ঈদ সামনে রেখে বাড়িমুখো মানুষের ঢল নেমেছে মহাসড়কে। প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ, যার ফলে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে—যমুনা সেতু এলাকা থেকে রাবনা বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট—এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, আশেকপুর ও রাবনা বাইপাস এলাকায় দেখা গেছে, বাসের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপ ও মাইক্রোবাসে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন অনেকেই। গণপরিবহনের সংকট ও ভাড়া বেশি হওয়ায় অনেকে বিকল্প হিসেবে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খোলা ট্রাক বা পিকআপেও যাত্রা করছেন। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে (মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত) ২৪ ঘণ্টায় ৫১ হাজারের বেশি যানবাহন সেতু পার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল বেশি। টোল আদায় থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব এসেছে। আগের দিনের তুলনায় যানবাহন পারাপারও বেড়েছে কয়েক হাজার। গত চার দিনে সেতু দিয়ে মোট দেড় লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করেছে, যা থেকে কয়েক কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং পথে কোথাও কোথাও গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার কারণে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর ও সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ভিআইপি মুভমেন্ট এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু সড়কে ডাইভারশন দেওয়া হবে। আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কখন এবং কোথায় এই নির্দেশনা? আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এই বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। মূলত উড়োজাহাজ মোড়, খেজুর বাগান, মানিক মিয়া এভিনিউ, আসাদগেট এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর এলাকাগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ডাইভারশন ও বিকল্প পথসমূহ: ইন্দিরা রোড থেকে বেগম রোকেয়া সরণি: ইন্দিরা রোড দিয়ে এসে উড়োজাহাজ মোড় হয়ে বেগম রোকেয়া সরণির দিকে ডানে মোড় নেওয়া যাবে না। বিকল্প হিসেবে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে মিরপুর রোড ব্যবহার করতে হবে। মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রোকেয়া সরণি: খেজুর বাগান ক্রসিং দিয়ে বামে মোড় নেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে ফার্মগেট হয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একমুখী চলাচল: উড়োজাহাজ মোড় থেকে খেজুর বাগান পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে দক্ষিণমুখী একমুখী (One-way) যান চলাচল বলবৎ থাকবে। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নগরবাসীকে এই ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ সেতু থেকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশ হয়ে মায়ামি ডাইন পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সোমবার (২ মার্চ) সকাল থেকে দীর্ঘ ১৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ঢালাই কাজ চলায় এক লেন দিয়ে যান চলাচল করাতে ভোর থেকে ধীরগতি তৈরি হয়, যা বিকেল পর্যন্তও অব্যাহত ছিল। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যান চালক সেলিম হোসেন বলেন, ভোরে রওনা দিয়েছিলাম, দুপুরের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল, কিন্তু বিকেলেও সোনারগাঁ অংশ পার করতে পারিনি। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং সময়ও নষ্ট হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসচালক মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এক লেন চালু থাকায় গাড়ির চাপ সামলানো যাচ্ছেনা। যাত্রীরা বারবার প্রশ্ন করছেন, কিন্তু তাদের কিছু করার নেই। সংস্কারকাজ জরুরি হলেও আরও ভালো পরিকল্পনা থাকলে ভোগান্তি কম হতো। ঢাকাগামী যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, সকাল ১০টায় রওনা দিয়েছিলাম, বিকেল ৫টা হয়ে গেল। ছোট শিশুকে নিয়ে গাড়িতে থাকা কষ্টকর হয়েছে। আগে থেকে সতর্কবার্তা থাকলে হয়তো অন্য সময়ে যাত্রা করতাম। অন্য যাত্রী মাহবুব আলম বলেন, মেঘনা ব্রিজ পার হতে সাধারণত ১০ মিনিট লাগে, আজ প্রায় তিন ঘণ্টা লেগেছে। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শ্রী কৃষ্ণপদ জানান, লাঙ্গলবন্দ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে ঢালাই কাজ চলছে। কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকামুখী লেনের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে যানবাহন ধাপে ধাপে ছাড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, রাতের মধ্যেই কাজের বড় অংশ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজস্ব গাড়ি, নিজের ক্রয় করা জ্বালানি এবং নিজস্ব চালক ব্যবহার করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বুধবার সকালে গুলশানের বাসা থেকে নিজের সাদা টয়োটা গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমানো হয়েছে। আগে যেখানে বহরে ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকত, সেখানে এখন তা কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করছেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান কিংবা বিদেশি মেহমানদের সফর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা ব্যবহৃত হবে। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হলে সচিবালয় থেকে মন্ত্রীদের যাতায়াতে যানজট সৃষ্টি হয় এবং ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুই পাশে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থানের বিধান বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। একদিকে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানবাহনের সারি, অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকদের মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য—সব মিলিয়ে গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে এখন চরম বিশৃঙ্খলা। মহাসড়ক যখন পার্কিং লট: ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা এখন স্থবির। চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈর আর টঙ্গী থেকে মাওনা—সবখানেই অন্তহীন অপেক্ষা। ভাড়া নৈরাজ্যের পাহাড়: ৫০০ টাকার ভাড়া হাঁকানো হচ্ছে ১৫০০ টাকা! সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, উৎসব আর ছুটির সুযোগ নিয়ে পকেট কাটছে এক শ্রেণির অসাধু পরিবহন মালিক ও শ্রমিক। বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে যাত্রীসাধারণ: ভাড়ার এই জুলুম সহ্য করতে না পেরে চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ ঘরমুখো মানুষ। শিল্পাঞ্চলের চাপ: সোমবার বিকেল থেকে কয়েকশ কারখানা একসাথে ছুটি হওয়ায় সড়কে মানুষের এই জনসমুদ্র তৈরি হয়েছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। নির্বাচনের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার এই যাত্রায় ভোগান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কি পারবে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে?
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।