- প্রচ্ছদ
- Topic
শিশু স্বাস্থ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কাঁচা ছাগলের দুধ পান করার পর ১৭ মাস বয়সী এক শিশু গুরুতর E. coli সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ব্রুকলিন মারিস নামের শিশুটিকে শ্বাস নিতে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়, কিডনি কাজ না করায় কয়েক দিন ডায়ালাইসিস দিতে হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হৃদস্পন্দন তিনবার বন্ধ হয়ে যায় বলে শিশুটির মা এমিলি মারিসের বরাত দিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রোপাবলিকা। ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের ২ জুন। সাঁতার শেখার ক্লাস থেকে ফেরার পথে পরিবারের গাড়ির পেছনের আসনে থাকা ব্রুকলিন হঠাৎ বমি করতে শুরু করে। প্রথমে বমির রং ছিল হলুদ, পরে তা নীলচে-সবুজ ও গাঢ় রঙের হয়ে যায়। দুই দিন ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষায় গুরুতর সমস্যা দেখতে পেয়ে প্রায় ৭০ মাইল দূরের রেডি চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে পরীক্ষা করে ব্রুকলিনের শরীরে E. coli O157 নামের বিপজ্জনক একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ফলে তার হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম বা এইচইউএস দেখা দেয়। এই অবস্থায় ক্ষুদ্র রক্তনালিতে রক্ত জমাট তৈরি হয়ে কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুকলিনের কিডনি গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে ডায়ালাইসিস দিতে হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়। এক পর্যায়ে তার রক্তে অম্লতা এত বেড়ে যায় যে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। ব্রুকলিনের মা এমিলি মারিস জানিয়েছেন, মেয়েকে হারানোর আশঙ্কায় তারা হাসপাতালের সেই দিনগুলোতে জানতেন না সে বাঁচবে কি না। চিকিৎসকেরা তার খাবারের সাম্প্রতিক ইতিহাস জানতে চাইলে এমিলি কাঁচা ছাগলের দুধ দেওয়ার কথা জানান। চিকিৎসকেরা তখন দুধটিকেই সম্ভাব্য সংক্রমণের উৎস হিসেবে সন্দেহ করেন। পরে ব্রুকলিনের মল পরীক্ষায় E. coli O157 শনাক্ত হয়, যা কাঁচা দুধের মাধ্যমে ছড়াতে পারে এমন অন্যতম গুরুতর খাদ্যবাহিত জীবাণু। ব্রুকলিনের ক্ষেত্রে কাঁচা দুধ বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। এমিলি ৪৮ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের মা হন। সাত সপ্তাহ আগেই জন্ম নেওয়া ব্রুকলিনের ওজন ছিল কম এবং তার ফুসফুসও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। জন্মের পর প্রথম এক মাস তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকতে হয়। পরে মায়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার চিকিৎসায় এমন একটি ওষুধ শুরু হলে, যা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে যেতে পারে, এমিলিকে বুকের দুধের বিকল্প খুঁজতে হয়। বাজারের গরুর দুধ খেয়ে ব্রুকলিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ছিল বলে এমিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মায়েদের গ্রুপে বিকল্পের সন্ধান করেন। সেখানে কয়েকজন মা কাঁচা ছাগলের দুধের প্রশংসা করেন এবং কাছাকাছি একটি খামারের কথা জানান। খামারটি ছিল তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ মাইল দূরে। এমিলি সেখানে গিয়ে কাঁচা ছাগলের দুধ সংগ্রহ করেন। দুধটি তখনও উষ্ণ ছিল এবং ব্রুকলিন সেটি সহজেই পান করেছিল। এরপর প্রায় ছয় মাস কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই শিশুটিকে ওই দুধ দেওয়া হয়। তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য উঠে আসে। ব্রুকলিন অসুস্থ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই একই খামারের দুধ পান করা ছয় বছর বয়সী আরেক শিশুও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভিক্টোরিয়া নামের ওই শিশুরও E. coli O157 সংক্রমণ এবং হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম ধরা পড়ে। তাকেও রেডি চিলড্রেনস হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা নিতে হয়। দুই পরিবারের মধ্যে পরে যোগাযোগ হয় এবং তারা জানতে পারেন, তাদের সন্তানরা একই খামারের দুধ পান করার পর একই বিরল ধরনের E. coli সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। ব্রুকলিন হাসপাতালে থাকার সময় তার মা দুধ বিক্রেতা কোর্টনি বেকারকে বিষয়টি জানান এবং অন্যদের কাছে দুধ বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। বেকার প্রথমে জানান, তার দুধ পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। পরে কথোপকথনে তিনি স্বীকার করেন যে E. coli পরীক্ষা করা হয়নি। এর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামার থেকে ‘পরিষ্কার ও পরীক্ষিত’ ছাগলের দুধ পাওয়ার প্রচার চালানো হচ্ছিল বলে প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খামারটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। ২০২৫ সালের ২০ জুন কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে বেকারের সঙ্গে কথা বলেন। বেকারের বক্তব্য ছিল, দুধ মানুষের জন্য নয়, পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে বিক্রি করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে লাইসেন্সের প্রয়োজন হলেও নির্দিষ্ট শর্তে পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে কাঁচা দুধ বিক্রির সুযোগ রয়েছে। প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু বিক্রেতা মানুষের ব্যবহারের জন্যও দুধ সরবরাহ করছেন বলে স্বাস্থ্য ও নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তদন্তের সময় কর্মকর্তারা খামারটিকে দুধজাত পণ্য উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং অনুমোদন ছাড়া খাদ্যপণ্য পরিচালনার জন্য একটি লঙ্ঘন নোটিশ দেন। পরে খামার থেকে একটি দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে সেই নমুনায় E. coli-সহ কয়েকটি জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, নমুনাটি শিশুদের অসুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং খামারটির পক্ষ থেকেই নমুনাটি দেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই পরীক্ষার ফল থেকে আগের দুধে E. coli ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। খামারের মালিক কোর্টনি বেকার প্রোপাবলিকাকে জানিয়েছেন, তিনি প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপনের সঙ্গে তীব্রভাবে একমত নন। তার দাবি, খামারের দুধ পোষা প্রাণীর জন্য বিক্রি করা হতো এবং ক্রেতারা সেটি কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেটি তার নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। তিনি আরও বলেছেন, খামার থেকে নেওয়া পরীক্ষার ফল নেতিবাচক ছিল। বেকারের পক্ষ থেকে মামলার অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে পূর্ণাঙ্গভাবে লড়াই করার কথা জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন। অন্যদিকে, ব্রুকলিনের পরিবার ও ভিক্টোরিয়ার পরিবার খামারের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, মানুষের পান করার উপযোগী হিসেবে উপস্থাপন করে দূষিত কাঁচা দুধ বিক্রি করা হয়েছিল। মামলাটি এখনো চলমান এবং অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ব্রুকলিনের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে বলে তার মা জানিয়েছেন। আগে হাঁটাচলা ও কথা বলার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা শিশুটি পরে শারীরিক থেরাপি নিতে শুরু করে। তার হাঁটায় সামান্য সমস্যা দেখা দেয় এবং ঘুমের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা ভবিষ্যতে কিডনি নিয়ে জটিলতার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন এবং নিয়মিত কিডনি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ঘটনাটি আবারও কাঁচা দুধের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্ক সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ বলছে, কাঁচা দুধে E. coli, সালমোনেলা, লিস্টেরিয়া ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টরের মতো ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব জীবাণু বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। এফডিএ আরও জানিয়েছে, কাঁচা দুধের অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ বা রোগ প্রতিরোধের সুবিধা রয়েছে, এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। দুধকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম করে জীবাণু ধ্বংস করার প্রক্রিয়াই পাস্তুরায়ন। কাঁচা দুধে জীবাণু থাকার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা যায় না, এমনকি প্রাণী সুস্থ দেখালেও। ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি বৈধ হলেও সংশ্লিষ্ট খামারকে নির্দিষ্ট লাইসেন্স, স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতামূলক লেবেল সংক্রান্ত শর্ত মানতে হয়। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগও জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা থাকলেও কাঁচা দুধ পাস্তুরিত দুধের মতো নিরাপদ বলে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। মেয়ের গুরুতর অসুস্থতার পর এমিলি মারিস এখন অন্য অভিভাবকদের কাঁচা দুধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে চাইছেন। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য অন্য কোনো পরিবারকে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না দেওয়া। তবে কাঁচা দুধের খামারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সূত্র: প্রোপাবলিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসের এক ফায়ারকর্মীর চার মাস বয়সী ছেলে কেনজি কামারার দীর্ঘ চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। জন্মের পর স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল শিশুটি। তবে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বয়সে পরীক্ষায় ধরা পড়ে অন্ত্রের একটি জন্মগত জটিলতা, যা দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে কেনজিকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় তাকে বিদায় জানাতে ডালাসের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মেডিকেল সিটি চিলড্রেনস হাসপাতালে জড়ো হন। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি পরিবার ও চিকিৎসকদের জন্যও বিশেষ হয়ে ওঠে। কেনজির বাবা ইয়ান কামারার ডালাসের একজন ফায়ারকর্মী। মা লিন্ডসে কামারারের সঙ্গে গত কয়েক মাস তাঁদের বেশির ভাগ সময় কেটেছে হাসপাতালেই। চিকিৎসকেরা জানান, পাঁচ সপ্তাহ বয়সে শিশুটির অন্ত্রে ‘ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন’ বা অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থানগত ত্রুটি শনাক্ত হয়। জন্মের পর এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি বলেও পরিবার জানিয়েছে। এই সমস্যার কারণে কেনজি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে চারবার অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের ৭৫ জনের বেশি কর্মী বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন। কেনজির মা লিন্ডসে চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে পুরো চিকিৎসক ও হাসপাতালকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, এই সময় তাঁদের পাশে থাকা মানুষদের নিয়ে তাঁদের একটি বড় সহায়তার পরিসর তৈরি হয়েছে। কেনজির বাবা ইয়ান জানান, জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁর সন্তান হাসপাতালের বাইরে নয়, বরং হাসপাতালেই কাটিয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যেতে পারায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। শিশুটির চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন চিকিৎসক ক্রিস বিসানি। কেনজি হাসপাতালে আসার সময় তার অবস্থা কতটা গুরুতর ছিল, সে কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন শিশুটির অবস্থা দেখে তার মা জানতে চেয়েছিলেন, ছেলে বাঁচবে কি না। চিকিৎসক তাঁকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটিকে সামলানোর চেষ্টা করা হবে এবং সবাই মিলে কাজ করবেন। কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত আরেক চিকিৎসক শ্বেতা মুর্থি অন্ত্রের এই সমস্যার জটিলতা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থান ঠিকভাবে তৈরি না হলে তা পাক খেয়ে যেতে পারে। এতে অন্ত্রে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এর অন্যতম লক্ষণ বমি হতে পারে। তবে সব শিশুর বমির পেছনে এমন গুরুতর সমস্যা থাকে না। জনস হপকিন্স মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন একটি জন্মগত সমস্যা। ভ্রূণের বিকাশের সময় অন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থানে না বসলে এই জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে অন্ত্র আটকে যেতে বা পেঁচিয়ে যেতে পারে। অন্ত্র পেঁচিয়ে গেলে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে অন্ত্র পেঁচিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের হঠাৎ বমি, পেট ফুলে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি বা রক্তমিশ্রিত পায়খানার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। জনস হপকিন্স মেডিসিন বলছে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি, কারণ দীর্ঘ সময় রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকলে অন্ত্রের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে কেনজির ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় বিষয়টি আরও অপ্রত্যাশিত ছিল বলে পরিবার ও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে কেনজিকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর ডালাসের ফায়ারকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারটির সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। কয়েক মাসের উদ্বেগ ও দীর্ঘ চিকিৎসার পর ছোট্ট শিশুটির বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি হাসপাতালকর্মীদের কাছেও আবেগঘন হয়ে ওঠে। কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকেরা জানান, এত জটিল পরিস্থিতি কাটিয়ে শিশুটির সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারা তাঁদের জন্যও বিশেষ তৃপ্তির বিষয়। পরিবারটির জন্য এখন দীর্ঘ হাসপাতালজীবনের পরিবর্তে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনে ফেরার নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সূত্র: ফক্স ৪ ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ও জনস হপকিন্স মেডিসিন।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আড়াই বছরের শিশু হাশেম আবু মুস্তাফা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জন্মগত মাংসপেশির জটিলতার সন্দেহ, তীব্র অপুষ্টি, বারবার খিঁচুনি ও উচ্চ জ্বরে ভুগছে শিশুটি। এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে নিজে মাথা সোজা করে রাখতে পারছে না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে গাজার বাইরে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি। সম্প্রতি নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে হাশেমের তীব্র অপুষ্টি ধরা পড়ে। ২৩ আগস্ট হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তার অসুস্থতার মূল কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তার আরও পরীক্ষা, বিশেষ করে এমআরআই ও রক্তের কালচার প্রয়োজন। কিন্তু গাজায় এসব পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসা-সুবিধা পর্যাপ্ত নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাশেমের মা সুহা আবু মুস্তাফা জানিয়েছেন, অপুষ্টির জটিলতায় শিশুটির চার অঙ্গের নড়াচড়াও মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে গেছে। গিলতে তার গুরুতর সমস্যা হচ্ছে। বিশেষভাবে তৈরি করে নরম খাবার দিতে হয়, কিন্তু একটি খাবার খেতেই তার দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। হাশেমের জন্ম গাজার রাফাহ এলাকায় একটি তাঁবুতে। তার মা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায়ও পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার পাননি তিনি। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল দুই কেজিরও কম। গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসির জুলাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গাজার ১২ লাখের বেশি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার সংকটপূর্ণ বা তার চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ছিল। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করা হয়েছে। জাতিসংঘও জানিয়েছে, খাদ্য ও শিশু পুষ্টির পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও তা অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা এখনো ব্যাপক। গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবস্থাও গুরুতর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জুলাইয়ের পর্যালোচনায় স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘাটতি ও বাধার কথা উঠে এসেছে। ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হাশেমের মতো রোগীদের জন্য গাজার বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগস্টেও রাফাহ ক্রসিং দিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়ার কার্যক্রম চালু ছিল। তবে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং অনিশ্চিত মানবিক পরিস্থিতির কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার পথ এখনো কঠিন।
চীনে বিরল জিনগত সমস্যায় আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসায় পরিবার প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করেছিল। নতুন ধরনের জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হবে এমন আশাই দেখানো হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রমাণ ছাড়াই চিকিৎসাটি মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরিবারকে পূর্ণাঙ্গভাবে জানানো হয়নি। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির পরিবারের অনুরোধে তার প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে তাকে ‘মেই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। মেই বিরল সিএইচডি৩ (CHD3) জিনের পরিবর্তনের কারণে স্নাইডার্স ব্লক-ক্যাম্পো সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিল। এ ধরনের রোগে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণত বুদ্ধিবিকাশ, ভাষা ও শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলেও এটি সাধারণত প্রাণঘাতী নয় এবং সময়ের সঙ্গে দ্রুত অবনতি ঘটে না। মেইয়ের শিক্ষকরা তার লেখালেখি ও ভাষাগত দক্ষতার দুর্বলতার কথা অভিভাবকদের জানিয়েছিলেন। এরপর পরিবারটি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়। সেসময় গবেষক জিলং কিউ তাদের ‘বেস এডিটিং’ নামে অত্যাধুনিক জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার প্রস্তাব দেন। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যা এখনো বিশ্বজুড়ে পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে এবং মানুষের ওপর এর ব্যবহার খুবই সীমিত। সায়েন্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউ নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে খুব কম গবেষকই এই প্রযুক্তিতে দক্ষ। তবে তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের একজন। জিন থেরাপিতে সাধারণত বিশেষ ধরনের ভাইরাস ব্যবহার করে কোষে জিন পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু মেইয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্ক, যেখানে পৌঁছাতে রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার) বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। সে কারণে চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করাতে হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের ওপর এই চিকিৎসা প্রয়োগের আগে গবেষককে ইঁদুর ও বানরের ওপর সফল পরীক্ষা দেখাতে হতো। কিউ পরিবারকে জানান, ইঁদুরের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরে তিনি বানরের মস্তিষ্কের কিছু ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, চিকিৎসাটি নিরাপদ এবং কার্যকর। তবে সায়েন্স যখন স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সেই তথ্য ও ছবি পর্যালোচনা করায়, তারা ছবিগুলোকে পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবরসায়নবিদ ডেভিড স্যান্ডার্স বলেন, উপস্থাপিত তথ্য এতটাই দুর্বল ছিল যে এর ভিত্তিতে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর মতো আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়ার কথা নয়। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মেইয়ের চিকিৎসার এক মাস আগে একই থেরাপি দেওয়া চারটি বানরের সবারই মাঝারি থেকে গুরুতর লিভারের ক্ষতি হয়। তাদের মধ্যে একটির কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জিন থেরাপির পরিচিত ও প্রাণঘাতী জটিলতা ‘থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথি’-র লক্ষণ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসা চালিয়ে নিতে গবেষক দলের পক্ষ থেকে পরিবারকে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনকি গবেষণা দলের কয়েকজন সদস্যের ব্যক্তিগত হিসাবেও অর্থ পাঠাতে বলা হয়। এর মধ্যে একটি গবেষণাগারের দায়িত্বে থাকা এক গবেষককে সরাসরি এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব লেনদেন নিয়ে পরিবারের মধ্যেও ধীরে ধীরে উদ্বেগ তৈরি হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, মেইয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে ভাইরাসবাহী উপাদানের বিরুদ্ধে শরীরে আগে থেকে অ্যান্টিবডি থাকা। তা ছাড়া চিকিৎসাটি ‘তুলনামূলকভাবে নিরাপদ’ বলেও তাদের আশ্বস্ত করা হয়। পরের মাসে মেইয়ের মেরুদণ্ডের তরলে বিপুল পরিমাণ ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়, যাতে তা মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই মেইয়ের জ্বর দেখা দেয়। এরপর তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, যা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত ছিল। দ্রুত তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলেও পরদিন তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের জরুরি নৈতিকতা কমিটির তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়, চিকিৎসাজনিত জটিলতার কারণেই মেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথির কথা উল্লেখ করা হয়, যা বানরের পরীক্ষাতেও দেখা গিয়েছিল। এ ঘটনার পর হাসপাতালকে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার জরিমানা করা হয়। আর যে চিকিৎসক পরিবারকে চিকিৎসাটি তুলনামূলক নিরাপদ বলেছিলেন, তাকে মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এদিকে মেইয়ের পরিবার গবেষক জিলং কিউকে তার গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। শুরুতে তিনি রাজি হলেও পরে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচার কিউর গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। তবে সেখানে মেইয়ের মৃত্যুর কোনো উল্লেখ ছিল না। পরিবার বিষয়টি নেচার কর্তৃপক্ষকে জানালেও সাময়িকীটি জানায়, অভিযোগগুলো তথ্যের নির্ভুলতার আওতার বাইরে পড়ে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সায়েন্স-এর প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন জানিয়েছে, তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গবেষণায় নৈতিকতা, রোগীর সম্মতি, পরীক্ষামূলক চিকিৎসার নিরাপত্তা এবং গবেষণার তদারকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে নেচারে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য ও ছবিগুলোর স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের করাচির কুলসুম বাই ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আরও দুই শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ জনে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত হওয়া দুই শিশুর একজন করাচির মেট্রোভিল এলাকার মাত্র তিন বছর বয়সী একটি শিশু। তার বাবা জানান, বুকের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তাকে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) পরিচালিত ভ্যালিকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়ে। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে অতিরিক্ত পরীক্ষা করানোর পর এইচআইভি শনাক্ত হয়। এর আগে সিন্ধ প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ ঘানি জানিয়েছিলেন, ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অন্তত ৭৮ শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ আরও দুই শিশুর সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ জনে পৌঁছেছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে সাঈদ ঘানি বলেন, কীভাবে এতসংখ্যক শিশু সংক্রমিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এদিকে চলতি মাসের শুরুতে সিন্ধ হাইকোর্ট প্রাদেশিক সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একটি রিট আবেদনের শুনানিতে আদালত এ নির্দেশ দেন। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হাসপাতালের অবহেলার কারণে প্রায় ২০০ শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। আবেদনকারী পক্ষের দাবি, ২০২৫ সালে হাসপাতালটিতে দূষিত সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহারের কারণে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এ অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করতে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি ব্যয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তহবিল থেকে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি সংক্রমণের উৎস নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধে জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
তুরস্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসার সময় হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে এলা কোকাচোগুর নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করার জন্য তাকে সাধারণ অজ্ঞান (জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া) দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এরই মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুরদুর শহরের বাসিন্দা এলা গত ৩ জুলাই দাঁতের চিকিৎসার জন্য পাশের ইসপার্তা শহরের দাভরাজ প্রাইভেট ইয়াশাম হাসপাতাল যান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির দাঁতে একাধিক ক্ষয় (ক্যাভিটি) ছিল। তার বয়স কম হওয়া এবং দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে ভীত থাকার কারণে আলাদা আলাদা সময়ে চিকিৎসা না করে একবারেই আটটি ফিলিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য তাকে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা চলাকালেই এলা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুনরুজ্জীবিত (রিসাসিটেশন) করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর শোকাহত পরিবার স্থানীয় প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে অজ্ঞান করার আগে প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসার আগে অ্যালার্জি পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল কি না। এছাড়া অ্যানেস্থেশিয়ার মাত্রা সঠিক ছিল কি না এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একজন যোগ্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এলার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইতোমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবেন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসার সময় সব ধরনের চিকিৎসা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি একটি অপ্রত্যাশিত জটিলতা ছিল। অন্যদিকে ইসপার্তা চেম্বার অব ডেন্টিস্টস-এর সভাপতি নাইম শেনইউর্ত বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তে যদি কোনো অবহেলা বা পেশাগত ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলার মৃত্যু তুরস্কে শিশুদের ক্ষেত্রে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ ও জটিল দাঁতের চিকিৎসার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের জটিল চিকিৎসা শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালেই করা উচিত, যেখানে জরুরি শিশু চিকিৎসা দল সব সময় প্রস্তুত থাকে। এলা ছিলেন মেহমেত ইয়িলদিজলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি জিমন্যাস্টিকস ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। দুই ভাইবোনের সঙ্গে স্থানীয় একটি ক্রীড়া ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন করতেন এবং অল্প বয়সেই কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ শিশু। শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৮ জন। এ সময়ে নতুন করে ৯৭২ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৯৩ জন। অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯। এ পর্যন্ত মোট ৭৫ হাজার ১৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৩৯৬ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।
হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ রোববার থেকে দেশের চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এই কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। প্রতিদিন (ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যা চলবে ১১ মে পর্যন্ত। এই টিকাদানের আওতায় থাকবে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। এর আগে, ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে দেশের ৩০টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হয়। এসব এলাকা ১৮টি জেলার অন্তর্ভুক্ত ৩০টি উপজেলায় অবস্থিত। রাজধানীতে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে, যেখানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে একাধিক টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই এলাকায় প্রায় ৪ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী প্রায় ৪৭ হাজার শিশুও অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও প্রায় ৪ লাখ শিশুকে এই টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ২৭ দিনের (১৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৭ দিনে দেশে মোট ২ হাজার ৪০৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৯৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ হাজার ৯১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৬০৯ জন। হঠাৎ হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা Measles বা হামের ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব সরাসরি হাম সৃষ্টি না করলেও এই রোগের ঝুঁকি ও জটিলতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, Vitamin A শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে শরীর সহজেই সংক্রমণে আক্রান্ত হয় এবং হাম হলে তা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে হাম হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অন্ধত্বের ঝুঁকিও তৈরি হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে। জনস্বাস্থ্যবিদরা মনে করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক পুষ্টি এবং সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হামজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর সাড়ে পাঁচ বছর ধরে এমন কোনো কর্মসূচি হয়নি, যদিও নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর এটি আয়োজনের কথা। সোমবার সংসদে এনসিপির এমপি আখতার হোসেন-এর নোটিশের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় দেশে হামের বিস্তার ও তা মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। আখতার হোসেন তার বক্তব্যে জানান, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ ছাড়িয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন অন্তত ২০ জন। হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা ও আইসিইউ সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টিকা সংগ্রহে অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে শুধু হাম নয়, আরও কয়েক ধরনের টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শিশুদের জন্য ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুতের কাজ চলছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি-এর উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের অক্সিজেন সরবরাহ প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহে ইউনিসেফ-এর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত মানুষের নাক ও গলার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই রোগের ফলে রোগীর শরীরে প্রচণ্ড জ্বরের পাশাপাশি মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং এমনকী দীর্ঘস্থায়ী অন্ধত্বের মতো জটিল সব শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। গর্ভবতী নারী এবং ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগটি সবচাইতে বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম থাকে যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে হামের কোনো নির্দিষ্ট ঔষধ বা চিকিৎসা নেই বিধায় এটি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখা। কোনো সংক্রামিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে এই রোগটি বাতাসের মাধ্যমে খুব সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের হার প্রায় নব্বই শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো স্থান ত্যাগ করার দুই ঘণ্টা পরেও সেখানে এই বিপজ্জনক জীবাণুর অস্তিত্ব থেকে যেতে পারে যা সুস্থ মানুষকে নতুন করে সংক্রমিত করার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শরীরে ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দিতে পারে এবং এর সাথে টানা কাশি ও নাক দিয়ে অবিরাম পানি পড়ার সমস্যা তৈরি হয়। চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং মুখের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদা দাগ বা কপলিক স্পট দেখা দিলে বুঝতে হবে রোগী হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তখন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত মুখ বা চুলের গোড়া থেকে লাল রঙের র্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে যা রোগীর জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও অস্বস্তিকর একটি পরিস্থিতি। যদি মনে হয় হাম হয়েছে তবে আতঙ্কিত না হয়ে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং নিজের শারীরিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে ফোনে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সরাসরি না গিয়ে প্রথমে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত যাতে আপনার মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তি এই ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ না পায়। সংক্রমণ রুখতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই উন্নত মানের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে যাতে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ে। ব্যবহৃত টিস্যু যত্রতত্র না ফেলে ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে হবে এবং সাবান ও পানি দিয়ে বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে যা পরিবারের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। আক্রান্ত ব্যক্তির খাওয়ার বাসনপত্র বা পানীয় অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না এবং ঘরের যে সমস্ত জায়গা বারবার স্পর্শ করা হয় সেগুলো নিয়মিত শক্তিশালী জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। দরজার হাতল, টেবিল এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করলে ভাইরাসের বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যা বিপদমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে। হামের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক সচেতনতাই হলো প্রধান হাতিয়ার যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।