তথ্যপ্রযুক্তি

মাইক্রোসফটে বড় ধাক্কা, ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাইসহ বন্ধ হচ্ছে চার গেমিং স্টুডিও

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১০:৪০
পরিচালন ব্যয় কমাতে ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা মাইক্রোসফটের, সবচেয়ে বড় ধাক্কা এক্সবক্স গেমিং বিভাগে | ছবি: সংগৃহীত
পরিচালন ব্যয় কমাতে ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা মাইক্রোসফটের, সবচেয়ে বড় ধাক্কা এক্সবক্স গেমিং বিভাগে | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তাদের পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিশাল ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। মূলত কোম্পানির এক্সবক্স গেমিং খাতের লোকসান ও মন্দা কাটিয়ে উঠতেই এই বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

 

মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরীণ বার্তা অনুযায়ী, এবারের ছাঁটাইয়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে এক্সবক্স গেমিং বিভাগের ওপর। আগামী ২০২৭ অর্থবছর নাগাদ এই বিভাগ থেকে মোট ৩ হাজার ২০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জন কর্মীকে সোমবারই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের পরিমাণ এক্সবক্সের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

 

ব্যয় সংকোচনের এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট তাদের অধীনস্থ চারটি জনপ্রিয় গেমিং স্টুডিওর মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২০১০-এর দশকে কিনে নেওয়া ‘কমপালশন গেমস’ এবং ‘ডাবল ফাইন প্রোডাকশনস’ আবার স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করবে। এছাড়া ‘নিনজা থিওরি’ ও ‘আনডেড ল্যাবস’ নতুন মালিকানায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ২০২১ সালে ৮১০ কোটি ডলারে কেনা ‘আর্কেন স্টুডিও’র ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে।

 

মাইক্রোসফটের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের জানিয়েছেন যে, বর্তমান প্রযুক্তি খাতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পরিবর্তন আসছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সরাসরি এই কর্মীদের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে না, বরং কোম্পানির বাণিজ্যিক খাতের ব্যয় কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করেছিল, যেখানে বহু সিনিয়র কর্মকর্তা অংশ নেন।

 

চলতি বছরে পুঁজিবাজারে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উইন্ডোজ লাইসেন্স, সারফেস ডিভাইস ও এক্সবক্সের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এক্সবক্সের প্রধান নির্বাহী আশা শর্মা কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, দীর্ঘ এক বছরের এই কঠিন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৭ সালের মধ্যে কোম্পানি আবার আগের মতো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
পরিচালন ব্যয় কমাতে ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা মাইক্রোসফটের, সবচেয়ে বড় ধাক্কা এক্সবক্স গেমিং বিভাগে | ছবি: সংগৃহীত
মাইক্রোসফটে বড় ধাক্কা, ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাইসহ বন্ধ হচ্ছে চার গেমিং স্টুডিও

বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তাদের পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিশাল ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। মূলত কোম্পানির এক্সবক্স গেমিং খাতের লোকসান ও মন্দা কাটিয়ে উঠতেই এই বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরীণ বার্তা অনুযায়ী, এবারের ছাঁটাইয়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে এক্সবক্স গেমিং বিভাগের ওপর। আগামী ২০২৭ অর্থবছর নাগাদ এই বিভাগ থেকে মোট ৩ হাজার ২০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জন কর্মীকে সোমবারই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের পরিমাণ এক্সবক্সের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।   ব্যয় সংকোচনের এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট তাদের অধীনস্থ চারটি জনপ্রিয় গেমিং স্টুডিওর মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২০১০-এর দশকে কিনে নেওয়া ‘কমপালশন গেমস’ এবং ‘ডাবল ফাইন প্রোডাকশনস’ আবার স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করবে। এছাড়া ‘নিনজা থিওরি’ ও ‘আনডেড ল্যাবস’ নতুন মালিকানায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ২০২১ সালে ৮১০ কোটি ডলারে কেনা ‘আর্কেন স্টুডিও’র ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে।   মাইক্রোসফটের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের জানিয়েছেন যে, বর্তমান প্রযুক্তি খাতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পরিবর্তন আসছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সরাসরি এই কর্মীদের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে না, বরং কোম্পানির বাণিজ্যিক খাতের ব্যয় কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করেছিল, যেখানে বহু সিনিয়র কর্মকর্তা অংশ নেন।   চলতি বছরে পুঁজিবাজারে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উইন্ডোজ লাইসেন্স, সারফেস ডিভাইস ও এক্সবক্সের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এক্সবক্সের প্রধান নির্বাহী আশা শর্মা কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, দীর্ঘ এক বছরের এই কঠিন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৭ সালের মধ্যে কোম্পানি আবার আগের মতো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১০:৪০
মঙ্গলে যাওয়ার সময় এক-দুই মাসে নামিয়ে আনতে রাশিয়ার নতুন প্লাজমা ইঞ্জিনের প্রোটোটাইপ তৈরি | ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার নতুন ইঞ্জিন তৈরি রাশিয়ার, পৌঁছানো যাবে মাত্র ৩০ দিনে

মুম্বাইয়ের রাস্তায় টাঙানো অ্যাপল আইফোনের বিশাল বিজ্ঞাপনের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি | ছবি: রয়টার্স

আইফোন ১৮ প্রোর গোপন তথ্য এবং ছবি ফাঁস, বিপাকে অ্যাপল ও টাটা

ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ

ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, আসছে ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা

পরীক্ষায় নকলের নিত্যনতুন মাধ্যম এখন ‘এআই চশমা’ | ছবি: পেক্সেলস
পরীক্ষায় নকলের নতুন মাধ্যম এআই চশমা, প্রশ্ন দেখলেই লেন্সে ভেসে ওঠে উত্তর

বিশ্বজুড়ে পরীক্ষায় নকল বা জালিয়াতির জন্য শিক্ষার্থীরা নিত্যনতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করছেন। পূর্বে কাগজের টুকরো বা হাতে লিখে নকল করার প্রবণতা থাকলেও এখন পরীক্ষার হলে জালিয়াতির বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চশমা। এই আধুনিক চশমাগুলোর লেন্সে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর ভেসে ওঠে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এআই চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষা পাসের এই অনৈতিক প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।   সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন দুই পরীক্ষার্থীকে এআই চশমাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এটিই এআই চশমা দিয়ে জালিয়াতি ধরার প্রথম ঘটনা। অপরদিকে তাইওয়ানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে একইভাবে ধরা হয়। প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী অস্বাভাবিকভাবে চশমার দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং পরীক্ষা করে দেখা যায় তার চশমা থেকে অতিরিক্ত তাপ নির্গত হচ্ছিল।   এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গত মাসে চীন তাদের ঐতিহ্যবাহী ও অত্যন্ত কঠিন কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সব ধরনের চশমা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করেছে। উল্লেখ্য, এ বছর চীনের এই মর্যাদাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় এক কোটি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার হলের প্রবেশমুখেই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চশমাগুলো যাচাই করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।   বিশ্ববাজারে বর্তমানে এআই চশমার উৎপাদন ও বিক্রি দুটিই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ২০২৩ সালে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ‘রে-ব্যান’ নামের বিশেষ এআই চশমা বাজারে আনার পর এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। শুধুমাত্র গত বছরই মেটা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ এআই চশমা বিক্রি করেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চশমা দিয়ে পরীক্ষায় জালিয়াতির এই বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনে এটি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।   হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মেং জিল্লি বাজারে প্রচলিত এআই চশমা নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে, চশমাটি পরে প্রশ্নপত্রের দিকে তাকালেই ভেতরের ক্যামেরা প্রশ্নটিকে রিড করে বৃহৎ এআই মডেলে পাঠিয়ে দেয়। এরপর এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর তৈরি করে চোখের সামনে থাকা চশমার লেন্সে প্রদর্শন করে। তিনি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর ওপর এই চশমা দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন যে তারা সবাই মেধা তালিকায় সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন।   সূত্র: সিএনএন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১০:৩৪
বুর্জ খলিফার নির্মাণ ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে জিটিএ সিক্সের বাজেট। ছবি: সংগৃহীত

বুর্জ খলিফার চেয়েও বেশি ব্যয়ে তৈরি হতে পারে জিটিএ সিক্স, মুক্তির অপেক্ষায় গেমপ্রেমীরা

ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস

ট্রিলিয়ন ডলারের এআই বাণিজ্যে বড় ধস, চরম গ্রাহক সংকটে টেক জায়ান্টরা

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের কাছ থেকেই বৈষম্য আর বর্ণবাদ শিখছে এআই, জাতিসংঘের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। | ছবি: সংগৃহীত
এআই মানুষের চাকরি কাড়বে না, বরং শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে: জেফ বেজোস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে—বিশ্বজুড়ে চলমান এমন তীব্র উদ্বেগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিলেন ই-commerce জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। প্যারিসে আয়োজিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি মেলা ‘ভিভাটেক’-এ অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, এআই প্রযুক্তির কারণে মানুষের চাকরি হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই, বরং এর ফলে ভবিষ্যতে বাজারে শ্রমের চাহিদা আরও বাড়বে।   যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ অনেক প্রযুক্তিবিদ যখন তরুণদের কর্মসংস্থানে এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তখন বেজোস সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আশাবাদী এক চিত্র তুলে ধরলেন। নিজের নতুন এআই উদ্যোগ ‘প্রমিথিউস’ (যা উৎপাদন শিল্পকে গতিশীল করতে কাজ করছে) নিয়ে আলোচনাকালে বেজোস বলেন, "আমি জানি অনেক স্মার্ট মানুষ মনে করছেন এআই মানুষকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে। আমি এই ভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। আমার মনে হয়, এআই আসলে ভবিষ্যতে শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে এবং মানুষের কাজের নতুন নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে।"   তবে বেজোসের এই আশাবাদের বিপরীতে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ‘ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস’। তারা সতর্ক করে বলেছে, সঠিক নীতিমালা না থাকলে এআই-এর কারণে কেবল বড় বড় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররাই ধনী হবে, আর সাধারণ কর্মীরা চাকরি হারাবে।   প্রযুক্তি সম্মেলনের মূল মঞ্চে বেজোস তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও শেয়ার করেন। চাঁদে স্থায়ী মানব বসতি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "আমরা চাঁদে শুধু বেড়াতে যাচ্ছি না, সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য যাচ্ছি।" চাঁদের সম্পদ ও 'তড়িৎবিশ্লেষণ' প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেটের জ্বালানি তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।   গত মে মাসে ফ্লোরিডায় ব্লু অরিজিনের মনুষ্যবিহীন ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণকে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে স্বীকার করেন বেজোস। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটায় নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করে তিনি জানান, চলতি বছর শেষের আগেই তারা পুনরায় রকেট উৎক্ষেপণে সক্ষম হবেন। মহাকাশ বাজারের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বর্তমানে ইলন মাস্কের ‘স্পেসএক্স’-এর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে বেজোসের ব্লু অরিজিন।   মেলাটিতে দর্শকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ইউনিট্রি’ কোম্পানির তৈরি একটি হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট। কোনো কথা বা রিমোট ছাড়াই, মাথায় একটি বিশেষ ‘ইইজি’ হেডব্যান্ড পরে মানুষ শুধুমাত্র নিজের মস্তিষ্কের তরঙ্গের সাহায্যে রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে দেখিয়েছে। এই প্রদর্শনী প্রমাণ করে যে, এআই এখন আর কেবল চ্যাটবটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বাস্তব পৃথিবীতে রোবটের রূপ নিয়ে মানুষের পাশাপাশি কাজ করতে প্রস্তুত হচ্ছে।   সূত্র: বিবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২:২৭
ছবি: সংগৃহীত

এআই চাহিদায় চিপের দাম বেড়েছে, বাড়তে পারে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্যের দাম

ইলন মাস্কের আগেই বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন পেল চীন। ছবি: রয়টার্স

চিন্তার মাধ্যমে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের যুগ? বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন

ছবি:  আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স

সামাজিক মাধ্যমের ছবির ‘ভিক্টরি সাইন’ থেকে যেভাবে চুরি হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

0 Comments