সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট হলিউডে ১০০ বছরের পুরোনো পানির পাইপ ফেটে প্লাবিত সড়ক-ঘরবাড়ি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৭:৪৩
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট হলিউডে ১৯১৬ সালে বসানো একটি শতবর্ষ পুরোনো পানির পাইপ ফেটে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সানসেট বুলেভার্ড এবং হলোওয়ে ড্রাইভ এলাকায় হঠাৎ করেই এই বিপত্তি ঘটে। শুক্রবার সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের ওই বিশাল ধাতব পাইপটিতে একটি বড় গর্ত ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অংশ ঝুলে থাকতে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের শাসনামলে এই পাইপলাইনটি স্থাপন করা হয়েছিল।

 

হঠাৎ পাইপ ফেটে রাস্তায় প্রবল বেগে পানি আছড়ে পড়লে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। পানির তোড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং রাস্তার মাঝখানে সিঙ্কহোল বা বিশাল গর্ত তৈরি হয়ে দুজন ব্যক্তি তাতে পড়ে যান। তবে তারা অক্ষত আছেন বলেই জানা গেছে। এছাড়া এলাকার জনপ্রিয় 'ডায়ালগ ক্যাফে'সহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিচতলার অ্যাপার্টমেন্ট এবং আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই আকস্মিক ও ভয়াবহ ছিল যে, একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা জানান, হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করলে তা আটকানোর কোনো উপায়ই তাদের ছিল না। তবে ওয়েস্ট হলিউডের মেয়র জন হেইলম্যান সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে এলাকার সব বাসিন্দা নিরাপদে আছেন।

 

এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস ডিপার্টমেন্ট অব ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার (এলএডিডব্লিউপি)-এর কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পাইপের ২৫ ফুটের একটি অংশ নিরাপদে সরিয়ে ফেলার জটিল কাজটি শুরু করতে ইতোমধ্যেই প্রায় ২ লাখ গ্যালন পানি সেচে ফেলেছেন। মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ৮ ইঞ্চি ব্যাসের একটি বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু বাসিন্দাকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তাদের পানি সাশ্রয় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সানসেট বুলেভার্ডের কিছু অংশ ও ফুটপাত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মেট্রো বাস চলাচলের পথও পরিবর্তন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো পাইপলাইনটি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে ১০ মাইল দীর্ঘ নতুন পাইপ বসানোর পরিকল্পনা থাকলেও, ২০৩১ সালের আগে সেই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের কানাডা শুল্ক ও ‘লেক আমেরিকা’ সিদ্ধান্তে নেই মার্কিনদের সমর্থন

কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বাড়ানো এবং লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে নেই অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক। রয়টার্স/ইপসোসের নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।   তিন দিন ধরে অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চালানো জরিপে ১ হাজার ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। এতে দেখা গেছে, কানাডীয় পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। আরও ২১ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি।   কানাডা কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর নির্দেশ দেন ট্রাম্প।   যুক্তরাষ্ট্রে এমনিতেই জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।   ‘লেক আমেরিকা’ নিয়েও আপত্তি কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের পাশাপাশি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশ একমত নন।   গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেন। তবে এই নাম পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কানাডা, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নাম ব্যবহারে বাধ্য করার ক্ষমতা এই সিদ্ধান্তে নেই।   রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে মাত্র ১৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বা কোনো উত্তর দেননি।   লেক অন্টারিও নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত।   এর আগে ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথাও বিভিন্ন সময় বলেছেন তিনি।   নির্বাচনের আগে চাপে ট্রাম্প রয়টার্স/ইপসোসের জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ট্রাম্পের অনুমোদনযোগ্যতার হার তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ছে।   আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই করবে। ফলে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।   রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপের সম্ভাব্য ভুলের সীমা ৪ শতাংশ পয়েন্ট। আমেরিকাবাংলা/অলি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৯:২১
তেল উৎপাদন চুক্তি

চীন-রাশিয়ার হাতছাড়া, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে এবার মার্কিন কোম্পানি

আনা মারিয়া গার্সিয়া

পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরা প্রথম নারী মারিয়া গার্সিয়া, মেক্সিকোয় গড়লেন ইতিহাস

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: সারাহ আলড্রিচ

শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার
শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৪ নিখোঁজ শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬০ দিনের এক যৌথ ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ২৪ নিখোঁজ শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘অপারেশন নিউ ডন’ নামে এই অভিযানে ১১টি ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা সংস্থা অংশ নেয়।    মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৪০টি নতুন ফেডারেল ফৌজদারি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ডাকাতি, অপহরণ, হত্যাকাণ্ড, ফেন্টানিল ও অন্যান্য মাদক পাচার, অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ এবং শিশুদের শোষণের মতো গুরুতর অপরাধ রয়েছে।    অভিযানটি শুরু হয় ১ মে এবং এতে এফবিআই, ডিইএ, এটিএফ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা অংশ নেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা পৃথক পরিচয়ের বদলে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।    অভিযানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফলগুলোর একটি হলো ২৪ শিশুকে খুঁজে বের করা। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অনেককেই অপহৃত বা নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছিল। পরে শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।    অভিযানে মাদক পাচার ও সহিংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিইএর কর্মকর্তারা বলেছেন, মাদক পাচার ও সহিংস অপরাধের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়েছে।    তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘোষণায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সবাইকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৩০৫ জনের মধ্যে ১৭৯ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে।    ফেডারেল কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেশন নিউ ডনের লক্ষ্য ছিল শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় সহিংস অপরাধ এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যাহত করা। শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার ঘটনাটি অভিযানের মানবিক দিকটিকেও সামনে এনেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৩:৪১
টাইমস স্কয়ারে দুইজনকে ছুরিকাঘাত

টাইমস স্কয়ারে দুইজনকে ছুরিকাঘাত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নারী নিহত

মাকে বাঁচাতে মায়ের বয়ফ্রেন্ডকে ছুরিকাঘাত ১২ বছরের ছেলের

"চুপ করে থাকতে পারেনি" মাকে বাঁচাতে মায়ের বয়ফ্রেন্ডকে ছুরিকাঘাত ১২ বছরের ছেলের

কিশোর বয়সে গাড়ি চুরি, ১৫ বছরেই বাবা, সেই তরুণই আজ জনস হপকিন্সের সার্জারি প্রধান

কিশোর বয়সে গাড়ি চুরি, ১৫ বছরেই বাবা, সেই তরুণই আজ জনস হপকিন্সের সার্জারি প্রধান

আমেরিকায় চাকরির ইমেইলে ভালো ইমপ্রেশনের জন্য ১০টি জরুরি নিয়ম জানা প্রয়োজন
আমেরিকায় চাকরির ইমেইলে ভালো ইমপ্রেশনের জন্য ১০টি জরুরি নিয়ম জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্রে ইমেইল শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একজন কর্মীর professional communication-এরও অংশ। তাই ম্যানেজার বা সহকর্মীকে ইমেইল করার সময় Subject থেকে Greeting, ভাষা, বানান এবং শেষের Signature পর্যন্ত কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর বিভিন্ন গাইডলাইনেও professional email-এ পরিষ্কার Subject, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ভাষা, সঠিক বানান এবং পাঠানোর আগে ইমেইল পুনরায় পড়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   ইমেইলের শুরুতেই Subject Line পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। শুধু “Question” বা “Update” না লিখে কী বিষয়ে ইমেইল করা হচ্ছে, তা উল্লেখ করা ভালো। যেমন, “Request for Day Off - October 25” অথবা “Update on Inventory Task - Store #1234”।   Greeting-এর ক্ষেত্রেও পেশাদার ভাষা ব্যবহার করা জরুরি। “Bro”, “Dude” বা অতিরিক্ত informal সম্বোধন এড়িয়ে চলুন। পরিচিত হলে “Hi John,” অথবা “Hello Mr. Smith,” ধরনের সম্বোধন ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিস্থিতি ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি অনুযায়ী Greeting কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।   ইমেইলের মূল বক্তব্য সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি হওয়া ভালো। প্রথমে কেন লিখছেন তা বলুন, এরপর প্রয়োজনীয় Details দিন এবং শেষে আপনি কী চান বা কী ধরনের Action আশা করছেন তা পরিষ্কার করুন। অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যার বদলে ছোট, সহজে বোঝা যায় এমন বাক্য ব্যবহার করা উচিত।   ভদ্র ও professional শব্দের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। “Please”, “Thank you”, “I appreciate your time” এবং “Could you please...” এর মতো বাক্য ইমেইলের Tone-কে পেশাদার রাখতে সাহায্য করে। তবে একই শব্দ বারবার ব্যবহার করে ইমেইল কৃত্রিম করে তোলার প্রয়োজন নেই।   অসুস্থতার কারণে কাজে যেতে না পারলে ইমেইল হতে পারে এমন: Subject: Sick Leave Today Hi [Manager Name], I am not feeling well today and am unable to come to work. I will keep you updated. Thank you for your understanding. Best, [Your Name]   Day Off চাইতে হলে সরাসরি কারণ জানিয়ে অনুমোদন চাওয়া যায়। যেমন, কোনো family appointment থাকলে জানিয়ে বলতে পারেন যে আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে সহকর্মীর সঙ্গে কাজ সমন্বয় করবেন।   দেরিতে অফিসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যা না দিয়ে সংক্ষেপে জানানো ভালো। যেমন, “I am stuck in traffic and will be approximately 15 minutes late. I apologize for the inconvenience.”   ইন্টারভিউয়ের পর Thank You Email পাঠানোও professional practice হিসেবে কাজে আসতে পারে। সেখানে ইন্টারভিউয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে Position বা Team সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করা যায়। যেমন, “Thank you for taking the time to meet with me today. I enjoyed learning more about the team and am excited about the opportunity.”   আরও কিছু বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত। ইমেইলে ALL CAPS ব্যবহার করলে তা অনেক সময় চিৎকার করার মতো মনে হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় Emoji, Joke, Sarcasm, Gossip বা আবেগপ্রবণ মন্তব্যও professional email-এ না রাখাই ভালো। Department of Labor-এর professional email etiquette guidance-এ সংক্ষিপ্ত, ব্যবসায়িক ভাষা ব্যবহার এবং পাঠানোর আগে spelling ও পুরো বার্তাটি আবার পড়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    সবশেষে Send বাটনে চাপ দেওয়ার আগে অন্তত একবার To, Subject, নাম, বানান, Attachment এবং মূল বক্তব্য পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে ভুল ব্যক্তির কাছে ইমেইল চলে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ ইমেইল সবসময় নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম নাও হতে পারে।    যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর সাম্প্রতিক Employment Workshop গাইডেও professional email-এর ক্ষেত্রে পরিষ্কার Subject Line, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ভাষা, ভদ্র Tone এবং যথাযথ Closing ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    তাই আমেরিকায় চাকরির ক্ষেত্রে ভালো ইমেইলের সহজ সূত্র হলো: পরিষ্কার Subject, professional Greeting, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ভদ্র ভাষা এবং Send করার আগে একবার ভালোভাবে Check।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১:৭
চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা

চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা, শেষে ৯১১-এ ফোন: ‘আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'

টেক্সাসে শরিয়া আইন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শরিয়ার প্রকৃত অর্থ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের কঠোর অবস্থান, প্রতিবাদে মুসলিমরা

২০ ডলারে শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর

২০ ডলারে শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর! নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা

0 Comments