যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় বিলাসবহুল একটি গাড়ির চাপায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর দেড়টার ঠিক আগে ইস্ট ফ্ল্যাটবুশ এলাকার রুটল্যান্ড রোড থেকে ইস্ট ৯২ স্ট্রিটে ঘোরার সময় ৬৩ বছর বয়সী এক চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় তার সাদা রঙের 'লেক্সাস আরএক্স ৩৫০' মডেলের গাড়িটি সোজা ফুটপাতে উঠে গিয়ে ওই বৃদ্ধাকে চাপা দেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্মাইলি অ্যাডামস জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ ও টায়ারের ঘর্ষণের আওয়াজ শুনে তিনি তাকিয়ে দেখেন, গাড়িটি ফুটপাতে উঠে ওই বৃদ্ধাকে নিচে ফেলে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “দৃশ্যটি অবিশ্বাস্য ছিল, যেন সিনেমার কোনো মর্মান্তিক দৃশ্য চোখের সামনে ঘটছে। আমি বাস্তবে কখনো এমন কিছু ঘটতে দেখিনি।” অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই বৃদ্ধাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দেয়ালের সঙ্গে মারাত্মকভাবে চেপে ধরেছিল গাড়িটি। আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এলেও তাকে বাঁচানোর কোনো উপায় ছিল না। ফলে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
দুর্ঘটনার পর ধারণ করা বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, বিধ্বস্ত লেক্সাস গাড়িটি ফুটপাতের মাঝখানে থেমে আছে। গাড়ির ভাঙা বাম্পার, কংক্রিটের টুকরো এবং উপড়ে পড়া গাছের অংশবিশেষ রাস্তার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই মোড়টি দুর্ঘটনার জন্য আগে থেকেই বেশ কুখ্যাত। কিম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ট্রাফিক সিগন্যাল পাওয়ার তাড়াহুড়োয় চালকরা প্রায়ই দ্রুতগতিতে মোড় ঘোরার চেষ্টা করেন এবং ফুটপাতে উঠে যান, যা খুবই ভয়ংকর।” তবে সর্বশেষ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি চালকের অন্য কোনো গাফিলতি ছিল, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল, যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। তবে এবারের গ্রীষ্মকালীন এই ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমাজের অপ্রত্যাশিত কিছু ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র। আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, মিয়ামি, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ মোট ১১টি মার্কিন শহরে এবারের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠা এই শহরগুলোতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন রকম এক উন্মাদনা। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের কাছে এবারের বিশ্বকাপটি যেন শুধুই একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেটিংঅ্যাডভাইস ডটকম (DatingAdvice.com)-এর দেশব্যাপী পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। জরিপ অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসের অবিবাহিত বা সিঙ্গেল মানুষদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই জানিয়েছেন যে, তারা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে ডেটে গেছেন বা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক ডেটিংয়ের হার সবচেয়ে বেশি থাকা শহরগুলোর তালিকায় অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস। শুধু একটি শহরই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো আয়োজক শহরের সামগ্রিক চিত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া আয়োজক শহরগুলোর ৬৮ শতাংশ সিঙ্গেল মানুষের দাবি, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের ডেটিং জীবনে বেশ ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নতি এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অবৈধ অভিবাসন ও জালিয়াতি বন্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে মার্কিন প্রশাসন। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা 'ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস' (ইউএসসিআইএস) অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের প্রতারণা ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প এবং ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি. এডলোর নেতৃত্বে মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার সততা, স্বচ্ছতা ও সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পুরো অভিবাসন ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপব্যবহার রুখতে সাধারণ মানুষের তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে ইউএসসিআইএস। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে যে কেউ চাইলে তাদের বিশেষ অনলাইন টিপ ফর্মের (Online Tip Form) মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অভিবাসন জালিয়াতির ঘটনা সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট বা অভিযোগ আকারে জমা দিতে পারবেন। এর ফলে খুব সহজেই জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রশাসন। ইউএসসিআইএস-এর এই নতুন অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় এইচ-১বি (H-1B) ভিসা, এইচ-২বি (H-2B) ভিসা, ইবি-৫ (EB-5) ইনভেস্টর ভিসা, রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum), চুক্তিভিত্তিক ভুয়া বিয়ে এবং অন্যান্য সকল প্রকার ইমিগ্রেশন সুবিধার অপব্যবহার বা জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৈধ উপায়ে অভিবাসন প্রক্রিয়া সচল রাখা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে এই অনলাইন টিপ ফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট প্রধান এবং ভারপ্রাপ্ত কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো (সিএফপিবি) পরিচালক রাসেল ভটকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের হাউস ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির এক উত্তপ্ত শুনানিতে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন মুসলিম কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব। বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত শুনানিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিয়ে দু’জনের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়, যার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। শুনানিতে রাশিদা তালিব রাসেল ভটকে প্রশ্ন করেন, তিনি কাদের জন্য কাজ করেন। জবাবে ভট বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের জন্য কাজ করেন। তখনই তালিব তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়বদ্ধতা প্রেসিডেন্টের প্রতি নয়, বরং মার্কিন জনগণের প্রতি। তিনি বলেন, “ভুল। আপনি প্রেসিডেন্টের জন্য নন, আপনি আমেরিকার জনগণের জন্য কাজ করেন।” এই সংলাপ শুনানির সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তে পরিণত হয়। এদিনের শুনানির মূল বিষয় ছিল সিএফপিবির ছয় মাসের কার্যক্রম ও সংস্থাটির ভবিষ্যৎ। ভোক্তাদের আর্থিক অধিকার রক্ষার জন্য ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার নেতৃত্বে থেকে রাসেল ভট ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই, বিভিন্ন বিধিমালা বাতিল এবং সংস্থার কার্যক্রম সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এসব পদক্ষেপের বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি করেন। শুনানিতে ভট তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, সিএফপিবি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তার দাবি, প্রশাসনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে সেই চাপ কমেছে এবং সংস্থাটি আরও জবাবদিহিমূলক হয়েছে। রিপাবলিকান সদস্যরাও তার এই অবস্থানকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অভিযোগ করেন, ভটের নেতৃত্বে সিএফপিবির মূল ভোক্তা সুরক্ষা কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম ঠেকাতে সংস্থাটির যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, তা ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছে। শুনানিতে নিউইয়র্কের কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস এবং কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট ম্যাক্সিন ওয়াটার্সও ভটের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের ইঙ্গিত দেন। রাসেল ভট ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট পরিচালক (অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট-ওএমবি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রক্ষণশীল নীতিমালা প্রস্তাবনা ‘প্রজেক্ট ২০২৫’-এর অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে পরিচিত। ফেডারেল সরকারের আকার ছোট করা, নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং ব্যয় সংকোচনের পক্ষে তার অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। হাউস ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির এই শুনানি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন সিএফপিবির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে সংস্থাটির স্থায়ী পরিচালক হিসেবে নতুন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ফলে ভটের দায়িত্বকাল এবং তার নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে কংগ্রেসে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।