হরমুজ প্রণালীতে নিরবচ্ছিন্ন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমান ও ইরানের বড় পদক্ষেপ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামুদ্রিক যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এক টেবিলে বসেছে ওমান এবং ইরান। সম্প্রতি দুই দেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক উচ্চতর বৈঠকে এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ওমান নিউজ এজেন্সির (ওএনএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে উভয় দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও রূপরেখা তুলে ধরেন। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় এবং সামুদ্রিক যানসমূহ যেন “নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ” ভাবে যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই দেশের এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreবিশ্ব অস্ত্র রপ্তানির বাজারে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে তুরস্ক। রাশিয়ার Centre for Analysis of World Arms Trade (CAWAT) বা বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারকদের তালিকায় অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। এই তালিকায় তুরস্কের পেছনে রয়েছে চীন, যার অস্ত্র রপ্তানির মূল্য ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। CAWAT-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ৪৪ দশমিক ৬০৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রাশিয়া, ১৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে। জার্মানি ৮ দশমিক ৯০৩ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৮ দশমিক ৭৭৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় পঞ্চম স্থানে ফ্রান্সের অস্ত্র রপ্তানির মূল্য ৮ দশমিক ৬৩০ বিলিয়ন ডলার। এরপর ইসরায়েল ৫ দশমিক ৯৯৫ বিলিয়ন, ইতালি ৫ দশমিক ২২৫ বিলিয়ন, তুরস্ক ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন, স্পেন ৩ দশমিক ৪৭৬ বিলিয়ন এবং চীন ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে শীর্ষ ১০-এ রয়েছে। CAWAT-এর এই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো তুরস্ক এত উঁচু অবস্থানে পৌঁছেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রকাশনায় প্রকাশিত CAWAT-এর প্রতিবেদনে জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের রপ্তানি পারফরম্যান্সকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তুরস্কের এই অগ্রগতির পেছনে দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ড্রোন, সাঁজোয়া যান, নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, রাডার ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে তুরস্কের শিল্পখাত গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানির মোট পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন উৎসে ব্যবহৃত সংজ্ঞা ও হিসাবের কারণে পার্থক্য রয়েছে। তুরস্কের সরকারি প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের মোট রপ্তানি ছিল ১০ দশমিক ০৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ১৮৪ মিলিয়ন ডলার। তুরস্কের সরকারি তথ্য আরও বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতে নতুন চুক্তির মূল্য ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৪ সালের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৭৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে তুরস্ক পর্তুগালের সঙ্গে সামরিক জাহাজ রপ্তানি এবং স্পেনের সঙ্গে হুরজেট প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে বড় চুক্তি করেছে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কেএএএন যুদ্ধবিমান এবং রোমানিয়ার সঙ্গে অফশোর টহল জাহাজ নিয়েও চুক্তি হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণের আরেকটি দিক হলো বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ রপ্তানি ছিল মাত্র ২৪৮ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১০ দশমিক ০৫৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণে ব্যবহৃত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা SIPRI-এর সর্বশেষ ২০২১-২৫ সময়ের তথ্য তুরস্কের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখায়। SIPRI-এর হিসাবে, ওই পাঁচ বছরে তুরস্ক বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম প্রধান অস্ত্র রপ্তানিকারক ছিল এবং বৈশ্বিক রপ্তানির ১ দশমিক ৭ শতাংশ তার দখলে ছিল। ২০১৫-১৯ থেকে ২০২০-২৪ সময়ে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানি ১০৩ শতাংশ বেড়েছিল। SIPRI-এর হিসাব আর CAWAT-এর হিসাবের মধ্যে পার্থক্যের কারণ তাদের তথ্য সংগ্রহ ও পরিমাপের পদ্ধতি এক নয়। SIPRI মূলত বড় ধরনের প্রচলিত অস্ত্রের আন্তর্জাতিক হস্তান্তর পরিমাপ করতে ‘ট্রেন্ড-ইন্ডিকেটর ভ্যালু’ বা টিআইভি ব্যবহার করে, যা সরাসরি অস্ত্র বিক্রির আর্থিক মূল্য নয়। অন্যদিকে CAWAT-এর ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিংয়ে বাণিজ্যিক চুক্তি ও সরবরাহের আর্থিক মূল্যকে ভিত্তি করা হয়েছে। ফলে তুরস্ক চীনকে পেছনে ফেলে অষ্টম হয়েছে বলা হলে সেটি CAWAT-এর ২০২৫ সালের আর্থিক মূল্যভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানির একক বা সর্বজনীন র্যাঙ্কিং হিসেবে দেখলে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তবে বিভিন্ন সূচকেই তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের বিষয়টি স্পষ্ট। বিশেষ করে চালকবিহীন বিমান, সাঁজোয়া যান, নৌ প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় দেশটির রপ্তানি সক্ষমতা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। SIPRI-ও ২০২০-২৪ সময়ে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির বাজার সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করেছে। সূত্র: Centre for Analysis of World Arms Trade (CAWAT)
কানাডা থেকে ভারতীয়দের অপসারণে রেকর্ড গতি, ৮ মাসেই ৪,২২৭ জন
ভারতে পৌঁছাল ৬ মার্কিন এফ-৩৫, সঙ্গে দুই শতাধিক বিমানসেনা
বন্যার পানিতে ফ্রিজে ভেসে বাঁচলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে, পরে জন্ম হলো কন্যার
কানাডার কুইবেক প্রদেশে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তাতে থাকা চারজনই নিহত হয়েছেন। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার পর মন্ট্রিয়ল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সাঁত-ব্রিজিদ-দিবেরভিল এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাদেশিক পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১০ নম্বর মহাসড়কের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। চার আরোহীকেই সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়। কুইবেক পুলিশের মুখপাত্র অড্রে-অ্যান বিলোদো জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে হেলিকপ্টারটি সমস্যায় পড়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল এবং সেটিই দুর্ঘটনার কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। কানাডার পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডকেও ঘটনা জানানো হয়েছে।
৬ বছরের মেয়ের অবিশ্বাস্য কাণ্ড, রুবিকস কিউব মেলালেন ৪ সেকেন্ডের একটু বেশি সময়ে
শ্রমিকসংকটের জরুরীভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
এয়ারপোর্টে ব্যাগেজ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি! প্রবাসীদের জন্য নতুন বাধ্যতামূলক নিয়ম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২৭ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছে দলটি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, দলের রাজনৈতিক কমিটি বৈঠক করে সর্বসম্মতভাবে লংমার্চ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ওই দিন পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে। এর আগে পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছিল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়া, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। লংমার্চের প্রস্তুতির মধ্যেই ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রশাসন ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এর আওতায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসলামাবাদে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে এবং গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের কয়েকটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানী ও পাঞ্জাবের কয়েকটি এলাকায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সও মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী, এই মোতায়েন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল রাখার কথা রয়েছে। পিটিআইয়ের এক জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী ও এর আশপাশের সড়ক আগে থেকেই বন্ধ করে দেওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন থাকায় দলটি কর্মসূচির সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ডনের প্রতিবেদনে ওই নেতাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দীর্ঘ সময় রাজধানীতে মোতায়েন রাখার বিষয়টিও দলটির বিবেচনায় ছিল। তবে এটি পিটিআইয়ের নিজস্ব ব্যাখ্যা। পিটিআইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে এর আগেও দলটির নেতাকর্মীদের আটক করার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩০ দিনের জন্য আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের সমালোচনা করা হয়েছে। ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরানের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে তার পরিবার ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েন চলছে। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এর আগে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল। ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় সাজা হয়েছে এবং এসব মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়াও চলছে। পিটিআইয়ের নতুন সূচি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাজধানীতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা কর্মসূচির নতুন তারিখ পর্যন্ত কতটা বহাল থাকে এবং পিটিআই কীভাবে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। সূত্র: ডন, রয়টার্স, আল জাজিরা
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসায় শ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া
অক্টোবর থেকে জাপানে স্থায়ী বসবাসের নতুন আইন কার্যকর, বিপাকে বাংলাদেশিসহ লাখো বিদেশি কর্মী