আন্তর্জাতিক

দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১:১৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান। সোমবার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, মানবিক ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী জানান, শহর ও গ্রাম—উভয় পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পরিকল্পিত নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী থাকবেন, যা নারীর কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ উল্লেখ করে তিনি ‘One Health’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণার ওপর গুরুত্ব দেন। এই ধারণায় মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা তুলে ধরে সমন্বিতভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানের সমন্বয়ে গবেষণা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই।

 

স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ‘প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম’—এই নীতিতে বিশ্বাস করে এবং ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ই-হেলথ কার্ড চালু, স্বাস্থ্যবীমা সম্প্রসারণ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) জোরদার এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

 

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথাও বলেন। বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গঠন সম্ভব হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাস গড়লেন জাকিয়া, প্রথম আফগান নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন জাকিয়া আহমাদ, যিনি পরিচিত মহলে 'রিভার' নামেও সমাদৃত। প্রথম আফগান নারী হিসেবে তিনি এই অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে নেপালের খুম্বু অঞ্চলের থেম গ্রামের দুই নেপালি গাইড দাওয়া তেনজিং শেরপা এবং ফুরবা গ্যালজেন শেরপাকে সাথে নিয়ে ৮,৮৪৮ মিটার উঁচু এই পর্বতচূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেন তিনি। পাকিস্তানের সরকারি পর্বতারোহণ সংস্থা 'আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান' বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   পেশায় মানবাধিকার কর্মী ও বর্তমান জীবনে একজন শরণার্থী জাকিয়ার পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতা পুনর্দখলের পর প্রাণ বাঁচাতে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তার এই সফল এভারেস্ট আরোহণ আফগানিস্তানের জন্য এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশের নারী পর্বতারোহীদের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। জাকিয়ার এই অর্জনকে বিশ্বজুড়ে নারী, শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত সম্প্রদায়ের মানুষের অদম্য সাহসিকতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তার সমর্থকেরা।   চরম উচ্চতা এবং পদে পদে মৃত্যুঝুঁকি ও বিপজ্জনক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও হিমালয় পর্বতমালার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্ট প্রতি বছর সারা বিশ্বের পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করে। এদিকে, জাকিয়া আহমাদের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার একই দিনে এভারেস্ট জয় করেছেন পাকিস্তানি পর্বতারোহী সালমান আতিকও। আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান জানিয়েছে, বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মানাসলু জয়ের ঠিক এক বছর পূর্তিতে তিনি এই নতুন সাফল্য পেলেন। ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট করার হায়দরি সালমানের এই অদম্য সংকল্প ও সাহসিকতাকে পাকিস্তানের তরুণ অভিযাত্রীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২:৩৮
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল রুটে এভারেস্ট জয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড, এক দিনেই চূড়ায় ২৭৪ আরোহী

ছবি: সংগৃহীত

৫ বছরে ১৫০০% প্রবৃদ্ধি, বিশ্বের প্রায় সব দেশের জিডিপিকে ছাড়াল এনভিডিয়া

ছবি: সংগৃহীত

অন-অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ অর্ধেকে নামিয়ে আনল থাইল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি কেনা নয়, ভাড়াতেই স্বস্তি, যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণ করছে চীনের তরুণরা

চীনে একসময় একটা কথা খুব প্রচলিত ছিল নিজের বাড়ি না থাকলে জীবনে পুরোপুরি স্থির হওয়া যায় না। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে চাকরি, বিয়ে কিংবা সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে বাড়ির মালিক হওয়ার বিষয়টা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।   এখন চীনের অনেক তরুণই বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া বাসায় থাকাকে বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করছেন। তাদের যুক্তি, অনিশ্চিত অর্থনীতির এই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা কাঁধে নেওয়ার চেয়ে স্বাধীনভাবে থাকা ভালো।   সংবাদমাধ্যম রয়টার্স সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের আবাসন বাজার এখনো বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নতুন বাড়ি বিক্রি নেমে এসেছে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ২০২১ সালে যেখানে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বেশি, সেখানে এখন তা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।   বেইজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার কাই ইয়োচেংও আপাতত বাড়ি কেনার চিন্তা বাদ দিয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, আগে মনে হতো নিজের একটা ফ্ল্যাট থাকতেই হবে। কিন্তু এখন হিসাব-নিকাশ করলে ভাড়ায় থাকাই তার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়।   চীনের বড় শহরগুলোতে এই মানসিক পরিবর্তন এখন বেশ চোখে পড়ছে। আগে তরুণদের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি কেনার চাপ থাকলেও এখন অনেকে সেটাকে জরুরি মনে করছেন না। কেউ ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছেন, কেউ আয় স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ ইচ্ছা করেই দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিষয়টি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের নগরজীবনের মতো হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরেই বড় শহরগুলোর তরুণদের বড় একটি অংশ ভাড়া বাসায় থাকেন। উচ্চ বাড়িমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ঋণের চাপের কারণে সেখানে বাড়ি কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন চীনের তরুণদের মধ্যেও একই ধরনের বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।   চীনের আবাসন খাত একসময় দেশটির অর্থনীতির অন্যতম বড় শক্তি ছিল। নির্মাণ কোম্পানিগুলো ব্যাপক হারে ঋণ নিয়ে নতুন নতুন প্রকল্প তৈরি করেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক এলাকায় চাহিদার চেয়ে বেশি ফ্ল্যাট তৈরি হয়। পরে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্বল অর্থনীতির কারণে পুরো খাত ধাক্কা খেতে শুরু করে।   বিশ্বজুড়ে আলোচিত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভারগ্রাণ্ডের আর্থিক সংকট সেই সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসে। পরে কান্ট্রি গার্ডেনের মতো আরও কয়েকটি বড় কোম্পানিও চাপে পড়ে। অনেক ক্রেতা সময়মতো ফ্ল্যাট বুঝে পাননি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আস্থার সংকট তৈরি হয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক তরুণ এখন বড় শহর ছেড়ে ছোট শহরে চলে যাচ্ছেন। কেউ কম খরচে জীবনযাপন করতে চাইছেন, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বড় বিনিয়োগ এড়িয়ে চলছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের নতুন প্রজন্ম এখন আগের তুলনায় জীবনকে অন্যভাবে দেখছে। তাদের কাছে শুধু সম্পত্তি নয়, মানসিক স্বস্তি, স্বাধীনতা এবং আর্থিক নমনীয়তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   একসময় যে দেশে নিজের বাড়িকে সফল জীবনের প্রধান প্রতীক মনে করা হতো, সেই দেশেই এখন অনেক তরুণ বলছেন “এই মুহূর্তে ভাড়াতেই ভালো আছি।”

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৭, ২০২৬ ২৩:২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২৭ মে

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করলো বিশ্বের বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

৩০০০ বছরের পুরোনো গুপ্তধনে ‘ভিনগ্রহের’ ধাতুর সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

অধ্যাপক ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। ছবি: সংগৃহীত
কোনো জুলুমই থামাতে পারেনি তাঁর স্বপ্ন: বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের দূত ড. আসিফ মিজান

ঢাকা - স্টাফ রিপোর্টার: সোমালিয়ার মোগাদিশুর বিখ্যাত 'দারু সালাম ইউনিভার্সিটি' (ডিএসইউ)-র উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রশাসনের এই সর্বোচ্চ চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্বকারী অধ্যাপক মিজানের এই শীর্ষ অবস্থান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মেধা ও নেতৃত্বের এক অনন্য গৌরবগাথা। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি বিদেশের মাটিতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে তিনি সাফল্যের সাথে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্য দক্ষতা ও সুনামের সাথেই পালনে করে চলছেন।   গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষাজীবন ও পাণ্ডিত্য ড. মিজানের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের ভিত্তি গড়ে উঠেছে তাঁর অসামান্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞা ও দক্ষতার ওপর। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সরকার ও রাজনীতি' বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষা ইন্সটিটিউট থেকে তিনি অর্জন করেছেন তিনটি স্নাতকোত্তর (MSS, MACPM ও MIR&D) এবং 'সুশাসন ও মানবাধিকার' বিষয়ের ওপর পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর শিক্ষকতা জীবনে তিনি সুশাসন, মানবাধিকার ও অপরাধবিজ্ঞানের (Criminology) মতো জটিল বিষয়ে পাঠদান ও গবেষণামূলক অবদান রেখে চলেছেন।   সংগ্রাম ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা অধ্যাপক মিজানের এই বর্ণিল সাফল্যগাথা স্রেফ এক দিনে আসেনি, এর পেছনে রয়েছে এক কঠিন রাজনৈতিক ত্যাগ ও লড়াইয়ের ইতিহাস। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। এর জের ধরে ২০০০ সালে তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করা হয় এবং পরবর্তীতে একের পর এক মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হয়ে, চরম নিপীড়নের মুখে ২০১৯ সালে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।   বিশ্বমঞ্চে পদচারণা ও সমাজসেবা রাজনৈতিক নির্বাসনে গিয়েও দমে যাননি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাংতা গ্রামের এই কৃতি সন্তান। প্রয়াত শিক্ষাবিদ মৌলভি জোবায়েদ আলী ও নূরজাহান বেগমের সুযোগ্য পুত্র ড. মিজান বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মেধার পরিচয় দিতে শুরু করেন। ডিএসইউ-এর উপাচার্য হওয়ার আগে তিনি সোমালিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটি অব মোগাদিশু এবং বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যথাক্রমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং সরকার ও রাজনীতি বিভগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সোমালিয়ার আলফা ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ব্যুরোতেও অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি একজন সমাজসেবক হিসেবে তিনি 'রোটারি ক্লাব অব ঢাকা স্কলারস'-এর প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-সম্পাদকের ভূমিকাও পালন করছেন।   মানবতা ও তরুণদের প্রতি বার্তা নিজের এই দীর্ঘ অভিযাত্রাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক পরম বিজয় উল্লেখ করে অধ্যাপক মিজান বলেন, "স্বৈরাচার যেখানে আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চেয়েছিল, সৃষ্টিকর্তা সেখানে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছেন।" দেশ-বিদেশের তরুণ সমাজ ও বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তায় তিনি আহ্বান জানান, কোনো জুলুম, নির্বাসন বা কঠিন পরিস্থিতি যেন কারও স্বপ্নের সীমানা কেড়ে নিতে না পারে। আত্মবিশ্বাস ও মেধাকে শাণিত রেখে সবাইকে মানবকল্যাণে উৎসর্গীকৃত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।   এশিয়া ও আফ্রিকার সহকর্মী এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরার এই মহৎ মিশন কেবল শুরু।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৬, ২০২৬ ১:১
ছবি: সংগৃহীত

মস্তিষ্কের জীবন্ত কোষে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম আধুনিক ডেটা সেন্টার

ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ঝুঁকিতে শিশুর মানসিক বিকাশ

ভারতীয় রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফাতিমা তাহিলিয়া | ছবি: সংগৃহীত

কেরালা বিধানসভায় ইতিহাস; প্রথম মুসলিম নারী সদস্য নির্বাচিত হলেন ফাতিমা

0 Comments