ইউরোপের অন্যতম অভিজাত ও সুরক্ষিত আবাসিক এলাকা স্পেনের লা জাগালেতা। মারবেলার কাছাকাছি পাহাড়ঘেরা এই এলাকায় বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ী, রাজপরিবারের সদস্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। তবে এখানকার একটি বিশাল প্রাসাদকে ঘিরে বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহলে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এটি কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গোপন ভিলা?
স্থানীয়ভাবে অনেকে প্রাসাদটিকে ‘শাতো পুতিন’ নামে চেনেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সম্পত্তিটির সঙ্গে পুতিনের নাম জড়িয়ে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত তার মালিকানার কোনো প্রত্যক্ষ ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত প্রাসাদটি আয়তন ও বিলাসিতার দিক থেকে এলাকাটির অন্যতম আলোচিত স্থাপনা। প্রায় সাড়ে চার একর জমির ওপর নির্মিত এই এস্টেট থেকে ভূমধ্যসাগর, জিব্রাল্টার প্রণালী এবং পরিষ্কার দিনে উত্তর আফ্রিকার উপকূল পর্যন্ত দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িটিতে একাধিক সুইমিং পুল, ব্যক্তিগত সিনেমা হল, ব্যায়ামাগার, হেলিপ্যাড এবং বহু গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ভবনের নিচে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ অংশ ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বাড়িটির বিলাসবহুল বৈশিষ্ট্য যতটা আলোচনায় এসেছে, তার চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে মালিকানার রহস্য। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্পত্তিটি রুশ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এর ফলে প্রকৃত মালিক কে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কয়েক বছর ধরে ইউরোপীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং দুর্নীতিবিরোধী কর্মীরা সম্পত্তিটি নিয়ে তদন্ত চালিয়েছেন। রুশ বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনও একসময় বিষয়টি খতিয়ে দেখেছিল। তবে তাদের অনুসন্ধানেও ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি মালিকানার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের গোপন সম্পদ নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহের কারণে এমন সম্পত্তিগুলোকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়। কিন্তু গুঞ্জন ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। কোনো সম্পত্তির সঙ্গে কারও নাম জড়ালেই সেটি তার মালিকানাধীন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এ কারণেই স্পেনের এই রহস্যময় পাহাড়চূড়ার প্রাসাদ এখনো কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। বিলাসিতা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার কারণে এটি ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিগত এস্টেটগুলোর একটি হলেও, এটি সত্যিই ভ্লাদিমির পুতিনের ‘গোপন ভিলা’ কি না—সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রশাসনিক সূত্র এ দাবিকে নাকচ করে বলছে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় আলোচনার পরিবেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে। একই সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটন ছেড়েছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, রোববার থেকেই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। এই আলোচনার অংশ হিসেবে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে আগে থেকেই সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। তবে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার আইআরজিসি ঘোষণা দেয়, কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, ওই অঞ্চলে প্রবেশ করা জাহাজগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ভিন্ন তথ্য দিয়ে জানায়, শনিবারই অন্তত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এসব জাহাজে করে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল পরিবহন করা হচ্ছে। সেন্টকম আরও বলেছে, নৌপথে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল বজায় রাখতে তারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে এবং পরবর্তী সময়েও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো টোল বা ফি নেওয়া হবে না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা রাখছে, তার বিনিময়ে এমন ব্যবস্থা নেওয়া অযৌক্তিক হবে না। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার অভিযোগ করেছেন, ১৪ দফা অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রথম শর্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শর্তে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির কথা ছিল। তিনি বলেন, চুক্তি যদি বাস্তবে কার্যকর না হয়, তাহলে অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। লেবাননের পরিস্থিতিও এখনো অস্থির। ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল বলছে, তারা হিজবুল্লাহর হামলার জবাব দিয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলকে লেবাননে অবাধভাবে চলাচল করতে দেবে না। ইসরায়েল স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তির সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত নয়। ফলে লেবাননে দখল করা অঞ্চলগুলোতে তাদের সেনা উপস্থিতি বজায় থাকবে। যদিও দেশটির সামরিক বাহিনী বলছে, তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে থাকবে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে দুই দেশ। ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অপরদিকে মার্কিন দলে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, তিনি এখনো বিশ্বাস করেন যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তার কাছে নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তারা আলোচনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেবেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, এই আলোচনায় তাদের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির অংশ নিতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও এই আলোচনা সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এসব মরদেহ সমুদ্রপথে ভেসে উপকূলে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী, নৌবাহিনী এবং হাসপাতাল সূত্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ১০ জনের সাক্ষ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ৬১ জন যাত্রী ছিলেন। ফলে এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো মিশর সীমান্তসংলগ্ন লিবিয়ার তবরুক শহরের উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মরদেহগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে মারাত্মকভাবে পচে গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমুদ্রের স্রোতের কারণে আগামী দিনগুলোতেও আরও মরদেহ ভেসে আসতে পারে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবরুক রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবীরা সাদা সুরক্ষা পোশাক পরে পাথুরে উপকূল থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন। পরে সেগুলো সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে সংরক্ষণ করে শনাক্তকরণের জন্য পাঠানো হয়। লিবিয়া বহু বছর ধরেই আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারের পতনের পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। সেই সুযোগে মানবপাচারকারী চক্রগুলো অভিবাসীদের ইউরোপে পাঠানোর জন্য লিবিয়ার উপকূলকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। দারিদ্র্য, সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছর হাজারো মানুষ মরুভূমি পেরিয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। এরপর ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রায়ই এসব যাত্রা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন পথ। প্রতি বছর শত শত মানুষ নৌকাডুবি, ঝড় কিংবা অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রাণ হারান। এদিকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জরুরি চিকিৎসা ও সহায়তা কেন্দ্র জানিয়েছে, খুমস শহরের উপকূলে পৃথক আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই নৌকাটিও সমুদ্রে উল্টে গিয়েছিল। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় বা তারা কোন দেশের নাগরিক, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা আবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় অভিবাসীদের জীবন কতটা ঝুঁকির মুখে থাকে, তা সামনে এনে দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরির দাবি জানিয়ে আসছে, যাতে মানুষকে এমন প্রাণঘাতী যাত্রার ঝুঁকি নিতে না হয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার আগামী সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য অবজারভার এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে নিজের বিদায়ের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। তবে ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে তার সরকারের দায়িত্ব পালনের দিকেই মনোযোগী রয়েছেন। ফলে পদত্যাগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অবজারভারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্টারমার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এমনকি পদত্যাগের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমারের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবার পার্টির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সোমবারের মধ্যে স্টারমারের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাইছেন বলেও জানিয়েছে অবজারভার। ব্রিটিশ রাজনীতিতে গত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে শুক্রবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওইদিন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টের একটি আসনে জয় লাভ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় বার্নহামের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও গত শুক্রবারই স্টারমার স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো চ্যালেঞ্জ এলে তিনি তা মোকাবিলা করবেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাধ্যমে যেন লেবার পার্টিকে দুর্বল না করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কেয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করে এবং দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় ফিরে আসে। সে সময় তিনি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যেই তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে। সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অনেকগুলোই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপের মতো বিষয়গুলো নিয়ে জনঅসন্তোষও বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার যদি সত্যিই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে সোমবারের সম্ভাব্য ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের। সূত্র: রয়টার্স, দ্য অবজারভার