ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, জানা গেল হামলাকারীর পরিচয়, আত্মগোপনে স্বজনেরা
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর মাদারীপুরের ধুরাইল ইউনিয়নে অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে তার মা, ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য বাড়িটিতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরগুলোর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়িতে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে তারা ঠিক কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না।
মনিরুল হাওলাদার ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল।
অভিনেত্রী বাঁধন অভিযোগ করেছেন, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে একদল ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং ফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে মনিরুল হাওলাদারের নামও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য মনিরুল প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন এবং এখনো সেই ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা মনিরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একমত নন।
ওবায়দুল বলেন, “ওর বিচার হোক, আমরা ওর সঙ্গে নেই। ওর মা-বোন-ভাই সবাই পালিয়েছে।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়ির সামনে এসেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে হামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। চেয়ারম্যানকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য জানানো হয়েছে।
সূত্র: চ্যানেল ২৪
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশের নব্বই দশকের পরিচিত অভিনেতা সমু চৌধুরী। তিন দশকের বেশি সময় ধরে টেলিভিশন নাটক, মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও ওটিটি মাধ্যমে অভিনয় করেছেন তিনি। পাঁচ শতাধিক নাটক ও প্রায় এক ডজন চলচ্চিত্রে কাজ করা এই অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে নানা প্রতিকূলতা। সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা ও ছোট বোনকে হারানো, পরে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু এবং মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব তাঁর জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। মায়ের সেবার কথা বিবেচনা করে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি যশোরে নিজের বাড়ির সামনে হামলার শিকার হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেতা। ১৯৬৪ সালের ৮ জুন যশোরে জন্মগ্রহণ করেন সমু চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। ছাত্রজীবনে যশোর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রায় ১০ বছর পথনাটক, মঞ্চনাটক ও গণসংগীতে অংশ নেন। পরে ঢাকা উদীচী, ঢাকা থিয়েটার ও নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গেও কাজ করেন। দীর্ঘদিন মঞ্চে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর টেলিভিশন নাটকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ১৯৯০ সালের ২২ মার্চ আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিষেক হয় সমু চৌধুরীর। প্রথম নাটকে অভিনয়ের জন্য ৭০০ টাকা সম্মানী পেয়েছিলেন তিনি। এরপর ‘জন্মভূমি’, ‘বিবর্ণ প্রজাপতি’, ‘কালো জোছনা’, ‘রঙের মানুষ’, ‘নিশিকুটুম্ব’ ও ‘উঠোন’সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেন। ধীরে ধীরে টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন এই অভিনেতা। অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখেন। ১৯৯৫ সালে নির্মাতা আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। পরে ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘গলুই’ এবং ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওটিটি মাধ্যমেও কাজ করেছেন তিনি। ২০২৪ সালে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ এবং ২০২৫ সালে ‘নয়া নোট’-এর মতো প্রযোজনায় তাঁকে দেখা গেছে। অভিনয়জীবনে পরিচিতি পাওয়ার মধ্যেই ১৯৯৩ সালের ২৬ জুলাই বড় ধরনের পারিবারিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন সমু চৌধুরী। সেদিন যশোরের নাভারন থেকে ফেরার পথে ঝিকরগাছা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর বাবা আবুল কাশেম চৌধুরী ও ছোট বোন রোজিনা চৌধুরী রুবি মারা যান। এই ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। পরে ২০১৮ সালে ছোট ভাই সনু চৌধুরীকেও হারান তিনি। পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারানোর অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। বাবা ও ছোট বোনের মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে সমু চৌধুরীর ওপর। বিশেষ করে মা জয়নব চৌধুরীর দেখাশোনাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেতা জানান, মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত সমু চৌধুরী অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও মায়ের সেবা ও পরিবারের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর জীবনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের একপর্যায়ে প্রায় তিন বছর অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন সমু চৌধুরী। ঢাকার কর্মব্যস্ততা ছেড়ে যশোরে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। পরে শিল্পী ঐক্য জোটের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন। তবে অভিনয়ে অনিয়মিত হওয়ার পেছনে শুধু পারিবারিক বিপর্যয় বা মায়ের সেবাই একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। পরবর্তী সময়ে আবার নাটক, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্রযোজনায় কাজ করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের জুনে সমু চৌধুরীর একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মুখী শাহ মিসকিন মাজারে গামছা পরা অবস্থায় তাঁকে দেখা যায়। ছবিটি দেখে অনেকে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে সমু চৌধুরী জানান, তিনি ওরস উপলক্ষে মাজারে গিয়েছিলেন। কাপড় শুকানোর সময় গামছা পরে গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ, স্বজন ও অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যান। ওই সময় নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ধারণারও ব্যাখ্যা দেন সমু চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাজারে যাওয়ার বিষয়টি ছিল ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক চর্চার অংশ। ফলে শুধু ছবি বা পোশাক দেখে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এরপর চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর যশোরে নিজের বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন সমু চৌধুরী। শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা সড়কের নতুন বাজার এলাকায় একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের সামনে ঘটনাটি ঘটে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, গ্যারেজের এক মেকানিকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর মাথায় চারটি সেলাই দেন। সমু চৌধুরী অভিযোগ করেন, গ্যারেজের মেকানিক জাহাঙ্গীর ও মালিক হৃদয় হামলায় জড়িত ছিলেন। তবে গ্যারেজ মালিক হৃদয় অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। যশোর কোতোয়ালি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাসিন্দারা অভিনেতার ওপর হামলার নিন্দা জানান এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন। তিন দশকের বেশি অভিনয়জীবনে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পাওয়া সমু চৌধুরীর জীবন কেটেছে পেশাগত সাফল্য ও ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। বাবা, বোন ও ভাইকে হারানোর অভিজ্ঞতা, মায়ের প্রতি দায়িত্ব এবং অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ার মতো ঘটনা তাঁর জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়কে সামনে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা থাকলেও দীর্ঘদিনের অভিনয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুমান নয়, বরং তাঁর নিজের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিনেতাকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
ইউরোপের স্বপ্ন ভেঙে দেশে ফিরলেন ৩৫ বাংলাদেশি, এবার নতুন করে বাঁচার লড়াই
মুক্তিযুদ্ধে দেশের পাশে দাঁড়িয়ে কারাবন্দি আমেরিকান তরুণী, ছেলের নামেও রেখে দিলেন ‘মুজিব’
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, বিতর্কের মুখে ছাপা বন্ধ করল এনসিটিবি
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন। একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন দেশে ফেরেন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাইটটি। ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দেশে ফেরার পর বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় এই সহায়তা দিচ্ছে। এ কাজে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সহযোগিতা করেছে। এ সময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে ফেরত আসা ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হবে। অনিয়মিতভাবে ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ২০১৭ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি সই করে বাংলাদেশ সরকার। এই চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, গত কয়েক বছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি। তিনি বলেন, দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অর্থনৈতিক সহায়তাও করা হয়, যাতে তাঁরা নতুন করে জীবন গুছিয়ে নিতে পারেন। শরিফুল হাসান আরও জানান, ঝুঁকি নিয়ে যেন বাংলাদেশিরা ইউরোপে পাড়ি না জমান, সে জন্য সারা দেশে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলো বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে।
মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে থাপ্পড় দিলেন বাবা, পুলিশের হাতে সোপর্দ
কর্মচারীর বেতন বাঁচাতে নিজেই বানালেন কাঠের ক্রেন, চেয়ারে বসেই চা পৌঁছে দেন হাতেম!
স্ত্রীকে খুঁজে ফিরেছেন দিনের পর দিন, একটি ভিডিওতেই মিলল হারানো ভালোবাসা
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার পাশের একটি সুইচবোর্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দেখতে পেয়ে কর্তব্যরত এক নার্স ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে সুইচবোর্ডের সার্কিট ব্রেকার ও বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কিত রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে অনেকে আহত হন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় ঘণ্টা মেরামতের কাজ চালানোর পর দুপুরের দিকে ওয়ার্ডগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। এরপর আইসিইউ, ডায়ালাইসিসসহ জরুরি চিকিৎসাসেবা আবার চালু করা হয়। তবে প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কানিজ সাবিহা জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। আগুনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।এ ঘটনায় হাসপাতালের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর রোগীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মারুফ বেপারিকে গু লি করে হ ত্যা
সাজেকে পর্যটকদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর গু লি, আহত নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য