মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

এভাবে চললে দেশের ক্ষতি বাড়তেই থাকবে
'এভাবে চললে দেশের ক্ষতি বাড়তেই থাকবে’, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও শুল্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প!

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আগের বিস্তৃত আমদানি শুল্ক বাতিল হওয়ার পরও নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং ভিন্ন আইনি ভিত্তি ব্যবহার করে নতুন করে শুল্ক কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে তাঁর প্রশাসন। এতে আবারও বৈশ্বিক বাণিজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এবার ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করছে। প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তাদের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক বসানো হবে। এই শুল্ক ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারকে প্রভাবিত করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ শতাংশেরও বেশি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে।    এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ককে আইনসম্মত নয় বলে রায় দেয়। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি বিদ্যমান কিছু শুল্ক বাড়াবেন এবং প্রয়োজনে নতুন আইনি কাঠামো ব্যবহার করে আবারও শুল্ক আরোপ করবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।    তবে নতুন শুল্ক নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদদের একাংশের আশঙ্কা, নতুন শুল্কের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে এবং বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে।    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শুল্ক এবার ভিন্ন আইনের আওতায় আরোপ করা হলেও তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নতুন শুল্কের বৈধতা নিয়ে মামলা করেছে। ফলে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আবারও আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী

বাংলাদেশি-আমেরিকান আইনজীবী অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট ওফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস এ আইনজীবী হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছেন। এই অনুমোদনের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে মামলা দায়ের, আবেদন উপস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মক্কেলের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে তিনি এটিকে তাঁর পেশাজীবনের একটি গর্বের মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মঈন চৌধুরী লিখেছেন, “আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত Supreme Court of the United States-এ Admitted Attorney at Law হিসেবে আমি গর্বিত।”     যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পাওয়া একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশাগত স্বীকৃতি। এ অনুমোদন পেতে একজন আইনজীবীকে সাধারণত অন্তত তিন বছর কোনো অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের বারে সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় থাকতে হয়। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে আগে থেকেই অনুমোদিত দুইজন আইনজীবীর সুপারিশ, নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং শপথ গ্রহণের মতো আনুষ্ঠানিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।   অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী নিউইয়র্ক, মিশিগানে সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত আইনজীবীদের একজন। অভিবাসন আইনসহ বিভিন্ন আইনি বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মক্কেল রয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।   তাঁর এই অর্জনের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী আইনজীবী, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই এটিকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি আইনজীবীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   বাংলদেশি কমিউনিটির নেতাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তি একজন অ্যাটর্নির পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সুনামের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। যদিও দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক মামলার শুনানি হয়, তবুও সেখানে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আইন পেশায় একটি সম্মানজনক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।

তাবাস্সুম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
মানহানি মামলার লেখিকা ই জিন ক্যারল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
লেখিকা ই জিন ক্যারলকে ধর্ষণের মামলায় ৫০ লাখ ডলার জরিমানা আটকাতে ট্রাম্পের নতুন আবেদন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখিকা ই জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ডলার দেওয়ানি মামলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত করার জন্য আদালতের কাছে নতুন করে সময় চেয়েছেন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানানোর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাঁর আইনজীবীরা এই আবেদনটি দাখিল করেন। সুদসহ বর্তমানে এই ক্ষতিপূরণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮ লাখ (৫.৮ মিলিয়ন) ডলার।   আদালতে জমা দেওয়া নতুন নথিতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁর আগের প্রধান আইনজীবী জাস্টিন স্মিথ গত মাসে ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় নতুন প্রধান আইনজীবী জশ হ্যালপার্নকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মামলার সমস্ত তথ্য এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা নিতে নতুন আইনজীবীর আরও কিছু বাড়তি সময় প্রয়োজন।   ২০২৩ সালের মে মাসে একটি জুরি বোর্ড এই রায় দেয় যে, ট্রাম্প ১৯৯৬ সালে ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালে ক্যারল যখন এই ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন, তখন ট্রাম্প তাঁর মানহানি করেন। ট্রাম্প এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধের জন্য আদালতের একটি বিশেষ তহবিলে অর্থ জমা রাখলেও সেই অর্থ ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়াটি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।   ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতের কাছে ক্যারলের পাওনা পরিশোধের আবেদনের জবাব দেওয়ার সময়সীমা আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই সময় বাড়ানোর ফলে ক্যারলের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই, কারণ পুরো অর্থ সুদসহ আদালতের হেফাজতেই সুরক্ষিত রয়েছে।   can অন্যদিকে ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেছেন, ট্রাম্পের এই অনুরোধ সময় ক্ষেপণ করার একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। কাপলান আরও জানান, ট্রাম্পের আগের আইনজীবী পাঁচ মাস আগেই বিচারক পদের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন, তাই নতুন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল।   ট্রাম্প অবশ্য শুরু থেকেই ক্যারলের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আপিল খারিজ করার পরও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মামলাটিকে 'আইনি অস্ত্রের অপব্যবহার' হিসেবে আখ্যায়িত করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
মেয়েদের খেলায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণে অঙ্গরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ৬-৩ ভোটের রায়ে আদালত বলেছে, এসব আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সমান সুরক্ষা (Equal Protection) ধারার লঙ্ঘন করে না। এ রায়কে ট্রান্সজেন্ডার অধিকার, স্কুল-কলেজ পর্যায়ের ক্রীড়া নীতি এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর ক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সোমবার দেওয়া এ রায়ের ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি অঙ্গরাজ্যে মেয়েদের ক্রীড়ায় জন্মগতভাবে পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আরোপিত একই ধরনের বিধিনিষেধ আরও শক্ত আইনি ভিত্তি পেল।   সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখেছেন বিচারপতি ব্রেট কাভানফ। তিনি বলেন, এ ধরনের বিরোধে জড়িত অধিকাংশ জৈবিক নারী ও ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী কিশোর বা তরুণ। তারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চায় এবং সেই আগ্রহ সম্মানের দাবিদার। তিনি আরও বলেন, এই বিতর্কের কোনো পক্ষের শিক্ষার্থীই সামাজিকভাবে একঘরে হওয়া বা বিদ্বেষের শিকার হওয়ার যোগ্য নয়।   মামলায় দুই ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেট পৃথকভাবে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আইন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এসব আইন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সমান সুরক্ষা বিধান এবং বৈষম্যবিরোধী আইনের পরিপন্থী। তবে শুনানির সময় আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মেয়েদের ক্রীড়ার সুরক্ষার স্বার্থে অঙ্গরাজ্যগুলোর নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। তারা উল্লেখ করেন, ফেডারেল আইনেও ক্রীড়াক্ষেত্রে জৈবিক লিঙ্গভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের সুযোগ রয়েছে।   আইডাহোর মামলায় বোইসি স্টেট ইউনিভার্সিটির ট্র্যাক ও ক্রস-কান্ট্রি অ্যাথলেট হতে আগ্রহী ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী লিন্ডসে হেকক্স রাজ্যের ‘ফেয়ারনেস ইন উইমেনস স্পোর্টস অ্যাক্ট’-এর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, আইনটি সংবিধানের সমান সুরক্ষা বিধান লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মামলায় ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী বেকি পেপার-জ্যাকসনের পক্ষে তার মা ‘সেভ উইমেনস স্পোর্টস অ্যাক্ট’-এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করেন। মামলায় সংবিধানের পাশাপাশি ১৯৭২ সালের টাইটেল নাইন আইনের ব্যাখ্যাও উঠে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করলেও পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে ক্রীড়াক্ষেত্রে জৈবিক লিঙ্গভিত্তিক বিভাগ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।   এই দুই মামলা, ‘লিটল বনাম হেকক্স’ এবং ‘ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বনাম বি.পি.জে.’, প্রথমবারের মতো মেয়েদের ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করল। এর আগে গত বছর সুপ্রিম কোর্ট অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ট্রান্সজেন্ডার-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা সীমিত বা নিষিদ্ধ করার অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনও বহাল রেখেছিল।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ওয়াশিংটনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট | ছবি: এপি
আমেরিকায় লাখ লাখ অভিবাসীর থাকার বিশেষ সুবিধা বাতিলের অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

আমেরিকায় বসবাসরত হাইতি এবং সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য বরাদ্দ থাকা বিশেষ আইনি সুবিধা ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা টিপিএস (TPS) পুরোপুরি বাতিল করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এক ঐতিহাসিক ৬-৩ ব্যবধানের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী টিপিএস সুবিধা দেওয়া বা তা বাতিলের মতো সিদ্ধান্তের ওপর বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কোনো সুযোগ নেই। একই সাথে বর্ণ বৈষম্যের কারণে হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিল করা হয়েছিল বলে চ্যালেঞ্জকারীদের করা দাবিটি আদালতে টেকেনি।   সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের পক্ষে লেখা রায়ে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিতো উল্লেখ করেন, সিরিয়া ও হাইতির নাগরিকদের জন্য সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদা বা টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন এই আদেশ স্থগিত রাখার কোনো আইনি অধিকার চ্যালেঞ্জকারীদের নেই। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং বিচারপতি ব্রেট কাভানো এই রায়ের পক্ষে একমত পোষণ করেন। এর আগে নিম্ন আদালত এই টিপিএস সুবিধা বাতিলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছিলেন।   প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধবিগ্রহের কারণে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যদি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের উপযোগী না থাকে, তবে তাদের সুরক্ষায় মার্কিন কংগ্রেস ১৯৯০ সালে এই টিপিএস প্রথা চালু করে। এর মাধ্যমে অন্য দেশের নাগরিকরা বৈধভাবে আমেরিকায় বসবাসের সুযোগ পান এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ থাকে। ২০১০ সালে হাইতিতে হওয়া এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির নাগরিকদের এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে অসংখ্য হাইতিয়ান নাগরিক দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার সুযোগ পেয়ে আসছিলেন।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিলের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে যে, হাইতিয়ান গ্যাং বা অপরাধী দলগুলো, যাদের মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ সুবিধাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও আদালতে যুক্তি দেখিয়েছে যে, তারা সমস্ত সংবিধবদ্ধ বাধ্যবাধকতা মেনেই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই টিপিএস সুবিধা বাতিলে পদক্ষেপ নিয়েছে।   অন‍্যদিকে, হাইতি এবং সিরিয়ার নাগরিকদের পক্ষে লড়াই করা মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ খামখেয়ালি এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো আইনি নিয়ম অনুসরণ করে করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সরকার সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ করে হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের এই আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই দুই দেশের নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিল করার পথ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে গেল।   মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে হাইতি ও সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসী এখন চরম বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়লেন। দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই চলার পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।  

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি । প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সংবিধান-প্রদত্ত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা বাতিলের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে 'ট্রাম্প বনাম বারবারা' মামলার শুনানি ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমেরিকান নাগরিক স্বাধীনতা ইউনিয়ন তার এই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলে চ্যালেঞ্জ করেছে। যদি আদালত ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের নয়, বরং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়বে—যা মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ ১৪১৬০ স্বাক্ষর করেন, যার নাম 'আমেরিকান নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করা'। এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কর্মভিসা, শিক্ষাভিসাধারী, ডিএসিএ সুবিধাভোগী এবং মানবিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, শুধুমাত্র নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানরাই 'যুক্তরাষ্ট্রের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন'; অবৈধ বা অস্থায়ী অভিবাসীদের সন্তানরা নয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে সংবিধানের সংশোধনী পরিবর্তন করতে পারেন না।   এই পরিস্থিতির তুলনা করা হচ্ছে চতুর্দশ সংশোধনী পাস হওয়ার আগের সময়ের সঙ্গে। ১৮৫৭ সালের 'ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছিল যে কৃষ্ণাঙ্গরা নাগরিক নয়। পরবর্তীতে ১৮৬৬ সালের সিনেট বিতর্ক এবং ১৮৯৮ সালের 'ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আর্ক' মামলার রায়ে নিশ্চিত করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল মানুষই নাগরিক। ট্রাম্পের বর্তমান প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে এক ধরনের শ্রেণিভেদ তৈরি হতে পারে, যেখানে নাগরিকত্ব জন্মস্থানের বদলে বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।   ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে 'আপনার কাগজপত্র দেখান' ধরনের পরিস্থিতি এবং জাতিগত প্রোফাইলিং বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। মিনেসোটা ও ফ্লোরিডায় বৈধ মার্কিন নাগরিকদের ভুলবশত আটক করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ১ এপ্রিল সেসিলিয়া ওয়াং সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তিনি এবং তার সংগঠন সংবিধান রক্ষার পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার ভোগ করতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্গঠন যুগের একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি।

তাবাস্সুম মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আমেরিকার বিলাসবহুল শহর। ছবি:সংগৃহীত

নতুন বাসিন্দা খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, দিচ্ছে ২৩ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০