আমেরিকা

বুকে অস্ত্রোপচার করা কিশোরের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাসপাতালের সাবেক নার্স আটক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১২:২৮
বুকে অস্ত্রোপচার করা কিশোরের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাসপাতালের সাবেক নার্স আটক
বুকে অস্ত্রোপচার করা কিশোরের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাসপাতালের সাবেক নার্স আটক

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন চিলড্রেন’স হাসপাতালে কর্মরত এক সাবেক নার্সের বিরুদ্ধে দুই কিশোর রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নার্স জন ট্যামকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, তার বিরুদ্ধে আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন। 

 

সাফোক কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, হোপডেলের বাসিন্দা জন ট্যামের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তির ওপর অশালীন হামলা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হিসেবে রোগীর ওপর অশালীন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি শিগগিরই সাফোক সুপিরিয়র কোর্টে হাজির হবেন। 

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ঘটে ২০২২ ও ২০২৫ সালে। প্রথম ঘটনায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বোস্টন চিলড্রেন’স হাসপাতালে বুকে অস্ত্রোপচার করা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটরদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেস্থেশিয়া নেওয়ার পর জ্ঞান ফেরার সময় ওই কিশোর নার্স ট্যামকে তার শরীরে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করতে দেখে। 

 

দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০২৫ সালের জানুয়ারির। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ১৬ বছর বয়সী আরেক রোগীর সঙ্গে একই ধরনের অপরাধের অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় পুলিশকে হাসপাতালে ডাকা হয়েছিল এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। 

 

সাফোক কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কেভিন হেইডেন সতর্ক করে বলেছেন, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নাও হতে পারে। তিনি অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা যদি জন ট্যামের সংস্পর্শে এসে থাকে এবং কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে যেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। 

 

জন ট্যাম এর আগে ম্যাসাচুসেটসের আরও কয়েকটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বেথ ইসরায়েল ডিকনেস মেডিকেল সেন্টার এবং ইউম্যাস মেমোরিয়াল মেডিকেল সেন্টারের বিভিন্ন ক্যাম্পাস। এসব প্রতিষ্ঠানে তার কর্মকালীন সময়েও কোনো রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

বোস্টন চিলড্রেন’স হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরি
ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যে আটক ভারতীয় গবেষককে ফের বন্দি করতে চেয়েও ব্যর্থ ট্রাম্প প্রশাসন

ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের কারণে গত বছর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরিকে ফের হেফাজতে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বৃহস্পতিবার ২-১ ভোটে দেওয়া রায়ে ফোর্থ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস সুরিকে মুক্ত রাখার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে মামলাটি ভার্জিনিয়া থেকে টেক্সাসে স্থানান্তরের সরকারের দাবিও নাকচ করেছে আদালত।   এই রায় শুধু সুরির ব্যক্তিগত মামলার জন্য নয়, ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আটকাদেশের বৈধতা সরাসরি ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন কি না, সেই বৃহত্তর আইনি প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের মামলায় অন্য দুটি ফেডারেল আপিল আদালত বিপরীত সিদ্ধান্ত দেওয়ায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ইউএস সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।   ভারতীয় নাগরিক বদর খান সুরি ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির পোস্টডক্টরাল ফেলো। তিনি একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। ২০২৫ সালের মার্চে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ICE তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর প্রায় ছয় সপ্তাহ তাকে টেক্সাসের একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।   সুরির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তার গ্রেপ্তারের সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে তার যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি বিরূপ পরিণতি তৈরি করতে পারে বলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্ধারণ করেছিলেন। সরকার তার সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম এবং ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের বিষয়টিও সামনে এনেছিল।   সুরি ও তার আইনজীবীরা সরকারের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার মতামত প্রকাশ এবং তার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক স্ত্রীর পারিবারিক যোগাযোগের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সরকার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধতা দাবি করে আসছে।   ২০২৫ সালের মে মাসে ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সুরিকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। বিচারক তার হেফাজত নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং মামলাটি ভার্জিনিয়ার পরিবর্তে টেক্সাসে পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নেয়।   ২৩ জুলাই ফোর্থ সার্কিটের তিন বিচারকের প্যানেল ২-১ সিদ্ধান্তে সরকারের আপিল প্রত্যাখ্যান করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেন, সুরির মতো কোনো ননসিটিজেন তার চলমান ইমিগ্রেশন মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা না করেই হেফাজতের বৈধতা নিয়ে ফেডারেল আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।   এখানেই মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে, হেবিয়াস কর্পাস। শতাব্দীপ্রাচীন এই আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে সরকারি হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তি আদালতের কাছে জানতে চাইতে পারেন, তাকে আটকে রাখার বৈধ আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না।   ফোর্থ সার্কিটের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেছেন, ইমিগ্রেশন মামলা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সেই আইনি সুরক্ষা কার্যত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। কারণ ইমিগ্রেশন মামলা নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:২
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিচারকদের গণহারে ছাঁটাই করছে ট্রাম্প প্রশাসন, উদ্বেগ জানাল জাতিসংঘ

টেক্সাসে ট্রেনের কনটেইনারে ৭ অভিবাসীর মৃত্যু, মানবপাচারের অভিযোগে ইউএস সিটিজেনসহ ১১ জন অভিযুক্ত

টেক্সাসে ট্রেনের কনটেইনারে ৭ অভিবাসীর মৃত্যু, মানবপাচারের অভিযোগে ইউএস সিটিজেনসহ ১১ জন অভিযুক্ত

অবসরে গিয়ে যে দুই ভুলের জন্য আফসোস করছেন অর্ধেকের বেশি আমেরিকান

অবসরে গিয়ে যে দুই ভুলের জন্য আফসোস করছেন অর্ধেকের বেশি আমেরিকান

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নিজের তিন শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচারকার্যের জন্য চূড়ান্ত জুরি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য জুরিদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিক সংবেদনশীল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন শতাধিক সম্ভাব্য জুরির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।   এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ শুনে এবং নিহতদের ময়নাতদন্তের ছবি দেখার সম্ভাবনার কথা জেনে অনেক জুরিই কান্নায় ভেঙে পড়ে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার ১২ জন নারী ও ৬ জন পুরুষের সমন্বয়ে ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত জুরি প্যানেল গঠন করা হয়। জুরিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাদের বা পরিবারের কারও পোস্টপার্টাম বিষণ্ণতা (সন্তান জন্মদানের পর বিষণ্ণতা), উদ্বেগ বা বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যার ইতিহাস আছে কি না এবং তারা আসামিপক্ষের মানসিক অসুস্থতার দাবিকে কতটা নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করতে পারবেন।   মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স—উভয় পক্ষের জন্যই জুরিদের মানসিকতা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লিন্ডসের আইনজীবী কেভিন রেডিংটন জানান, জুরিরা সাক্ষীদের সাথে পূর্বপরিচিতি থাকা সত্ত্বেও বা মামলার ভয়াবহ বিবরণ শুনেও কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন, তা যাচাই করাই ছিল এই দীর্ঘ প্রশ্নমালার মূল উদ্দেশ্য। আবেগঘন এই শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে অনেক জুরি কেঁদে ফেলায় আদালতের ভেতরে টিস্যু বক্স পর্যন্ত রাখতে হয়েছিল। আগামী সোমবার থেকে এই মামলার উদ্বোধনী যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা প্রায় দুই মাস ধরে চলতে পারে এবং এতে ২০০ জনের মতো সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিজের বাড়ির বেজমেন্টে ব্যায়ামের ব্যান্ড পেঁচিয়ে তিন সন্তান—কোরা (৫), ডসন (৩) এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। লিন্ডসের প্রাক্তন স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি, যিনি সম্প্রতি আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তিনি এই মামলার একজন মূল সাক্ষী। গত সপ্তাহে তিনি আদালতে আবেদন করেন যেন ঘটনার দিন তার করা ৯১১ কল রেকর্ড এবং সন্তানদের ময়নাতদন্তের ছবি বা পোশাক জনসমক্ষে প্রদর্শন করা না হয়।   শুক্রবার বিচারক উইলিয়াম সুলিভান তার এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। মামলার চূড়ান্ত রায় নির্ভর করছে জুরিরা লিন্ডসেকে পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত রোগী হিসেবে বিবেচনা করেন, নাকি প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী তাকে একজন সুপরিকল্পিত খুনি হিসেবে চিহ্নিত করেন, তার ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৩:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ৮৪ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, দেশ না ছাড়লে প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ৮৪ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, দেশ না ছাড়লে প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার

বুকে অস্ত্রোপচার করা কিশোরের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাসপাতালের সাবেক নার্স আটক

বুকে অস্ত্রোপচার করা কিশোরের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাসপাতালের সাবেক নার্স আটক

৮ বিলিয়ন ডলারে বদলে যাচ্ছে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন

৮ বিলিয়ন ডলারে বদলে যাচ্ছে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন, নামের সঙ্গে কি যুক্ত হচ্ছে ‘ট্রাম্প’?

ছবি: বাম থেকে টেড ক্রুজ, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ ও জোহরান মামদানি।
২০২৮ এ ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কে হবেন, মামদানি কোন পদে: ভবিষ্যদ্বাণী টেড ক্রুজের

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো দুই বছরের বেশি দূরে। তবে এরই মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছেন টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ। তার দাবি, নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন। আর নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি ভবিষ্যতে দীর্ঘদিনের সিনেটর চাক শুমারের জায়গা নিতে পারেন।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এসব মন্তব্য করেন ক্রুজ।   ক্রুজ বলেন, তার ধারণা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হবেন এবং মামদানি নিউইয়র্ক থেকে সিনেটে চাক শুমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে এগুলো ক্রুজের রাজনৈতিক পূর্বাভাস। আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি এবং মামদানিও শুমারের সিনেট আসনে লড়ার কোনো ঘোষণা দেননি।   ক্রুজের বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উত্থান নিয়ে কিছু রিপাবলিকানের উচ্ছ্বাসের সমালোচনা করেন।   ক্রুজ বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা রিপাবলিকানদের জন্য সুবিধাজনক মনে হলেও দেশের স্বার্থে দুটি কার্যকর রাজনৈতিক দল থাকা প্রয়োজন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন দুটি দল প্রয়োজন, যারা দেশকে ভালোবাসে।   আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য এবং দলের প্রগতিশীল ধারার অন্যতম পরিচিত মুখ। জাতীয় রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি।   অন্যদিকে জোহরান মামদানি বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে কুইন্সের একটি এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।   ক্রুজ আলাদা একটি পোস্টে সিনেটর চাক শুমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, শুমারের পক্ষে ভবিষ্যতে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পাওয়া কঠিন হবে। এমনকি রসিকতা করে তিনি বলেন, শুমার হয়তো আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের প্রথম সদস্য হবেন।   চাক শুমার ১৯৯৯ সাল থেকে নিউইয়র্কের মার্কিন সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের অংশ। ফলে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হতে পারেন, তা নিউইয়র্কের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।   তবে ২০২৮ সালের রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত। আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, জোহরান মামদানি বা চাক শুমারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ক্রুজ যে চিত্র তুলে ধরেছেন, সেটি কোনো ঘোষিত নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নয়। আপাতত এটি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে টেড ক্রুজের রাজনৈতিক পূর্বাভাস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১২:৫
এবার তাঁর নামেই নামকরণ হলো ডেট্রয়েটের একটি সড়ক

একসময় ছিলেন গৃহহীন, এবার তাঁর নামেই নামকরণ হলো ডেট্রয়েটের একটি সড়ক

মার্কিন নাগরিক না হলেও মিলতে পারে ৭,৩৯৫ ডলার পর্যন্ত পেল গ্রান্ট

মার্কিন নাগরিক না হলেও মিলতে পারে ৭,৩৯৫ ডলার পর্যন্ত পেল গ্রান্ট, কোন অভিবাসীরা পান এই সহায়তা

'আল্লাহু আকবার' বলে দুই পথচারীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত

'আল্লাহু আকবার' বলে দুই পথচারীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত, আতঙ্ক নিউইয়র্কে

0 Comments