খেলাধুলা

বিশ্বকাপে স্পেনের ম্যাচের গ্যালারিতে আলো ছড়ালেন লামিন ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১২:৫৮
স্প্যানিশ ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামালের এবং প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া | ছবি: সংগৃহীত
স্প্যানিশ ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামালের এবং প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া | ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে বেশ হতাশাজনকভাবে মিশন শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ফেভারিট দল স্পেন। তবে মাঠের সেই চরম হতাশার মধ্যেও গ্যালারিতে স্পেনের জার্সি গায়ে আলো ছড়িয়ে এবং নিজের অনন্য ফ্যাশন দিয়ে বিশ্ব ফুটবল ভক্তদের নজর কেড়েছেন স্প্যানিশ ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামালের নতুন প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া।

 

আজ রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে গ্যালারিতে বসে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এবং ভালোবাসা প্রকাশ করতে ইনেস একটি বিশেষ বিশ্বকাপ আউটফিট বেছে নিয়েছিলেন।

 

বিশ্বখ্যাত ক্লাব বার্সেলোনার উদীয়মান ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া হলেন স্পেনের সেভিল শহরের একজন ২১ বছর বয়সী অত্যন্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মডেল। সম্প্রতি তিনি নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে তাকে স্পেনের জাতীয় দলের ঐতিহাসিক লাল রঙের জার্সি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইনেসের পরা সেই জার্সির পেছনে তার প্রেমিক লামিন ইয়ামালের অফিশিয়াল ‘১৯ নম্বর’ এবং নাম লেখা ছিল। এই ছবির ক্যাপশনে তিনি বেশ কিছু হার্ট এবং প্রার্থনা করার ইমোজি যুক্ত করে ইয়ামাল ও স্পেনের প্রতি তার গভীর সমর্থন প্রকাশ করেন।

 

চলমান বিশ্বকাপে স্পেনের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রায় ইয়ামালের ফর্ম এবং ফিটনেস নিয়ে দলের ভেতরে বেশ কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ার কারণে ইয়ামাল এখনো পুরোপুরি ১০০ ভাগ ফিট হয়ে উঠতে পারেননি। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন না এবং ম্যাচের ৭১তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগ একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করায় ইনেস গার্সিয়াকে গ্যালারিতে বসে হাত মাথায় দিয়ে আফসোস করতে দেখা যায় এবং ম্যাচ শেষে তিনি মাঠে গিয়ে হতাশ ইয়ামালকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রদান করেন।

 

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর আজ ২১ জুন আটলান্টা স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিজেদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নেমেছে স্পেন। ইনজুরি কাটিয়ে এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো স্পেনের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন লামিন ইয়ামাল। ম্যাচের শুরুতেই দুর্দান্ত খেলে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথম হাফের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত স্পেন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, যার বাকি দুটি গোল করেছেন মিকেল ওয়ারজাবাল। গ্যালারিতে বসে প্রেমিকের এই অনবদ্য গোল উদযাপন করতে দেখা গেছে ইনেস গার্সিয়াকে।

 

লামিন ইয়ামাল এবং ইনেস গার্সিয়ার এই মিষ্টি রোমান্স গত কয়েক মাস ধরে পুরো স্পেনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত মে মাসে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা জয়ের পর অফিশিয়াল সেলিব্রেশন ডিনারে তারা দুজনে প্রথমবার হাত ধরে সবার সামনে হাজির হয়ে নিজেদের সম্পর্কের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকে ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপে ইনেসকে তার পাশে ছায়ার মতো অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। ফুটবল ভক্তরা আশা করছেন, প্রেমিকার এমন সরব উপস্থিতি ও ভালোবাসা ইয়ামালকে ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

খেলাধুলা

View more
পেশাদার রেসলিং ও সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা থেকে অবসর নিলেন ব্রক লেসনার। ছবি: সংগৃহীত
রেসলিংকে বিদায় বললেন ১০বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রক লেসনার

পেশাদার রেসলিংকে বিদায় জানালেন ডব্লিউডব্লিউইর ১০বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রক লেসনার। ৪৯ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, শুধু রেসলিং নয়, প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার সব অধ্যায় থেকেই তিনি অবসর নিচ্ছেন।   মঙ্গলবার ‘দ্য প্যাট ম্যাকাফি শো’-তে লেসনার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, গত শনিবার অনুষ্ঠিত ডব্লিউডব্লিউই সামারস্ল্যামে খেলা ম্যাচটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। এর আগে রেসলম্যানিয়ার পরই অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে শেষবারের মতো আরেকটি ম্যাচ খেলার ইচ্ছায় তিনি রিংয়ে ফিরেছিলেন।   লেসনার বলেন, রেসলম্যানিয়ার পরই তার মনে হয়েছিল আর খেলা সম্ভব নয়। তবু নিজের ভেতরে কিছুটা শক্তি বাকি আছে মনে হওয়ায় শেষবারের মতো রিংয়ে নামেন। সামারস্ল্যামের সেই ম্যাচের পরই তিনি নিশ্চিত হন, এবার সত্যিই বিদায় বলার সময় এসেছে।   দক্ষিণ ডাকোটার একটি খামারবাড়িতে বেড়ে ওঠা লেসনার ২০০০ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার হয়ে এনসিএএ ডিভিশন-১ জাতীয় রেসলিং চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর ডব্লিউডব্লিউইতে যোগ দিয়ে ২০০২ সালে ডোয়েন ‘দ্য রক’ জনসনকে হারিয়ে প্রথম বিশ্ব শিরোপা জেতেন। ক্যারিয়ারে তিনি মোট ১০টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। এছাড়া দুটি রয়্যাল রাম্বল, কিং অব দ্য রিং এবং মানি ইন দ্য ব্যাংক জয়ের কৃতিত্বও রয়েছে তার। ২০১৪ সালে রেসলম্যানিয়ায় আন্ডারটেকারের টানা ২১ ম্যাচের অপরাজিত রেকর্ড ভেঙেও ইতিহাস গড়েন তিনি।   রেসলিংয়ের বাইরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগে মিনেসোটা ভাইকিংসের হয়ে সংক্ষিপ্ত সময় খেলেছেন। পরে মিশ্র মার্শাল আর্টসে নাম লিখিয়ে ২০০৮ সালে মাত্র চতুর্থ লড়াইয়েই ইউএফসির হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৫ সালে এমএমএ থেকে অবসর নিলেও ২০১৬ সালে শেষবারের মতো একটি লড়াইয়ে অংশ নেন।   অবসরের ঘোষণা দিয়ে লেসনার বলেন, একজন সাধারণ খামারবাড়ির ছেলে হয়েও বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমই তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন ধরে রেখে নিরলস পরিশ্রম করার আহ্বানও জানান এই কিংবদন্তি তারকা।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১:৫৬
নারী ফুটবলার ফাতেন বেন ওমর আল আজিজি। ছবি:সংগৃহীত

সাঁতরে স্পেন যাওয়ার পথে মরক্কোর নারী ফুটবলারের মৃত্যু

বিশ্বখ্যাত পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং তাঁর সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেস।ছবি:সংগৃহীত

অবশেষে বিয়ে করছেন রোনালদো! চূড়ান্ত বিয়ের দিনক্ষণ

ইসরায়েলকে ৩৯-৩৮ পয়েন্টে হারিয়ে ৭৫ বছর পর দলগত পদক জিতেছে মিশর। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বমঞ্চে ফেন্সিংয়ে ইসরায়েলকে হারিয়ে ৭৫ বছর পর ব্রোঞ্জ জয় মিশরের

বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনড় ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত
ফিফার বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন হলে বিশ্বকাপ খেলবে না ইউরোপের ৫৫ দেশ

ফিফার বিশ্বকাপসহ প্রধান আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ফিফার সব ধরনের প্রতিযোগিতা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং এর ৫৫টি সদস্যদেশ। ফলে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   জরুরি বৈঠক শেষে উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ৫৫টি সদস্যদেশ সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ফিফা যদি বিশ্বকাপ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়, তাহলে উয়েফাভুক্ত কোনো জাতীয় দল ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। সংস্থাটির ভাষ্য, বিশ্বকাপ ফুটবলের ঐতিহ্য ও বৈশ্বিক সম্পদ, এটি কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বিক্রির জন্য নয়।   বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিফার প্রস্তাবিত নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’। ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২০০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যায়নের এই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু অংশ দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। এই উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিশ্বজুড়ে সদস্যদেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে বলে দাবি করেছে ফিফা।   ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোকে পাঠানো প্রস্তাবে বলেছেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে ২০২৭-২০৩০ মেয়াদে প্রতিটি সদস্যদেশের জন্য ‘ফিফা ফরওয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ২ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ফিফার দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির ওপর খেলাধুলাবিষয়ক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ফিফার হাতেই থাকবে।   তবে উয়েফা এই প্রস্তাবকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিকল্পনা যথাযথ আলোচনা বা অংশীজনদের মতামত ছাড়াই অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মতে, জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর সামনে এক ধরনের বিকল্পহীন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পরিকল্পনায় সম্মতি না দিলে আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   উয়েফা আরও বলেছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়, যাদের প্রধান লক্ষ্য মুনাফা অর্জন। তাদের আশঙ্কা, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো খেলাধুলার স্বার্থের পরিবর্তে বাণিজ্যিক লাভের বিষয় বিবেচনা করে নেওয়া হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ যদি সত্যিই ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জন করে, তবে বিশ্বকাপের ক্রীড়ামূল্য ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। কারণ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় অনেক দলই উয়েফার সদস্য। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোর নকআউট পর্বেও ইউরোপীয় দলগুলোর আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।   ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে আগামী সেপ্টেম্বরে এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদনও প্রয়োজন। ফলে ইউরোপের পাশাপাশি অন্যান্য মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর অবস্থানও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে কনকাকাফও প্রস্তাবটির প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যদিও তারা এখনও বয়কটের ঘোষণা দেয়নি।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ২১:৫৮
বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি

বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি

খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন নারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল মাঠে পুরুষ খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত নারী রেফারি

ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম হাফটাইম শোতে অংশ নিলেও কোনো পারফরম্যান্স ফি নেননি জাস্টিন বিবার, বিটিএস, শাকিরা ও ম্যাডোনাসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শোতে বিটিএস, জাস্টিন বিবারসহ তারকারা কত পারিশ্রমিক পেলেন!

থিয়াগো মেসিতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা!
থিয়াগো মেসিতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা!

২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির উত্তরসূরি থিয়াগো? আর্জেন্টাইনদের নতুন স্বপ্নের কেন্দ্রে জ্যেষ্ঠ পুত্র।   লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষের পথে—এমন আলোচনা যতই জোরালো হোক, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কল্পনায় নতুন এক স্বপ্ন জায়গা করে নিচ্ছে। সেই স্বপ্নের নাম থিয়াগো মেসি। বাবার পথ অনুসরণ করে একদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামতে পারে মেসির জ্যেষ্ঠ ছেলে—এমন সম্ভাবনাকে ঘিরেই ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মধ্যে।   বর্তমানে ১৩ বছর বয়সী থিয়াগো মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করছে। ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে সে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তার অগ্রগতি নজর কাড়ায় অনেক সমর্থকই ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তাকে দেখার আশা করছেন।   নেটমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন আলোচনায় বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সময় থিয়াগোর বয়স হবে প্রায় ১৮ বছর। সে সময়ের মধ্যে যদি তার ফুটবলীয় উন্নতি প্রত্যাশিত গতিতে এগোয় এবং পেশাদার পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তাহলে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই; সবকিছুই নির্ভর করবে তার পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ওপর।   থিয়াগোর সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ও রয়েছে। জন্মসূত্রে স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও, বিভিন্ন সময় সে আর্জেন্টিনার জার্সিতেই খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। বাবার মতোই আকাশি-নীল জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তার স্বপ্ন বলে উল্লেখ করেছে একাধিক সাক্ষাৎকারে।   মেসি পরিবারের ফুটবল চর্চা অবশ্য শুধু থিয়াগোতেই সীমাবদ্ধ নয়। তার দুই ছোট ভাই মাতেও ও চিরোও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ফুটবল খেলছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির সন্তানের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়। তাই থিয়াগোর বিকাশের এই পর্যায়ে অযথা চাপ না দিয়ে তাকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   লিওনেল মেসির অসাধারণ ক্যারিয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে থিয়াগো নিজেকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থকের কাছে নতুন প্রজন্মের এই ফুটবলার ইতোমধ্যেই ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনার নাম।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১১:২৭
স্প্যানিশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে সাফল্য উদযাপনের সময় তরুণ ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

মাঠে গোল উদযাপন করতে গিয়ে সেজদা দেওয়ায় মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার স্পেনের ফুটবলার লামিন ইয়ামাল

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কাল্পনিক। ছবি:সংগৃহীত

৩৫০ মিটার উপরে হবে ২০৩৪ বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ? সৌদির ভাইরাল ‘স্কাই স্টেডিয়াম’ নিয়ে যা জানা গেছে

চিবুক সুন্দর করার সফল অস্ত্রোপচারের পর সম্পূর্ণ নতুন লুকে ধরা দিলেন ব্রাজিলীয় তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

বিশ্বকাপের পর মুখের সার্জারি করালেন ব্রাজিল ফুটবল তারকা ভিনিসিউস

0 Comments