আমেরিকা

ভুয়া এফবিআই কর্মকর্তার ফাঁদে ২ লাখ ডলারের স্বর্ণ হারালেন বৃদ্ধা, ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই যুবক গ্রেপ্তার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৭:৩৩
ছবি: মানন শাহ ও অঙ্কিত গুপ্তা। ওহাইওতে স্বর্ণ প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত (সংগৃহীত)
ছবি: মানন শাহ ও অঙ্কিত গুপ্তা। ওহাইওতে স্বর্ণ প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত (সংগৃহীত)

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ভুয়া এফবিআই কর্মকর্তার পরিচয়ে ৭৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতারণার ঘটনাটি শুরু হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। পরে চলতি বছরের মার্চে পরিচালিত এক আন্ডারকভার অভিযানে তাদের আটক করা হয়। সম্প্রতি ওয়েস্টলেক পুলিশ গ্রেপ্তারের ভিডিও ও অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ করার পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

 

গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন মানন শাহ ও অঙ্কিত গুপ্তা। ওহাইওর ওয়েস্টলেক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তারা একটি সংঘবদ্ধ স্বর্ণ প্রতারণা চক্রের হয়ে মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহের কাজে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে মামলাটি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

 

তদন্তে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্টে ওই বৃদ্ধার কম্পিউটারে একটি ভুয়া নিরাপত্তা সতর্কবার্তা (পপ-আপ) প্রদর্শিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তার কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে। কিছুক্ষণ পর নিজেকে এফবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ফোনে যোগাযোগ করেন এবং বলেন, একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ তদন্তের কারণে তার ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 

প্রতারকরা তাকে বোঝায়, অর্থ নিরাপদ রাখতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে স্বর্ণ কিনে তা কথিত সরকারি প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দিতে হবে। সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে ওই নারী ধাপে ধাপে প্রায় ২ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের স্বর্ণ কিনে নির্ধারিত ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করেন।

 

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়। তিনি বিষয়টি ওয়েস্টলেক পুলিশকে জানালে তদন্তকারীরা একটি আন্ডারকভার অভিযান পরিচালনা করেন। আসল স্বর্ণের পরিবর্তে নকল স্বর্ণ ব্যবহার করে আরেকটি সংগ্রহ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। নির্ধারিত স্থানে প্যাকেজ নিতে এলে মানন শাহ ও অঙ্কিত গুপ্তাকে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দুই অভিযুক্ত দাবি করেন, তারা পুরো প্রতারণা চক্র সম্পর্কে কিছু জানতেন না এবং শুধু একটি প্যাকেজ সংগ্রহের নির্দেশ পেয়েছিলেন। তবে তদন্তকারীরা তাদের বক্তব্য যাচাই করছেন এবং প্রতারণা চক্রের মূল হোতা ও অন্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।

 

ওয়েস্টলেক পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘গোল্ড বার স্ক্যাম’ নামে পরিচিত এ ধরনের প্রতারণা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতারকরা সাধারণত নিজেদের এফবিআই, ট্রেজারি বিভাগ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখায় এবং নগদ অর্থ বা স্বর্ণ ‘নিরাপদে সংরক্ষণের’ অজুহাতে তা সংগ্রহ করে।

 

ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি সংস্থা কখনোই নাগরিকদের নগদ অর্থ, স্বর্ণ বা অন্য মূল্যবান সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা কুরিয়ারের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দেয় না। এ ধরনের দাবি বা ফোনকল পেলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: মানন শাহ ও অঙ্কিত গুপ্তা। ওহাইওতে স্বর্ণ প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত (সংগৃহীত)
ভুয়া এফবিআই কর্মকর্তার ফাঁদে ২ লাখ ডলারের স্বর্ণ হারালেন বৃদ্ধা, ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই যুবক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ভুয়া এফবিআই কর্মকর্তার পরিচয়ে ৭৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতারণার ঘটনাটি শুরু হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। পরে চলতি বছরের মার্চে পরিচালিত এক আন্ডারকভার অভিযানে তাদের আটক করা হয়। সম্প্রতি ওয়েস্টলেক পুলিশ গ্রেপ্তারের ভিডিও ও অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ করার পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।   গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন মানন শাহ ও অঙ্কিত গুপ্তা। ওহাইওর ওয়েস্টলেক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তারা একটি সংঘবদ্ধ স্বর্ণ প্রতারণা চক্রের হয়ে মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহের কাজে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে মামলাটি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।   তদন্তে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্টে ওই বৃদ্ধার কম্পিউটারে একটি ভুয়া নিরাপত্তা সতর্কবার্তা (পপ-আপ) প্রদর্শিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তার কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে। কিছুক্ষণ পর নিজেকে এফবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ফোনে যোগাযোগ করেন এবং বলেন, একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ তদন্তের কারণে তার ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।   প্রতারকরা তাকে বোঝায়, অর্থ নিরাপদ রাখতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে স্বর্ণ কিনে তা কথিত সরকারি প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দিতে হবে। সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে ওই নারী ধাপে ধাপে প্রায় ২ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের স্বর্ণ কিনে নির্ধারিত ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করেন।   ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়। তিনি বিষয়টি ওয়েস্টলেক পুলিশকে জানালে তদন্তকারীরা একটি আন্ডারকভার অভিযান পরিচালনা করেন। আসল স্বর্ণের পরিবর্তে নকল স্বর্ণ ব্যবহার করে আরেকটি সংগ্রহ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। নির্ধারিত স্থানে প্যাকেজ নিতে এলে মানন শাহ ও অঙ্কিত গুপ্তাকে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দুই অভিযুক্ত দাবি করেন, তারা পুরো প্রতারণা চক্র সম্পর্কে কিছু জানতেন না এবং শুধু একটি প্যাকেজ সংগ্রহের নির্দেশ পেয়েছিলেন। তবে তদন্তকারীরা তাদের বক্তব্য যাচাই করছেন এবং প্রতারণা চক্রের মূল হোতা ও অন্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।   ওয়েস্টলেক পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘গোল্ড বার স্ক্যাম’ নামে পরিচিত এ ধরনের প্রতারণা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতারকরা সাধারণত নিজেদের এফবিআই, ট্রেজারি বিভাগ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখায় এবং নগদ অর্থ বা স্বর্ণ ‘নিরাপদে সংরক্ষণের’ অজুহাতে তা সংগ্রহ করে।   ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি সংস্থা কখনোই নাগরিকদের নগদ অর্থ, স্বর্ণ বা অন্য মূল্যবান সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা কুরিয়ারের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দেয় না। এ ধরনের দাবি বা ফোনকল পেলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৭:৩৩
Donald Trump ছবি: Reuters

‘বোর্ড অব পিস’-এর ট্রেডমার্ক আবেদন প্রত্যাহার করল মার্কিন পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস

ছবি: সাবেক ৩ কেয়ারগিভার ম্যাকেনজি বোলফা, অব্রি গ্রানাটা ও জেড উইলিয়ামস (সংগৃহীত)

নার্সিং হোমে বৃদ্ধদের অমানবিক নির্যাতন, স্ন্যাপচ্যাটে ধারণ করা হতো ভিডিও; তিন সাবেক কেয়ারগিভারের কারাদণ্ড

DONALD TRUMP ছবি: সংগৃহীত

আমরা অপরাধীদের দেশে থাকতে দিচ্ছি না, কারণ তারা অপরাধী- ট্রাম্প

ছবি: ড. আবদুল এল-সায়েদ। প্রাইমারিতে জিতলে ইতিহাস গড়ার দৌড়ে এগিয়ে যাবেন তিনি (সংগৃহীত)
মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জিতলে ইতিহাস গড়ার পথে আবদুল এল-সায়েদ, হতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রগতিশীল রাজনীতিক ড. আবদুল এল-সায়েদ। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর হওয়ার নজির গড়তে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মুসলিম সদস্য থাকলেও সিনেটে এখন পর্যন্ত কোনো মুসলিম নির্বাচিত হননি।     মিশিগানের এই সিনেট আসনটি শূন্য হচ্ছে বর্তমান ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। সম্প্রতি রাজ্য সিনেটর ম্যালোরি ম্যাকমোরো প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেশি দুই প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রাইমারি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী ধারার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।     আবদুল এল-সায়েদের প্রচারণায় বড় শক্তি যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থন। এছাড়া কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি) এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেনও প্রকাশ্যে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।     ১৯৮৪ সালে মিশিগানের ডেট্রয়েটে জন্ম নেওয়া আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ একজন মিশরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম-আমেরিকান। তার বাবা-মা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি তিনি ডেট্রয়েট ও পরে ওয়েন কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদেও ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।     মিশিগান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় আরব-আমেরিকান ও মুসলিম অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য। বিশেষ করে ডিয়ারবর্ন, হ্যামট্রামক ও ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় কয়েক লাখ আরব-আমেরিকান ও মুসলিম বসবাস করেন। বিভিন্ন গবেষণা ও নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই জনগোষ্ঠী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করছে। গাজা যুদ্ধ, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন এবং অর্থনৈতিক নীতির মতো বিষয়গুলো মুসলিম ও আরব-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।     প্রচারণায় আবদুল এল-সায়েদ সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় কমানো, শ্রমজীবী মানুষের আয় বৃদ্ধি, করপোরেট প্রভাব কমানো এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ লাঘবের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এসব ইস্যুকে সামনে রেখেই তিনি নিজেকে প্রগতিশীল বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছেন।     তবে প্রাইমারিতে জয় পেলেই তিনি সিনেটর হয়ে যাবেন না। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাধারণ নির্বাচনে লড়তে হবে। সেই নির্বাচনেও বিজয়ী হতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস রচনা করবেন আবদুল এল-সায়েদ।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৬:৯
ছবি: টেক্সাসের সিডার পার্কে আলোচিত ঘটনার সময় তোলা বলে দাবি করা ছবি (সংগ্রহীত)

টেক্সাসে সড়কের পাশে প্রকাশ্যে মলত্যাগের ঘটনায় ক্ষোভ, অভিযুক্তের পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা

FBI ছবি: সংগৃহীত

শিকাগোতে ‘অপারেশন নিউ ডন’: ৩০৫ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৪ নিখোঁজ শিশু

ছবি: ‘লস চাপিতোস’ গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা

‘এল চাপো’র পলাতক দুই ছেলেকে ধরতে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সুলতানা রাজিয়া। ফেডারেল অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত; এখন সাজা ঘোষণার অপেক্ষা(সংগ্রহীত)
টিকটক বিরোধ থেকে অপহরণ মামলায় দোষী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানা রাজিয়া, আদালতে সাজা ঘোষণার অপেক্ষা

নিউইয়র্কে টিকটককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত অপহরণ ও সহিংসতার মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানা রাজিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি। গত ২৬ জুন ব্রুকলিনের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক ফেডারেল আদালতে বিচার শেষে এই রায় দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি সেন্টেন্সিং বা সাজা নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। আদালত এখনও সাজা ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি।     মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে চলমান ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ, আটকে রাখা এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ওই ঘটনায় সুলতানা রাজিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়।   আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি সুলতানা রাজিয়া এবং মামলার আরেক আসামিকে অপহরণসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুরি প্রায় একদিনের আলোচনা শেষে তাদের রায়ে পৌঁছায়।     এই মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস সাতজনের বিরুদ্ধে সহিংস অপহরণের অভিযোগে সুপারসিডিং অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিরোধই শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনে সহিংস অপরাধে রূপ নেয়।   ফেডারেল আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় জুরির দোষী রায়ের পরই সাজা ঘোষণা করা হয় না। এর আগে আদালতের প্রবেশন বিভাগ আসামির অতীত, অপরাধের প্রকৃতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে একটি প্রি-সেন্টেন্স তদন্ত প্রতিবেদন (Pre-Sentence Investigation Report) প্রস্তুত করে। এরপর বিচারক ফেডারেল সেন্টেন্সিং গাইডলাইন, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেন।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যায় না। আদালত এখন পর্যন্ত সুলতানা রাজিয়ার সেন্টেন্সিং শুনানির তারিখ প্রকাশ করেনি।     ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বিরোধ কীভাবে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে রূপ নিতে পারে এবং তার আইনি পরিণতি কতটা কঠোর হতে পারে, সেই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।   সেন্টেন্সিং শুনানিতে বিচারক যে সাজা ঘোষণা করবেন, সেটিই হবে সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে মামলার পরবর্তী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ধাপ। আদালতের চূড়ান্ত আদেশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তার দণ্ডের মেয়াদ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:৪৪
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে গুলিবর্ষণ, ১১ বছরের শিশুর মাথায় আটকে আছে গুলি

মেমফিসে টম লি পার্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মেমফিস সেফ টাস্কফোর্স’-এর বিশেষ টহল | ছবি: এপি

আমেরিকায় সেনার গুলিতে ২০ বছরের তরুণ নিহত: ট্রাম্পের বিতর্কিত সেনা মোতায়েন নিয়ে তোলপাড়!

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সিতে অবস্থিত মার্কিন শ্রম বিভাগের কার্যালয় ‘ফ্রান্সিস পার্কিন্স ডিপার্টমেন্ট অব লেবার বিল্ডিং’ | ছবি: গেটি ইমেজেস

গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন: আমেরিকায় বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী হওয়া আরও কঠিন করছে ট্রাম্প প্রশাসন!

0 Comments