বাংলাদেশের রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন মতিউর রহমান লিটু। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মতিউর রহমান লিটুর খোলা চিঠি।

নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক মতিউর রহমান লিটু, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি দলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন নেতার সহযোগিতার স্মৃতিচারণ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন।   খোলা চিঠিতে মতিউর রহমান লিটু জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখার পর তারেক রহমানের নির্দেশে দলের কয়েকজন নেতা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি আশিক ইসলাম, শামসুল আলম, মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, শিমুল বিশ্বাস সহ বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতার সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।   চিঠিতে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি তার ভালোবাসা শৈশব থেকেই। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দলটির সঙ্গে তার আবেগ ও আদর্শিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।   বিশেষ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটের রায়’ গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।   চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপিকে জুলাই আন্দোলনের বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তেরও আহ্বান জানান তিনি।   চিঠির শেষাংশে মতিউর রহমান লিটু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। এ বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   নিচে Motiur Rahman Litu 'র লিখা #চিঠি দেয়া হলোঃ   মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খোলা চিঠি, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও একটি অনুরোধ; -মতিউর রহমান লিটু   সালাম নিবেন, আশাকরি আপনি ভালো আছেন। আজ কয়েকটি কথা বলার জন্য একটি খোলা চিঠি লিখছি। শহীদ জিয়াকে নিয়ে ১৭বছর আগে আনাড়ি হাতে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলাম, ইউটিউবে সেটা দেখে আপনি আপনার তৎকালীন মুখপাত্র আশিক ইসলামকে বলেছিলেন আমাকে সহযোগিতা করার জন্য।   হ্যা, তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, ম্যাডামের সাবেক এপিএস শামসুল আলম ভাই নিজের মতো করেই আমাকে গড়ে তুলেছেন। রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী আপন ভাইয়ের মতো করেই বিএনপিতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এরপরে শতাধিক সিনিয়র নেতারা আমাকে সর্বদিক দিয়ে, সব সময় সহযোগিতা করেছেন। ম্যাডামের “Mother of democracy" উপাদি প্রাপ্তির পরে গুলশান অফিসে শিমুল বিশ্বাস ভাইয়ের দেয়া বৈঠকে সাবেক উপ রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহম্মেদ সাহেব বুকে জড়িয়ে অলমোস্ট কেঁদে দিয়েছিলেন।   গুলশান অফিসের দ্বিতীয় তলায় শিমুল ভাইয়ের সেই বৈঠকে প্রায় ৩০জনের মতো সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আমি একজন সাধারণ বাবার সন্তান হয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু কোনোদিন আশাকরিনি। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর দিন আমার বাবার চিৎকার দিয়ে কান্নার স্মৃতি থেকে বিএনপির প্রতি আমার মায়া, ভালোবাসা জন্ম হয়েছে। সেই থেকেই বিএনপি করি। বেড়ে ওঠার সাথে সাথে রক্ত মাংস মজ্জায় একটি মাত্র দল মিশে আছে সেটি হলো বিএনপি আর দেশনেত্রী বেগম জিয়ার স্মৃতি। তাই মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হয়তো ভুলতে পারবোনা এই দলের ভালোবাসা।   যদিও পরিবারের প্রায় সকল সদস্য বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির জন্য অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব কথা আজ বলতে চাইনা। আজ জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলতে চাই- আপনি শহীদ জিয়ার সন্তান, আপনার জন্য জীবন দিতেও কুন্ঠাবোধ করবোনা। সব সময় আপনার ভালো চাই এবং চাইবো।   হাসিনাকে হটানোর জন্য আমরা ১৬বছর আন্দোলন করেছি কিন্তু শেষের একমাসে নিষ্পাপ তরুণ ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসায় হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। যেই আন্দোলনটাকে আমরা জুলাই আন্দোলন হিসাবে চিনি, যেই আন্দোলনের জন্য দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জাতি মুক্তির স্বাধ গ্রহণ করেছে।   দেশের মানুষ আপনাকে ভালোবাসে- সেই ভালোবাসাটুকু যেন সারাজীবন টিকে থাকে, বিএনপি যেন দীর্ঘদিন বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সেজন্য আপনাকে একটা বিশেষ অনুরোধ করতে চাই- কে কি পরামর্শ দিলো সেদিকে না তাকিয়ে এক বাক্যে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নেয়ার ঘোষণা দিন। এরপরে বিরোধীদলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বসুন, সংসদে যেহেতু দুই তৃতীয়াংশ আছে, দেশ চালানোর মতো করে সংবিধানকে সাজিয়ে নিন।   দেখবেন বর্তমান বিরোধীদল আপনাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছে। কারণ, সবার কিন্তু একটাই লক্ষ্য হাসিনার মতো একটা খুনি যেন কোনোদিন ফিরতে না পারে! আর কিছুনা।   বিরোধীদলের জীবনে যে সাফল্য এখন আছে সেটা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য, তারাও সেটা হারাতে চাইবেননা। জুলাই বিষয়ে দূরত্বটা মীমাংসিত হলে বাংলাদেশটা হতে পারে সৌহার্দপূর্ণ একটি দেশ। যেখানে আমরা সুখে শান্তিতে সবাই বসবাস করতে পারবো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনাকে যারা জুলাই এর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে তারা কোনোভাবেই বিএনপির ভালো চাইতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। আমার সন্দেহ তাঁরা হয়তো ভারতের উদ্দেশ্য কার্যকর করতে এমন খেলা খেলছে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সেটাই এখন খুঁজে বের করা দরকার! আমার চিঠিটি আপনার দৃষ্টিগোচর হবে বলে আমি আশাকরি। ভুল বোঝেন, রাগ করেন আর অভিমান করেন যেভাবেই গ্রহণ করেন- “জুলাই সনদ ও গণভোট” নিয়ে অন্তত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটাকে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।   এছাড়া জুলাই বিষয়ে একটা সমাধান হলে- তরুণ একটা প্রজন্ম তৈরী হয়েছে যারা  আপনার দূরদর্শিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আরো বেশী সচল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। (উল্লেখ্যঃ আমার লেখা এই খোলা চিঠিতে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা কিংবা অন্যকোন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ইনফ্লুয়েন্স নেই! সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত! তাই এই চিঠির জন্য আমার কোন শুভাকাংখীর ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করবেননা, অনুরোধ রইলো)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।   বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সততা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রবীণ নেতা এবং দলবহির্ভূত একাধিক ব্যক্তির নাম বিবেচনায় রয়েছে।   রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি মির্জা ফখরুল। তবে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দলীয় ফোরামের আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে। জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।   দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার কারণে মির্জা ফখরুলকে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন দলের একটি অংশ। বিএনপির সংকটকালে দলকে সংগঠিত রাখা, দীর্ঘদিন মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের অবস্থান তুলে ধরায় তার ভূমিকার কথাও সামনে আনছেন সমর্থকেরা। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে সক্রিয় দলীয় রাজনীতি ও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছাড়তে হবে। এ কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার প্রয়োজনীয়তা এবং রাষ্ট্রপতি পদে তার সম্ভাব্য ভূমিকা দুই দিক বিবেচনায় নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক জ্ঞান এবং সংকট মোকাবিলার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। রাষ্ট্রপতির পদটি প্রধানত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে এ পদধারীর সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেশাজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।   সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এবং সংসদ সদস্যদের তালিকার ভিত্তিতে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।   তবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণার আগে মির্জা ফখরুলকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। আপাতত তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান নাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের ওপর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
সংসদ অবৈধ করার ‘স্লো গেম’?, নতুন করে প্রশ্নের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে চলমান সমালোচনা, রিট আবেদন এবং রাজনৈতিক বয়ান। নির্বাচন শেষে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও তাঁকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলের সক্রিয়তা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।   ড. ইউনূসকে নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে তীব্রতা বাড়ছে। কেউ তাঁকে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করছেন, কেউ আবার তাঁর সরকারের সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এমনকি তাঁকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে। এসব আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্যও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   এদিকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, সংস্কার কমিশন গঠন, আইন প্রণয়ন এবং বিদেশি চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একাধিক রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে তাঁর সরকারের কর্মকাণ্ডের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে কমিশন গঠনের আবেদনও জানানো হয়েছে।   এর আগে ড. ইউনূসের সরকার গঠন ও শপথকে অবৈধ ঘোষণার দাবিতেও রিট করা হয়েছিল। যদিও আদালত সেটি খারিজ করে দেন, এরপর নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।   বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’। চুক্তিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটে বলা হয়েছে, এটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রিটকারীরা অভিযোগ করেছেন, চুক্তিতে অসম শুল্ক কাঠামো ও দেশীয় শিল্পের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয় রয়েছে।   তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি ড. ইউনূস। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নীরব অবস্থানও নতুন করে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিচ্ছে।   অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রকাশ্যে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিলেও দলটির বিভিন্ন বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সিদ্ধান্তের সমালোচনা উঠে এসেছে। একই সময়ে দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত, মূল্যস্ফীতি, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকার সমালোচনার মুখে রয়েছে।   বেলজিয়ামভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সুশাসন নিশ্চিত এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বর্তমান সংসদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার পথ তৈরি করতে পারে। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে আসছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনও বিভিন্ন বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলেছেন।   একই সময়ে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যেও হতাশা ও বিভাজনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য পূরণ হয়নি এবং কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক রূপান্তর অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।  

Unknown মে ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০