডিওতে যোগাযোগ করছিলেন। আব্রেউ-গার্সিয়া বলেন, শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তার মনে হয় যেন তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। পুরো ঘটনাটিতে দ্রুত সমন্বয় করে একজন কর্মকর্তা শিশুটিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার দিকে মন দেন, আর অন্যজন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার ৪৪তম প্রিসিন্কটে গিয়ে জ্যানিবেল মন্টানো দুই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জ্যানিবেল বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং একই সঙ্গে তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এমন পরিস্থিতিতে দুই কর্মকর্তাকে কীভাবে যথেষ্ট ধন্যবাদ জানাবেন, তা তিনি জানেন না বলেও জানান। আরিয়াস বলেন, শিশুটিকে বাঁচানোর সময় তার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর শিশুটি কিছু বের করে দেয়, যার সামান্য অংশ তার জুতায়ও লাগে। তবে তখন এসবের দিকে তার কোনো মনোযোগ ছিল না। শিশুটি ঠিক আছে কি না, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে তিনি শিশুটিকে এত জোরে পিঠে চাপড় দিতে হয়েছে বলে দুঃখও প্রকাশ করেন। দুই সন্তানের বাবা আরিয়াস জানান, পুলিশি প্রশিক্ষণ তাকে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করেছে। নিজের দুই মাস বয়সী সন্তান থাকার বিষয়টিও ওই মুহূর্তে তাকে পরিস্থিতিটি আরও দ্রুত বুঝতে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন। জুলিও আরিয়াস ২০২২ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিন্কটের আওতায় ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম, গ্র্যান্ড কনকোর্স ও হাইব্রিজ এলাকার বড় একটি অংশ রয়েছে। ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া ২০২১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং তিনিও একই প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনার পর ধারণ করা শরীরে পরা ক্যামেরার ভিডিও এবং পরিবারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের পরবর্তী সাক্ষাতের ছবি ঘটনাটিকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। শুক্রবারের সাক্ষাতে ছোট্ট জাইহলারকে কোলে নিয়ে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন সেই উদ্ধার অভিযানের একটি মানবিক পরিণতি হয়ে ওঠে। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে স্কুল এইড পদে নতুন নিয়োগ চলছে, আর কিছু পদের জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন স্কুল এইড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। সিএসবি নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি স্কুল এইড পদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসেবে ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। স্কুল এইডদের কাজ মূলত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে সহায়তা করা। এর মধ্যে হলওয়ে, স্টাডি হল, লাঞ্চরুম ও স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের তদারকি, স্কুলে আসা ও ছুটির সময় সহায়তা, স্কুলবাসে আসা শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং লাঞ্চ পরিবেশনে সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইনভেন্টরি সংরক্ষণ এবং কিছু সাধারণ দাপ্তরিক কাজও করতে হতে পারে। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ভালো রেকর্ড থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ১০ পাউন্ড ওজনের জিনিস তোলার সামর্থ্যও প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্কুলে দ্বিভাষিক প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হতে পারে। কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট কালেকটিভ বার্গেনিং এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী। তবে পদগুলো চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকলেও পদ পূরণ হয়ে গেলে আবেদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় আছে কি না যাচাই করা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের বর্তমান চাকরির তালিকাতেও ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক স্কুল এইড পদ দেখা যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। একই তালিকায় স্কুল এইডকে আলাদা চাকরির ক্যাটাগরি হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি স্কুলভেদে যাচাই করা। ডিপ্লোমা বা জিইডি না থাকলেও কোনো কোনো স্কুল এইড পদে আবেদন করা সম্ভব হলেও, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত একই নয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সর্বশেষ অফিসিয়াল পোস্টিং দেখে যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা, আবেদন পদ্ধতি এবং পদটি এখনও খালি আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার নামে এনএডি+ শিরায় দেওয়ার পর ২৭ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে নগরীর প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়। এ ঘটনায় চিকিৎসা দেওয়ার বৈধ লাইসেন্স না থাকা লুইস রোহাস ক্যাবরেরার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ আরও গুরুতর করা হয়েছে। নিহত নারীর নাম এলিজাবেথ ব্যারন। গত ১৯ জুলাই ব্রঙ্কসের রিভারডেল এলাকায় রিভারডেল অ্যাভিনিউয়ের বেরেশিত লাইফস্টাইল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে যান তিনি। সেখানে ৫৫ বছর বয়সী ক্যাবরেরা তার হাতে শিরায় এনএডি+ নামের একটি পদার্থ দেওয়ার পরপরই ব্যারন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পরে তাকে নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান অ্যালেন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ক্যাবরেরা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন। তিনি তদন্তকারীদের কাছে বলেছেন, ডোমিনিকান রিপাবলিকে তিনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন এবং পুয়ের্তো রিকোতে তার চিকিৎসা সহকারী হিসেবে একটি লাইসেন্স রয়েছে। তবে নিউইয়র্কে চিকিৎসা দেওয়ার বৈধ অনুমতি তার ছিল না। প্রাথমিকভাবে ক্যাবরেরার বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং অনুমোদন ছাড়া পেশা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ব্যারনের ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশের পর তার মৃত্যুকে ‘হত্যাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। নিউইয়র্কের প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ের মতে, ব্যারনের মৃত্যুর কারণ ছিল হৃদ্যন্ত্রে বায়ু জমে সৃষ্ট এয়ার এমবোলিজম। তদন্তকারীদের মতে, শিরায় থাকা ক্যাথেটারের মাধ্যমে বাতাস প্রবেশের ঘটনাই এ মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ‘হত্যাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেই ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হত্যা প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। ক্যাবরেরার আইনজীবী ডোনাল্ড এইচ. ভোগেলম্যান বলেছেন, চিকিৎসা পরীক্ষকের ব্যবহৃত ‘হোমিসাইড’ শব্দটি সব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত হত্যাকে বোঝায় না এবং তার দাবি, ঘটনাটি দুর্ঘটনাও হতে পারে। তিনি আদালতে তার মক্কেলকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণের কথা জানিয়েছেন। এনএডি+ বা নিকোটিনামাইড অ্যাডেনিন ডাইনিউক্লিওটাইড হলো শরীরে স্বাভাবিকভাবে থাকা একটি কো-এনজাইম। শক্তি, বিপাক ও বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন কমানোর মতো নানা সম্ভাব্য উপকারের কথা বলে ওয়েলনেস খাতে এর ব্যবহার বেড়েছে। তবে এ ধরনের অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা এখনও সীমিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনএডি+ চিকিৎসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তারকাদের প্রচারণার কারণেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মডেল কেন্ডাল জেনার ও হেইলি বিবারসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি অতীতে এ ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তবে কোনো তারকার ব্যবহার কোনো চিকিৎসার নিরাপত্তা বা কার্যকারিতার নিশ্চয়তা দেয় না। ক্যাবরেরা এর আগে থেকেই আইনগত জটিলতায় ছিলেন। ২০২৫ সালে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে তার বিরুদ্ধে চিকিৎসাসামগ্রী বহনের ঘটনায় গ্রেপ্তারের তথ্যও সামনে এসেছে। তবে ব্যারনের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাটিই বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চলমান প্রধান তদন্তের বিষয়। ব্যারনের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে ক্যাবরেরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে জামিন ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়। আদালত তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ব্রঙ্কস জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ক্যাবরেরার কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউজ ১২ ব্রঙ্কস, গথামিস্ট
নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকার ওয়েস্ট ফার্মসে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন বা 'অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং' প্রকল্পের অধীনে লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক ওয়াইআইএমবিওয়াই (YIMBY) ও এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'লংফেলো মারমিয়ন অ্যাপার্টমেন্টস' নামের এই প্রকল্পে মোট ১৪টি এক ও দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ১৯০০ লংফেলো অ্যাভিনিউ ও ১৯৬৮ মারমিয়ন অ্যাভিনিউয়ের দুটি পাঁচতলা ভবনে অবস্থিত এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মাসিক ভাড়া পরিবারগুলোর আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, যা সর্বনিম্ন ১ হাজার ৩৬৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রকল্পটিতে সাধারণ ভাড়ার পাশাপাশি বেশ কিছু বিশেষ ভাড়ার সুবিধাও রয়েছে। এখানে ১ হাজার ৩৬৯ ডলার ভাড়ায় এক বেডরুমের তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার জন্য আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৫১ হাজার ২৫৮ থেকে ৭৬ হাজার ৩৫০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। অন্যদিকে, ২ হাজার ৮ ডলার ভাড়ায় দুই বেডরুমের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলার। এর বাইরেও এক বেডরুমের চারটি অ্যাপার্টমেন্ট ১ হাজার ৬৮৭ ডলারে এবং দুই বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ১ হাজার ৬২৭ ডলারে পাওয়া যাবে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এক ও তিন বেডরুমের মোট চারটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্ধারিত হবে আবেদনকারী পরিবারের মোট আয়ের মাত্র ৩০ শতাংশের সমপরিমাণ। এই বিশেষ ইউনিটগুলোতে কোনো আয় না থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে হাউজিং কর্তৃপক্ষের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করতে আবাসিক তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারিনটেনডেন্ট, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী আধুনিক যন্ত্রপাতি, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ক্যামেরা, ইন্টারকম ও যৌথ লন্ড্রির মতো চমৎকার সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে ভাড়াটিয়াদের নিজেদের ব্যবহারের বিদ্যুৎ ও চুলার বিল আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটির 'এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট'-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রকল্পের নাম খুঁজে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার বা ডাকযোগে পাঠানোর শেষ সময় আগামী ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে একটি ভালো অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়া অনেকের জন্যই রীতিমতো স্বপ্নের মতো। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট। সম্প্রতি এই কর্তৃপক্ষের অধীনে শত শত অ্যাপার্টমেন্ট মাত্র ১৫০০ ডলারের চেয়েও কম ভাড়ায় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুলভ মূল্যের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলো নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কস এলাকায় অবস্থিত। আবেদনকারীদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে স্টুডিও, এক বেডরুম এবং দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই আবাসন প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প হলো স্টারহিল ফেজ টু। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৩০ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ ডলারের মধ্যে, তারা এখানে ভাড়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে বাসিন্দাদের জন্য খোলা জায়গা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সরঞ্জাম, লিফট এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগসহ আরও নানা ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আরেকটি আকর্ষণীয় প্রকল্প হচ্ছে ব্লন্ডেল কমনস। এখানকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য আবেদন করতে হলে বার্ষিক আয় হতে হবে ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। যারা নিজেদের সাথে পোষা প্রাণী রাখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি জায়গা। এছাড়া এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, শরীর চর্চার জন্য ব্যায়ামাগার বা জিম এবং শিশুদের জন্য আলাদা খেলার ঘর রয়েছে। যাদের আয় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি, তাদের জন্য রয়েছে সোলেস নামের অপর একটি আবাসিক প্রকল্প। ৩৮ হাজার ৯৪৯ থেকে শুরু করে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার বার্ষিক আয়সম্পন্ন ব্যক্তিরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। সাধ্যের মধ্যে থাকা এই আবাসন ব্যবস্থায় একটি মিডিয়া রুম, জিম এবং ইয়োগা ও ড্যান্স স্টুডিও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এছাড়া কলাম্বিয়া কমনস ওয়ান নামের আরও একটি আবাসন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে বার্ষিক ৩০ হাজার ৪৪৬ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার আয়ের মানুষেরা ভাড়ার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত এবং ব্যয়বহুল শহরে এমন উদ্যোগ অনেক সাধারণ মানুষের জন্যই স্বস্তির খবর। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই আবাসন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং অনলাইনেই ভাড়ার জন্য আবেদন করা যাবে। সংবাদসূত্র: পিক্স১১ ও নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট।
গত বুধবার নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শনিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে তৃতীয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার ডিপার্টমেন্ট অব নিউইয়র্ক (এফডিএনওয়াই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ৩৭৪ ইস্ট ২০৯ নম্বর স্ট্রিটের ওই ভবনের দোতলায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়, যা মুহূর্তেই ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে সবকিছু ভস্মীভূত করে দেয়। অগ্নিকাণ্ডের দিনই ভবনের দোতলার ঠিক ওপরের তলায় বসবাসরত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এরপর থেকেই ওই ব্যক্তির স্ত্রী, ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা নিখোঁজ ছিলেন বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেন ব্রঙ্কসের বোরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসন। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় ভবনটির ভেতর থেকে দ্বিতীয় এবং শনিবার বিকেলে তৃতীয় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে পরে উদ্ধার হওয়া এই দুই মৃতদেহের পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন ভবনের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। নিখোঁজ ওই বৃদ্ধার প্রতিবেশী এলিসি ফ্যালকন নামের এক নারী জানান, তাকে ফোনে না পেয়ে সবাই চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে রেড ক্রসের পক্ষ থেকে গৃহহীন বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হলেও, নিজের দুটি সার্ভিস অ্যানিমেলকে (পোষা প্রাণী) ছেড়ে যেতে রাজি না হওয়ায় ফ্যালকন বর্তমানে বাধ্য হয়ে নিজের গাড়িতেই বসবাস করছেন। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকেও তিনটি কুকুরকে ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন দমকলকর্মীরা। ঠিক কী কারণে এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি শহর কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো পুরোপুরি ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তদন্ত করার মতো নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়ায়, আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজন সাধারণ বাসিন্দা এবং চারজন দমকলকর্মী রয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় জানালার ফ্রেম ছিটকে রাস্তার ওপারে গিয়ে পড়ে এবং ভবনের ভেতরের একাধিক দরজা কবজা থেকে খুলে যায় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে ব্রঙ্কসের ইস্ট ২০৯তম স্ট্রিটের ৩৭৪ নম্বর ভবনে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছালেও ততক্ষণে ভবনের একাধিক জানালা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখা যায়। ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে দমকলকর্মীরা অত্যন্ত তীব্র অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হন। এফডিএনওয়াইয়ের চিফ অব ডিপার্টমেন্ট জন এসপোসিতো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিস্ফোরণের শক্তিতে জানালার ফ্রেম ছিটকে রাস্তার অপর পাশে চলে যায় এবং দ্বিতীয় তলায় পৌঁছে দমকলকর্মীরা দেখতে পান, কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টের দরজা পর্যন্ত কবজা থেকে খুলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভেতরে আটকে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। পরে আগুন ভবনের তিনটি তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তৃতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে দমকলকর্মীদের সাময়িকভাবে ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ৩০০-এর বেশি দমকল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মী অংশ নেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ঘটনাটিকে পঞ্চম স্তরের অগ্নিকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা নিউইয়র্কে সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম। এফডিএনওয়াই কমিশনার লিলিয়ান বন্সিনিওরে বলেন, ভবনের ভেতর থেকে একাধিক বাসিন্দাকে উদ্ধার করতে হয়েছে। দমকলকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। দমকলকর্মীরা যখন আগুনের মধ্যে আটকে পড়াদের উদ্ধার করছিলেন, তখন জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলেই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দিয়ে একাধিক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে নজরদারি অব্যাহত থাকবে যাতে আগুন আবার ছড়িয়ে না পড়ে। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। এফডিএনওয়াইয়ের অগ্নি তদন্তকারী দল ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে এক অটিস্টিক কিশোরকে দিনের পর দিন অনাহারে রেখে হত্যার এক ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী অ্যাডোনিস জার্ভিস নামের ওই কিশোরের মা ৩৬ বছর বয়সী জেনেভা জার্ভিস এবং ৬২ বছর বয়সী নানি ডেনিস জার্ভিসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাউথ ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৪৭ নম্বর স্ট্রিটের যে অ্যাপার্টমেন্টে এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার ধারণ করা ছবি ও ভিডিওতে চরম অবহেলা ও এক ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র উঠে এসেছে। জানা গেছে, ওই একই অ্যাপার্টমেন্টে চরম অপুষ্টির শিকার হয়ে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেছে অ্যাডোনিসের যমজ ভাই, তবে মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হয়েছে অ্যাডোনিসকে। নিউইয়র্ক পোস্টের হাতে আসা ছবিগুলোতে দেখা যায়, ওই নোংরা অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিটি ঘর আবর্জনা, খেলনা, ভাঙাচোরা বাক্স এবং নানা স্তূপীকৃত বস্তুতে ঠাসা। বাথরুমের দৃশ্য আরও ভয়াবহ; সেখানকার টাইলস ভাঙা ও অপরিষ্কার, আর বাথটাব থেকে শুরু করে কমোড পর্যন্ত প্লাস্টিকের খালি পাত্র, বালতি এবং ময়লা-আবর্জনায় কানায় কানায় ভরে আছে। বসার ঘরের মেঝেতে পোশাক ও খালি বাক্সের বিশাল স্তূপ জমে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে যে, তা জানালার একটি বড় অংশ ঢেকে ফেলেছে। এছাড়া শোবার ঘরে ময়লা ও পচনে বাদামি রঙ ধারণ করা একটি নোংরা তোশক এবং চারদিকে সুটকেস ও আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অবর্ণনীয় নোংরা পরিবেশের মধ্যেই পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ওই কিশোর। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৯ মার্চ জেনেভা তার ছেলে অ্যাডোনিস এবং তার যমজ ভাইকে লিংকন হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অ্যাডোনিসকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি তার এই মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যার সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার ওই কিশোরের মা ও নানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, নিউইয়র্ক সিটির শিশু অধিকার সুরক্ষা সংস্থা 'অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর চিলড্রেনস সার্ভিসেস' (এসিএস) জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী তারা নির্দিষ্ট কোনো মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারে না, তবে বেঁচে যাওয়া অপর শিশুটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, নিউইয়র্ক সিটির শিশুদের নিরাপত্তা ও মঙ্গল নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং বর্তমানে তারা এনওয়াইপিডির সাথে যৌথভাবে এই ঘটনার নিবিড় তদন্ত করছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালা থেকে এক শিশু নিচে পড়ে গেছে। মট হ্যাভেন সেকশনের বেকম্যান অ্যাভিনিউর কাছে ওক ট্যারেসে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ২ বছর বয়সী এক ছেলে শিশু পঞ্চম তলার জানালা দিয়ে একটি কোর্টইয়ার্ডে পড়ে যায়। একজন প্রতিবেশী জানান, গেটটি তালাবদ্ধ থাকায় ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এবং অন্য সবাই পেছনের অংশে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেন। একজন তরুণ ফায়ার ফাইটার ভবনের ভেতরে যান এবং অন্যদের প্রবেশাধিকার দিতে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এফডিএনওয়াই জানিয়েছে, শিশুটিকে সজাগ ও সচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাকে স্থিতিশীল অবস্থায় হারলেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে (পারসন অব ইন্টারেস্ট) হেফাজতে নিয়েছেন, তবে এই সময়ে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। সূত্র: সিবিএস নিউইয়র্ক
নিউইয়র্ক শহরের প্রতিটি বরোতে একটি করে সরকারি সুপারমার্কেট চালুর যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র মামদানি, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী বছর ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্টে শহরের প্রথম সরকারি মুদি দোকানটি চালু হতে যাচ্ছে বলে সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের বিশাল এই দোকানটি তৈরি হবে 'দ্য পেনিনসুলা' নামের একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে। জায়গাটি একসময় স্পফোর্ড জুভেনাইল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি বা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকালে আয়োজিত এক সমাবেশে মেয়র মামদানি বলেন, এই দোকান এবং সামগ্রিকভাবে দ্য পেনিনসুলা প্রকল্প মানুষের সামনে এই প্রমাণ তুলে ধরবে যে, সরকার চাইলেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সরকার যে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, এটি তারই বাস্তব প্রমাণ। নতুন এই সরকারি দোকানে ডিম ও সতেজ শাকসবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সাধারণ বাজারের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তবে এর বাইরের অন্যান্য পণ্যগুলো বাজারের সাধারণ দামেই কেনা যাবে। ব্রঙ্কসের এই এলাকাটিকে বেছে নেওয়ার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। মেয়রের তথ্যমতে, এলাকাটির মাত্র সিকি মাইলের মধ্যে কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারমার্কেট রয়েছে। অথচ এর খুব কাছেই অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র হান্টস পয়েন্ট কোঅপারেটিভ মার্কেট। সমাবেশে পয়েন্ট কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট মারিয়া তোরেস বলেন, আমরা জানি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই ধরনের পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলো আমাদের এলাকার পরিবারগুলোকে খাদ্যের উচ্চমূল্য থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প তৈরি করবে, যা এই এলাকায় গত কয়েক দশক ধরে ছিল না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতেই এমন সরকারি দোকান নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মামদানি। এর আগে তিনি ম্যানহাটনের ইস্ট হারলেমের লা মার্কেটা এলাকায় এমন একটি দোকান নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ব্রঙ্কসের দোকানটির মতো সেটি আগে থেকে থাকা কোনো ভবনে হচ্ছে না, বরং একদম শূন্য থেকে সেটি নির্মাণ করা হবে। ম্যানহাটনের ওই স্টোরটি ২০২৯ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে এই মুদি দোকানগুলোর জন্য ৭ কোটি ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন মেয়র মামদানি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে মেয়র কার্যালয়ের আলোচনা চলছে। তবে মেয়রের এই পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় মুদি দোকান ও বোদেগা বা ছোট দোকানগুলোর মালিকরা কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, সরকারি এই উদ্যোগ তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। এর জবাবে মামদানি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন এসব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে। তিনি বলেন, সরকারি দোকানগুলো চালুর পরও এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে। পুরো ব্যবসায়ী সমাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে টিকে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এদিকে ব্রুকলিন, কুইন্স এবং স্টেটেন আইল্যান্ডে এমন দোকান নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গার সন্ধান করছে নগর কর্তৃপক্ষ। এসব এলাকায় স্টোর নির্মাণের জন্য জমির মালিকদের কাছে প্রস্তাবও চাওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।