- প্রচ্ছদ
- Topic
ভারতীয়
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে এফবিআইয়ের ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এফবিআই লস এঞ্জেলেস থেকে এ ঘোষণা দেয়। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী সতিন্দরজিৎ সিং পাঞ্জাবের বাসিন্দা এবং ‘গোল্ডি ব্রার’সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। তাকে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেতৃত্বাধীন কথিত সংঘবদ্ধ অ প রা ধ চক্রের উত্তর আমেরিকায় দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআই বলছে, চক্রটির কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অন্যান্য দেশে বিস্তৃত। ব্রারের বিরুদ্ধে লস এঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে সংঘবদ্ধ অ প রা ধ পরিচালনার ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজির মাধ্যমে ব্যবসা ও বাণিজ্যে হস্তক্ষেপের ষড়যন্ত্র এবং মাদক বিতরণ ও বিতরণের উদ্দেশ্যে মাদক রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং তিনি পলাতক। এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ্ণোই চক্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হ ত্যা, গু লি ব র্ষ ণ, অ প হ র ণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও অ স্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অ প রা ধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় তৈরি করে চাঁদাবাজি চালানোর অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই ‘অপারেশন হার্ডবল’ নামে দীর্ঘদিনের তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়। ওই অভিযানে ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক অ প রা ধ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন আরও ১০ জন পলাতক ছিলেন। এই তদন্তে মাদক পাচার ও চক্রটির অর্থায়নের বিষয়ও উঠে আসে। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বিষ্ণোই চক্রের সদস্যরা লস এঞ্জেলেস অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রের কাছ থেকে প্রায় ৫২০ কেজি কোকেন চুরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে রেডল্যান্ডসে প্রায় ৪৯ কেজি কোকেন আটক হওয়ার ঘটনাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআই আরও জানিয়েছে, কারাগারে থাকা লরেন্স বিষ্ণোই তার চক্রের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন ও অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করতেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। ব্রার ছিলেন তার বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন এবং অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি উত্তর আমেরিকায় চক্রটির কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। ২০২৩ সালের কানাডায় এক ভারতীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার হ ত্যার ঘটনাও অভিযোগপত্রে এসেছে। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে একটি শিখ মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় গু লি করে হ ত্যা করা হয়। মামলায় বিষ্ণোই ও ব্রারের বিরুদ্ধে ওই হ ত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এফবিআই বলছে, ব্রার ক্যালিফোর্নিয়া ও কানাডার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেছেন বলে তাদের ধারণা। তাকে স শ স্ত্র ও অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করছে সংস্থাটি। তাই কেউ তাকে দেখতে পেলে সরাসরি যোগাযোগ বা মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে। ব্রার সম্পর্কে তথ্য থাকলে এফবিআইয়ের ১-৮০০-সিএএলএল-এফবিআই নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটেও তথ্য দেওয়া যাবে। অনলাইনেও তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, পরিচয় গোপন রেখেও তথ্য দেওয়া যাবে এবং তথ্যদাতার গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালে তালিকাটি চালুর পর সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার হলেন টেন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত হওয়া ৫৪৩তম ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য এফবিআইয়ের ঘোষণায় নেই; তিনি বর্তমানে পলাতক আসামি হিসেবে খোঁজা হচ্ছেন।
কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় ভারতীয় নাগরিকদের অপসারণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএর সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ২২৭ ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো দেশের নাগরিকের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এর আগে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩২৩ ভারতীয়কে অপসারণ করা হয়েছিল। সেই সংখ্যাটিই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু জুলাই ও আগস্টের তথ্য যুক্ত হওয়ার পর সংখ্যা আরও ৯০৪ বেড়ে ৪ হাজার ২২৭-এ পৌঁছেছে। এই আট মাসেই ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। গত বছর কানাডা থেকে ৩ হাজার ৭৭৯ ভারতীয় নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ২ হাজার ৪। অর্থাৎ ২০২৪ সালের পুরো বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ভারতীয় নাগরিক অপসারণের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির ২ হাজার ২৮২ নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১, কলম্বিয়ার ৫৮০ এবং হাইতির ৫৩৫ নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, যা চলতি বছরের শীর্ষ ১০ নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে। আরও বড় সংখ্যা রয়েছে এখনো চলমান অপসারণ প্রক্রিয়ায়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডার ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় ১০ হাজার ২৯৫ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। একই তালিকায় বাংলাদেশি রয়েছেন ১ হাজার ৩৬৮ জন। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সবাই শেষ পর্যন্ত অপসারিত হবেন - এমন নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার অবস্থার ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করতে পারে। কানাডা থেকে কাউকে অপসারণের কারণও এক নয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত না মানা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ বা পড়াশোনা, ভুল তথ্য দেওয়া, অপরাধসংক্রান্ত অগ্রহণযোগ্যতা কিংবা অন্য আইনি কারণে একজন বিদেশি নাগরিক অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। প্রত্যাখ্যাত বা অযোগ্য আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিমুভাল অর্ডার কার্যকর হতে পারে। এই বৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটছে যখন কানাডা সামগ্রিকভাবে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর নীতি নিয়েছে। সরকারের ২০২৬-২৮ ইমিগ্রেশন পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা আগমনের লক্ষ্য ৩ লাখ ৮৫ হাজারে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং অস্থায়ী কর্মীর লক্ষ্য ২ লাখ ৩০ হাজার। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দেশের মোট জনসংখ্যায় অস্থায়ী বাসিন্দার অংশ ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহর থেকে চুরি হওয়া প্রায় ৪০ হাজার মোবাইল ফোন বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বিশাল এক আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে দুজন আফগান এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। মেট্রোপলিটন পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে লন্ডন থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের প্রায় ৪০ শতাংশই এই সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বাইরে পাচার করা হয়েছিল। শুক্রবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট এই তিনজনকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আমির মুহাম্মদ খাদিকখেল, ৩৩ বছর বয়সী ইসমাত মিয়াখেল এবং ৩০ বছর বয়সী মনসুর মোহাম্মদ। আদালতে তারা চুরি করা মালামাল গ্রহণ এবং একটি সুসংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। খাদিকখেল ও মিয়াখেল চোরাই মাল দেশের বাইরে পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন। সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারক অ্যাডাম হিডলস্টন অপরাধের মাত্রা ও জটিলতা বিবেচনা করে খাদিকখেলকে সাড়ে ৯ বছর, মিয়াখেলকে ৯ বছর এবং মনসুর মোহাম্মদকে সাড়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন, আর্থিকভাবে এই অপরাধের বিশালত্ব এবং চক্রটির কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত ও জটিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত আইফোনসহ দামি স্মার্টফোনগুলো সংগ্রহ করে চীনসহ অন্যান্য দেশে পাঠাত। রাস্তার ছিনতাইকারী বা ফোন চোরদের প্রতিটি ডিভাইসের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়া হতো, যা পরবর্তীতে চীনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলারে বিক্রি করা হতো। এই চক্রের প্রথম সন্ধান মেলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এক ভুক্তভোগী তার চুরি যাওয়া ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারেন যে সেটি হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছে ডিএইচএলের একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে হংকংগামী একটি চালান থেকে প্রায় ৮৬৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করে, যেগুলো সিগন্যাল আড়াল করার জন্য টিনের ফয়েল দিয়ে মোড়ানো ছিল। এই ঘটনার পরই লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ‘অপারেশন ইকোস্টিপ’ নামে একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে এবং ধাপে ধাপে পুরো পাচার নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর-পূর্ব লন্ডন থেকে খাদিকখেল ও মিয়াখেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে চুরি করা ফোন সংগ্রহ ও পরিবহনের দায়িত্বে থাকা মনসুর মোহাম্মদকেও তার গাড়ি থেকে সিগন্যাল জ্যামিং ফ্যারাডে ব্যাগ ও টিনের ফয়েলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৫ হাজারের বেশি চোরাই ফোন উদ্ধার করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ লাখ পাউন্ড।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অ্যালউইন প্রকাশ কুন্দের নামের এক ভারতীয় প্রবাসীকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ওমানের দিকে যাওয়ার একটি রুটে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর থেকে তার ৯ টুকরো করা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উদুপি জেলার কুন্দাপুরে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতের ভাই সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর উদুপির পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিহতের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের জানান, অ্যালউইন গত ১৪ বছর ধরে শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি সর্বশেষ ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। তার স্ত্রী টিনা কুন্দের শারজার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং তাদের ছেলে সেখানে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। গত ২০ জুলাই অনিল তার ভাইকে ফোন করে না পেয়ে সন্দেহ করেন, কারণ এর বদলে আসা একটি মেসেজের ধরন অ্যালউইনের স্বাভাবিক কথার মতো ছিল না। এক সপ্তাহ পর আবারও ফোন করে সাড়া না পেয়ে তিনি শারজায় অবস্থানরত ভাইয়ের এক সহপাঠীর মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সহপাঠী এবং কোম্পানির তরফ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে অ্যালউইন ভারতে ফিরে গেছেন। কিন্তু পরে পাসপোর্ট রেকর্ড চেক করে দেখা যায়, তিনি শারজাতেই অবস্থান করছিলেন। নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশি তদন্তে একটি গাড়ির ভেতর দুটি ব্যাগে ভরা অবস্থায় অ্যালউইনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। অনিল জানান, বুকে ছুরিকাঘাত করে দেহ ৯ টুকরো করার মতো কাজ অত্যন্ত পেশাদার অপরাধীদের পক্ষেই সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দুই পুরুষ ও এক নারীকে তাদের ভবন থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী বা কারা এর সাথে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নিহতের স্ত্রী টিনা ও তার ছেলের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এই ঘটনায় বড় ধরনের রহস্যের জন্ম দিয়েছে। শারজা পুলিশের পাশাপাশি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT) প্রোগ্রামের ফি এক লাখ ডলারে উন্নীত করার যে প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন দিয়েছিল, তা হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা পর্যায় পার করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, যা যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয়সহ বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওপিটি হলো এফ-১ (F-1) ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে তারা পড়াশোনা শেষ করার পর নিজেদের বিষয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত কোনো ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ পান। বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রস্তাবিত এই ফি কার্যকর হলে ওপিটি প্রোগ্রামের ব্যয় সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই ভারতীয় এবং তারাই গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী এই কর্মসংস্থান সুবিধার অন্যতম প্রধান গ্রহীতা। তবে হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনায় ছাড়পত্র পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, এক লাখ ডলার ফি এখনই চূড়ান্ত হয়ে গেছে বা অবিলম্বে এটি প্রদান করতে হবে। নতুন যেকোনো বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে ফেডারেল রুলমেকিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) এই প্রস্তাবের পর্যালোচনা শেষ হলেও চূড়ান্ত ফি এবং আনুষঙ্গিক নিয়মাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি। যদি প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়, তবে সেটি 'ফেডারেল রেজিস্টার'-এ প্রকাশিত হবে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ প্রস্তাবের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে জনসমক্ষে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন। বর্তমান নিয়মে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার বিষয়ের ওপর অস্থায়ী কাজের অনুমোদন পান এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (STEM) মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের ওপিটি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রযুক্তি, ফিন্যান্স এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো পেশাদার খাতে প্রবেশের জন্য ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ক্রমশ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তাই এক লাখ ডলারের এই বিশাল ফি কার্যকর হলে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে ইচ্ছুক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এটি একটি বড় আর্থিক বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। তবে চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এখনই এক লাখ ডলার ফি দেওয়ার কথা ভেবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারিতে গরুর মাংসের বারবিকিউ নিয়ে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাড়াটিয়ার প্রকাশ করা একাধিক ভিডিওতে বাড়ির মালিক রাজ টিওয়ানা-র সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং পরবর্তী কয়েকটি সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনার শুরু হয় ভাড়াটিয়া এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির বাগানে বারবিকিউতে খাবার রান্না করার সময়। ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে বারবিকিউ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, গ্রিল ব্যবহারের কারণে তাঁর বাড়ির ক্ষতি হতে পারে। ভাড়াটিয়া অবশ্য দেয়ালে থাকা দাগকে পোড়া দাগ নয়, মরিচা বলে দাবি করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে গ্রিল থেকে খাবার সরিয়ে দিতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়া তখন গরুর মাংস রান্না করছিলেন। টিওয়ানা তাঁকে বারবিকিউ বন্ধ করতে বলেন এবং প্রয়োজনে পুলিশে ফোন করার কথা জানান। এরপর ভাড়াটিয়া ‘টিওয়ানা ফার্ম সারভাইভার’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিক তাঁর ভাড়া নেওয়া ইউনিটে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করেছেন, তালা পরিবর্তন করেছেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন। কয়েকটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানার সঙ্গে ভাড়াটিয়ার শারীরিক সংঘর্ষের দৃশ্যও দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশকে রাজ টিওয়ানাকে আটক করতে দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ বা চার্জ আনা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে গরুর মাংস খাওয়া, ধর্মীয় বিশ্বাস বা সাম্প্রদায়িক বিরোধের ঘটনা হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু সারে পুলিশ সার্ভিস এই ব্যাখ্যা নাকচ করেছে। পুলিশের মিডিয়া রিলেশনস কর্মকর্তা ইয়ান ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, এটি বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার চলমান বিরোধের অংশ এবং পুলিশ একাধিকবার সেখানে হস্তক্ষেপ করেছে। তাঁর ভাষায়, ওই গ্রেপ্তারের সঙ্গে গরুর মাংস, মাংস, ধর্ম বা মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক ছিল না। পুলিশ একই সঙ্গে জানিয়েছে, তদন্ত চলায় বাড়ির মালিকের পরিচয় বা অনুমোদিত চার্জের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয় (এইচএইচএস-ওআইজি) ৯৩ মিলিয়ন ডলারের জেনেটিক টেস্ট জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক খাদের খান মোহাম্মদকে খুঁজছে। ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদের সম্ভাব্য অবস্থান ভারতের হায়দরাবাদ বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোহাম্মদ মেডিকেয়ারের কাছে জেনেটিক পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক ক্লেইম জমা দেওয়ার একটি পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। এসব পরীক্ষার অনেকগুলো অনুমোদিত চিকিৎসক অর্ডার করেননি এবং রোগীদের চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মোহাম্মদ চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য তাদের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে জেনেটিক টেস্টের ক্লেইম জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচএইচএস-ওআইজি। এসব চিকিৎসকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেয়ার রোগীদের কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত সম্পর্কও ছিল না। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ টেক্সাসের রিচার্ডসনে অবস্থিত আমেরিকান প্রিমিয়ার ল্যাবসের মালিক ছিলেন। তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার ক্লেইম জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেডিকেয়ার অন্তত ৬৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু ২০২৩ সালের একটি ১০ দিনের সময়েই সন্দেহজনক এসব ক্লেইমের বিপরীতে মেডিকেয়ার প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার জব্দ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে হেলথ কেয়ার ফ্রডের অভিযোগে ফেডারেল ইনডাইটমেন্ট দাখিল করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ তখন জানিয়েছিল, জেনেটিক টেস্টের নামে এমন বিল জমা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল না, যথাযথভাবে অর্ডার করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষাগুলো আদৌ সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। বর্তমানে এইচএইচএস-ওআইজির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় মোহাম্মদের নাম রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে ভারতের হায়দরাবাদের কথা উল্লেখ করেছে এবং তাকে শনাক্ত বা তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অভিযোগ কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস এবং ২০১৩ সাল থেকে গ্রিন কার্ড থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভেঙ্কটা নরসামাম্বা ভাসামসেট্টিকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। নর্থ ক্যারোলিনায় নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের জন্য হাজির হওয়ার পর ১১ আগস্ট তাকে আটক করা হয়। তার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি নিজেও একজন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। ভেঙ্কটা ভাসামসেট্টি নর্থ ক্যারোলিনার ওয়েক কাউন্টি পাবলিক স্কুল সিস্টেমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা মার্কিন নাগরিক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ৬০ বছর বয়সী এবং কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আটকের পেছনে মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় সাত মাস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান। ভেঙ্কটা ২০২২ সালের জুলাইয়ে অসুস্থ বাবার দেখাশোনার জন্য ভারতে যান। পরে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় আরও পিছিয়ে যায়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফেরার পর কর্তৃপক্ষ তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে গ্রিন কার্ডের রেসিডেন্সি পরিত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখায়। এ নিয়ে ভেঙ্কটার বিরুদ্ধে আগের একটি ডিপোর্টেশন মামলা চলছিল। তবে ১৯ মে ২০২৬ ইমিগ্রেশন জজ সরকারের সেই মামলা বাতিল করে দেন। আদালতের সিদ্ধান্তের পর তিনি আবার গ্রিন কার্ডের বৈধ স্ট্যাটাসে ছিলেন বলে তার আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপরও আইসিইর সঙ্গে তার নিয়মিত চেক-ইন নির্ধারিত ছিল। ১১ আগস্ট নির্ধারিত সাক্ষাতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শার্লটের আইসিই অফিসে গেলে তাকে আটক করা হয় এবং পরে জর্জিয়ার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। পরদিন কর্তৃপক্ষ নতুন করে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করে। ভেঙ্কটার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন এমপ্লয়মেন্ট-বেজড ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। মায়ের আটকের পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুক্তির দাবিতে “ফ্রি ভেঙ্কটা” নামে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। তার আইনজীবী দলও আটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে জরুরি হ্যাবিয়াস করপাস পিটিশন দাখিল করেছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকার কারণে ভেঙ্কটার গ্রিন কার্ডের স্ট্যাটাস পরিত্যাগের অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকা একজন গ্রিন কার্ডধারীর স্থায়ী বসবাসের অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে ভেঙ্কটার পরিবার ও আইনজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি, চাকরি ও পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তার রেসিডেন্সি পরিত্যাগ করতে চাননি।
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রক্রিয়ায় যেতে চাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কগনিজ্যান্টের পার্ম ফাইলিং স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার দপ্তর শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে। তদন্তে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং মার্কিন কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে সফটওয়্যার কোম্পানি ক্লাউডেরার পার্ম আবেদনও স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, কতটি আবেদন এর আওতায় পড়েছে এবং স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। এই ঘটনায় কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও ঘোষণা করা হয়নি। পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে স্পনসর করার আগে শ্রম বিভাগকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী কোনো মার্কিন কর্মী সহজলভ্য নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। পার্ম অনুমোদনের পর নিয়োগকর্তা সাধারণত গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন। ফলে নতুন পার্ম আবেদন জমা দিতে না পারার কারণে কগনিজ্যান্টের যেসব কর্মীর ক্ষেত্রে এখনো এই ধাপ শুরু হয়নি, তাদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ কগনিজ্যান্টের কর্মীদের আগে থেকে অনুমোদিত গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে, আগে অনুমোদিত পার্ম সার্টিফিকেশন বা বিদ্যমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিলের কথাও কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়নি। কগনিজ্যান্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এইচ-ওয়ান-বি স্পনসরকারী আইটি সেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে এর সদর দপ্তর নিউ জার্সির টিনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের কার্যক্রম রয়েছে। কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে তদন্তটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর নজরদারির অংশ। এর আগে শ্রম বিভাগ এইচ-ওয়ান-বি ও পার্ম কর্মসূচির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেল ডি’এসপোসিটো পরবর্তী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে কগনিজ্যান্ট ও ক্লাউডেরার এইচ-ওয়ান-বি প্রসেসিং স্থগিতের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এইচ-ওয়ান-বি সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট আইনি পরিধি, কোন ধরনের প্রসেসিং এর আওতায় পড়ছে এবং বিদ্যমান এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসেনি। কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিতের খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এক দিন আগে কগনিজ্যান্ট জানায়, তারা ১ হাজার ৫০০ মার্কিন কলেজ গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ করবে এবং ফ্রন্টিয়ার সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কর্মী করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফেডারেল তদন্ত চলমান থাকায় কগনিজ্যান্টের কর্মীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে তদন্তের ফল এবং শ্রম বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বর্তমান ঘোষণার ভিত্তিতে নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত হওয়ায় যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ এখনো এই ধাপে পৌঁছায়নি, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জর্জিয়ায় বসবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক প্রদীপ প্যাটেল। গত ১৮ আগস্ট আলাবামার মোবাইলের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তার প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, আলাবামার পাশাপাশি সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতে সংঘটিত প্রতারণার ক্ষতির দায়ও তিনি স্বীকার করেছেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার একটি ঘটনায় আলাবামার ফেয়ারহোপের এক দম্পতিকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারী তার আইপ্যাডে একটি পপআপ বার্তা পান, যেখানে তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের সতর্কতা দেখানো হয়। বার্তায় দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করার পর একজন নিজেকে ‘স্কট গিবসন’ নামে পরিচয় দেন এবং পরে তাকে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘রবিন স্টল’ নামে পরিচয় দিয়ে রিজিয়ন্স ব্যাংকের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। তিনি ওই নারীকে জানান, হ্যাকাররা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করছে এবং ব্যাংকের একজন কর্মীও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এ কারণে স্থানীয় ব্যাংক শাখার কর্মীদের বিষয়টি জানাতে নিষেধ করা হয়। প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই দম্পতি কয়েক দফায় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেন। প্রথমে ১২ হাজার ৫০০ ডলার তুলে একটি বিটকয়েন এটিএমে জমা দেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৩২ হাজার ডলারের বেশি অর্থ উত্তোলন করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এরপর প্রতারণার কৌশল বদলে দম্পতিকে স্বর্ণের বার কেনার জন্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার একটি টেক্সাসভিত্তিক বুলিয়ন ডিলারের কাছে পাঠাতে বলা হয়। তাদের বোঝানো হয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে অর্থ স্বর্ণে রূপান্তর করা প্রয়োজন। প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, প্রদীপ প্যাটেল জর্জিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে ফেয়ারহোপে ওই দম্পতির বাড়িতে যান এবং তারা কেনা স্বর্ণের বার সংগ্রহ করেন। তবে প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু আলাবামার এই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতেও একই ধরনের প্রতারণায় তার ভূমিকা ছিল। সাউথ ক্যারোলাইনার মাউন্ট প্লেজেন্টে এক দম্পতির কাছ থেকে ২০২৫ সালের মার্চে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫২৭ ডলারের ক্ষতির ঘটনায় প্যাটেল তার দায় স্বীকার করেছেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে বলা হয়েছিল, তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে শিশু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এরপর তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠাতে এবং স্বর্ণ কিনতে প্ররোচিত করা হয়। প্যাটেল স্বীকার করেছেন, তিনি ওই স্বর্ণ সংগ্রহকারী কুরিয়ারদের একজন ছিলেন। মাউন্ট প্লেজেন্টের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৫ ডলারের স্বর্ণমুদ্রা প্যাটেল সংগ্রহ করেন বলেও প্লিয়া চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার পানামা সিটির এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮১ হাজার ২৯ ডলারের স্বর্ণ এবং টেনেসির বার্ডসটাউনের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ লাখ ২ হাজার ৬৫ ডলারের স্বর্ণ নেওয়ার ঘটনায়ও তিনি দায় স্বীকার করেছেন। প্লিয়া চুক্তিতে এসব প্রতারণার সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ ১৫ লাখ ডলারের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় নেপালের নাগরিক সৌরভ শর্মার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ফেয়ারহোপের একই দম্পতির কাছ থেকে তিনি আলাদাভাবে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিলেন। শর্মাকে জুন মাসে জর্জিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্যাটেল এর আগে মার্চে অভিযোগ অস্বীকার করে দোষী নন বলে আবেদন করেছিলেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্লিয়া চুক্তির মাধ্যমে দোষ স্বীকার করেন। ফেডারেল আইনে প্যাটেলের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রসিকিউটররা তার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তির সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন আদালত। প্যাটেলের সাজা ঘোষণার কোর্ট হিয়ারিং আগামী ১৯ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক ‘গোল্ড বার স্ক্যাম’-এর একটি উদাহরণ, যেখানে প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক বা প্রযুক্তি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ নিরাপদ রাখার নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা স্বর্ণে রূপান্তর করতে বলে। আলাবামা সিকিউরিটিজ কমিশনও ২০২৫ সালে এ ধরনের গোল্ড বার প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল।
পুণ্যভূমি কৈলাসে তীর্থযাত্রায় গিয়ে নেপালে এক ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন টেক্সাস প্রবাসী এক ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি। নিহতদের নাম দীপক আহুজা এবং মধু আহুজা। একটি সংঘবদ্ধ তীর্থযাত্রী দলের অংশ হিসেবে তারা টেক্সাস থেকে নেপালে গিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং কমিউনিটির সদস্যদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ড. কুশল সাংভি নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এই দম্পতির মৃত্যুর খবরটি শেয়ার করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন ধরে পরিবার তাদের সন্ধান পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর হৃদয়বিদারক খবরটিই নিশ্চিত হয়। সংবাদমাধ্যম ও মার্কেটিং কমিউনিটির পরিচিত মুখ দীপক ও মধুর এই অকাল প্রয়াণকে পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের জন্য এক 'অপূরণীয় ক্ষতি' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এই ট্র্যাজেডিকে জীবনের ক্ষণস্থায়ী রূপের একটি বেদনাদায়ক অনুস্মারক হিসেবে অভিহিত করে সাংভি লেখেন, "জীবন সত্যিই খুব ছোট।" টেক্সাসের ডালাস-ভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় রেডিও স্টেশন 'রেডিও রংরেজ ৯৪.১ এফএম এইচডি৩'-এর সঙ্গেও এই দম্পতির নিবিড় যোগাযোগ ছিল। রেডিও স্টেশনটি তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দীপক ও মধুর আন্তরিকতা এবং অমায়িক ব্যবহার বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। কমিউনিটিতে তাদের ইতিবাচক প্রভাব এবং তৈরি করা সুন্দর সম্পর্কগুলোর জন্যই মানুষ তাদের চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে প্রথমবার খাবার সরবরাহকারী রোবট দেখে বিস্মিত ভারতীয় এক দম্পতির প্রতিক্রিয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইন্ডিয়া স্কয়ার এলাকায় মেয়ের সঙ্গে হাঁটার সময় চালকবিহীন ছোট্ট রোবটটি দেখতে পান তারা। ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাথ দিয়ে ছোট রোবটটি এগিয়ে যাওয়ার সময় দম্পতি প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্ত হন। এরপর রোবটটির দিকে ফিরে তাকান তারা। প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করছে, তা দেখে তাদের মুখে বিস্ময় ও কৌতূহল ফুটে ওঠে। ভিডিওটি প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রিয়াঙ্কা। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি জানান, তার বাবা-মা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে ‘চাকার ওপর ছোট্ট একটি বাক্স’ নিজে নিজেই খাবার পৌঁছে দিতে পারে। তাদের বিস্ময়, বিভ্রান্তি ও আনন্দের মুহূর্তটিকে তিনি পরিবারের জন্য ‘অ্যাবসলিউট কোর মেমোরি’ বা চিরস্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও দম্পতির প্রতিক্রিয়াকে বেশ মজার ও হৃদয়ছোঁয়া হিসেবে দেখেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, নতুন প্রযুক্তি প্রথমবার দেখার এমন সরল প্রতিক্রিয়া সত্যিই আনন্দদায়ক। জার্সি সিটিতে রোবট ডেলিভারি নতুন নয় তবে জার্সি সিটির বাসিন্দাদের জন্য এমন রোবট এখন আর একেবারে নতুন দৃশ্য নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাভরাইড তাদের চালকবিহীন ডেলিভারি রোবট নিয়ে জার্সি সিটিতে কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে ডাউনটাউন এলাকার হ্যামিল্টন পার্ক, হিস্টোরিক ডাউনটাউন ও ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় এসব রোবট খাবার পৌঁছে দিত। গ্রাহকরা উবার ইটস অ্যাপের মাধ্যমে রোবট ডেলিভারি বেছে নিতে পারতেন। রোবটটি সাধারণত ফুটপাথ ও নির্দিষ্ট ক্রসওয়াক ব্যবহার করে চলাচল করে। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫ মাইল পর্যন্ত হতে পারে এবং সেন্সরের মাধ্যমে পথচারী ও আশপাশের বাধা শনাক্ত করে চলতে পারে। খাবার পৌঁছালে গ্রাহক অ্যাপের মাধ্যমে রোবটের লক খোলেন এবং নির্দিষ্ট compartment থেকে খাবার সংগ্রহ করেন। ২০২৬ সালেও জার্সি সিটিতে এ ধরনের প্রযুক্তির বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারিতে কোকো রোবোটিকস শহরের দ্য হাইটস এলাকায় ২০টি এআই-চালিত ডেলিভারি রোবট নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করে। ফলে প্রিয়াঙ্কার বাবা-মায়ের কাছে ঘটনাটি ছিল একেবারে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের মুহূর্ত হলেও, জার্সি সিটির রাস্তায় এমন চালকবিহীন খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দৈনন্দিন নগরজীবনের অংশ হয়ে উঠছে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক ট্যাক্সিচালক গুরমিত সিংয়ের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। ২০১১ সালে ট্যাক্সিতে এক নারী যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় ২০১৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ওই অপরাধের তথ্য গোপন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালত গত ২৬ আগস্ট সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের আদেশ দেন। বিচার বিভাগ সোমবার, ৩১ আগস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে। গুরমিত সিং ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছয় মাসের অস্থায়ী ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে কয়েক বছর অনুমোদনহীনভাবে দেশটিতে থাকার পর পারিবারিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০০ সালের জুনে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের মে মাসে, মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার কয়েক সপ্তাহ আগে, সিং ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। এক নারী যাত্রী ট্যাক্সিতে ঘুমিয়ে পড়লে তিনি তাকে এমন একটি স্থানে নিয়ে যান যেখানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। ঘুম থেকে উঠে ওই নারী দেখতে পান, সিং তার ওপর চেপে বসে আছেন এবং তার গলায় ছুরি ধরে রেখেছেন। এরপর সিং ওই নারীকে বেঁধে ও মুখ বন্ধ করে ধর্ষণ করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভোরে ওই নারী ট্যাক্সি থেকে পালিয়ে রাস্তায় গিয়ে সাহায্য চান। অপরাধের কয়েক মাস পরও সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব তথ্য গোপন রাখেন। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে তিনি প্রথম ডিগ্রির ধর্ষণ এবং যৌন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের জন্য মামলা করে। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ফেডারেল আদালত তার নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, নাগরিকত্ব অপরাধীদের জন্য কোনো সুরক্ষা নয়। বিচার বিভাগের ভাষ্য, সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করায় তিনি আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। আদেশ অনুযায়ী, সিংকে তার ভুলভাবে পাওয়া নাগরিকত্বের নথি হস্তান্তর করতে হবে। তিনি বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নাগরিকত্ব বাতিলের পর কারাদণ্ড শেষ হলে তার অভিবাসন সংক্রান্ত পরবর্তী ব্যবস্থা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে ক্লিফ থেকে গাড়ি সাগরে পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অ্যালি রেনি সিং। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তার তৃতীয় বর্ষ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে ১৩ আগস্ট রাত প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে সান্তা ক্রুজের ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভে, স্টিমার লেনের কাছে। জরুরি বিভাগে খবর আসে একটি গাড়ি ক্লিফ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে পড়ে গেছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, গাড়িটি পানিতে ডুবে রয়েছে এবং ভেতরে একজন আটকা পড়েছেন। সান্তা ক্রুজ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা একজন ব্যক্তি নিজে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন এবং তিনি সামান্য আহত হন। অন্যদিকে অ্যালি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ছিলেন। চারজন ওশান রেসকিউ সুইমার পানিতে নেমে ডুবে থাকা গাড়ির কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সান্তা ক্রুজ পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি একজন নারী চালাচ্ছিলেন এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রী ছিলেন একজন পুরুষ। তবে দুর্ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অ্যালি ২০২৪ সালের জুনে ইউসি সান্তা ক্রুজে ভর্তি হন। তিনি সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন আর. লুইস কলেজ কমিউনিটির সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র স্কট হার্নান্দেজ-জেসন তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জানান, শিক্ষার্থীর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর সমবেদনা রয়েছে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সাপোর্ট রিসোর্স দেওয়া হচ্ছে। অ্যালির খালা মনিকা সিং-স্ট্রোহমেয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন এবং পরিবারের এই কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সময় দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যালিকে মেধাবী, ভালোবাসাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত তরুণী হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। স্টিমার লেন সান্তা ক্রুজের পরিচিত একটি সার্ফিং স্পট। এলাকাটি ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভের পাশে প্রশান্ত মহাসাগরের খাড়া উপকূল বরাবর অবস্থিত। সেখানে শক্তিশালী ঢেউ ও খাড়া ক্লিফের কারণে উদ্ধার অভিযানও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলের ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভের একটি অংশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপকূলীয় ক্ষয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলারের এক বিশাল প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ভারতীয় তরুণ কাতার পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কানাডায় গ্রেফতার হয়েছেন। ২১ বছর বয়সী জয় সুনীলভারতী গোস্বামী নামের গুজরাটের এই বাসিন্দা মার্কিন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করতেন এবং বয়স্ক নাগরিকদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা একটি বিস্তৃত ইন্টারনেট ও টেলিফোনভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জামিন পেয়ে তিনি সীমান্ত পার হয়ে কানাডায় প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে দোহা যাওয়ার টিকিট কাটেন, কিন্তু টরন্টো বিমানবন্দরে তাকে আটকে দেয় কানাডীয় কর্তৃপক্ষ। মার্কিন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতারক চক্রটি মূলত বয়স্ক নাগরিকদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাক হওয়ার ভয় দেখাতো। এরপর তাদের বোঝানো হতো যে, নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে হলে সেগুলো দ্রুত নগদ অর্থ, স্বর্ণ বা গিফট কার্ডে রূপান্তর করতে হবে। নিজেদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করত এবং সম্পদগুলো হস্তান্তরে বাধ্য করত। নগদ অর্থ ও স্বর্ণ সংগ্রহ করার জন্য চক্রটি 'মানি মিউল' বা বাহক ব্যবহার করত এবং অভিযোগ রয়েছে যে, জয় গোস্বামী ঠিক এই কাজটিই করতেন। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে কমপক্ষে ৯ জন বয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ও স্বর্ণ সংগ্রহ করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ৫৯ থেকে ৮৭ বছর বয়সী এই ভুক্তভোগীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার খুইয়েছেন। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, তদন্তকারীরা গোস্বামীর ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখেছেন, যেখানে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার অ্যাকাউন্টে ৯০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ জমা পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রতারণা চক্রের হয়ে কাজ করার বিনিময়েই তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছিলেন। গত ১৭ আগস্ট মার্কিন আদালতে হাজির হওয়ার পর তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন সকালেই তিনি কানাডায় পালিয়ে যান। অবশেষে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে গত ২০ আগস্ট তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে বিচার বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখেন বহু ভারতীয় তরুণ। তবে সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে সুহাস ও প্রিয়াঙ্কা নামের এক প্রবাসী দম্পতি তরুণদের আমেরিকায় না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর দর্শনার ওই ভিডিওতে সুহাস তরুণদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বলেন, "এখানে আসবেন না।" সুহাস জানান, তারা যখন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তখন ভারতের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল এবং সেখানে ভালো চাকরি পাওয়া অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভারতেও যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সব সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রিয়াঙ্কাও জানান, এখন অনেক বিনিয়োগকারীও ভারতের বাজারে ব্যবসার জন্য ঝুঁকছেন। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সুহাস জানান, পরিবার ও বন্ধুদের ছেড়ে ভিনদেশে নতুন করে সবকিছু শুরু করার মানসিক মূল্য অনেক চড়া। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পরও তারা সেখানে আপন হওয়ার অনুভূতি পান না। সুযোগ থাকলে তিনি এখনই নিজ দেশ ভারতে ফিরে যেতেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের একটি তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরেন এই দম্পতি। তারা জানান, চীনারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জ্ঞান অর্জন শেষে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখেন। ভারতীয় তরুণদের মধ্যেও এই ফিরে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
কানাডায় উচ্চশিক্ষা শেষে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন ভারতীয় শিক্ষার্থী সমীর গাড়োয়াল। কিন্তু তিন বছর পর পড়াশোনা শেষ করে তিনি এখন যে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন, তা দেশ ছাড়ার সময়ের চেয়েও কয়েক গুণ ভয়াবহ। ভারত থেকে ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের শিক্ষা ঋণ (এডুকেশন লোন) নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমানো সমীরের মতো বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) বাতিল করে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। আলবার্টার পোর্টেজ কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করার পরও বৈধভাবে কাজের সুযোগ না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই শিক্ষার্থীরা। সমীর ও তাঁর সহপাঠীদের প্রত্যাশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করেই তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী কানাডায় কাজের অনুমতি পাবেন এবং সেই উপার্জনের অর্থ দিয়ে শিক্ষা ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে দাঁড়ায়; কোনো সদুত্তর ছাড়াই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ঢালাওভাবে বাতিল করা হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছেন। জানা গেছে, মূলত কোর্সের যোগ্যতাবিষয়ক আইনি জটিলতা থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। ২০২৪ সালে কানাডা সরকার ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনে কিছু কোর্সকে অযোগ্য ঘোষণা করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়ম পরিবর্তনের অনেক আগেই তাঁরা এই কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, ফলে তাদের ওপর এই নতুন নীতি চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক ও অন্যায্য। নতুন করে আর কোনো ঋণ নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সমীর এখন নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব মনে করছেন। কানাডায় আসার পর পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ফি ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে আগেই তাঁর সব সঞ্চয় ফুরিয়ে গিয়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ঋণের বোঝা টানতে বাধ্য হয়ে সমীর একটি ক্রাউডফান্ডিং বা তহবিল সংগ্রহের ক্যাম্পেইন চালু করেছেন। বর্তমানে কানাডায় কাজের বৈধ অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া এই শিক্ষার্থীদের সামনে আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।
আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)-এর ওয়ান্টেড বা পলাতক আসামির তালিকায় নাম উঠেছে মেজর সিং নামের এক ব্যক্তির। ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুখ্যাত 'জাগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ' নামক একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী সিন্ডিকেটের সাথে মেজর সিংয়ের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই গ্যাংটি মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় তাদের গোপন আস্তানা গড়ে তুলেছিল এবং সেখান থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, মেজর সিং এবং তার এই চক্রটি ওই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে র্যাকেটিয়ারিং (সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণা) এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাচার সংক্রান্ত ভয়ংকর সব অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এই ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধী গ্যাংটিকে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। এই চক্রের মূলোৎপাটন করতে এফবিআই ইতোমধ্যেই মেজর সিংকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। তাকে ধরিয়ে দিতে বা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা এফবিআইয়ের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বসবাসকারী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রবীণ নারীকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ভেঙ্কটা নরসমাম্বা ভাসামসেট্টি নামের এই গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (LPR)। নর্থ ক্যারোলিনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত এবং দুই মার্কিন নাগরিক নাতি-নাতনির দাদি এই নারীকে গত ১১ আগস্ট আইসিই-এর একটি নিয়মিত চেক-ইনের সময় আটক করা হয়। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তার নিজ মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি খোদ টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন আইনজীবী। বিগত মে মাসে একজন মার্কিন বিচারক ভেঙ্কটার বিরুদ্ধে আনা নির্বাসন মামলা খারিজ করে দিলেও, বর্তমানে তাকে জর্জিয়ার একটি আইসিই বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে। এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয় ২০২২ সালে। অসুস্থ ও বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে ওই বছরের জুলাই মাসে ভারতে গিয়েছিলেন ভেঙ্কটা। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেই মারাত্মকভাবে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন এবং প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। শারীরিক জটিলতা কাটিয়ে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তবে এই সাত মাস দেশের বাইরে থাকার কারণে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) অভিযোগ তোলে যে, তিনি তার মার্কিন স্থায়ী আবাসনের অধিকার পরিত্যাগ করেছেন। মার্কিন আইনে, কোনো স্থায়ী বাসিন্দা ১৮০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকলে তার দেশে ফেরার সময় এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তবে ভেঙ্কটার আইনজীবী এবং পরিবারের দাবি, তিনি তার মার্কিন জীবন গুটিয়ে নেননি, বরং ভারতে থাকাকালীন নর্থ ক্যারোলিনায় নিজের প্রাথমিক বাসস্থানের জন্য একটি বাড়ি কেনার কাজও সম্পন্ন করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো জোরালো ভিত্তি না থাকায় এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সময়মতো উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায়, গত ১৯ মে (২০২৬) ইমিগ্রেশন বিচারক তার নির্বাসন প্রক্রিয়া খারিজ করে দেন। এরপর থেকে ভেঙ্কটা নিয়মিত আইসিই-এর কাছে হাজিরা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ১১ আগস্ট শার্লট অফিসে হাজিরা দিতে গেলে তাকে আচমকা আটক করা হয়। ভেঙ্কটার মেয়ের বান্ধবী ও সহকর্মী জো উইলসন জানান, আইসিই অদ্ভুতভাবে দাবি করছে যে ভেঙ্কটা কোনো গ্রিন কার্ডধারী নন। তার কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই এবং তিনি মারাত্মক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তার নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বন্দি করার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। আটকের পরপরই ভেঙ্কটার আইনি দল গত ১৩ আগস্ট তার এই অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে একটি জরুরি 'হেবিয়াস কর্পাস' পিটিশন দায়ের করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন ফেডারেল বিচারক আগামী তিন দিনের মধ্যে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে এই আটকের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিই তাদের এই আটক প্রক্রিয়াকে বেআইনি বলে স্বীকার করেনি বা তাকে মুক্তির নির্দেশও দেয়নি। তবে ফেডারেল আদালত সরকারের পক্ষে রায় দিলেও, আগামী সাত দিনের মধ্যে ভেঙ্কটা ভাসামসেট্টির জামিন শুনানির সুযোগ পাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
শৈশবে আলাদা হয়ে যাওয়া দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী কিশোরী বয়সে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। চেহারার অদ্ভুত মিল দেখে আশপাশের মানুষ অবাক হলেও তারা কেউই জানতেন না, আসলে তারা আপন দুই বোন। প্রায় তিন দশক পর একটি ডিএনএ পরীক্ষায় সেই সত্য সামনে আসে। দুই নারীর নাম মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিজসেন। দুজনেরই জন্ম ভারতে। শিশুকালে তাদের আলাদা এতিমখানায় রাখা হয় এবং পরে নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবার তাদের দত্তক নেয়। ফলে একই দেশে বড় হলেও নিজেদের রক্তের সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তাদের। ১৯৯৬ সালে দত্তক নেওয়া শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। তখন তারা দুজনই কিশোরী। পরিচয়ের পর দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। চেহারার মিলও নজর এড়ায়নি বন্ধুদের। ঠিকানা বিনিময় করে চিঠি চালাচালিও শুরু করেন তারা। এমনকি মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন। কিন্তু সেই সময় কেউই জানতেন না, কথাটি কেবল মজার ছলে বলা নয়। বাস্তবেই তারা আপন দুই বোন। পরে জীবনের ব্যস্ততায় তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৫ বছর একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। এর মধ্যে দুজনের জীবন এগিয়েছে আলাদা পথে। মীনা নেদারল্যান্ডসে থেকে যান এবং তিন সন্তানের মা হন। মিনাল তার সঙ্গী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের এপ্রিলে আসে জীবনের সবচেয়ে বড় চমক। ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানায়, মীনা ও মিনালের মধ্যে পূর্ণ ভাইবোনের সম্পর্ক রয়েছে। তখনই বহু বছরের পুরোনো বন্ধুত্ব নতুন অর্থ পায়। ফল হাতে পাওয়ার পর প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি মিনাল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে নিশ্চিত হন, ডিএনএ পরীক্ষায় যে আপন বোনের সন্ধান মিলেছে, তিনি সেই পুরোনো বান্ধবীই। দুই বোনের আবেগঘন পুনর্মিলন হয় ১১ আগস্ট নেদারল্যান্ডসে। দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি হয়ে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। কান্না আর হাসিতে কাটে সেই মুহূর্ত। জীবনের এতটা সময় আলাদা থাকার পর প্রথমবার তারা জানতেন, এবার আর তারা শুধু পুরোনো বন্ধু নন, আপন দুই বোন। মীনা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তার মনে হতো জীবনে যেন কিছু একটা অপূর্ণ রয়ে গেছে। বোনকে ফিরে পাওয়ার পর সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। মিনালের অনুভূতিও একই রকম। দত্তক পরিবারে ভালোবাসা পেলেও নিজের জন্মপরিচয় ও রক্তের সম্পর্কের কাউকে না জানার একটি শূন্যতা তার মধ্যে ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। এখন আলাদা দেশে থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন দুই বোন। প্রায় ৩০ বছর আগে যে সম্পর্ক শুরু হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে, তিন দশক পর সেই সম্পর্কের আসল পরিচয় সামনে এসেছে। একটি ডিএনএ পরীক্ষা শুধু তাদের জন্মপরিচয়ের রহস্যই ভাঙেনি, ফিরিয়ে দিয়েছে বহু বছর ধরে অজানা থেকে যাওয়া আপন সম্পর্কও।
মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তে এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হলো দুই দেশের মানুষ। মঙ্গলবার সকালে আবদুল মান্নান (৭০) নামের এক বয়োজ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে নিয়ে আসেন। এরপর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছাখালী মসজিদপাড়ার বাসিন্দা আবদুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের কাছের একটি জমিতে কাঁচা মরিচসহ নানা ফসলের চাষ করে আসছেন। সকালে সেখানে কীটনাশক স্প্রে করতে গেলে বিএসএফ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও বিএসএফ তা শোনেনি। ফলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সচিন কর্মকার ও নারায়ণ দেব নামের দুই ভারতীয় কৃষককে ধরে নিয়ে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা দুইটার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদে হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে আজিবর রহমান (২৩) নামের আরেক বাংলাদেশি তরুণকে আটক করেছে বিএসএফ। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চরের দোনালার মাথা এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় তিনি বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। তার সঙ্গীরা পালিয়ে আসতে পারলেও আজিবর ব্যর্থ হন। বিজিবির কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক জানিয়েছেন, আটক তরুণকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।