জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টিটিসি মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ১২ মার্চের জন্য অপেক্ষা করছি। ওই দিন জাতীয় সংসদে কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য যাচ্ছি না। আমরা যাচ্ছি সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ রায় কার্যকর করার জন্য।” ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের আওতায় আনা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে ও বিচারের পক্ষে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে।” অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। অনুষ্ঠানে বিভাগের ৮ জেলার এনসিপি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় একটি ইসলামি জলসার প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ইউসুফপুর সিপাইপাড়া এলাকায় শুক্রবার রাতে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লাঠিপেটায় এরশাদ আলী (৬৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং মাহফিলের অতিথি নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নিল, যা পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। নিহত এরশাদ আলী স্থানীয় ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর স্থানীয় মসজিদে আয়োজিত একটি সভায়। আসন্ন একটি ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে এক পক্ষ জেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের নাম প্রস্তাব করলে এরশাদ আলী ও তার সঙ্গীরা আবু সাঈদ চাঁদের নাম প্রস্তাব করেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সভাটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই পণ্ড হয়ে যায়। এই বিরোধের রেশ ধরে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এরশাদ আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাইদুর রহমান, সুমন, সাব্বির ও আশাদুলসহ একদল যুবক লাঠি ও পেয়ারা গাছের ডাল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেফতার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। মঙ্গলবার এক গোপনীয় চিঠির মাধ্যমে এই কঠোর বার্তা পাঠানো হয়েছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারদের। ডিআইজির পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সকল নেতাকর্মী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় দলকে সংগঠিত করা বা মাঠপর্যায়ে তৎপরতা দেখানোর সক্ষমতা রাখেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে যারা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত পুনরায় গ্রেপ্তারের প্রয়োজন নেই। যদিও চিঠিতে সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম নেওয়া হয়নি, তবে 'ফ্যাসিস্ট সংগঠন' শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হয়েছে। চিঠিটি ফাঁস হওয়ার পর ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে একে পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি জানান, এটি নির্দিষ্ট কোনো দলের জন্য নয়, বরং সমাজে বিশৃঙ্খলা রোধে একটি আগাম সতর্কতামূলক বার্তা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এমন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে যখন দেশজুড়ে নানা মেরুকরণ চলছে, ঠিক তখনই রাজনীতির এক নতুন ‘মডেল’ উপহার দিল রেশমি নগরী রাজশাহী। নির্বাচনের উত্তাপ আর লড়াই শেষে এখানে জয়ের উল্লাস বা পরাজয়ের গ্লানিকে বড় হতে দেননি প্রার্থীরা। বরং রাজশাহীর ছয়টি আসনেই বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মিষ্টি বিনিময়ের মাধ্যমে এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ তৈরি করেছেন। নির্বাচন পরবর্তী এই সম্প্রীতির যাত্রা শুরু হয় রাজশাহী মহানগর জামায়াত নেতাদের মাধ্যমে। সদর আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নদী ভাঙন রোধে দল-মত নির্বিশেষে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। তবে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য দেখা গেছে রাজশাহী-৩ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে। সেখানে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলন সরাসরি হাজির হন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের বাসভবনে। সেখানে দুই নেতা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে দেন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহাবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করেন। জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, "আমরা রাজপথের সাথী, জনগণের রায়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তাই এলাকার উন্নয়নে আমি তাঁর পাশেই থাকব।" একইভাবে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনেও দেখা গেছে এক বিরল দৃশ্য। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর বাসভবনে ফুলের মালা নিয়ে হাজির হন পরাজিত জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক। নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতার গলায় মালা পরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যটি উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা যখন আমাদের দেশে এক অলিখিত সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন রাজশাহীর এই চিত্র একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এটি প্রমাণ করে যে, সুস্থ ধারার রাজনীতি কেবল ক্ষমতার খেলা নয়, বরং জনগণের কল্যাণের একটি বৃহত্তর মাধ্যম। রাজশাহীর এই ‘শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা’ নতুন বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতিতে এক শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী প্রাংকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। তিনি বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের একডালা সমষপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) দুপুরে নিজ বাসভবনের পাশে জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বাগমারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। রাজশাহী জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে বিউগলে করুন সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী প্রাংকে দাফন করা হয়। গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী প্রাং বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, তিন কন্যা এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস