সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত এক নেপালি নিরাপত্তা কর্মী লটারিতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন দিরহাম, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১০০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, জিতেছেন। ২৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তোয়াব খান নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করার পর হঠাৎ এই জ্যাকপট জয়ে তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
আমিরাতের গণমাধ্যম খালিজ টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তোয়াব খান ‘দ্য ইউএই লটারি’র “লাকি ডে” ড্রতে এই বিপুল অঙ্কের পুরস্কার জেতেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি ড্র দেখেননি; পরে ই-মেইলের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারেন।
তোয়াব খান বলেন, এর আগেও ছোটখাটো পুরস্কারের নোটিফিকেশন পেয়েছিলেন, তাই প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। তবে ই-মেইল খুলে ৩০ মিলিয়ন দিরহামের কথা দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন। তার ভাষায়, “হাত-পা কাঁপছিল, মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি।”
তিনি জানান, এই পুরস্কারের পুরো অর্থ একাই পাচ্ছেন না। পাঁচজন বন্ধু মিলে নিয়মিত টাকা জমিয়ে যৌথভাবে লটারির টিকিট কিনতেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী, পুরস্কারের অর্থ সমানভাবে পাঁচ ভাগে ভাগ হবে। ফলে প্রত্যেকে পাবেন প্রায় ৬ মিলিয়ন দিরহাম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি ৮ লাখ টাকা।
বন্ধুদের সঙ্গে যৌথভাবে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নিয়মিতভাবে টাকা জমাতেন এবং প্রতি সপ্তাহে পালাক্রমে লটারির নম্বর বাছাই করা হতো।
তোয়াব খান জানান, লটারিতে জেতার পর প্রথমে তিনি তার চাচার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমার চাচার কারণেই আমি এই দেশে কাজ করতে এসেছিলাম। যখন তাকে জয়ের খবর জানালাম, তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।”
লটারি জয়ের পর তিনি নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার পরিকল্পনায় রয়েছে ব্যবসা ও বিনিয়োগে যুক্ত হওয়া, পাশাপাশি পরিবারের জন্য একটি নতুন বাড়ি তৈরি করা।
তিনি আরও বলেন, তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাসস্থান তৈরি করা। এখন সেই লক্ষ্য পূরণের সুযোগ এসেছে।
অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, পরিবারকে সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি দেশে ফিরে ছোট একটি ব্যবসা শুরু করার কথাও ভাবছেন।
এই বিরল লটারি জয়ের ঘটনা প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকে এটিকে ভাগ্য পরিবর্তনের একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ভারতের মহারাষ্ট্র শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬) প্রশ্নফাঁস মামলার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়। পরে পুনে বিমানবন্দরে আনা হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) এর আগে উত্তর প্রদেশের আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই গোপনে সেটির কপি বাইরে পাচার করা হয়। বিজেন্দ্র গুপ্ত গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ছাপাখানার কর্মী নরেশকুমার পুরানচাঁদ মাহোর ছাপার সময় গোপনে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। পরে সেটি ছাপাখানার সাবেক কর্মী সঞ্জয় কুমার শর্মা এবং আরেক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকেই প্রশ্নপত্র বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তের হাতে যায় এবং তিনিই পুরো প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেন। পুলিশের ভাষ্য, সঞ্জয় কুমার শর্মা আগে ওই ছাপাখানার প্যাকেজিং বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং সোনু কুমারও একই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় তারা প্রশ্নপত্রে অবৈধভাবে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি কৌঁসুলি সুমিত যাদব আদালতে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেন্দ্র গুপ্তের যোগাযোগ, প্রশ্নফাঁসের বিনিময়ে অর্থ লেনদেন এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা জানতে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে রিমান্ডের অনুমতি দেন। এদিকে তদন্তের সময় গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় মারাঠে জানান, কার্তুজগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো নিজের কাছে রাখা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র টিইটি পরীক্ষা রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তদন্তকারীরা এখন পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং প্রশ্নপত্র কতজনের কাছে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
চাঁদ ও মঙ্গলে ভবিষ্যতের মানব অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করতে এক বছরব্যাপী বিশেষ গবেষণা কর্মসূচির জন্য স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে পৃথিবীতেই তৈরি করা চাঁদ ও মঙ্গলের মতো পরিবেশে এক বছর বসবাস ও কাজ করবেন। নাসা জানিয়েছে, এই কর্মসূচির নাম ‘মুন অ্যান্ড মার্স এক্সপ্লোরেশন অ্যানালগ’। এটি ২০২৭ সালের আগস্টের আগে শুরু হবে না। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। এ তথ্য ভবিষ্যতে আর্টেমিস কর্মসূচি এবং মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় কাজে লাগানো হবে। মিশনে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের দুটি বিশেষ আবাসে থাকতে হবে। প্রথম ধাপে তারা প্রায় ১০ মাস একটি সীমিত আয়তনের মহাকাশযানসদৃশ পরিবেশে বসবাস করবেন। এরপর আরও প্রায় দুই মাস মঙ্গলের আবাসস্থলের আদলে তৈরি আরেকটি স্থাপনায় অবস্থান করবেন। পুরো সময় চারজনের একটি দল একসঙ্গে বসবাস ও কাজ করবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগও থাকবে সীমিত, যাতে বাস্তব মহাকাশ অভিযানের অভিজ্ঞতা যতটা সম্ভব অনুকরণ করা যায়। এই সময় অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশচারীদের মতো নানা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবে কৃত্রিম চন্দ্র ও মঙ্গলপৃষ্ঠে হাঁটার অনুশীলন, রোভার পরিচালনা, আবাসস্থলের রক্ষণাবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করা। গবেষকেরা পুরো সময়জুড়ে তাদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা এবং কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবেন। নাসার তথ্যমতে, আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন পরিবেশে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতি এবং মহাকাশ গবেষণায় অবদান রাখার আগ্রহ থাকতে হবে। নির্বাচিতদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার বিভিন্ন পরীক্ষাও পাস করতে হবে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পারিশ্রমিকও পাবেন। যদিও নাসা নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করেনি, সংস্থাটি এটিকে বেতনভিত্তিক গবেষণা কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে পরিচালিত এ ধরনের সিমুলেশন ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং প্রথম মানববাহী মঙ্গল অভিযানের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন পরিবেশে মানুষের আচরণ, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
ব্রাজিলের বৃহত্তম শহর সাও পাওলোর একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে (ডে-কেয়ার) মাত্র এক বছর চার মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় শিশুদের পর্যাপ্ত তদারকি করা হচ্ছিল না। এমনকি কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মী জন্মদিন উদ্যাপনে ব্যস্ত ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। নিহত শিশুর নাম আবদুলায়ে দিয়েং। তিনি সেনেগালি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের সন্তান। গত বুধবার সাও পাওলোর ব্রাস এলাকার সিইআই লুজ দো ব্রাস (CEI Luz do Brás) শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলার সময় আবদুলায়ের মাথা দেয়ালে লাগানো একটি আয়নার সামনে থাকা ধাতব সুরক্ষা বারের ফাঁকে আটকে যায়। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সে প্রায় ছয় মিনিট ধরে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। পরে কর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে বের করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। শিশুটিকে দ্রুত মুকা জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাও পাওলো সিভিল পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড (Negligent Homicide) হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ নয়, বরং দায়িত্ব পালনে অবহেলা ছিল কি না, সেটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিশুটির বাবা ইব্রাহিমা দিয়েং জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ছেলেকে ডে-কেয়ারে রেখে যান। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সন্তান আর বেঁচে নেই। তিনি বলেন, "আমি গিয়ে শুধু জানতে চেয়েছিলাম, আমার ছেলে কোথায়। তারা আমাকে অপেক্ষা করতে বলল। এরপর জানাল, সে মারা গেছে।" পরিবারের ভাষ্য, এই ঘটনায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। শিশুটির মা খবরটি শোনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে শিশুদের তদারকির বিষয়টি। পরিবারের আইনজীবী এরসন দে অলিভেইরা দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময় শিশুরা কার্যত নজরদারিহীন ছিল। তার অভিযোগ, যদি কোনো কর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতেন, তাহলে খুব সহজেই শিশুটিকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হতো। তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে কেন জরুরি চিকিৎসা সেবা বা দমকল বিভাগে খবর দেওয়া হয়নি। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা ডে-কেয়ারের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছেন। সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার আগে সেখানে একটি জন্মদিনের আয়োজন হয়েছিল এবং কয়েকজন কর্মী সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন। এ ঘটনায় ডে-কেয়ারের পরিচালক, সমন্বয়কারী, দুইজন শিক্ষাবিদ এবং একজন শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন কর্মী তদন্তের আওতায় রয়েছেন। পাশাপাশি সাও পাওলো সিটি শিক্ষা বিভাগও পৃথক প্রশাসনিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, এমনকি অনুমোদন বাতিলের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে কয়েকজন অভিভাবক ব্রাজিলের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এর আগেও তারা ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংকটের অভিযোগ করেছিলেন। একজন অভিভাবকের দাবি, অনেক সময় একজন শিক্ষককে ১২ থেকে ১৫ জন শিশুর দায়িত্ব একাই পালন করতে হতো।