মাইক্রোসফট

পরিচালন ব্যয় কমাতে ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা মাইক্রোসফটের, সবচেয়ে বড় ধাক্কা এক্সবক্স গেমিং বিভাগে | ছবি: সংগৃহীত
মাইক্রোসফটে বড় ধাক্কা, ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাইসহ বন্ধ হচ্ছে চার গেমিং স্টুডিও

বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তাদের পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিশাল ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। মূলত কোম্পানির এক্সবক্স গেমিং খাতের লোকসান ও মন্দা কাটিয়ে উঠতেই এই বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরীণ বার্তা অনুযায়ী, এবারের ছাঁটাইয়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে এক্সবক্স গেমিং বিভাগের ওপর। আগামী ২০২৭ অর্থবছর নাগাদ এই বিভাগ থেকে মোট ৩ হাজার ২০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জন কর্মীকে সোমবারই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের পরিমাণ এক্সবক্সের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।   ব্যয় সংকোচনের এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট তাদের অধীনস্থ চারটি জনপ্রিয় গেমিং স্টুডিওর মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২০১০-এর দশকে কিনে নেওয়া ‘কমপালশন গেমস’ এবং ‘ডাবল ফাইন প্রোডাকশনস’ আবার স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করবে। এছাড়া ‘নিনজা থিওরি’ ও ‘আনডেড ল্যাবস’ নতুন মালিকানায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ২০২১ সালে ৮১০ কোটি ডলারে কেনা ‘আর্কেন স্টুডিও’র ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে।   মাইক্রোসফটের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের জানিয়েছেন যে, বর্তমান প্রযুক্তি খাতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পরিবর্তন আসছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সরাসরি এই কর্মীদের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে না, বরং কোম্পানির বাণিজ্যিক খাতের ব্যয় কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করেছিল, যেখানে বহু সিনিয়র কর্মকর্তা অংশ নেন।   চলতি বছরে পুঁজিবাজারে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উইন্ডোজ লাইসেন্স, সারফেস ডিভাইস ও এক্সবক্সের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এক্সবক্সের প্রধান নির্বাহী আশা শর্মা কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, দীর্ঘ এক বছরের এই কঠিন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৭ সালের মধ্যে কোম্পানি আবার আগের মতো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: গেটি ইমেজেস
চিপের দাম বাড়ায় ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও এক্সবক্সের দাম বাড়াচ্ছে অ্যাপল ও মাইক্রোসফট

বিশ্ববাজারে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের তীব্র সংকট এবং উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিজেদের মূল পণ্যগুলোর দাম শত শত ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট। গত বৃহস্পতিবার অ্যাপল তাদের নির্দিষ্ট কিছু ম্যাকবুক এবং আইপ্যাডের দাম সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানায়। এর কিছু সময় পরেই মাইক্রোসফট ঘোষণা করে, আগামী ১ আগস্ট থেকে তাদের জনপ্রিয় এক্সবক্স (Xbox) গেমিং কনসোলের দামও বৃদ্ধি পাবে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ডেটা সেন্টারের ব্যাপক বিস্তারের কারণে চিপের এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।   অ্যাপল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিপ ও যন্ত্রাংশের দাম এত কম সময়ে এতটা বাড়তে তারা আগে কখনো দেখেনি। এতদিন গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ না দিলেও পরিস্থিতি এখন আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট 'দ্য ভার্জ'-এর তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপলের বাজেট-বান্ধব ল্যাপটপ 'ম্যাকবুক নিও'র দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৯৯ ডলার করা হয়েছে। এছাড়া ৫১২ জিবি ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১,০৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১,২৯৯ ডলার এবং ১ টেরাবাইট ম্যাকবুক প্রোর দাম ১,৬৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১,৯৯৯ ডলার করা হয়েছে। তবে এই দফায় আইফোনের দাম বাড়ানো না হলেও বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, খুব শীঘ্রই আইফোনের দাম বাড়ার ঘোষণাও আসবে। দাম বাড়ার এই খবরের পর অ্যাপলের শেয়ারের দর প্রায় ৫.৬ শতাংশ কমে গেছে।   অন্যদিকে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহৃত মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম ইতিমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে আরও দ্বিগুণ হতে পারে। এই সংকটের কারণে আগামী ১ আগস্ট থেকে ৫১২ জিবি স্টোরেজের এক্সবক্স কনসোলের দাম ১০০ ডলার বাড়িয়ে প্রায় ৫০০ ডলার করা হচ্ছে। এছাড়া ১ টেরাবাইট স্টোরেজের এক্সবক্সের দাম বাড়ছে ১৫০ ডলার। গত বছরও মাইক্রোসফট তাদের এক্সবক্সের দাম ২০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।   বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (IDC) জানিয়েছে, চিপের এই বিশ্বব্যাপী সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। করোনা মহামারীর সময় কারখানা বন্ধ থাকায় চিপের যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখন এআই প্রযুক্তির বৈপ্লবিক চাহিদার কারণে চরম আকার ধারণ করেছে। গত ১৭ জুন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী (CEO) টিম কুক বলেন, "আমি গত ৪০ বছরে প্রযুক্তির বাজারে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর কখনো দেখিনি।"

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
এপস্টেইনের ছবিতে মুখ ঢাকা নারীর পাশে বিল গেটস।
তিন নারীর সঙ্গে পরকীয়ার কথা স্বীকার করলেন বিল গেটস

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তিন নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসে কুখ্যাত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত এক তদন্তে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য দেন। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বিল গেটসের দেওয়া এই জবানবন্দির গোপনীয় নথিটি সম্প্রতি জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়েছে।   প্রকাশিত সাক্ষ্যের প্রতিলিপি অনুযায়ী, গত ১০ জুন অনুষ্ঠিত এক দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে বিল গেটস প্রথমে দুই রুশ নারীর সঙ্গে তাঁর গোপন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং অন্যজন পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনা। পরবর্তীতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একের পর এক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি আরও এক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গেও সম্পর্কের কথা মেনে নেন। ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরট নামের ওই নারী একজন নামকরা চিকিৎসা-উদ্যোক্তা।   বিশ্বের একসময়কার শীর্ষ ধনী এই ব্যবসায়ী বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, তিনি দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কোনো যৌন নির্যাতন বা অপরাধ নিজে প্রত্যক্ষ করেননি। এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটানোকে তিনি অতীতেও ‘একটি বড় ভুল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে গেটস আবারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের যৌন অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় অজান্তেই তিনি নির্যাতনের শিকার কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে থেকে থাকতে পারেন, কারণ এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত কিছু নারী ও কিশোরী তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।   সাক্ষ্য চলাকালীন বিল গেটস একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করে বলেন, অতীতে তাঁর মনে এক ধরনের গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে কোনো এক নারীর মাধ্যমে তিনি হয়তো যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এই উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে তিনি সে সময় এপস্টেইন এবং তাঁর পরিচিত এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন। গেটস জানান, ওই দুই রুশ নারীর সাথে তাঁর অবিশ্বস্ততা বা পরকীয়ার কথা জানার পর এপস্টেইন মূলত সেই তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল বা ব্ল্যাকমেইলিং করার পরিকল্পনা করেছিলেন।   কংগ্রেসের নথিতে দেখা যায়, ২০১৩ সালের একটি গোপন ই-মেইলে এপস্টেইন সরাসরি ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরটের নাম উল্লেখ করেছিলেন। আইনপ্রণেতারা সেই ই-মেইলটি বিল গেটসের সামনে প্রদর্শন করার পর তিনি বাধ্য হয়ে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এপস্টেইন তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করলেও কখনো সফলভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে পারেননি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে মোট ১২ থেকে ১৪ বার সশরীরে সাক্ষাৎ করেছেন এবং দুবার স্কাইপ ভিডিও কলে কথা বলেছেন।   গেটস দাবি করেন, এসব বৈঠকের বেশিরভাগই মূলত দাতব্য কার্যক্রম ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করার জন্য হয়েছিল। ২০১১ সালে এপস্টেইনের পূর্ববর্তী যৌন অপরাধের দণ্ড সম্পর্কে জানার পরও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বড় অনুদান সংগ্রহের আশায় তিনি সীমিত পরিসরে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তবে পরবর্তীতে কোনো প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় ২০১৪ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেন। ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যাওয়া এপস্টেইনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত বছর থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ শুরু করার পর থেকেই বিল গেটসের এই পুরোনো অধ্যায় নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।   সূত্র: টেলিগ্রাফ

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আমেরিকার বিলাসবহুল শহর। ছবি:সংগৃহীত

নতুন বাসিন্দা খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, দিচ্ছে ২৩ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০