সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, জানা গেল হামলাকারীর পরিচয়, আত্মগোপনে স্বজনেরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৮:৪৩
বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তের মাদারীপুরের বাড়িতে তালা, পরিবার আত্মগোপনে
বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তের মাদারীপুরের বাড়িতে তালা, পরিবার আত্মগোপনে

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর মাদারীপুরের ধুরাইল ইউনিয়নে অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে তার মা, ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য বাড়িটিতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


মঙ্গলবার দুপুরে খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরগুলোর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়িতে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে তারা ঠিক কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না।


মনিরুল হাওলাদার ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল।


অভিনেত্রী বাঁধন অভিযোগ করেছেন, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে একদল ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং ফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে মনিরুল হাওলাদারের নামও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। 


মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য মনিরুল প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন এবং এখনো সেই ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা মনিরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একমত নন।


ওবায়দুল বলেন, “ওর বিচার হোক, আমরা ওর সঙ্গে নেই। ওর মা-বোন-ভাই সবাই পালিয়েছে।”


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়ির সামনে এসেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে হামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন।


মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। চেয়ারম্যানকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য জানানো হয়েছে।


সূত্র: চ্যানেল ২৪


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তের মাদারীপুরের বাড়িতে তালা, পরিবার আত্মগোপনে
ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, জানা গেল হামলাকারীর পরিচয়, আত্মগোপনে স্বজনেরা

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর মাদারীপুরের ধুরাইল ইউনিয়নে অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে তার মা, ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য বাড়িটিতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরগুলোর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়িতে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে তারা ঠিক কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না। মনিরুল হাওলাদার ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল। অভিনেত্রী বাঁধন অভিযোগ করেছেন, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে একদল ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং ফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে মনিরুল হাওলাদারের নামও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।  মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য মনিরুল প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন এবং এখনো সেই ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা মনিরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একমত নন। ওবায়দুল বলেন, “ওর বিচার হোক, আমরা ওর সঙ্গে নেই। ওর মা-বোন-ভাই সবাই পালিয়েছে।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়ির সামনে এসেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে হামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। চেয়ারম্যানকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য জানানো হয়েছে। সূত্র: চ্যানেল ২৪

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৮:৪৩
বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণে ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি

বাংলাদেশে ভ্রমণ না করতে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল

দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি ও ইনসেটে নিহত দুই বাংলাদেশি

জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত

সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর দেখা গেলো গুজরাটে আম্বানির চিড়িয়াখানায়!

সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর দেখা গেলো গুজরাটে আম্বানির চিড়িয়াখানায়!

৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস হাবিবুল্লাহ
পড়াশোনা থেকে ২৪ বছরের বিরতি, ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস হাবিবুল্লাহ

৫১ বছর বয়সে অবশেষে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৫৩ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী ২০০২ সালে এমবিবিএস শেষ করার কথা থাকলেও পড়াশোনায় ২৪ বছরের বিরতির পর ২০২৬ সালে চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় পাস করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফল ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।    হাবিবুল্লাহ ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৫৩ ব্যাচে ভর্তি হন। শুরুতে পড়াশোনায় ভালো করলেও একপর্যায়ে নানা জটিলতায় তিনি পিছিয়ে পড়েন। এক শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধ, জুনিয়রদের সঙ্গে ক্লাস করার অস্বস্তি এবং পারিবারিক নানা সংকট ধীরে ধীরে তার পড়াশোনায় ছেদ তৈরি করে। একসময় তিনি আর পড়াশোনায় ফিরবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।    এর সঙ্গে ছিল পারিবারিক ও আর্থিক চাপ। তাঁর বাবা আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন চিকিৎসক এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় পরিবারের দায়িত্ব ও সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেই হাবিবুল্লাহর বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা মারা যান ২০০০ সালে এবং মা মারা যান ২০১৬ সালে।    দীর্ঘ ২৪ বছর পর ২০২৩ সালে আবার পড়াশোনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন হাবিবুল্লাহ। সে সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু। তাঁর সঙ্গে দেখা করে পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছার কথা জানান হাবিবুল্লাহ।   দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় ভর্তি হতে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হয়। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা নিজে দেন হাবিবুল্লাহ। বাকি টাকা জোগাড়ে পাশে দাঁড়ান তাঁর কে-৫৩ ব্যাচের বন্ধু, শিক্ষক ও অন্যরা। এরপর আবার পড়াশোনা শুরু করে শেষ পর্যন্ত এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি।    চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করার পর হাবিবুল্লাহ তাঁর বন্ধু ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পরও তাদের সহযোগিতা ও নিজের দৃঢ় সংকল্পই তাকে স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।   অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলুর মতে, হাবিবুল্লাহর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিই এই সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কেউ বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়লে তাদের প্রতি শিক্ষকদের আরও মনোযোগী হওয়া এবং কার্যকর মেন্টরশিপ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।    এখন ইন্টার্নশিপ শুরু করার অপেক্ষায় আছেন হাবিবুল্লাহ। ভবিষ্যতে সাইকিয়াট্রিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকেই এই বিষয়ে এগোতে চান তিনি।   সূত্র: প্রথম আলো  

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ০:৪৭
ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ, জোর করে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ বলানোর দাবি

নারীদের জন্য চালু করা পিংক বাস সার্ভিসের বহরে থাকা বাসগুলো

মেয়াদ পেরোনো বাসে পিংক সার্ভিস, মাসে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১২ লাখ টাকা লোকসান

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে না ভারত

শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়ার বার্তা ভারতের

জেন্ডার পরিবর্তনের অস্ত্রোপচারের পর মারা যাওয়া তরুণী রোজি আক্তার লিজা। ছবি: সংগৃহীত
পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর তরুণীর মৃত্যু

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর কয়েক ঘণ্টা পর রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অস্ত্রোপচারের পর রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।   লিজার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রোববার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান এবং সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁকে দাফন করা হয়।   পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই লিজার আচরণ ও পোশাক-পরিচ্ছদে ছেলেদের মতো বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি ছেলেদের মতো চুল কাটতেন এবং কোনো পুরুষকে পছন্দ করতেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনিফা আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে লিজার পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। জেনিফা নিয়মিত লিজাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তাঁরা একসঙ্গে চলাফেরা ও সময় কাটাতেন। এর পাশাপাশি লিজা ঢাকায় হরমোন-সংক্রান্ত চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   জেনিফা আক্তারের ভাষ্য, লিজার অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁর মা-বাবা দেড় লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ওই অর্থ দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার ওই হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী হিসেবে জেনিফা স্বাক্ষর করেন বলে তিনি জানিয়েছেন।   তবে লিজার বাবা জানান, জেনিফা হাসপাতালের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করবেন কিংবা তাঁর স্বাক্ষরের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হবে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি হাসপাতালে তাঁর মেয়ের নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও তিনি মৃত্যুর দিন জানতে পারেন।   লিজার বাবা বলেন, ‘লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমন কথা আমি ওর মায়ের কাছে শুনেছি।’   লিজার মা জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে দুইবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসারেই তিনি থাকেননি।   তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেনিফা তাঁদের বাড়িতে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে যাতায়াত করতেন। এ কারণে মেয়ের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের বিষয়টি তাঁরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।   এদিকে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে লিজার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদে তাঁকে ৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি দেখানো হয়েছে।   মৃত্যু সনদে থাকা হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।   পরে হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে যে চিকিৎসকের অধীনে লিজা ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।   অস্ত্রোপচার ও মৃত্যুর বিষয়ে চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল ধরেননি।   তবে অস্ত্রোপচারের পর ঠিক কী কারণে লিজার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, অস্ত্রোপচারের বিবরণ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১১:৪০
ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা স্টারলিংকভিত্তিক ওয়াই-ফাই সেবা। ছবি: সংগৃহীত

আন্তনগর ট্রেনে স্টারলিংকের ৬০ রাউটারের ৪৫টিই চুরি, নিয়ে গেছে অ্যানটেনাও

অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা ঠেকাতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

দালালের ফাঁদ এড়িয়ে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ১০ হাজার বাংলাদেশি

বাংলাদেশি দুই ভাই সাবিক বিন সুলতান ও শাফি বিন সুলতান, এআই স্টার্টআপ AgenticHire-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি কলেজ শিক্ষার্থী দুই ভাইয়ের এআই স্টার্টআপ পেল ৩০ হাজার ডলারের বেশি ফান্ডিং

0 Comments