দুই বছরে সর্বোচ্চ ড্রোন হামলা, মস্কোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের আক্রমণ—দাবি রুশ গণমাধ্যমের
ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে গত দুই বছরে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টাস। হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাতভর অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যেগুলো রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হওয়া হামলার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা কয়েক ডজনের মধ্যে সীমিত থাকত।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫৫টি ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিহত করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোন আজভ সাগরের ওপরেও ধ্বংস করা হয়। হামলার পর মস্কোর সব প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছে রুশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। এর মধ্যে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাপোতনিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও রয়েছে, যেটি মঙ্গলবারও হামলার শিকার হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন আসার সময় আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এবং একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে।
এছাড়া মস্কোর সাদোভোদ ট্রেড সেন্টারের কাছে বড় ধরনের ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। একটি আবাসিক ভবন ও একটি ফিটনেস সেন্টারেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রুশ ও ইউক্রেনীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া পাল্টা হামলায় সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এতে কিয়েভ ও পোলতাভা অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রভাব ফেলছে।
ন্যাটো ও জি-৭ বৈঠকের সময় এই হামলা সংঘটিত হয়। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই ধরনের হামলা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ, যা যুদ্ধের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreফ্রান্সে স্মার্ট গ্লাসের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্যারিসের প্রসিকিউটররা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন। একই সময়ে দেশটির ডেটা সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্মক্ষেত্রে এসব ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছে। প্রযুক্তিটির গোপনে ভিডিও ধারণের সক্ষমতা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে তদন্তের সূত্রপাত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি প্রবণতা নিয়ে, যেখানে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে রাস্তায় নারীদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে পরে তা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, সাইবারক্রাইম ইউনিট প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এসব ডিভাইস পরীক্ষা করেছে, যাতে এগুলো ব্যবহার করে কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে তা বোঝা যায়। বাজারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্মার্ট গ্লাস থাকলেও মেটা ও ফ্রাঙ্কো-ইতালীয় চশমা নির্মাতা EssilorLuxottica-এর যৌথভাবে তৈরি গ্লাস সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। রয়টার্সের হিসাবে, বিশ্ববাজারে এ ধরনের গ্লাসের প্রায় ৭৬ শতাংশ বাজার অংশীদারিত্ব তাদের। মেটার এআই-সক্ষম স্মার্ট গ্লাসে ছোট ক্যামেরা রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারেন। গত বছর এসব গ্লাসের প্রায় ৭০ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। গোপনে রেকর্ড করার সুযোগ থাকলেও মেটার স্মার্ট গ্লাসে একটি ছোট এলইডি লাইট থাকে, যা ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় জ্বলে ওঠে। কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, এই ক্যাপচার লাইট বন্ধ করা যায় না। তবে গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, দূর থেকে এই আলো দেখে বোঝা সবসময় সম্ভব কি না যে কাউকে রেকর্ড করা হচ্ছে। ফ্রান্সের ডেটা সুরক্ষা সংস্থা CNIL জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারের বিষয়ে তারা ১০টিরও কম অভিযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে আরও কিছু কোম্পানি জানতে চাইছে, কর্মীদের কর্মস্থলে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আইনগত সুযোগ তাদের রয়েছে কি না। কোন ব্র্যান্ডের গ্লাস নিয়ে এসব অভিযোগ এসেছে, তা সংস্থাটি প্রকাশ করেনি। শুধু ফ্রান্স নয়, অন্য দেশেও স্মার্ট গ্লাস নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের কিছু সিনেমা হল এসব ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। জার্মানির একটি ভোক্তা অধিকার সংগঠনও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনের অভিযোগ তুলে মেটাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করেছে। মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্মার্ট গ্লাস তৈরির সময় থেকেই গোপনীয়তা সুরক্ষাকে নকশার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং গ্লাসের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হবে। EssilorLuxottica রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি। স্মার্ট গ্লাসে ক্যামেরা, এআই এবং অন্যান্য প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে সাধারণ চশমা ও ক্যামেরার মাঝামাঝি একটি নতুন ধরনের ডিভাইস তৈরি হয়েছে। ব্যবহারকারী নিজের চারপাশের ঘটনা সহজে ধারণ করতে পারলেও আশপাশের মানুষ সবসময় বুঝতে পারেন না যে তারা ক্যামেরার আওতায় রয়েছেন। ফলে প্রযুক্তিটির ব্যবহার কোথায় গ্রহণযোগ্য এবং কোথায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমা লঙ্ঘন হতে পারে, তা নিয়ে আইন ও নীতিমালার নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক তদন্ত সেই বিতর্ককেই আরও সামনে এনেছে। তদন্তের মাধ্যমে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন প্রয়োগের সুযোগ এবং নতুন কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। আপাতত প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটিই নিয়ন্ত্রকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর ঘরোয়া বিড়ালের চেয়েও ছোট নতুন বিড়ালের সন্ধান বলিভিয়ায়
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
প্রতিদিন ৪৩০ মেশিনে পরিষ্কার হয় মসজিদে নববীর ২৫ হাজার কার্পেট
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর আল কাসিমিয়া এলাকায় নিজ বাসায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় দন্ত চিকিৎসক ডা. আফিনা রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দুই ছোট সন্তানের মা ছিলেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে আফিনা বাসার রান্নাঘরে হঠাৎ পড়ে যান। তিনি কেরালার মালাপ্পুরম জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে শারজাহতে বসবাস করতেন। আফিনা দন্ত চিকিৎসা পেশায় প্রশিক্ষিত হলেও দুই ছোট সন্তানের দেখাশোনার জন্য কিছুদিন ধরে পেশাগত বিরতিতে ছিলেন। তার স্বামী ইয়াসার টি. একজন শিক্ষক এবং ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আফিনার ভাশুরের স্ত্রী রামশিনা তখন একই বাসায় ছিলেন। সকালে নিজের সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর পর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরে আফিনার ছোট সন্তানের কান্নার শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে তিনি রান্নাঘরে আফিনাকে পড়ে থাকতে দেখেন। রামশিনা সঙ্গে সঙ্গে আফিনাকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। আফিনার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি আগে সুস্থ ছিলেন এবং তার কোনো পরিচিত অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না। তবে হঠাৎ মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফিনার পরিবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তার মরদেহ ভারতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার শেষকৃত্য কেরালার মালাপ্পুরমে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। কেরালার সংবাদমাধ্যম Onmanorama জানিয়েছে, আফিনা মালাপ্পুরমের ওয়ান্ডুর এলাকার পুক্কুলামের বাসিন্দা ছিলেন। তার ভাইও দুই বছর আগে ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। আফিনার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার দুই শিশু সন্তানের বয়স প্রায় সাড়ে তিন বছর ও দেড় বছর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানে স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার প্রমাণ পেল জাতিসংঘ
ফিলিস্তিনকে ট্যুরের ১০ লাখ ডলার আয়ের পুরোটাই দিচ্ছেন ম্যাকলমোর
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তাদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র
কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধ করা কিংবা বড় ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, কানাডাকে ইইউর সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠ করার উদ্দেশ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে ওয়াশিংটন কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইইউর এই পদক্ষেপকে তিনি শত্রুতামূলক মনে করলে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ‘খুব কঠোর শুল্ক’ আরোপ করবেন। এমনকি ইউরোপের সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি। তবে উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ভালো হলে সেটিকে ভিন্নভাবে দেখবেন বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার পরিকল্পনাকে ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া আসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েনের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ ভাষণের এক দিন পর। ১৬ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ফন ডার লাইয়েন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার পথ খুলতে কাজ করতে চান। এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যরা কার্নিকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর। ফন ডার লাইয়েন বলেন, ইউরোপ ও কানাডার মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অংশীদারত্বে নিয়ে যেতে চায় ইইউ। কানাডা ও ইইউর মধ্যে বর্তমানে কানাডা-ইইউ ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি বা সিইটিএ রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে ‘ভবিষ্যতের জোটে’ রূপ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। প্রস্তাবিত সহযোগিতার ক্ষেত্রও শুধু বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইইউর পরিকল্পনায় উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয় রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলকেও কানাডা ও ইউরোপের যৌথ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন ফন ডার লাইয়েন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, কানাডার সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি দুই পক্ষের অভিন্ন সক্ষমতা ও স্বার্থকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ। ইইউর সরকারি নথিতেও কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্য থেকে আরও বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কার্নি ও ফন ডার লাইয়েন ১৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাসবুর্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা সিইটিএর বাইরে আরও উচ্চাভিলাষী ও বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মহাকাশ, আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদের কাঠামো এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। ইইউর পূর্ণ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক একীভূতকরণ প্রয়োজন, কানাডা সেই পথে যাচ্ছে না। বরং কানাডা নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে ইইউর সঙ্গে যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী বলে কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যের পর অটোয়া ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়। ফলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগকে কানাডার জন্য নতুন বাজার ও অংশীদার তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কার্নি এর আগে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর সরকারের লক্ষ্য হলো কানাডার অর্থনীতিকে এমনভাবে বৈচিত্র্যময় করা, যাতে কোনো একটি দেশের বাজার বা নীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা না থাকে। ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও নতুন প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। ইইউর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে একটি বাণিজ্য সমঝোতা রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই সময়ে কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত সহযোগী সদস্যপদ কার্যকর হলে এটি ইইউর জন্যও নতুন ধরনের সম্পর্কের মডেল তৈরি করবে। কারণ কানাডা হবে এই ধরনের মর্যাদা পাওয়া প্রথম দেশ। এর মাধ্যমে পূর্ণ সদস্যপদ ছাড়াই কোনো দেশের সঙ্গে ইইউ কতটা গভীর অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে পারে, তার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট শর্ত, ইইউর একক বাজারে কানাডার প্রবেশাধিকার এবং দুই পক্ষের নাগরিকদের চলাচল বা কাজের অধিকার কী হবে, সেসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে কানাডা ও ইইউর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে একটি শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। ফলে কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয়। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপ ও কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, ইউরোপীয় কমিশন, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একদম শেষের পথে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের
ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স দিলেন স্বামী