সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ভেনিস

ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী
ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী

ইতালির ভেনিসে মর্মান্তিক এক নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন সদ্য বিবাহিত এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামী। গত শনিবার একটি ওয়াটার ট্যাক্সির সঙ্গে পেশায় জেলে শন মিশিলির (২৫) নৌকার সংঘর্ষ হলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শনকে পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   এরপর মঙ্গলবার ভেনিসের লেগুন থেকে তার নিখোঁজ স্ত্রী গ্যাব্রিয়েলা কোয়েরিনোর (২৬) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় এক মাইল দূরে তার খোঁজ মেলে। জানা যায়, মাত্র তিন মাস আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই তরুণ দম্পতি।   তবে মর্মান্তিক এই ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছে না গ্যাব্রিয়েলার পরিবার। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার মধ্যে অনেক নীরবতা ও অসঙ্গতি লুকিয়ে আছে। দুই বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমানো গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে দুর্ঘটনার আগের রাতে তার স্বামীর প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল।   পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, গ্যাব্রিয়েলা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিজের ব্যাগও গুছিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি ব্রাজিলে বসবাসরত তার মা জিসেল এলোরিয়াগাকে টেক্সট মেসেজ করে জানান যে, তাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গেছে এবং তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে যাচ্ছেন। মেসেজে তিনি মাকে এও বলেন, "কাল তোমাকে সব খুলে বলব।"   পরিবারের সন্দেহ মূলত এই মেসেজটি ঘিরেই। তারা জানান, গ্যাব্রিয়েলা মেসেজ করতে একেবারেই পছন্দ করতেন না; বরং পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, তিনি সবসময় মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন। এদিকে মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাতেই ইতালিতে ছুটে যান তার মা।   কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় তিনি তার দুই সন্তানকেই (মেয়ে ও অনাগত সন্তান) হারিয়েছেন। অন্যদিকে, শনের বোন চ্যান্টালও অনলাইনে এক আবেগঘন বার্তায় ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে 'নটিক্যাল হোমিসাইড' বা নৌ-হত্যাকাণ্ড মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।   দুর্ঘটনার সময় ওই ওয়াটার ট্যাক্সিতে থাকা দুই মার্কিন পর্যটককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে শনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তের মাদারীপুরের বাড়িতে তালা, পরিবার আত্মগোপনে
ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, জানা গেল হামলাকারীর পরিচয়, আত্মগোপনে স্বজনেরা

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর মাদারীপুরের ধুরাইল ইউনিয়নে অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে তার মা, ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য বাড়িটিতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরগুলোর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়িতে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে তারা ঠিক কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না। মনিরুল হাওলাদার ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল। অভিনেত্রী বাঁধন অভিযোগ করেছেন, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে একদল ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং ফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে মনিরুল হাওলাদারের নামও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।  মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য মনিরুল প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন এবং এখনো সেই ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা মনিরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একমত নন। ওবায়দুল বলেন, “ওর বিচার হোক, আমরা ওর সঙ্গে নেই। ওর মা-বোন-ভাই সবাই পালিয়েছে।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়ির সামনে এসেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে হামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। চেয়ারম্যানকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য জানানো হয়েছে। সূত্র: চ্যানেল ২৪

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা
ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ, জোর করে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ বলানোর দাবি

ইতালির মেস্ত্রে শহরে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এ অভিযোগ করেন। তার দাবি, কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে ঘিরে ধরে গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারেন, শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং তার মোবাইল ফোনও ফেলে দেন।    বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি তার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে ছিলেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ‘ফিজিক্যালি হ্যারাস’ করেন। তিনি বলেন, তার শরীরে হাত তোলা হয়েছে এবং কানের পাশেও আঘাত করা হয়েছে। ওই সময় তার ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।  অভিনেত্রীর অভিযোগ, হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগের কর্মী ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। তারা তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলেন এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ও আপলোড করেন বলেও দাবি করেন বাঁধন।  বাঁধন আরও অভিযোগ করেন, তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেও আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়। তার দাবি, এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে অপমান ও গালাগাল করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি একপর্যায়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আরও দুটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন বাঁধন। ওই ভিডিওগুলোতে তাকে হেনস্তা করার ঘটনা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।  বর্তমানে ভেনিসে অবস্থান করছেন বাঁধন। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমা নিয়ে তিনি ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন। সিনেমাটি উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজোন্তি’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে এবং ৭ সেপ্টেম্বর এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ভেনিস উৎসবের এই বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার ঘটনা দেশটির চলচ্চিত্রের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  ভেনিসে বাংলাদেশের সিনেমার এই গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতির মধ্যেই বাঁধনের ওপর হেনস্তার অভিযোগ সামনে এলো। ঘটনার বিষয়ে ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্ত্রী জর্জিনা রদ্রিগেজের হাতে ২ লাখ ডলারের বিরল বার্কিন ব্যাগ দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত
‘২ লাখ ডলারের বিরল বার্কিন!’ রোনালদোর স্ত্রী জর্জিনার হাতে নজরকাড়া ব্যাগ

পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্ত্রী জর্জিনা রদ্রিগেজের হাতে দেখা গেছে প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের বিরল একটি বার্কিন ব্যাগ। ৩ সেপ্টেম্বর ইতালির ভেনিসে যাওয়ার সময় তার হাতে ছিল হার্মেসের কুমিরের চামড়ায় তৈরি হিমালয়া বার্কিন ২৫। বিরল এই ব্যাগটি ঘিরে তার সাজসজ্জার পাশাপাশি এর বিপুল মূল্যও আলোচনায় এসেছে।   ৩২ বছর বয়সী জর্জিনা এদিন বাদামি রঙের সাটিনের শার্ট ও সাদা ঢিলেঢালা জিনস পরেছিলেন। শার্টের কয়েকটি বোতাম খোলা ছিল, যার মধ্য দিয়ে তার পরনের লেসের অন্তর্বাসও দেখা যাচ্ছিল। পোশাকের সঙ্গে তিনি পরেছিলেন হালকা রঙের উঁচু হিলের জুতা ও কালো রোদচশমা। সাজ সম্পূর্ণ করতে ছিল তারকা আকৃতির গয়না, বড় গোলাপি সোনার ঘড়ি এবং হাতে সেই বিরল বার্কিন ব্যাগ।   হার্মেসের হিমালয়া সিরিজের ব্যাগগুলো প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বিরল ও আকাঙ্ক্ষিত নকশার মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। কুমিরের চামড়া ব্যবহার করে এগুলো তৈরি করা হয় এবং ব্যাগের স্বতন্ত্র ধূসর-সাদা রঙের ধাপ তৈরি করতে হাতে রং করা হয়। জর্জিনার হাতে থাকা হিমালয়া বার্কিন ২৫-এর পুনর্বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ লাখ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই একই ধরনের ব্যাগের মালিক তারকা কিম কার্দাশিয়ানও। তার ব্যাগটিতে হীরাখচিত সোনার ধাতব অংশ রয়েছে, যার কারণে সেটির মূল্য আরও বেশি। কাইলি জেনারও একই ধরনের হিমালয়া কেলি ব্যাগ ব্যবহার করেন, যেটিতেও একই ধরনের বিশেষ অলংকরণ রয়েছে। হীরাখচিত হিমালয়া ব্যাগের মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   জর্জিনার ভেনিস সফরের এই উপস্থিতি আসে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী রোনালদোর সঙ্গে বিয়ের পরপরই। গত ১১ আগস্ট পর্তুগালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্জিনা ২৫০ ক্যারেটের চোপার্ড হীরা পরেছিলেন। তার বিয়ের গয়নার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিয়ের গয়নার মধ্যে ছিল গার্ডেন অব কালাহারি নেকলেস। এই নেকলেসে ছিল ৫০ ক্যারেটের একটি উজ্জ্বল হীরা এবং আরও ১৪৬ ক্যারেটের ছোট ছোট পাথর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত মেট গালায় একই নেকলেস পরেছিলেন মার্কিন সংগীতশিল্পী বিয়ন্সে। ওই অনুষ্ঠানেই অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জর্জিনাও।   এ ছাড়া বিয়ের সাজে জর্জিনা ২৫ ক্যারেটের নাশপাতি আকৃতির একটি হীরা এবং ২৬ ক্যারেটের হৃদয় আকৃতির একটি পাথর কানের দুল হিসেবে পরেছিলেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর রোনালদো ও জর্জিনা পর্তুগালে একটি বেসামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেন।   বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্তও জর্জিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তাদের দুজনের হাত পাশাপাশি রাখা অবস্থায় দেখা যায় এবং হাতে ছিল সোনার বিয়ের আংটি। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের পরপরই ভেনিসে জর্জিনার এই উপস্থিতিতে আবারও তার পোশাক, গয়না ও বিলাসবহুল সামগ্রী আলোচনায় এসেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
শাকিরা শাওন রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির কলেজ পরীক্ষায় ১০০তে ১০০ নম্বর পেয়ে বাংলাদেশি তরুণীর রেকর্ড

ইতালির ভেনিসে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের মাতুরিতা (Maturità) পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ পেয়ে কলেজের সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন বাংলাদেশি তরুণী শাকিরা শাওন রহমান। ভেনিসের ঐতিহ্যবাহী আন্তোনিও পাচিনোত্তি কলেজ থেকে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের মেধার স্বাক্ষরই রাখেননি, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।   এশিয়া পোস্ট নিউজ জানিয়েছে, মাতুরিতা পরীক্ষায় পুরো কলেজের সব শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছেন শাকিরা। তার এই কৃতিত্ব ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।   শাকিরার শিক্ষাজীবনের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও সংগ্রামের গল্প। ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ও-লেভেল (এসএসসি সমমান) সম্পন্ন করার পর ২০২১ সালে পরিবারের সঙ্গে ইতালিতে পাড়ি জমান তিনি। নতুন দেশ, নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষার পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ।   ইতালিতে যাওয়ার পর তিনি প্রথমে ইতালীয় ভাষার বি-১ স্তরের কোর্স সম্পন্ন করেন। একই সময়ে শেষ করেন এ-লেভেলও। এরপর ভর্তি হন ভেনিসের সুপরিচিত আন্তোনিও পাচিনোত্তি কলেজে। সেখানে নিয়মিত পড়াশোনা, ভাষাগত দক্ষতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি মাতুরিতা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেন।   নিজের সাফল্য নিয়ে শাকিরা বলেন, নতুন একটি দেশে এসে ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। ভবিষ্যতে তিনি একজন ফার্মাসিস্ট হতে চান এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।   শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নয়, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখছেন শাকিরা। বর্তমানে তিনি ভেনিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘আমাদের পাঠশালা’-তে শিক্ষকতা করছেন। সেখানে তিনি শিশু-কিশোরদের পাঠদান করছেন এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিচ্ছেন।   প্রবাসজীবনের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শাকিরার এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তার এই অর্জন ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০