সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হাইস্কুল

ফ্লোরিডায় স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ
ফ্লোরিডায় স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি হাইস্কুলে স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রেমন্ড কার্নারকে একাধিক নারীর করা অনৈতিক ও যৌন আচরণের অভিযোগের পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।     কার্নার কোরাল স্প্রিংসের জে.পি. তারাভেলা হাইস্কুলে ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে কাজ করেন। ২০২২ সালে তিনি পুলিশ বিভাগ থেকে অবসর নেন। পরে একই বছর পার্টটাইম মৌসুমি স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে আবার কাজে ফেরেন এবং ঈগল রিজ এলিমেন্টারি স্কুলেও দায়িত্ব পালন করেন।    পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন নারী তার বিরুদ্ধে যৌন প্রকৃতির অনুপযুক্ত আচরণ ও কথাবার্তার অভিযোগ করার পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ওঠার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তদন্ত শেষে তাকে আর পুলিশ বিভাগে রাখা হয়নি।    তদন্তে যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর পর্যালোচনা করা পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।   এক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ২১ বছর বয়সে কার্নার তার পোশাকের ভেতর হাত দিয়ে টাকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন। আরেক সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তিনি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কার্নার ফেসটাইমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্নোগ্রাফি দেখান এবং অশালীন আচরণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি যৌন আচরণ ও অনুপযুক্ত মন্তব্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    লোকাল ১০-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে কার্নারের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, অশ্লীল প্রদর্শন, অপ্রাপ্তবয়স্ককে অশ্লীল উপকরণ দেখানো এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগসহ কয়েকটি নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয় বহাল রাখা হয়। তবে এগুলো অভ্যন্তরীণ তদন্তের অভিযোগ ও প্রশাসনিক findings, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়।    কেন ফৌজদারি মামলা হচ্ছে না?   ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কার্নারের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ আনা হচ্ছে না।   পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর কিছু ঘটনা আইনে নির্ধারিত স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় সেগুলোতে ফৌজদারি মামলা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।    অর্থাৎ, পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গুরুতর অভিযোগ বহাল থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে কার্নার কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   আরও ভুক্তভোগী আছেন কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ   কোরাল স্প্রিংস পুলিশ প্রধান ব্র্যাড মক ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, স্কুলে দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে শিক্ষার্থী ও পরিবারের আস্থা রক্ষা এবং পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখার দায়িত্ব আরও বেশি।   পুলিশ প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন আরও কেউ থাকতে পারেন যারা একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েও বিষয়টি কখনো জানাননি। তাদের সামনে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।    কার্নার-সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ বিভাগের সার্জেন্ট আর্নেস্তো ব্রুনার সঙ্গে ৯৫৪-৩৪৬-১২৩৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।    সূত্র: WSVN 7News, CBS News Miami

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
দলের কোচ কেভিন লোমন
খেলোয়াড়দের বাঁচাতে ছুরি হাতে  হামলাকারী ব্যক্তির সামনে দাঁড়ালেন কোচ

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় হোটেলে থাকা হাইস্কুল বেসবল দলের খেলোয়াড়দের রক্ষা করতে ছুরি হাতে এক ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছেন দলের কোচ কেভিন লোমন। ১৬ আগস্ট রাতে শাওনির একটি হোটেলে ঘটনাটি ঘটে। এক খেলোয়াড় কোচকে জানান, এক ব্যক্তি করিডরে ছুরি বের করে তার দিকে এগিয়ে আসছেন। পরিস্থিতি বুঝে লোমন খেলোয়াড়দের নিজ নিজ কক্ষে ফিরে গিয়ে পুলিশে ফোন করতে বলেন। এরপর তিনি নিজেই ওই ব্যক্তির সামনে দাঁড়ান।    পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্রিস্টোফার স্টিভেন্স। কোচ তাকে ছুরি ফেলে দিতে বললেও তিনি এগিয়ে আসতে থাকেন। একপর্যায়ে লোমন তাকে শারীরিকভাবে কাবু করে মাটিতে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।পুলিশের কাছে স্টিভেন্সের কাছ থেকে দুটি ছুরি পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ এবং জনসমক্ষে মাতাল থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।    লোমন অবশ্য নিজেকে নায়ক মনে করছেন না। তিনি বলেন, নিজের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য আবারও একই কাজ করবেন। লোমন সাবেক মেজর লিগ বেসবল খেলোয়াড়। নিউইয়র্ক মেটস ও আটলান্টা ব্রেভসের হয়ে খেলেছেন তিনি। বর্তমানে ওকলাহোমার ক্যামেরন হাইস্কুলের বেসবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।     

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে চার দিন ক্লাস করার পর শিনের আসল বয়স ও পরিচয় সামনে আসে। ছবি: সংগৃহীত
একাকিত্ব কাটাতে ২৯ বছর বয়সে কিশোরী সেজে হাইস্কুলে ভর্তি, চার দিন ক্লাসের পর ধরা পড়লেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি হাইস্কুলে কিশোরী শিক্ষার্থী পরিচয়ে ভর্তি হয়ে চার দিন ক্লাস করার পর ধরা পড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এক নারী। হায়েজিয়ং শিন নামের ওই নারী ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক শহরে। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি শিনের বিরুদ্ধে পরিচয় বা বয়স যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ভুয়া সরকারি নথি দেওয়ার অভিযোগে তৃতীয় মাত্রার অপরাধের একটি মামলা করা হয়। তিনি স্কুল বোর্ডে একটি জাল জন্মসনদ জমা দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।   ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার পর শিন প্রায় চার দিন স্কুলে যান। তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই শ্রেণিকক্ষে ছিলেন এবং স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার জমা দেওয়া নথি যাচাই করার সময় তথ্যের অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয় এবং শিনকে স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।   নিউ ব্রান্সউইক পাবলিক স্কুলের তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট অউব্রে জনসন স্কুল বোর্ডের এক বৈঠকে জানান, ভুয়া নথি জমা দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ভর্তি হতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।   তবে ঘটনাটির পেছনে সহিংসতা বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি বলে পরে নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানায়। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক ফলোআপ বিবৃতিতে পুলিশ বলেছিল, শিন কেন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তা বোঝার জন্য তদন্ত অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তখনো কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।   ঘটনার পর শিনের আইনজীবী ড্যারেন গেলবার তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। পরে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবীর ভাষ্য ছিল, শিন একাকিত্বে ভুগছিলেন এবং নিজের স্কুলজীবনের তুলনামূলক নিরাপদ ও আনন্দের সময়টিতে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। আইনজীবী দাবি করেন, তার ক্লায়েন্টের উদ্দেশ্য কারও ক্ষতি করা ছিল না।   শিনের শিক্ষাগত পরিচয়ও পরে সামনে আসে। তিনি রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ ব্রান্সউইক ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি চীনা ভাষায় একটি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন।   নিউ জার্সির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কিছু নিয়মও ঘটনাটিকে সম্ভব করে তুলেছিল। রাজ্যের আইন ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব নথি না থাকলেও দ্রুত স্কুলে ভর্তি করার বিধান রয়েছে। পরে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নথি পরীক্ষা করা যায়। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানিয়েছে, শিন এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ভুয়া জন্মসনদ জমা দিয়েছিলেন।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকজন অভিভাবক স্কুলের নিরাপত্তা ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ভুয়া নথি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আরও পর্যালোচনা করার কথা জানায়।   পরবর্তী সময়ে শিন অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মে ২০২৩ সালে মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানায়, তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে প্রথমবারের অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত একটি বিচারপূর্ব কর্মসূচিতে তিন বছর অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।   ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে ভুয়া পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিলেন, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে শিক্ষার্থী বা স্কুলের কর্মীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্র: নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক, ক্যাম্পাস লকডাউন

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক পাওয়ার পর তাকে আটক করেছে স্কুল পুলিশ। বুধবার সকালে সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেসের সান্টি হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় পুরো স্কুল লকডাউন রাখা হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্লাস আবার শুরু হয়।   লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি ঝামেলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিকভাবে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশির সময় এক শিক্ষার্থীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়।   এরপর ওই শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেয় স্কুল পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর বয়স ও পরিচয় প্রকাশ করেনি।   ঘটনাটি ঘটে লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই। ফলে ক্যাম্পাসে বন্দুক পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুলের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।   পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সান্টি হাইস্কুল কিছু সময় লকডাউনে রাখা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে লকডাউন তুলে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাসে ফিরে যায়।   ঘটনায় কাউকে গুলি করা হয়েছে বা কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দুকটি কী অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং সেটি আগে কোনোভাবে ফায়ার হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে বিপজ্জনক কোনো বস্তু নিয়ে আসা নিষিদ্ধ। এমনকি দেখতে অস্ত্রের মতো বা বিপজ্জনক বস্তু বলে মনে হতে পারে এমন জিনিসও স্কুলে না আনতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। অভিভাবকদেরও সন্তানদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিপজ্জনক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়েছে।   স্কুলের প্রথম দিনেই এমন ঘটনা ঘটায় ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।   সান্টি হাইস্কুলে পাওয়া বন্দুকটি কোথা থেকে এসেছে, শিক্ষার্থী কেন সেটি স্কুলে এনেছিল এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে কিশোর বন্দুকধারীর তাণ্ডব, শিক্ষক-ছাত্রসহ প্রাণ গেল ৭ জনের
থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে কিশোর বন্দুকধারীর তাণ্ডব, শিক্ষক-ছাত্রসহ প্রাণ গেল ৭ জনের

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি হাইস্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও এক ডজনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছাড়াও রয়েছেন অভিযুক্ত বন্দুকধারীর দাদা-দাদি। হামলা চালিয়ে তাণ্ডব চালানোর পর ঘাতক কিশোর নিজেও আত্মহত্যা করেছে।   পুলিশ জানায়, হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ‘দেবসিরিন স্কুল’-এ (The Debsirin School)। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এই হামলাকে সম্পূর্ণ 'পূর্বপরিকল্পিত' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত কিশোর মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। স্কুলে এসে হামলা চালানোর আগেই সে বাড়িতে থাকা তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে, যাদের সঙ্গে সে বসবাস করত।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘাতক কিশোরটি তার দাদার নামে নিবন্ধিত একটি আইনি অস্ত্র ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এর আগে একটি উৎসব শেষে সে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওই বন্দুকটির একটি ছবিও পোস্ট করেছিল। থাই প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত হওয়ার সময়ও কিশোরটির কাছে ৩০ রাউন্ডের বেশি তাজা গুলি অবশিষ্ট ছিল। সে যদি নিজে আত্মহত্যা না করত, তবে আরও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই চাকরি করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই কেন চাকরি করে শিক্ষার্থীরা? শুধু আয় নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি

বাংলাদেশে নবম-দশম কিংবা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো রেস্টুরেন্ট, দোকান বা কফিশপে কাজ শুরু করে, অনেকেই প্রথমে ধরে নেন পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন থেকেই সে কাজ করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে হাইস্কুলের অসংখ্য শিক্ষার্থী, এমনকি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরাও নিয়মিত খণ্ডকালীন কাজ করে। এর মূল উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন নয়; বরং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন, দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও কর্মজীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে হয় না। বিশেষ করে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, গবেষণা এবং বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতাও ভর্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।   শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, তাহলে সেটি তার দায়িত্বশীলতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। এ কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর কর্ম-অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। তবে শুধু চাকরি করলেই যে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। একাডেমিক ফলাফল, ভর্তি প্রবন্ধ, সুপারিশপত্র, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি কর্ম-অভিজ্ঞতাও সামগ্রিক মূল্যায়নের একটি অংশ মাত্র।   যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বেশি কাজ করে। আবার বিদ্যালয় চালু হলে অনেকে সপ্তাহান্তে বা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা কাজ চালিয়ে যায়, যাতে পড়াশোনার কোনো ক্ষতি না হয়। তারা বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, কফিশপ, মুদি দোকান, সুপারমার্কেট, পোশাকের দোকান, গ্রন্থাগার কিংবা স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পায়।   এই কাজের মাধ্যমে তারা শুধু কিছু অর্থ উপার্জনই করে না, বরং গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, দলগতভাবে কাজ করার অভ্যাস, দায়িত্ব পালন, সমস্যা সমাধান এবং অর্থ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা অর্জন করে। অনেক অভিভাবকও মনে করেন, এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সন্তানদের আরও আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে।   যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সৎ কাজকে ছোট করে দেখা হয় না। সমাজে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে কর্মের ধরন নয়, বরং কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধকে বেশি মূল্য দেওয়া হয়। এর একটি আলোচিত উদাহরণ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর ছোট মেয়ে Sasha Obama। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে তিনি ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মার্থাস ভিনইয়ার্ডের একটি সামুদ্রিক খাবারের রেস্টুরেন্টে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেখানে তিনি অন্য কর্মীদের মতোই সাধারণ দায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।   অন্যদিকে বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ এখনও সীমিত। অধিকাংশ পরিবারে পরীক্ষার ফলাফলকেই ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব খণ্ডকালীন কাজ বা শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম।   শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি কিংবা সীমিত পরিসরে বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করা গেলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং কর্মমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা অন্তত সেই বার্তাই দেয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: অ্যালবানি টাইমস ইউনিয়ন
হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশনে রিজেন্টস পরীক্ষা বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে নিউইয়র্ক স্টেট এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হাইস্কুল ডিপ্লোমা অর্জনের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে, যেখানে রিজেন্টস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নাও থাকতে পারে। রাজ্যের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতের মূল্যায়ন কাঠামোতে শুধুমাত্র পরীক্ষার ফল নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।   প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোটি ‘পোর্ট্রেট অব আ গ্র্যাজুয়েট’ নামে পরিচিত। এই কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, বাস্তব জীবনের দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎমুখী চিন্তাভাবনাকে মূল্যায়নের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের একাংশ এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। জেফারসন-লুইসের এক শিক্ষার্থী পিটার ইয়োডিস বলেন, রিজেন্টস পরীক্ষার চাপ অনেক সময় শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করে।   অন্যদিকে একই এলাকার আরেক শিক্ষার্থী কনর ডেরোয়িন জানান, তিনি নিজের আগ্রহ অনুযায়ী গাড়ি সংক্রান্ত কাজে যুক্ত হতে চান। তার মতে, নতুন পদ্ধতি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে।   শিক্ষা কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন কাঠামো শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে। জেফারসন-লুইস BOCES-এর জেলা সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস ডি-ফুলভিও বলেন, এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের তাদের আগ্রহের ক্ষেত্র আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। তবে শিক্ষা খাতের কিছু অংশে এ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। তাদের মতে, পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়ন কমে গেলে শিক্ষার মান ও মানদণ্ডে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।   নিউইয়র্ক শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নতুন কাঠামোর আওতায় মৌলিক পাঠ্য দক্ষতা, যোগাযোগ সক্ষমতা এবং নাগরিক সচেতনতা সহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে কিশোরী পরিচয়ে হাইস্কুলে ভর্তি ২৮ বছরের নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভুয়া পরিচয়ে হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী এক নারী নিজেকে ১৬ বছরের কিশোরী পরিচয় দিয়ে ব্রঙ্কসের একটি হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের সন্দেহের পর তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অভিযুক্তের নাম কেসি ক্লাসেন। তিনি “শামারা রাশাদ” নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে গত মাসে ব্রঙ্কসের ওয়েস্টচেস্টার স্কোয়ার একাডেমিতে ভর্তি হন। জমা দেওয়া নথিপত্রে তিনি দাবি করেন, তার জন্ম ২০১০ সালে এবং তিনি ওহাইও থেকে বোনের সঙ্গে নিউইয়র্কে এসেছেন। পুলিশের তথ্যমতে, ক্লাসেন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেন। ভুয়া পরিচয় ও বয়সের ভিত্তিতে তাকে একটি স্কুল পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়। তবে স্কুলের প্রিন্সিপালের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।   তদন্তের একপর্যায়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রোফাইল থেকে নেওয়া স্ক্রিনশটের মাধ্যমে প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ক্লাসেন প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, ক্লাসেন দাবি করেছেন, এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি এ কাজ করেছেন, যাতে বেশি সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   গত ২৭ এপ্রিল স্কুল ক্যাম্পাস থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করা, অনধিকার প্রবেশ এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আগামী ১৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটি স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, “এনরোলমেন্ট জালিয়াতি একটি গুরুতর অপরাধ, যা নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ওয়েস্টচেস্টার স্কোয়ার একাডেমি একটি শিক্ষা ক্যাম্পাসের অংশ, যেখানে মোট ছয়টি স্কুল রয়েছে। একই ক্যাম্পাসের লেহম্যান হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, অভিযুক্তের পরিচয় নিয়ে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তদন্তে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০