স্বাস্থ্যখাত

ছবি: সংগৃহীত
দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

আগামী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান। সোমবার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, মানবিক ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।   প্রধানমন্ত্রী জানান, শহর ও গ্রাম—উভয় পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পরিকল্পিত নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী থাকবেন, যা নারীর কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ উল্লেখ করে তিনি ‘One Health’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণার ওপর গুরুত্ব দেন। এই ধারণায় মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা তুলে ধরে সমন্বিতভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়।   তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানের সমন্বয়ে গবেষণা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই।   স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ‘প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম’—এই নীতিতে বিশ্বাস করে এবং ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ই-হেলথ কার্ড চালু, স্বাস্থ্যবীমা সম্প্রসারণ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) জোরদার এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।   স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথাও বলেন। বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গঠন সম্ভব হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
সাড়ে পাঁচ বছর হয়নি হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর সাড়ে পাঁচ বছর ধরে এমন কোনো কর্মসূচি হয়নি, যদিও নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর এটি আয়োজনের কথা।   সোমবার সংসদে এনসিপির এমপি আখতার হোসেন-এর নোটিশের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় দেশে হামের বিস্তার ও তা মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।   আখতার হোসেন তার বক্তব্যে জানান, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ ছাড়িয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন অন্তত ২০ জন। হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা ও আইসিইউ সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।   জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টিকা সংগ্রহে অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে শুধু হাম নয়, আরও কয়েক ধরনের টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।   তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।   পরবর্তী ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শিশুদের জন্য ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।   স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুতের কাজ চলছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি-এর উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের অক্সিজেন সরবরাহ প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে।   তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহে ইউনিসেফ-এর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ থেকে ভিডিও কলে জকিগঞ্জ হাসপাতালের কার্যক্রম দেখলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যেও তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিডিও কলে পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।   সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ইনডোরসহ বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেবার মান সম্পর্কে খোঁজ নেন।   পরিদর্শনের একপর্যায়ে চারজন চিকিৎসকের মধ্যে একজনকে অনুপস্থিত পাওয়া গেলে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।   ঈদের ছুটির মধ্যেও দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গম এলাকায় তাদের সেবাই সাধারণ মানুষের ভরসা। তিনি রোগীদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে মতামত নেন।   তৃণমূল পর্যায়ে সময়মতো ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্বাস্থ্যসেবায় কোনো অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। এ সময় তিনি জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত করতে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালুর বিষয়েও কাজ চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত
তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাজেটে অগ্রাধিকার, আধুনিক প্রশিক্ষণের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।   বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   কেন এই উদ্যোগ তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেবার মান বাড়ানো এবং গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতেই এই বড় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   কীভাবে বাস্তবায়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।   কোথায় ও আর কী ঘোষণা সিরাজগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মহাসড়কের পাশে নির্মিত ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা ও জনগণকে হাসপাতালের সম্পদ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এ খাতে বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। চিকিৎসায় গাফিলতি রোধে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন কি না, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে বলেও জানান তিনি।   চিকিৎসকদের নিয়মিত অফিসে বসে রোগী দেখার নির্দেশনার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের হাসপাতালগুলোকে নিজেদের সম্পদ মনে করার এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের পাশে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালুর আশ্বাসও দেন।   এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিরাজগঞ্জে কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ড. এম এ মুহিত। সভায় জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
চিকিৎসাসেবা পৌঁছাবে মানুষের দুয়ারে, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসাসেবা পৌঁছাবে মানুষের দুয়ারে, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও সেবাকেন্দ্রিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।   এ খাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।     মন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও সর্বজনীন করতে সরকার কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য, মানুষ যেন চিকিৎসকের পেছনে ঘুরে না বেড়ায়; বরং চিকিৎসাসেবাই মানুষের কাছে পৌঁছে যায়—এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।   নরসিংদীতে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ যেসব স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান এখনো চালু হয়নি, সেগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসিংদীতে দুটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।   পরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন কিংবা যারা ভোট দেননি—সব নাগরিকের প্রতিই সরকারের সমান দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।   এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, সিভিল সার্জন সৈয়দ মো. আমিরুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. কলিমুল্লাহ, নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0