- প্রচ্ছদ
- Topic
বাংলাদেশিদের
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও কাজ করা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিট কাজের অনুমতি রয়েছে। কাজের ধরন ও ব্যক্তির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এসব পারমিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে স্টুডেন্ট ট্রেনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ বা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া যায়।যারা একাধিক প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে পার্টটাইম ওয়ার্ক পারমিট। নির্দিষ্ট সময়ের কাজ বা প্রকল্পের জন্য রয়েছে টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিট। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা গোল্ডেন ভিসাধারী বাংলাদেশিদের জন্যও আলাদা ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা রয়েছে।পরিবারের স্পন্সরশিপে রেসিডেন্স ভিসায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে কাজের অনুমতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর যারা ব্যক্তিগতভাবে পড়াতে চান, তাদের জন্য রয়েছে প্রাইভেট টিউশন ওয়ার্ক পারমিট—ব্যক্তিগতভাবে পড়ানোর অনুমতি। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে শিক্ষক ও অন্যান্য যোগ্য ব্যক্তিরা এই পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। অর্থাৎ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুধু সাধারণ চাকরিই নয়, ফ্রিল্যান্সিং, পার্টটাইম কাজ, শিক্ষার্থীদের কাজ, প্রাইভেট টিউশন এবং বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী কাজের জন্যও আইনি সুযোগ রয়েছে। তবে কোন পারমিটের জন্য আবেদন করা যাবে, তা নির্ভর করবে আবেদনকারীর ভিসার ধরন, কাজের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার ওপর। তাই কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করতে হবে।
নিউ ইয়র্কে নতুন জীবন শুরু করার পর অনেক প্রবাসীর জন্য ড্রাইভার লাইসেন্স নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তবে কোন ডকুমেন্ট লাগবে, কোথায় পরীক্ষা দিতে হবে, লার্নার পারমিটের পর কী করতে হবে এবং রোড টেস্টের প্রক্রিয়া কী, এসব নিয়ে নতুনদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভির আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করেই সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়া যায়। প্রথমেই ঠিক করতে হবে আপনি স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি নাকি এনহ্যান্সড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবেন। তিন ধরনের লাইসেন্সের ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তা এক নয়। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৬ বছর হতে হবে। ডিএমভিতে আবেদন করার সময় বয়স, পরিচয় এবং নিউ ইয়র্ক স্টেটে বসবাসের প্রমাণ দিতে হয়। কোন ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য এবং কোন ডকুমেন্টের কত পয়েন্ট রয়েছে, তা ডিএমভির নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ঠিক হয়। তাই সবার জন্য পাসপোর্ট, গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড এবং ঠিকানার দুটি প্রমাণ বাধ্যতামূলক, এমনভাবে বিষয়টি দেখা ঠিক নয়। আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও তিনি কোন ধরনের লাইসেন্স চাইছেন, তার ওপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নির্ভর করে। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের গ্রিন লাইট ল-এর কারণে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলেও যোগ্য নিউ ইয়র্ক বাসিন্দারা স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর কখনো ইস্যু হয়নি এমন আবেদনকারীকে এ বিষয়ে ডিএমভির নির্ধারিত হলফনামা দিতে হয়। পরিচয়, জন্মতারিখ ও নিউ ইয়র্কে বসবাসের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্টের সমন্বয়ও জমা দিতে হবে। এরপর আসে লার্নার পারমিট। সাধারণ ক্লাস ডি পারমিটের লিখিত পরীক্ষা বাংলাসহ ২০টি ভাষায় দেওয়া যায়। পরীক্ষায় মোট ২০টি মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন থাকে। পাস করতে কমপক্ষে ১৪টির সঠিক উত্তর দিতে হবে। একই সঙ্গে চারটি রোড সাইন প্রশ্নের মধ্যে অন্তত দুটির উত্তর সঠিক হতে হবে। অনলাইনে পুরো আবেদন ও পরীক্ষা শেষ করেই সব প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারী লার্নার পারমিট পেয়ে যাবেন, এমন ধারণাও সঠিক নয়। ডিএমভির বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিচয়, বয়স ও রেসিডেন্সির ডকুমেন্ট নিয়ে ডিএমভি অফিসে যেতে হয়। অনলাইনে আগে থেকে ডকুমেন্ট যাচাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনলাইন পারমিট টেস্টের সুযোগও নির্দিষ্ট যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সীমিত। ফলে আবেদন করার আগে নিজের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য তা ডিএমভির নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করা জরুরি। পারমিট পাওয়ার পর একা গাড়ি চালানো যাবে না। সাধারণভাবে পাশে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ি চালানোর বৈধ লাইসেন্সধারী একজন সুপারভাইজিং ড্রাইভার থাকতে হবে। নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় লার্নার পারমিটধারীদের গাড়ি চালানোর স্থান ও সময় নিয়েও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। রোড টেস্ট দেওয়ার আগে নতুন ড্রাইভারদের ডিএমভি অনুমোদিত পাঁচ ঘণ্টার প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তবে অনুমোদিত হাইস্কুল বা কলেজের ৪৮ ঘণ্টার ড্রাইভার এডুকেশন প্রোগ্রাম সম্পন্নকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। পাঁচ ঘণ্টার কোর্স অনলাইনেও করা যায়, কিন্তু এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ডিএমভির অনুমোদিত অনলাইন প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স করতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং বৈধ নিউ ইয়র্ক স্টেট ফটো লার্নার পারমিট থাকতে হবে। অনুমোদিত প্রোভাইডারের মাধ্যমে কোর্সটি করতে হয়। কোর্স শেষ হওয়ার তথ্য সাধারণত প্রোভাইডার ইলেকট্রনিকভাবে ডিএমভিকে জানিয়ে দেয়। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর। লার্নার পারমিট পাওয়ার পর রোড টেস্ট নির্ধারণের আগে কমপক্ষে ছয় মাস অপেক্ষা করতে হয়। জুনিয়র পারমিটধারীদের অন্তত ৫০ ঘণ্টা সুপারভাইজড ড্রাইভিং প্র্যাকটিস করতে হয়, যার মধ্যে কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা সূর্যাস্তের পর গাড়ি চালানোর অনুশীলন থাকতে হবে। রোড টেস্টের সময় অভিভাবকের স্বাক্ষর করা নির্ধারিত সার্টিফিকেশনও প্রয়োজন হয়। প্রি-লাইসেন্সিংয়ের শর্ত পূরণ হলে রোড টেস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়। ডিএমভির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, জিপ কোডের কাছাকাছি পরীক্ষাকেন্দ্রে সাধারণত প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্ট তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে গ্রীষ্মকাল ও স্কুল ছুটির মতো ব্যস্ত সময়ে অপেক্ষা ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে নিউ ইয়র্ক সিটিতে সবসময় তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই রোড টেস্ট পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রোড টেস্টের দিন পরীক্ষার উপযোগী বৈধ গাড়ি নিয়ে যেতে হবে। গাড়িটির বৈধ রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্স থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ইন্সপেকশন সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে। সঙ্গে থাকা ড্রাইভারেরও বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। পরীক্ষার সময় গাড়িতে পরীক্ষার্থী ও অনুমোদিত ব্যক্তিদের বিষয়ে ডিএমভির নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। রোড টেস্টের ফল একই দিন সন্ধ্যা ৬টার পর অনলাইনে পাওয়া যায়। পাস করলে অনলাইনে একটি ইন্টারিম লাইসেন্স পাওয়া যাবে। ফটো লার্নার পারমিটের সঙ্গে সেটি রেখে গাড়ি চালানো যায়। মূল ফটো ড্রাইভার লাইসেন্স সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে মেইলে পাঠানো হয়। প্রথম দুইবার রোড টেস্ট দেওয়ার সুযোগ প্রাথমিক ফি কাঠামোর মধ্যে থাকে। দুইবারই ফেল করলে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। আবার পরীক্ষা দেওয়ার আগে অন্তত ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হয়। নতুন প্রবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ড্রাইভার লাইসেন্সের নামে থার্ড পার্টি বা সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা। ড্রাইভিং স্কুল বা ডিএমভি অনুমোদিত কোর্স প্রোভাইডার প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কোর্স দিতে পারে, কিন্তু ড্রাইভার লাইসেন্স ইস্যু করে নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভি। তাই আবেদন শুরুর আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স নির্বাচন করা, ডিএমভির ডকুমেন্ট গাইড ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করা এবং এরপর পারমিট, প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স ও রোড টেস্টের ধাপ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। নিয়ম, ফি এবং গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্ট সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার সময় নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম নিয়ে অনেক রোগীকেই বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়। তবে একই ওষুধের জন্য একেক ফার্মেসিতে একেক রকম দাম দেখা যেতে পারে। ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও বা ইন্স্যুরেন্সে কোনো ওষুধের কভারেজ না থাকলেও কিছু বৈধ ডিসকাউন্ট ও সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সুযোগ রয়েছে। ওষুধের খরচ কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির রোগী সহায়তা কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার রোগীরা কিছু ব্র্যান্ড-নেম ওষুধ বিনামূল্যে বা কম দামে পেতে পারেন। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিডিমেডসের তথ্যভান্ডারে বিভিন্ন রোগ ও ওষুধের জন্য পেশেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম, কুপন এবং অন্যান্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। নিডিমেডসের বিনামূল্যের ড্রাগ ডিসকাউন্ট কার্ডও ব্যবহার করা যায়। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কার্ডটি ৬৫ হাজারের বেশি ফার্মেসিতে গ্রহণ করা হয় এবং নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশনে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি হেলথ ইন্স্যুরেন্স নয় এবং প্রতিটি ওষুধে একই হারে ছাড় পাওয়া যাবে না। দ্বিতীয় উপায় হলো বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ডিসকাউন্ট সেবা ব্যবহার করে ফার্মেসিভেদে দাম তুলনা করা। গুডআরএক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে ওষুধের নাম ও অবস্থান দিয়ে দাম দেখা যায় এবং বিনামূল্যের ডিসকাউন্ট কার্ড বা কুপনের মাধ্যমে কম দামে ওষুধ কেনার সুযোগ থাকতে পারে। গুডআরএক্স জানিয়েছে, তাদের ডিসকাউন্ট সেবা ৭০ হাজারের বেশি ফার্মেসির নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে নগদ দামে বড় ধরনের ছাড় পাওয়া যায়। তবে শুধু একটি ফার্মেসির দাম দেখে ওষুধ কেনা উচিত নয়। প্রেসক্রিপশন নেওয়ার আগে বা রিফিল করার সময় কাছাকাছি কয়েকটি ফার্মেসিতে নগদ দাম, ডিসকাউন্ট কার্ডের দাম এবং ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য দাম তুলনা করলে অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্য পাওয়া যেতে পারে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো সরকারি ও কমিউনিটি সহায়তা। মেডিকেইডে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যেই আউটপেশেন্ট প্রেসক্রিপশন ওষুধের কভারেজ রয়েছে, যদিও কভারেজের নিয়ম, ওষুধের তালিকা ও রোগীর নিজস্ব খরচ অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা হতে পারে। এ ছাড়া ৩৪০বি কর্মসূচির আওতায় যোগ্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল ও অন্যান্য সেফটি-নেট প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন ওষুধ কম দামে সংগ্রহ করতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি রোগী বা প্রতিটি ফার্মেসিতে একই দামে ওষুধ পাওয়া যাবে। ৩৪০বি সুবিধা নির্দিষ্ট যোগ্য প্রতিষ্ঠান ও তাদের ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। আরেকটি বিষয় হলো জেনেরিক ওষুধ। একই সক্রিয় উপাদানের জেনেরিক সংস্করণ পাওয়া যায় কি না, তা চিকিৎসকের কাছে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ৯০ দিনের সাপ্লাই নিলে খরচ কমে কি না, সেটিও জানতে পারেন। তবে নিজে থেকে কোনো প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্র্যান্ড বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়। ওষুধের দাম কমানোর ক্ষেত্রে আরও একটি বিকল্প হলো কম খরচের জেনেরিক ওষুধের অনলাইন ফার্মেসি। মার্ক কিউবানের কস্ট প্লাস ড্রাগসের মতো সেবাগুলো কিছু জেনেরিক ওষুধ তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করে। তবে কোন ওষুধ কত দামে পাওয়া যাবে, তা ওষুধ, ডোজ, সরবরাহ ও সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। শুরু করতে চাইলে প্রথমে নিজের প্রেসক্রিপশনের ওষুধের নাম লিখে নিডিমেডস বা গুডআরএক্সে দাম যাচাই করা যেতে পারে। এরপর কয়েকটি স্থানীয় ফার্মেসির দাম তুলনা করুন। চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এই ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ আছে কি না, ৯০ দিনের সাপ্লাই নেওয়া সম্ভব কি না এবং ওষুধ কোম্পানির পেশেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামে আপনি যোগ্য কি না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ওষুধ শুধু দাম বেশি হওয়ার কারণে বন্ধ করা বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়। ডিসকাউন্ট, পেশেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা সরকারি সহায়তার যোগ্যতা ব্যক্তির আয়, ইন্স্যুরেন্স, ওষুধ এবং অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ওষুধ পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে গেলে অনেক অভিবাসীর প্রথম প্রশ্ন থাকে, কোন শহরে থাকলে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে? চাকরি, বাসা, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, হালাল খাবার এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ এসব বিষয়ই নতুনদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নতুন বাংলাদেশিদের জন্য কোন শহর সবচেয়ে উপযোগী, তা নিয়ে প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রায় ৪৪ শতাংশই নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। এ ছাড়া নিউ জার্সি, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ফ্লোরিডাতেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে, আর নিউ জার্সির প্যাটারসনও বাংলাদেশিদের অন্যতম পরিচিত আবাসস্থল। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। কারণ এসব এলাকায় সাধারণত মসজিদ, হালাল রেস্টুরেন্ট, দেশি গ্রোসারি, কমিউনিটি সংগঠন এবং নতুনদের সহযোগিতার জন্য পরিচিত মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে কোনো শহরই সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, চাকরির সুযোগ, গণপরিবহন, নিরাপত্তা এবং পারিবারিক প্রয়োজন, এসব বিষয় শহরভেদে ভিন্ন। ফলে একজনের জন্য আদর্শ কোনো শহর অন্যজনের জন্য একই রকম উপযোগী নাও হতে পারে। এ কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই নতুন অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, কোনো শহরে যাওয়ার আগে সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা জানা, স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও শহরের সরকারি তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় নতুন জীবন শুরু করা সবচেয়ে সহজ, এর নির্দিষ্ট কোনো একক উত্তর নেই। তবে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি, প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ, এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখলে নতুন অভিবাসীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।