সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শিশু সুরক্ষা

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ও কুইন্স এলাকায় নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে তিন দিনের অভিযানে নিখোঁজ ৩৪ শিশু-কিশোর উদ্ধার

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ও কুইন্সে তিন দিনের বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ৩৪ শিশু ও কিশোরকে খুঁজে বের করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলো। ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী এসব শিশু-কিশোরের নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল ছিল কয়েক দিন থেকে শুরু করে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে কয়েকজন শোষণ ও মানবপাচারের শিকার হয়েছিল।   শুক্রবার নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে এই বিশেষ অভিযান। ‘লং আইল্যান্ড মিসিং চাইল্ড রেসকিউ অপারেশন’ নামের এই উদ্যোগের সমন্বয় করা হয় নাসাউ কাউন্টির গার্ডেন সিটিতে স্থাপিত একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার থেকে। সেখানে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা একসঙ্গে বসে নিখোঁজ শিশুদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করেন।   উদ্ধার হওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ১৮ জন নাসাউ কাউন্টি, ১২ জন সাফোক কাউন্টি এবং চারজন কুইন্সের নিখোঁজ তালিকায় ছিলেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় থাকা এসব শিশুকে খুঁজে পাওয়ার পর শুধু পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, পরামর্শ, নিরাপদ আশ্রয়, পোশাক, খাবার ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।   এই অভিযানে প্রায় ৪০টি সংস্থা ও সংগঠনের শতাধিক পেশাজীবী অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তকরণে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এতে যুক্ত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, এক জায়গায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার ফলে তথ্য আদান-প্রদান দ্রুত হয়েছে এবং প্রতিটি মামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   ন্যাশনাল চাইল্ড প্রোটেকশন টাস্ক ফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন ব্রানজেত্তি বলেন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের প্রতিটি ঘটনা নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে শেষ হয় না। অনেক সময় দ্রুত শিশুটিকে শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সে কোনো বিপদের মুখে পড়ার আগেই নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। তিনি বলেন, শিশুকে খুঁজে পাওয়া কেবল প্রথম ধাপ; এরপর কেন সে বাড়ি ছেড়েছিল, নিখোঁজ থাকার সময়ে কী ঘটেছিল এবং তাকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সেদিকেও নজর দিতে হয়।   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি যে বড় ধরনের উদ্বেগের, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় সরকারি পরিসংখ্যানেও। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন জেমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অঙ্গরাজ্যজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী ১০ হাজার ৬২৯ শিশুকে নিখোঁজ হিসেবে পুলিশে রিপোর্ট করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৯৪ শতাংশ ঘটনাকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। একই বছরে ২০২৫ বা তার আগের সময়ে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট হওয়া শিশুদের ১০ হাজার ৬৭২টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। তবে বছরের শেষে অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ৭৯টি সক্রিয় নিখোঁজ শিশু মামলা ছিল।   লং আইল্যান্ডের এই অভিযান নিউইয়র্কে এ ধরনের চতুর্থ বড় আকারের শিশু উদ্ধারের উদ্যোগ। এর আগে এরি কাউন্টি, ক্যাপিটাল রিজিয়ন এবং ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে একই ধরনের সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছিল। আগের তিনটি অভিযানে মোট ১৬৮ নিখোঁজ শিশু ও কিশোরকে খুঁজে পাওয়া হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত অভিযানে ৪৩ নিখোঁজ ও বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া শিশু-কিশোরকে খুঁজে পাওয়া যায়। ওই অভিযানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য, ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় ৭০টি সংস্থা যুক্ত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তারা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বেশি ছিল এমন কয়েকটি এলাকায় বিশেষভাবে নজর দিয়েছিলেন।   লং আইল্যান্ডের সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিস্থিতি এক ছিল না। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে কিছু শিশু শোষণ ও মানবপাচারের মতো গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। এসব মামলার পৃথক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই কারণে উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক শিশু কোথায় পাওয়া গেছে বা তাদের সবাইকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৪ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার পরও কাজ শেষ হয়নি। লং আইল্যান্ড ও কুইন্সে আরও নিখোঁজ শিশুর মামলা রয়েছে এবং সেগুলোর তদন্ত অব্যাহত থাকবে। কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং শিশুকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   নিউইয়র্কের এই ধারাবাহিক অভিযানগুলোতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের ক্ষেত্রে শুধু পুলিশি অনুসন্ধান যথেষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিশু সুরক্ষা সংস্থা, সমাজসেবা কর্মী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। লং আইল্যান্ডের অভিযানে প্রায় ৪০টি সংস্থার শতাধিক মানুষকে একই কমান্ড সেন্টার থেকে সমন্বয় করার মাধ্যমে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক গভর্নরের কার্যালয়, নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেস ও সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত জাস্টিন মেরি মে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার না দিয়ে দুই কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে তিন বছরের কম বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাদের মায়ের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সী জাস্টিন মেরি মে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চার্লসটনের কাছে ল্যাডসন এলাকার একটি বাড়িতে শিশু দুটির মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   চার্লসটন কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টার কিছু পর ল্যাডসনের পাইনউড ড্রাইভের একটি বাড়িতে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে যান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে গিয়ে তারা দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পান। পরে বাড়ির মালিক জাস্টিন মেরি মেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চার্লসটন কাউন্টির আল ক্যানন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন।    কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু দুটির পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে পরিবারের সদস্যরা আটলান্টার সাংবাদিক কোডি অ্যালকর্নকে জানিয়েছেন, তাদের নাম এমোরি ও হারলো। দুজনের বয়সই তিন বছরের কম। নিউজউইকের পর্যালোচনা করা সম্পত্তির নথি অনুযায়ী, পাইনউড ড্রাইভের বাড়িটির মালিক ছিলেন জাস্টিন এবং তার স্বামী হিসেবে নথিতে উল্লেখ থাকা ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।   সাউথ ক্যারোলিনাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিটসনিউজের হাতে আসা আদালতের প্রাথমিক নথিতে শিশুদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ওই নথির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে জাস্টিন বলেছেন, আগের দুই সপ্তাহের ঘটনা তার কাছে অস্পষ্ট মনে হচ্ছিল। শেষ কবে দুই মেয়েকে খাবার বা পানি দিয়েছিলেন, সেটিও তিনি মনে করতে পারছিলেন না বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    ফিটসনিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাস্টিন তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের খাবার না পাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেন। সন্তানদের যথাযথ খাবার না দেওয়া অবহেলার শামিল বলেও তিনি স্বীকার করেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজেকে শিশু দুটির একমাত্র দেখাশোনাকারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে বাড়িতে অন্য কেউ ছিলেন না বলে জানান। এসব বক্তব্যের সত্যতা ও মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তদন্তের বিষয়।   প্রাথমিক নথি অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছানোর পর জাস্টিনকে বাইরে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। পরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এর আগেও ওই বাড়ির বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে পুলিশকে সেখানে যেতে হয়েছিল। তবে পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোতে ঠিক কী পাওয়া গিয়েছিল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।    পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে জাস্টিনের আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এর আগে দীর্ঘদিন তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল বলে তারা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে স্বজনেরা সাউথ ক্যারোলিনার সমাজসেবা বিভাগে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি পুলিশকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন এবং জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দলের সহযোগিতাও চান।   পরিবারের দাবি, তাদের উদ্বেগ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। একপর্যায়ে ছোট মেয়ে হারলোর শরীরে গুরুতর ফুসকুড়ি দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া একটি ছবি দেখে স্বজনেরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে জাস্টিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও তারা জানিয়েছেন। শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধারের এক দিন আগে জাস্টিনের মা স্থানীয় পুলিশপ্রধানকে ইমেইল করে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।   এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী তথ্য পেয়েছিল এবং সেগুলোর ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সমাজসেবা বিভাগ বা অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জাস্টিনের আচরণ পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কেও কোনো চিকিৎসাগত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   এদিকে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, শিশুদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় না দেওয়ার ঘটনা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ফিটসনিউজের প্রকাশিত প্রাথমিক নথিতে ময়নাতদন্তের ফলাফল বা মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি। চার্লসটন কাউন্টির করোনার কার্যালয়ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাস্টিন তার জামিনসংক্রান্ত শুনানির অধিকার ছেড়ে দেন। ফলে তিনি আপাতত হেফাজতেই থাকছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ নভেম্বর তার প্রাথমিক আদালতে হাজিরার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    সাউথ ক্যারোলিনার আইনে শিশু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে কার্যকর হওয়া সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর মৃত্যু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে ঘটলে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হলে সরাসরি দায়ী ব্যক্তির সর্বনিম্ন ২০ বছরের কারাদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে জাস্টিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন সাজা প্রযোজ্য হবে, তা বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।    যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ২০২৩ সালে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়। তার আইনজীবীরা ঘটনার সময় গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতার যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে প্রসিকিউটররা তার ফৌজদারি দায় রয়েছে বলে অবস্থান নেন। সেপ্টেম্বরে ওই মামলায় বিচারকমণ্ডলী সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারক বিচারপ্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা কোরি ওয়ালশের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ওই মামলায়ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যুক্তি আদালতে তোলা হয়েছে। তবে জাস্টিন মেরি মের মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মানসিক রোগের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পৃথক মামলাগুলোর পরিস্থিতিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।   ল্যাডসনের ঘটনায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে পরিবারের আগাম সতর্কবার্তা। স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা শিশু দুটির নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তদন্তের পাশাপাশি এসব যোগাযোগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপও পর্যালোচনা করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   দুই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর আগের পরিস্থিতি এবং কারও অবহেলা আইনগতভাবে প্রমাণিত হয় কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাস্টিন মেরি মে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।   সূত্র: নিউজউইক, ফিটসনিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
দুই মাস বয়সী শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে ইন্ডিয়ানায় লুথেরান চার্চের ভিকার জোসায়াহ জাঙ্কিন আটক হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
দুই মাসের শিশুর ডায়াপার বদলানোর সময় যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা নেতা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুকে ডায়াপার পরিবর্তনের সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে লুথেরান চার্চের এক ভিকারিয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জোসায়াহ জাঙ্কিন। ২৭ বছর বয়সী জাঙ্কিন ফোর্ট ওয়েন শহরের একটি লুথেরান চার্চে ভিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি অ্যালেন কাউন্টি কারাগারে আটক আছেন।   জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে একটি শিশু যৌন নির্যাতনের মামলা করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিটিএ ও ডব্লিউকেআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের একটি ঘটনার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। এক নারী পুলিশকে জানান, জাঙ্কিন নিজেই তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি শিশুটিকে ডায়াপার পরিবর্তনের সময় নির্যাতন করেছিলেন। পরে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের সময়ও জাঙ্কিন একই শিশুকে একাধিকবার নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কাছে জাঙ্কিন অন্তত চারবার শিশুটিকে নির্যাতনের কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তি মিশিগানের কর্তৃপক্ষকে জানান। অন্যদিকে, শিশুটির বিষয়ে পাওয়া তথ্য এক নারী ইন্ডিয়ানার শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছেও জানান।   ঘটনাটি নিয়ে মিশিগানেও তদন্ত হয়েছে। তদন্তকারী এক গোয়েন্দা জানিয়েছেন, জাঙ্কিন ফোর্ট ওয়েনে শিশুটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এদিকে ইন্ডিয়ানায় তদন্তকারীরা অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং আদালতের নথিতে থাকা তথ্য সংগ্রহ করেন।   তদন্তের সময় পুলিশ এমন একটি ব্যক্তিগত ডায়েরির ছবিও পায়, যেটি যৌন আসক্তি থেকে মুক্তির একটি কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ডায়েরিতে জাঙ্কিন তাঁর যৌন আচরণকে গ্রেপ্তারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত করেছিলেন। সেখানে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণসংক্রান্ত কল্পনার কথাও লেখা ছিল বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে।   পুলিশ জাঙ্কিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। তবে তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি নিজে আত্মসমর্পণ করবেন। পরে ২০ আগস্ট তাঁকে অ্যালেন কাউন্টি কারাগারে আটক করা হয়। কারাগারের নথিতেও তাঁর বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে।   জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ইন্ডিয়ানা ও মিশিগান উভয় অঙ্গরাজ্যেই চলছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে তিনি লুথেরান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন। লুথেরান চার্চের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তিনি উইসকনসিনের একটি লুথেরান চার্চে ভিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং একটি নতুন চার্চ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেও কাজ করেছিলেন।   বর্তমান মামলায় অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ২০২৪ সালে ফোর্ট ওয়েনে দুই মাস বয়সী শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা। তদন্তকারীরা জাঙ্কিনের কথিত স্বীকারোক্তি, ব্যক্তিগত নথি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে এসব তথ্য ও প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।   ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সংবাদসূত্র: ডব্লিউপিটিএ, ডব্লিউকেআরসি, ২১অ্যালাইভ নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আদালতে প্রশ্নের মুখে মেটা। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর ফিচার বাতিলের দাবিতে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা

শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক মামলায় মেটার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু বহুল ব্যবহৃত ফিচার তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে, এমন অভিযোগ তুলে এসব ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার মামলাটির মূল বিচারপর্ব শুরু হয়েছে। মামলায় রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে মেটার কাছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন আনার দাবি জানানো হয়েছে।   মামলাটি ২০২৩ সালে ২৯ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা অভিযোগ থেকে শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি মামলাটির প্রধান বাদী হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার তৈরি করেছে, যাতে শিশু ও কিশোররা বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মেটা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলার অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অসীম স্ক্রল বা ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা। এর ফলে একটি পোস্ট শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে পরবর্তী পোস্টের আভাস দেখানো হয় এবং স্ক্রল করতে থাকলে নতুন নতুন কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে আসতে থাকে। রাজ্যগুলোর দাবি, এই নকশা ব্যবহারকারীকে থামার স্বাভাবিক জায়গা না দিয়ে ক্রমাগত স্ক্রল করতে উৎসাহিত করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে এই ধরনের অসীম স্ক্রল ব্যবস্থা ২০১৬ সালে চালু করা হয়।   শুধু অসীম স্ক্রল নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া, পুশ নোটিফিকেশন, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো এবং অল্প সময় পর অদৃশ্য হয়ে যায় এমন কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব ফিচার তরুণ ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।   রাজ্যগুলোর চাওয়া পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য অসীম স্ক্রল বন্ধ করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা সীমিত বা বন্ধ করা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফেরাতে পারে এমন নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কনটেন্ট এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নিয়েও বিধিনিষেধ চাওয়া হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টারের ব্যবহার নিয়েও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রয়েছে।   এ ছাড়া রাজ্যগুলো মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদমেরও পরিবর্তন চায়। তাদের অভিযোগ, কোন কনটেন্ট ব্যবহারকারীকে বেশি সময় ধরে রাখতে পারে, সেই বিষয়টি অ্যালগরিদমে গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কনটেন্টও বারবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়। রাজ্যগুলোর ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মের নকশাই এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীর ব্যস্ততা বা ‘এনগেজমেন্ট’ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।   মামলায় শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজ্যগুলোর দাবি, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ অভিভাবকীয় সম্মতি নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে আদালত মেটার সারসংক্ষেপ রায়ের আবেদন পুরোপুরি নাকচ করে দেয় এবং মামলাটি বিচার পর্যন্ত যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। একই আদেশে আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার এই দাবিও গ্রহণ করে যে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষার ফেডারেল আইন, শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপ্পা (COPPA) অনুযায়ী মেটার অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার পদ্ধতি যথেষ্ট ছিল না।   তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের বক্তব্য, রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের দাবিও তারা মানে না। মেটা আরও বলেছে, তরুণদের সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ চলছে।   মামলাটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চাপ দ্রুত বাড়ছে। এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের জুরি রায় এবং পরে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা রয়েছে। ওই মামলায় শিশুদের সুরক্ষায় বয়স যাচাই জোরদার করা, রাত ও স্কুলের সময়ে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান মামলাটি অবশ্য আরও বড় পরিসরের। যদিও ২৯টি অঙ্গরাজ্য মামলায় রয়েছে, অকল্যান্ডের এই বিচারপর্বে প্রধানত ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির অভিযোগগুলো নিয়ে শুনানি হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। মেটার শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মামলার ফল শুধু মেটার জন্য নয়, পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে রায় দেয় এবং নকশাগত পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়, তাহলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই ধরনের মামলায় অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকায়, এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর শিশু-কিশোরদের জন্য পণ্য তৈরির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষ করে অসীম স্ক্রল, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও, নোটিফিকেশন এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশের মতো ফিচারগুলো যদি আদালতের নির্দেশে সীমিত করা হয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে। আর মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবির পাশাপাশি এই নকশাগত পরিবর্তনের দাবিই মামলাটিকে প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

কলম্বিয়ার একটি জঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক শিশুকন্যা ও তার কয়েক মাস বয়সী ছোট ভাইকে। পুলিশ জানিয়েছে, ছোট্ট মেয়েটি সারারাত তার ভাইকে বুকে জড়িয়ে আগলে রেখেছিল, যাতে সে ঠান্ডা ও অন্য যেকোনো বিপদ থেকে নিরাপদ থাকে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে কলম্বিয়ার কিন্দিও বিভাগের মন্টেনেগ্রো এলাকার একটি বনাঞ্চলে। নিয়মিত টহলের সময় পুলিশের সদস্যরা হঠাৎ একটি শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দ অনুসরণ করে তারা ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে পৌঁছে দেখতে পান, একটি ছোট মেয়ে তার কয়েক মাস বয়সী ভাইকে কোলে নিয়ে বসে আছে। আশপাশে আর কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল না।   পুলিশ সদস্যরা দ্রুত দুই শিশুকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কীভাবে বা কখন ওই দুই শিশু সেখানে পৌঁছেছে, কিংবা কে বা কারা তাদের জঙ্গলে ফেলে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি।   এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিশু দুটিকে সেখানে রেখে যাওয়ার পেছনের ঘটনা এবং তাদের পরিবারের পরিচয় জানতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুরো ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে শিশুকন্যার সাহস ও দায়িত্ববোধ। নিজেও ছোট হওয়া সত্ত্বেও সে সারাক্ষণ তার ভাইকে কোলে নিয়ে আগলে রেখেছিল। উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি এক মুহূর্তের জন্যও ভাইকে ছেড়ে দেয়নি।   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই শিশুকন্যার সাহস ও ভাইয়ের প্রতি তার ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন। তবে একই সঙ্গে কী পরিস্থিতিতে শিশু দুটিকে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হলো, সে প্রশ্নের উত্তর জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশু দুটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে রাখা হবে এবং তাদের পরিবারের সন্ধানে কাজ চলছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ঘটনার পর বাড়িটি ঘিরে তদন্ত চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
ওহাইওর একটি বাড়ির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে ১৬ শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার একই পরিবারের চার সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে বসবাসরত ১৬ শিশুকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে তারা এই ঘটনার সন্ধান পান। পরে শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার গুরুতর অভিযোগে একই পরিবারের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।   ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন ঘটনাস্থলকে "প্রায় বর্ণনাতীত" এবং "চরম অমানবিক" বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, দীর্ঘ কর্মজীবনে শিশুদের জন্য এত খারাপ পরিবেশ খুব কমই দেখেছেন তিনি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩৬ বছর বয়সী গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের একটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, মে মাসে তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনি বাড়ির বাইরে পরিবারের বাইরের লোকজনের সামনে অশোভন আচরণ করেন। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে ৩০ জুন ভিনটন কাউন্টির হ্যামডেন এলাকার বাড়িটিতে যান শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা।   বাড়িতে প্রবেশের পর পুলিশ দেখতে পায়, সেখানে মোট ১৬ শিশু বসবাস করছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিল না। ১৮ বছর বয়সী বড় মেয়েটির বিকাশজনিত সমস্যা রয়েছে এবং তিনি নিজের নামও লিখতে পারেন না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   ভিনটন কাউন্টির শেরিফ রায়ান কেইন বলেন, অভিযানে যাওয়ার আগে তারা জানতেনই না যে ওই বাড়িতে ১৬টি শিশু রয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিবেশ এতটাই নোংরা ছিল যে, অনেক খামারের পশুও এর চেয়ে ভালো পরিবেশে রাখা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তদন্তকারীদের দাবি, শিশুদের একটি প্রায় ১২ ফুট × ১২ ফুট আকারের ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে রাখা হতো। কক্ষটিতে মানববর্জ্যের উপস্থিতি ছিল এবং পুরো বাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গত প্রায় চার বছর ধরে শিশুদের অধিকাংশ সময় ওই সংকীর্ণ জায়গায় থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   তদন্তকারীরা আরও জানান, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে খাবারের উচ্ছিষ্ট, পুরোনো আসবাব, টায়ার, কীটনাশকসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। বাড়ির বাইরে শিশুদের খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রীও অযত্নে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর পুলিশ গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়, তার স্ত্রী এলিজাবেথ সাইডার্স (৩৩), গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র (৭১) এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্স (৬৬)-কে গ্রেপ্তার করে।   তদন্তে জানা গেছে, এলিজাবেথই ১৬ শিশুর মা। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়কে বিয়ে করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, দম্পতির প্রথম সন্তানের জন্ম হয় বিয়ের প্রায় দুই মাস পর।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের কেউই স্কুলে ভর্তি ছিল না। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারটি বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও সম্প্রতি হ্যামডেনে আসে। তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে বাইরের মানুষের খুব কমই ধারণা ছিল।   পরিবারটির কয়েকজন দূরসম্পর্কের আত্মীয় স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা এই পরিস্থিতির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সংবাদে ঘটনাটি জানার পর তারা বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৬টি করে দ্বিতীয় ডিগ্রির শিশু নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার (ফেলনি চাইল্ড এন্ডেঞ্জারমেন্ট) অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রত্যেকের জন্য ৩ লাখ ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে।   এদিকে, গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে থাকা পৃথক অশোভন আচরণের মামলারও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সব দিক নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০