আন্তর্জাতিক

মস্কোয় আগুনের নরক! ইউক্রেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলায় জ্বলছে রাশিয়ার তেল সাম্রাজ্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:২৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ইতিহাসে এই প্রথম রুশ রাজধানী মস্কোয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এই নজিরবিহীন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত গ্যাজপ্রম নেফটের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

হামলার পর কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী মস্কোর আকাশকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় দুই শতাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও, বেশ কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

 

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে এই বৃহৎ আকারের হামলা প্রতিহত করতে কাজ শুরু করে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে মস্কোর জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহকারী এই গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারটি ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও এই স্থাপনাটিতে আরেকটি সফল হামলা চালানো হয়েছিল, যার ফলে ইতিমধ্যে সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

 

এই দফায় উপর্যুপরি হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ইউক্রেনের এই রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন হামলা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই করেনি, বরং সাধারণ রুশ নাগরিকদের মধ্যেও তৈরি করেছে তীব্র আতঙ্ক। শোধনাগারের নিকটবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোর ৫টা থেকেই বিমান বিধ্বংসী গোলার তীব্র শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। হামলার পর সংলগ্ন এলাকায় বিষাক্ত ছাই ও ধোঁয়া মিশ্রিত ক্ষতিকর কালো বৃষ্টির (ব্ল্যাক রেইন) সৃষ্টি হয়, যার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে বাড়ির ভেতরে থাকার এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

 

তবে এই চরম সংকটের মাঝেও সাধারণ নাগরিকদের ফোনে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক বার্তা বা এসএমএস অ্যালার্ট না পাঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

 

এই ব্যাপক হামলার প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও। দেশের ব্যস্ততম শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরসহ মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোর সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং বিমানের যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লট এবং রোসিয়া ইতিমধ্যেই ১৭০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

 

একই সঙ্গে মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাজানেও বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সাথে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছিলেন। পুতিন প্রকাশ্যে হামলার বিষয়ে কথা না বললেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনকে এর জন্য চরম মূল্য চোকাতে হবে এবং রাশিয়া এর পাল্টা জবাবে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাবে।

 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযানকে ইউক্রেনীয় শহরগুলোর ওপর চালানো রুশ বর্বরতার একটি ‘সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ন্যায় প্রতিক্রিয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে এই অর্থনৈতিক আঘাতের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রেমলিনকে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।

 

এই বসন্ত থেকেই ইউক্রেন কৌশলগতভাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোকে টার্গেট করে আসছে, যা ইতিমধ্যে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তীব্র জ্বালানি সংকট ও রেশনিং ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল रूप নিয়েছে যে, চলমান গ্রীষ্মকালীন পর্যটন ও কৃষি মৌসুমের মাঝেই রাশিয়াকে দূরবর্তী এশিয়া থেকে সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
মস্কোয় আগুনের নরক! ইউক্রেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলায় জ্বলছে রাশিয়ার তেল সাম্রাজ্য

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ইতিহাসে এই প্রথম রুশ রাজধানী মস্কোয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এই নজিরবিহীন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত গ্যাজপ্রম নেফটের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   হামলার পর কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী মস্কোর আকাশকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় দুই শতাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও, বেশ কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে এই বৃহৎ আকারের হামলা প্রতিহত করতে কাজ শুরু করে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে মস্কোর জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহকারী এই গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারটি ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও এই স্থাপনাটিতে আরেকটি সফল হামলা চালানো হয়েছিল, যার ফলে ইতিমধ্যে সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।   এই দফায় উপর্যুপরি হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ইউক্রেনের এই রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন হামলা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই করেনি, বরং সাধারণ রুশ নাগরিকদের মধ্যেও তৈরি করেছে তীব্র আতঙ্ক। শোধনাগারের নিকটবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোর ৫টা থেকেই বিমান বিধ্বংসী গোলার তীব্র শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। হামলার পর সংলগ্ন এলাকায় বিষাক্ত ছাই ও ধোঁয়া মিশ্রিত ক্ষতিকর কালো বৃষ্টির (ব্ল্যাক রেইন) সৃষ্টি হয়, যার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে বাড়ির ভেতরে থাকার এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।   তবে এই চরম সংকটের মাঝেও সাধারণ নাগরিকদের ফোনে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক বার্তা বা এসএমএস অ্যালার্ট না পাঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।   এই ব্যাপক হামলার প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও। দেশের ব্যস্ততম শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরসহ মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোর সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং বিমানের যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লট এবং রোসিয়া ইতিমধ্যেই ১৭০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।   একই সঙ্গে মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাজানেও বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সাথে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছিলেন। পুতিন প্রকাশ্যে হামলার বিষয়ে কথা না বললেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনকে এর জন্য চরম মূল্য চোকাতে হবে এবং রাশিয়া এর পাল্টা জবাবে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাবে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযানকে ইউক্রেনীয় শহরগুলোর ওপর চালানো রুশ বর্বরতার একটি ‘সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ন্যায় প্রতিক্রিয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে এই অর্থনৈতিক আঘাতের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রেমলিনকে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।   এই বসন্ত থেকেই ইউক্রেন কৌশলগতভাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোকে টার্গেট করে আসছে, যা ইতিমধ্যে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তীব্র জ্বালানি সংকট ও রেশনিং ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল रूप নিয়েছে যে, চলমান গ্রীষ্মকালীন পর্যটন ও কৃষি মৌসুমের মাঝেই রাশিয়াকে দূরবর্তী এশিয়া থেকে সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:২৯
ছবি: সংগৃহীত

হিথ্রো বিমানবন্দরের নতুন রানওয়েতে ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি, সরকারি রিপোর্টে সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি স্কুলে বাড়তি ট্যাক্স বসালেও কমেনি শিক্ষার্থী, দাবি ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ধস, বিলাসবহুল বাড়ির দাম কমছে

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ | ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি চুক্তি অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক সাক্ষী হতে সুইজারল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই সফরের স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতিমধ্যে ইলেকট্রনিক উপায়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে এই চুক্তিটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফরটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক কয়েক স্তরের প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সমর্থন ও সহযোগিতা সর্বদা অব্যাহত থাকবে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে আরোপিত তাদের নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেবে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সহযোগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্যালেস অব ভার্সাইয়ে মোমবাতির আলোয় নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। সেই বিশেষ মুহূর্তে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং উপস্থিত অন্যান্য বিশ্বনেতারা তালি দিয়ে এই চুক্তিকে স্বাগত জানান। প্রাসাদ থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘এইমাত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করলাম।’’   অন্যদিকে এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান প্রশাসনও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির মূল দলিলটি দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল।   সূত্র: এএফপি এবং ডন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১২:১৮
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে লোহিত সাগরের দিকে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে জার্মানি

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান না মানলে মমতার বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত: দিলীপ ঘোষ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা | ছবি: সংগৃহীত

সেরা তরুণ বিজ্ঞানীর আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পেলেন বাংলাদেশের অনন্যা

ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে আবার ফিরছে পাকিস্তানের ‘হাঙ্গর’ সাবমেরিন, ভারতের অস্বস্তি

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গোপসাগরে ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’। সেই ঘটনার বহু বছর পর আবারও বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় ফিরছে পাকিস্তানের অত্যাধুনিক ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনপ্রাপ্ত পাকিস্তানের হাঙ্গর শ্রেণির প্রথম সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচি বন্দরে এসে পৌঁছেছে। তবে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা কেবল আরব সাগরের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে এই সাবমেরিনকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং একে আরও বিস্তৃত ও দূরপাল্লার সামরিক অভিযানে নিয়োজিত করার মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।   শ্রীলঙ্কার কলম্বোভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মর্নিং’-এর তথ্য অনুযায়ী, চীন থেকে নতুন সাবমেরিনটিকে দেশে নিয়ে আসা নৌবহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক চলতি মাসের শুরুতে কলম্বো বন্দরে এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। পাকিস্তানি ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "নতুন হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন বহরে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান এখন থেকে বঙ্গোপসাগরেও নিজেদের কার্যকর সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে।"   এই সাবমেরিনটিকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করে কমোডর ফারুক আরও জানান, বেইজিংয়ের সহযোগিতায় এই শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে তাদের নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে ইসলামাবাদ।   প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানি নৌ কর্মকর্তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ইসলামাবাদ এখন আর শুধু নিজেদের উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়। তারা ভারত মহাসাগরসহ বঙ্গোপসাগরের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় বিস্তৃত অপারেশনাল উপস্থিতি গড়ে তুলতে চায়, যা সরাসরি উন্মুক্ত সমুদ্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে।   গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে নিজেদের সম্প্রসারিত করেছে। বর্তমানে ভারতের কাছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী এবং দীর্ঘ-পাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের এই নতুন সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের জাতীয় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য এটি একটি বড় ধরণের কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১১:২৫
চীনের ডিএফ-৫সি তরল-জ্বালানি চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে চীনের তীব্র আপত্তি ও হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

অর্ধেক লাল, অর্ধেক হলুদ: নিউজিল্যান্ডে দেখা মিলল ১০ লাখে একটি হওয়া বিরল আপেলের

পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স নাটালি এ বেকার | ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের আতিথেয়তা, খাবার ও বিয়ের ঐতিহ্যে মুগ্ধ মার্কিন কূটনীতিক

0 Comments