আমেরিকা

লস অ্যাঞ্জেলেসে ট্রাফিক জট এড়াতে নতুন সাবওয়ে: ২৫ বছর পর চালু হলো 'ডি লাইন'

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৮, ২০২৬ ২৩:৪৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসের চিরচেনা ট্রাফিক জট থেকে মুক্তি দিতে দীর্ঘ ২৫ বছর পর শহরে নতুন সাবওয়ে (ভূগর্ভস্থ ট্রেন) স্টেশন চালু হয়েছে। ১২ মাইলের যে পথ পাড়ি দিতে ব্যস্ত সময়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন পাতালপথে মাত্র ২১ মিনিটে সেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পকে লস অ্যাঞ্জেলেসের যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

শহরটির ডাউনটাউন থেকে বেভারলি হিলস পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাবওয়েটি ‘ডি লাইন’ (D Line) নামে পরিচিত। গত শুক্রবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হলিউড তারকাদের উপস্থিতি এবং ‘রাইড দ্য ডি’ (Ride the D) লেখা টি-শার্ট পরিহিত কয়েকশ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো ব্যবস্থা সবার জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

 

লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর প্রধান প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অফিসার টিম লিন্ডহোম বলেন, "গড়পড়তা নাগরিকদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে যে, ইউনিয়ন স্টেশন থেকে বেভারলি হিলস এখন মাত্র ২১ মিনিটের পথ। এটি শহরটির পরিবহন ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।"

 

পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে মিরাকল মাইল এলাকার তিনটি স্টেশন চালু হয়েছে, যা ল্যাকমা (Lacma) এবং একাডেমি মিউজিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করেছে। আগামী বছর পরবর্তী দুটি ধাপ শেষ হলে সাবওয়েটি সরাসরি ইউসিএলএ (UCLA) এবং ওয়েস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৌঁছাবে।

 

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা সেই ১৯৬০-এর দশকে করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং মাটির নিচের কঠিন স্তরের কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল। বিশেষ করে ‘লা ব্রিয়া’র মতো পিচ্ছিল আলকাতরার খনি এবং মাটির নিচে গ্যাস বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে খনন কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমনকি খনন চলাকালে উলিম্যামথ এবং আমেরিকান বাইসনের মতো কয়েকশ প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে।

 

শহর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ এই মেট্রো সেবা কেবল পর্যটকদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও গণপরিবহনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বব্যাপী চোখ যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে, তখন এই আধুনিক সাবওয়ে শহরটির ভবিষ্যৎ যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
এই দম্পতি হলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদিএবং তাঁর স্ত্রী পারিসা কারামনেজাদ। ছবি:সংগৃহীত
স্বপ্নের নারীকে আগেই ছবিতে এঁকেছিলেন শিল্পী, এক বছর পর হুবহু সেই চেহারার নারীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ, প্রেম, অতঃপর বিয়ে!

২০০৮ সালে ইরানি শিল্পী আহাদ সাদি মায়ের বিয়ের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে কল্পনায় এঁকেছিলেন তার ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গিনীর একটি প্রতিকৃতি। প্রায় এক বছর পর তাবরিজের একটি প্রদর্শনীতে সেই ছবিটি দেখতে গিয়ে শিল্পী পারিসা কারামনেজাদ অবাক হয়ে আবিষ্কার করেন, আঁকা নারীর সঙ্গে তার নিজের চেহারার আশ্চর্য মিল রয়েছে। পরে সেই পরিচয়ই গড়ায় প্রেম ও বিয়েতে।   আহাদ সাদি নিজের বিশেষ আগুননির্ভর শিল্পকৌশল ‘আজারনেগারি’ ব্যবহার করে প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছিলেন। মায়ের প্রশ্নের জবাব হিসেবে কল্পনা থেকে আঁকা সেই ছবির সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোনো মানুষের মিল পাওয়া যাবে, এমনটা তখন তার ধারণাতেও ছিল না।   প্রায় এক বছর পর তাবরিজে একটি প্রদর্শনীতে বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন পারিসা। সেখানে আহাদের আঁকা প্রতিকৃতিটি দেখে তিনি নিজের চেহারার সঙ্গে ছবির নারীর মিল লক্ষ্য করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি শিল্পীর সঙ্গে কথা বললে দুজনেই এই অদ্ভুত মিল দেখে বিস্মিত হন।   এরপর তাদের পরিচয় তৈরি হলেও সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের পরিণতি ঘটেনি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আবার যোগাযোগ হয় দুজনের। পরে ইস্তাম্বুলে আহাদের একটি প্রদর্শনীতে তাদের দেখা হয়। সেখানে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর আহাদ পারিসাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।   অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রস্তাব পাওয়ার পর খুব বেশি সময় নেননি পারিসা। পরদিনই তিনি আহাদের প্রস্তাবে সম্মতি জানান।   ইরানি সংবাদমাধ্যমের পুরোনো প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলা হয়েছিল, আহাদ যেন নিজের ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গিনীর মুখটি বাস্তবে তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই ক্যানভাসে এঁকে ফেলেছিলেন। এক বছর আগে কল্পনায় আঁকা একটি প্রতিকৃতি পরে বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে মিলে যাওয়ার ঘটনাটি তাই তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে ওঠে।   শিল্পীর মায়ের করা সাধারণ একটি প্রশ্ন থেকেই শুরু হয়েছিল গল্পটির প্রথম অধ্যায়। আর সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে আঁকা একটি ছবি শেষ পর্যন্ত আহাদের জীবনের বাস্তব প্রেমকাহিনির অংশ হয়ে যায়।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৬:৪০
চাঁদে প্রথম পা রাখা নীল আর্মস্ট্রং ও তার বাড়ি। ছবি:সংগৃহীত

চাঁদে প্রথম পা রাখা নীল আর্মস্ট্রংয়ের শৈশবের বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারে

ডাক্তার রোগীকে চোখের চিকিৎসা দিচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত

আমেরিকায় ফ্রিতে চোখের চিকিৎসা , কিন্তু কোথায় যাবেন জানেন কি?

ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত টেক্সাসের ব্যবসায়ী

আইসিইর হাতে আটক হবু স্ত্রী, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত টেক্সাসের ব্যবসায়ী

স্ত্রীকেই হত্যার অভিযোগ ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধের
স্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রাখতে, স্ত্রীকেই হত্যার অভিযোগ ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ৯১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, স্ত্রীকে হত্যার পর ওই ব্যক্তি তাদের জানান, তিনি কেবল স্ত্রীর কাছে আগে দেওয়া একটি ‘প্রতিশ্রুতি’ রক্ষা করেছেন। ঘটনাটি সামনে আসার পর বৃদ্ধ বয়স, গুরুতর অসুস্থতা ও জীবনাবসানের সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খবর পেয়ে ওই দম্পতির বাড়িতে পৌঁছানোর পর বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তদন্তের একপর্যায়ে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।   শেরিফের দপ্তরের তদন্তকারীদের কাছে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, স্ত্রীর সঙ্গে তার আগে একটি বোঝাপড়া হয়েছিল। স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে এমন অবস্থায় পৌঁছালে তাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।   তবে কারও অনুরোধ বা পূর্বসম্মতি থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তির জীবন শেষ করা ফ্লোরিডার আইনে বৈধ নয়। সেই কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য তদন্তে উঠে এলেও তা নিজে থেকে হত্যার অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয় না।   মামলাটিতে এখন তদন্তকারীরা ঘটনার আগে দম্পতির পরিস্থিতি, স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রমাণ যাচাই করছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতেই হবে।   ঘটনাটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান বা ‘মেডিক্যাল এইড ইন ডাইং’ নিয়ে চলমান বিতর্ককেও সামনে এনেছে। দেশটির কিছু অঙ্গরাজ্যে কঠোর শর্তে মৃত্যুপথযাত্রী যোগ্য রোগীদের চিকিৎসকের সহায়তায় নিজের জীবনাবসানের জন্য ওষুধ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে ফ্লোরিডায় এ ধরনের ব্যবস্থা বৈধ নয়।   এ ধরনের আইনি ব্যবস্থাতেও পরিবারের কোনো সদস্য নিজে রোগীর জীবন শেষ করতে পারেন না। রোগীর সক্ষমতা, চিকিৎসাগত অবস্থা, একাধিক অনুরোধ এবং চিকিৎসকের নির্ধারিত প্রক্রিয়াসহ কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।   ফ্লোরিডার এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষার’ দাবি তাই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি মূল্যায়ন আলাদাভাবে হবে। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনের চোখে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৩:১৭
তীব্র পানি সংকটে হাজারো আমেরিকান

তীব্র পানি সংকটে হাজারো আমেরিকান, এখনো নীরব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ফ্রিতে এই ৫টি জায়গায় পেতে পারেন খাবার

আমেরিকায় খাবারের খরচ সামলাতে হিমশিম? ফ্রিতে এই ৫টি জায়গায় পেতে পারেন খাবার

এইচ ওয়ান বি ও জে ওয়ান ভিসার জন্য বড় ধাক্কা!

এইচ ওয়ান বি ও জে ওয়ান ভিসার জন্য বড় ধাক্কা! অনুদান বন্ধের পরিকল্পনা এনআইএইচের

রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি ওগলস। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েও প্রাইমারিতে হারলেন মুসলিমবিরোধী মন্তব্য করা অ্যান্ডি ওগলস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন থাকা সত্ত্বেও টেনেসির রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হয়েছেন কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস। ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে সাবেক অঙ্গরাজ্য কৃষি কমিশনার চার্লি হ্যাচারের কাছে প্রায় ৬ শতাংশ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। মুসলিমদের নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েক মাস ধরে সমালোচনার মুখে ছিলেন ওগলস।   ওগলস ২০২২ সালে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হন এবং পরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান। এবারের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওগলসকে সমর্থন করেন। এমনকি তার পক্ষে প্রচারণামূলক টেলিফোন সমাবেশেও অংশ নেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসনও ওগলসকে সমর্থন করেছিলেন।   তবে রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত জয় পাননি ওগলস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী চার্লি হ্যাচার টেনেসির সাবেক কৃষি কমিশনার। রাজ্যের গভর্নর বিল লিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা হ্যাচারকে সমর্থন করেছিলেন।   ওগলসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি ছিল মুসলিমদের নিয়ে তার মন্তব্য। চলতি বছরের ৯ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “Muslims don’t belong in American society. Pluralism is a lie.” অর্থাৎ, “মুসলিমরা আমেরিকান সমাজের অংশ নয়। বহুত্ববাদ একটি মিথ্যা।”   তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মুসলিম অধিকার সংগঠন, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্যটির নিন্দা জানান। তার নির্বাচনী এলাকাতেও বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।   টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে ওই এলাকার একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের মুখে মুসলিমদের আমেরিকান সমাজে জায়গা নেই বলে মন্তব্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।   ওগলস এর আগেও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে মার্চে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।   তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে কংগ্রেসেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য শ্রী থানেদার ওগলসের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কারের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।   তবে ওগলসের পরাজয়ের একমাত্র কারণ তার মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্য ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা, প্রার্থীদের স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থন এবং রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন করার পরও তার পছন্দের প্রার্থী নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তবে হ্যাচারও ট্রাম্পের নীতির সমর্থক হওয়ায় ওগলসের পরাজয়কে সরাসরি ট্রাম্পবিরোধী ভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।   অ্যান্ডি ওগলসের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে গেলেন চার্লি হ্যাচার। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী চাজ মোল্ডারের সঙ্গে।   ওগলসের মুসলিমদের নিয়ে করা মন্তব্যের পর যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই নির্বাচনে এই পরাজয় যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নিয়ে আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলকে কোনো একটি বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার আগে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অন্যান্য নির্বাচনী কারণও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ২৩:৫৮
লাস ভেগাসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উপস্থিতির ছবি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

লাস ভেগাসে ট্রাম্পের চুল নিয়ে নতুন করে তুমুল আলোচনা, সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে মিম

প্রধান ফেডারেল বিচারক জন জে. ম্যাককনেল জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিএ বিরুদ্ধে রায় দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, টার্গেট করা হয়েছে বিচারকের পরিবারকেও

টেক্সাসে নির্মাণের পরিকল্পনা করা টেরাফ্যাব প্রকল্পের নকশা। ছবি: সংগৃহীত

চীনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণ করছেন ইলন মাস্ক

0 Comments