আমেরিকা

আমেরিকায় লাখ লাখ অভিবাসীর থাকার বিশেষ সুবিধা বাতিলের অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১১:২৫
ওয়াশিংটনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট | ছবি: এপি
ওয়াশিংটনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট | ছবি: এপি

আমেরিকায় বসবাসরত হাইতি এবং সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য বরাদ্দ থাকা বিশেষ আইনি সুবিধা ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা টিপিএস (TPS) পুরোপুরি বাতিল করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এক ঐতিহাসিক ৬-৩ ব্যবধানের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী টিপিএস সুবিধা দেওয়া বা তা বাতিলের মতো সিদ্ধান্তের ওপর বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কোনো সুযোগ নেই। একই সাথে বর্ণ বৈষম্যের কারণে হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিল করা হয়েছিল বলে চ্যালেঞ্জকারীদের করা দাবিটি আদালতে টেকেনি।

 

সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের পক্ষে লেখা রায়ে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিতো উল্লেখ করেন, সিরিয়া ও হাইতির নাগরিকদের জন্য সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদা বা টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন এই আদেশ স্থগিত রাখার কোনো আইনি অধিকার চ্যালেঞ্জকারীদের নেই। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং বিচারপতি ব্রেট কাভানো এই রায়ের পক্ষে একমত পোষণ করেন। এর আগে নিম্ন আদালত এই টিপিএস সুবিধা বাতিলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছিলেন।

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধবিগ্রহের কারণে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যদি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের উপযোগী না থাকে, তবে তাদের সুরক্ষায় মার্কিন কংগ্রেস ১৯৯০ সালে এই টিপিএস প্রথা চালু করে। এর মাধ্যমে অন্য দেশের নাগরিকরা বৈধভাবে আমেরিকায় বসবাসের সুযোগ পান এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ থাকে। ২০১০ সালে হাইতিতে হওয়া এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির নাগরিকদের এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে অসংখ্য হাইতিয়ান নাগরিক দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার সুযোগ পেয়ে আসছিলেন।

 

তবে ট্রাম্প প্রশাসন হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিলের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে যে, হাইতিয়ান গ্যাং বা অপরাধী দলগুলো, যাদের মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ সুবিধাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও আদালতে যুক্তি দেখিয়েছে যে, তারা সমস্ত সংবিধবদ্ধ বাধ্যবাধকতা মেনেই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই টিপিএস সুবিধা বাতিলে পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

অন‍্যদিকে, হাইতি এবং সিরিয়ার নাগরিকদের পক্ষে লড়াই করা মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ খামখেয়ালি এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো আইনি নিয়ম অনুসরণ করে করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সরকার সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ করে হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের এই আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই দুই দেশের নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিল করার পথ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে গেল।

 

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে হাইতি ও সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসী এখন চরম বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়লেন। দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই চলার পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লন্ডনে পড়তে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীর মৃত্যু
লন্ডনে পড়তে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীর মৃত্যু, জনপ্রিয় ওজন কমানোর ইনজেকশন নিয়ে তদন্তে চাঞ্চল্য

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লন্ডনে পড়াশোনা করতে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ওজন কমানোর ওষুধ তিরজেপাটাইডের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত তদন্তে ওই ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং এর সম্ভাব্য কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। সেখানে শিক্ষার্থী তিরজেপাটাইড ব্যবহার করেছিলেন কি না এবং এর সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তিরজেপাটাইডই মৃত্যুর কারণ ছিল এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।   তিরজেপাটাইড মূলত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত ওজন কমানোর চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ। এটি ক্ষুধা কমাতে এবং খাবার হজমতন্ত্রে ধীরে চলতে সহায়তা করে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে ওজন কমানোর জন্য এই ধরনের ওষুধের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   ওষুধটির সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের অস্বস্তি রয়েছে। বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।   তবে কোনো ব্যক্তি ওষুধটি ব্যবহারের পর মারা গেছেন বলেই ওই ওষুধ সরাসরি মৃত্যুর কারণ ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা নথি, শারীরিক পরীক্ষা, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ বিবেচনা করা হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিরজেপাটাইডকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করা যাচ্ছে না। তদন্তের চূড়ান্ত ফলেই জানা যাবে, ওষুধটির সঙ্গে ওই মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১:২১
তুষারে বন্ধ পথ, ডায়ালাইসিসে যেতে হবে বৃদ্ধার

তুষারে বন্ধ পথ, ডায়ালাইসিসে যেতে হবে বৃদ্ধার, তাই ভোর সাড়ে ৪টায় শাবল হাতে ৫ কিশোর

কিম কারদাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

কিম কার্দাশিয়ানের বাড়িতে ঢুকে বিলাসবহুল গাড়ি চুরি, তা নিয়েই এলাকাজুড়ে ঘুরে বেড়াল চোর

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হিড়িক, কেন অ্যারিজোনার দিকে ছুটছেন হাজারো পরিবার?

যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়ারবল লটারির জ্যাকপট বেড়ে ৯০৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৯০৫ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট, ভাগ্য বদলের স্বপ্নে কোটি মানুষের নজর

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় লটারি 'পাওয়ারবল'-এর জ্যাকপট পুরস্কারের অঙ্ক ফুলেফেঁপে ৯০০ মিলিয়ন বা ৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। গত শনিবারের ড্রতে কেউই চূড়ান্ত বিজয়ী না হওয়ায় সোমবারের (১০ আগস্ট) ড্রয়ের জন্য এই পুরস্কারের পরিমাণ বেড়ে ৯০ কোটি ৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি পাওয়ারবলের ইতিহাসে অষ্টম বৃহত্তম জ্যাকপট। তবে লটারি জেতার এই হাতছানি যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, পরিসংখ্যান বলছে এই পুরস্কার জেতার চেয়ে একজন মানুষের দুবার বজ্রপাতের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।   পাওয়ারবল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সোমবারের ড্রতে যদি কেউ এই বিপুল অঙ্কের জ্যাকপট জিতে নেন, তবে তিনি দুটি উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন। বিজয়ী চাইলে পরবর্তী ২৯ বছর ধরে ৩০টি কিস্তিতে পুরো অর্থ নিতে পারবেন, অথবা এককালীন নগদ অর্থ হিসেবে কর দেওয়ার আগে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার (৩৯২ মিলিয়ন) তুলে নিতে পারবেন।   জানা গেছে, গত ২ মে-এর পর থেকে পাওয়ারবলের জ্যাকপট কেউ জিততে পারেননি। টানা কয়েক মাস ড্রগুলোতে বিজয়ী না থাকায় পুরস্কারের অঙ্ক ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এর আগে ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ব্যক্তি পাওয়ারবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২.০৪ বিলিয়ন বা ২০৪ কোটি ডলার জিতে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন।   পাঁচটি সাদা বল এবং একটি পাওয়ারবল মিলিয়ে জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনা রীতিমতো শূন্যের কাছাকাছি। সংখ্যায় হিসাব করলে যা ২৯ কোটি ২২ লাখ ১ হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে মাত্র ১ জনের। ভবিষ্যদ্বাণী এবং পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘অডসরেফারেন্স’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাওয়ারবল জ্যাকপট জেতার চেয়ে মানুষের বজ্রপাতের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা ১৯ হাজার গুণ বেশি। অন্যান্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন মানুষের জীবদ্দশায় লটারি জেতার চেয়ে দুইবার বজ্রপাতের শিকার হওয়া, প্রাকৃতিকভাবে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দেওয়া বা উল্কাপিন্ডের আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।   শনিবারের ড্রতে মূল জ্যাকপটের ৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার কেউ না জিতলেও কয়েকজন ভাগ্যবান মোটা অঙ্কের অর্থ জিতেছেন। পাওয়ারবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টেক্সাসের এক বাসিন্দা পাঁচটি সাদা বল এবং ‘পাওয়ার প্লে’ মিলিয়ে ২০ লাখ ডলার জিতেছেন। এছাড়া নিউইয়র্কসহ অন্যান্য স্থানে বিক্রি হওয়া আরও চারটি টিকিটে পাঁচটি সাদা বল মিলে যাওয়ায় প্রত্যেকে ১০ লাখ ডলার করে পুরস্কার পেয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সোমবার, বুধবার এবং শনিবার পাওয়ারবলের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ড্র সোমবার (১০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ১১টার ঠিক আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২৩:২৮
নিউ জার্সি সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা যায় সহকারী ন্যাটালি হার্পকে। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী মেলানিয়ার অনুপস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে পুরো ছুটি কাটালেন তাঁর 'সবচেয়ে সুন্দরী' সহকারী

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা বিপুল সংখ্যক গাঁজার গাছ। ছবি: সংগৃহীত

বসতবাড়িকে বানিয়েছিলেন গাঁজার চাষকেন্দ্র, ২৪৬টি গাছসহ গ্রেপ্তার টেনেসির বাসিন্দা

ক্যালিফোর্নিয়ার পিটসবার্গ শহরের ড্রিম কোর্টস প্রকল্পের অর্থ সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অন্য হিসাবে পাঠানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

হ্যাকারদের অভিনব ফাঁদ, ক্যালিফোর্নিয়ার শহর কর্তৃপক্ষের ৯ লাখ ডলার গায়েব

কোবরা, অ্যানাকোন্ডা ও বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
অনুমতি ছাড়াই গুদামে রাখা হয়েছিল ৪৬টি বিষধর সাপ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে অ্যানাকোন্ডা ও মারাত্মক বিষধর কোবরাসহ মোট ৪৯টি ভয়ংকর সরীসৃপ প্রাণী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গুদামের মালিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   কানেকটিকাট এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি বিস্তারিত তদন্তের সূত্র ধরে হ্যামডেন এলাকার ওই গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো এই অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে দুটি বড় আকারের অ্যানাকোন্ডা, একটি ওয়াটার মনিটর লিজার্ড বা গুইশাপ এবং ৪৬টি মারাত্মক বিষধর সাপ।   উদ্ধার হওয়া ৪৬টি বিষধর সাপের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক ও কোবরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৩টি টিম্বার র‍্যাটলস্নেক, ছয়টি প্রেইরি র‍্যাটলস্নেক, পাঁচটি ডাস্কি পিগমি র‍্যাটলস্নেক, চারটি কেরেটারান ডাস্কি র‍্যাটলস্নেক এবং দুটি করে অ্যারিজোনা ব্ল্যাক, ব্ল্যাক-টেইলড, মটলড রক, নিওট্রপিক্যাল, উরাকোয়ান ও ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক। এ ছাড়াও সেখানে একটি ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক, একটি প্যানামিন্ট র‍্যাটলস্নেক, একটি অ্যালবিনো ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক এবং একটি ভয়ংকর কেপ কোবরা পাওয়া গেছে।   এই বেআইনি কাজের দায়ে টাইলর ফস্টার এবং গুদামের মালিক ব্রায়ান রোমান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণী নিজেদের দখলে রাখা এবং বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী আটকে রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   কানেকটিকাট পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই প্রাণীগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। বৈধ এবং সঠিক অনুমতিপত্র ছাড়া কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে এই ধরনের প্রাণী ব্যক্তিগত দখলে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উদ্ধার হওয়া সাপগুলোকে বর্তমানে একটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।   তবে ঠিক কী কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে এই দুই ব্যক্তি এতগুলো বিপজ্জনক ও বিষধর সাপ নিজেদের কাছে রেখেছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রাণীগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২২:২৩
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়ে অভিভাবকদের ব্যয় বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিভাবকদের বাড়তি চাপ, স্কুলসামগ্রীর দাম বেড়েছে ৭.৭ শতাংশ

মেইনের বাথ শহরের শতবর্ষী ‘ডিয়ারিং হাউস’ মাত্র ১ ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে শতবর্ষী ঐতিহাসিক বাড়ি, তবে রয়েছে একটি শর্ত

ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা উপকূলে অবস্থিত বিলাসবহুল ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসেল’ প্রাসাদ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো বিলাসবহুল বাড়ি ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসল’ বিক্রি হচ্ছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে

0 Comments