সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সাবওয়ে

নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত, কিশোর গ্রেপ্তার
নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত, কিশোর গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্রেনে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম ড্যারেল রদ্রিগেজ। গত ১৭ অক্টোবর ম্যানহাটনের মিডটাউনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে তাঁকে গুলি করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ট্রেনে গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করায় দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে ম্যানহাটনের সেভেনথ অ্যাভিনিউ ও ওয়েস্ট ৫৩তম স্ট্রিটের কাছে অবস্থিত সাবওয়ে স্টেশনে। ওই সময় উত্তরমুখী ই ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। পরে বাগ্‌বিতণ্ডা ট্রেনের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে এবং আবার প্ল্যাটফর্মে গড়ায়। একপর্যায়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রদ্রিগেজকে উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত কিশোর ট্রেনে গাঁজা সেবন করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় রদ্রিগেজ তাঁর আচরণের প্রতিবাদ করেন। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। তদন্তকারীদের মতে, সেই বিরোধ থেকেই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ও অভিযুক্ত কিশোরের মধ্যে আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   এবিসি৭ নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত কিশোরের নাম জেভিয়ান কলিন্স বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তদন্তের অংশ হিসেবে সাবওয়ে স্টেশন ও ট্রেনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজে লাল রঙের পোশাক ও কালো ভেস্ট পরা এক ব্যক্তিকে অস্ত্র হাতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির একটি খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালান তদন্তকারীরা।   ঘটনার পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত কিশোর তাঁর আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ম্যানহাটনের মিডটাউন নর্থ পুলিশ স্টেশনে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে অভিযুক্ত কিশোরের গ্রেপ্তারের কোনো রেকর্ড ছিল না। আদালতে হাজির করার পর তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।   ঘটনার সময় সাবওয়ে স্টেশনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে যাত্রীরা মেঝেতে শুয়ে পড়েন। অনেকে দ্রুত ট্রেন ও প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক যাত্রী জানান, প্রথমে একটি গুলির শব্দ শোনার পর আরও কয়েকটি শব্দ শুনতে পান তিনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। নিরাপত্তার কারণে কিছু সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেশনে ট্রেন চলাচলেও পরিবর্তন আনা হয়।   নিহত ড্যারেল রদ্রিগেজ নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানো লিবার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় রদ্রিগেজ কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করায় তিনি এনওয়াইপিডির তদন্তকারীদের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবে।   এই হত্যাকাণ্ডের পর নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাবওয়ে ব্যবস্থায় সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল চারটি। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। তবে নিউইয়র্ক শহরের সামগ্রিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা একই সময়ে কমেছে বলে পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়। ফলে সাবওয়ের অপরাধ পরিস্থিতি এবং শহরের সামগ্রিক অপরাধের প্রবণতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, শহরের প্রতিটি বাসিন্দার ট্রেন ও সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মে নিরাপদে চলাচলের অধিকার রয়েছে। সাবওয়ের নিরাপত্তায় অগ্রগতি হলেও এ ধরনের ঘটনা বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সাবওয়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অস্ত্র বহন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।   নিউইয়র্কের সাবওয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষও এই পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেন। ব্যস্ত সময়ে একটি বিরোধ থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলবে।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক
নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক

নিউইয়র্ক শহরের মতো একটি ব্যস্ত নগরীতে সাবওয়েতে যাতায়াতের জন্য কত রাতকে 'অতিরিক্ত রাত' বলা যায়—এমন প্রশ্নে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। টিকটক ব্যবহারকারী বেকা তার এক ভিডিওতে জানতে চান, নিউইয়র্কে বসবাসকারী যাত্রীদের জন্য রাতে সাবওয়ে ব্যবহারের সর্বশেষ সময় কোনটি।   বেকা নিজে শনিবার মধ্যরাতের পর সাবওয়েতে যাতায়াত করাকে নিরাপদ মনে করেন। তিনি জানান, এলাকা, গন্তব্য এবং স্টেশন থেকে বাসার দূরত্বের মতো বিষয়গুলো রাতে সাবওয়েতে যাতায়াতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে। যদিও মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এটি একটি অনিরাপদ সিদ্ধান্ত হতে পারে।   এই বিতর্কে নেটিজেনরা বিভিন্ন ধরনের মতামত দিয়েছেন। একা যাতায়াতকারী অনেক নারীর মতে, রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সাবওয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে দলবেঁধে থাকলে যে কোনো সময়ই সাবওয়েতে ওঠা যায় বলে মনে করেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, ভিন্ন মতও রয়েছে।   একজন নারী মন্তব্য করেছেন যে, তিনি সাবওয়ের চেয়ে উবার বা অন্যান্য রাইড-শেয়ারিং চালকদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার ভয়ে বেশি থাকেন, তাই দিন বা রাতের যে কোনো সময় তিনি সাবওয়েতেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।   দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাসকারী এক বাসিন্দা তার অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, রাতে একা যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাগল বা ভবঘুরেদের চেয়েও সেইসব পুরুষদের বেশি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন যারা নির্জন পরিবেশে নারীদের একা পেয়ে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। সাবওয়েতে নিরাপত্তার কৌশল হিসেবে অনেকে রাত ১১টার পর ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে না দাঁড়ানোর এবং সবসময় ট্রেনের মাঝখানের বগিতে অপারেটরের কাছাকাছি বসার পরামর্শ দিয়েছেন।   সামাজিক মাধ্যমের এই বিতর্কের পেছনে থাকা নিরাপত্তা শঙ্কাগুলোর বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক ট্রানজিটে বছরে গড়ে দুটি খুনের ঘটনা ঘটলেও, ২০২০ সালের পর থেকে এই সংখ্যা বেড়ে গড়ে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে।   চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় সাবওয়েতে গুরুতর হামলার ঘটনা ১০ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে 'জে (J) ট্রেন'-এর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহেই এই ট্রেনে মেসিয়াস লোজানো নামের ৫৯ বছর বয়সী এক নির্মাণ শ্রমিক এক 'মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত' ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে নিহত হন, যা এই বছর সাবওয়ে সিস্টেমে ঘটা ষষ্ঠ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।  

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউ জার্সি থেকে নিউইয়র্কের দিকে হাডসন নদীর নিচে নতুন রেল টানেল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে
হাডসন টানেলের ট্রেন সংযোগ প্রকল্পে খননযন্ত্র চালু, যুক্ত হবে নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক

নিউ জার্সি ও নিউইয়র্কের মধ্যে হাডসন নদীর নিচ দিয়ে নতুন রেল টানেল নির্মাণে বড় ধাপ এগিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউ জার্সির নর্থ বার্গেনে হাডসন টানেল প্রকল্পের প্রথম টানেল খননযন্ত্র চালুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে গেটওয়ে ডেভেলপমেন্ট কমিশন। চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে যন্ত্রটি খননকাজ শুরু করবে।   প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউ জার্সি থেকে নদীর নিচ দিয়ে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন পর্যন্ত নতুন দুটি টানেল নির্মাণ করা হবে। নতুন টানেল চালু হলে বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো নর্থ রিভার টানেলের সংস্কার করা যাবে। ওই টানেলটি ১৯১০ সাল থেকে চালু রয়েছে।   প্রথম পর্যায়ে খননযন্ত্রগুলো নর্থ বার্গেনের টনেলি অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে নিউ জার্সির প্যালিসেডস পাহাড়ের নিচে টানেল তৈরি করবে। গেটওয়ে ডেভেলপমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ অংশে দুটি যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রকল্পের অন্যান্য অংশে খনন ও নির্মাণকাজ চলবে।   নতুন টানেল চালুর লক্ষ্য ২০৩৫ সাল। পুরোনো টানেলের সংস্কার শেষ করার লক্ষ্য ২০৩৮ সাল। এটি নির্মাণ শেষ হওয়ার খবর নয়; সোমবারের আয়োজনটি ছিল প্রকল্পের প্রথম খননযন্ত্র চালুর আনুষ্ঠানিক ধাপ।   এই রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন নিউ জার্সি ও নিউইয়র্কের মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন টানেল চালু এবং পুরোনোটি সংস্কার হলে দুই রাজ্যের মধ্যে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ট্রাফিক জট এড়াতে নতুন সাবওয়ে: ২৫ বছর পর চালু হলো 'ডি লাইন'

লস অ্যাঞ্জেলেসের চিরচেনা ট্রাফিক জট থেকে মুক্তি দিতে দীর্ঘ ২৫ বছর পর শহরে নতুন সাবওয়ে (ভূগর্ভস্থ ট্রেন) স্টেশন চালু হয়েছে। ১২ মাইলের যে পথ পাড়ি দিতে ব্যস্ত সময়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন পাতালপথে মাত্র ২১ মিনিটে সেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পকে লস অ্যাঞ্জেলেসের যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   শহরটির ডাউনটাউন থেকে বেভারলি হিলস পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাবওয়েটি ‘ডি লাইন’ (D Line) নামে পরিচিত। গত শুক্রবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হলিউড তারকাদের উপস্থিতি এবং ‘রাইড দ্য ডি’ (Ride the D) লেখা টি-শার্ট পরিহিত কয়েকশ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো ব্যবস্থা সবার জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর প্রধান প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অফিসার টিম লিন্ডহোম বলেন, "গড়পড়তা নাগরিকদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে যে, ইউনিয়ন স্টেশন থেকে বেভারলি হিলস এখন মাত্র ২১ মিনিটের পথ। এটি শহরটির পরিবহন ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।"   পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে মিরাকল মাইল এলাকার তিনটি স্টেশন চালু হয়েছে, যা ল্যাকমা (Lacma) এবং একাডেমি মিউজিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করেছে। আগামী বছর পরবর্তী দুটি ধাপ শেষ হলে সাবওয়েটি সরাসরি ইউসিএলএ (UCLA) এবং ওয়েস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৌঁছাবে।   উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা সেই ১৯৬০-এর দশকে করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং মাটির নিচের কঠিন স্তরের কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল। বিশেষ করে ‘লা ব্রিয়া’র মতো পিচ্ছিল আলকাতরার খনি এবং মাটির নিচে গ্যাস বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে খনন কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমনকি খনন চলাকালে উলিম্যামথ এবং আমেরিকান বাইসনের মতো কয়েকশ প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে।   শহর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ এই মেট্রো সেবা কেবল পর্যটকদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও গণপরিবহনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বব্যাপী চোখ যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে, তখন এই আধুনিক সাবওয়ে শহরটির ভবিষ্যৎ যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাবাস্সুম মে ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০