একাকিত্ব কাটাতে ২৯ বছর বয়সে কিশোরী সেজে হাইস্কুলে ভর্তি, চার দিন ক্লাসের পর ধরা পড়লেন নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি হাইস্কুলে কিশোরী শিক্ষার্থী পরিচয়ে ভর্তি হয়ে চার দিন ক্লাস করার পর ধরা পড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এক নারী। হায়েজিয়ং শিন নামের ওই নারী ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক শহরে। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি শিনের বিরুদ্ধে পরিচয় বা বয়স যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ভুয়া সরকারি নথি দেওয়ার অভিযোগে তৃতীয় মাত্রার অপরাধের একটি মামলা করা হয়। তিনি স্কুল বোর্ডে একটি জাল জন্মসনদ জমা দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার পর শিন প্রায় চার দিন স্কুলে যান। তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই শ্রেণিকক্ষে ছিলেন এবং স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার জমা দেওয়া নথি যাচাই করার সময় তথ্যের অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয় এবং শিনকে স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
নিউ ব্রান্সউইক পাবলিক স্কুলের তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট অউব্রে জনসন স্কুল বোর্ডের এক বৈঠকে জানান, ভুয়া নথি জমা দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ভর্তি হতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
তবে ঘটনাটির পেছনে সহিংসতা বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি বলে পরে নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানায়। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক ফলোআপ বিবৃতিতে পুলিশ বলেছিল, শিন কেন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তা বোঝার জন্য তদন্ত অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তখনো কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।
ঘটনার পর শিনের আইনজীবী ড্যারেন গেলবার তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। পরে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবীর ভাষ্য ছিল, শিন একাকিত্বে ভুগছিলেন এবং নিজের স্কুলজীবনের তুলনামূলক নিরাপদ ও আনন্দের সময়টিতে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। আইনজীবী দাবি করেন, তার ক্লায়েন্টের উদ্দেশ্য কারও ক্ষতি করা ছিল না।
শিনের শিক্ষাগত পরিচয়ও পরে সামনে আসে। তিনি রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ ব্রান্সউইক ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি চীনা ভাষায় একটি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন।
নিউ জার্সির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কিছু নিয়মও ঘটনাটিকে সম্ভব করে তুলেছিল। রাজ্যের আইন ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব নথি না থাকলেও দ্রুত স্কুলে ভর্তি করার বিধান রয়েছে। পরে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নথি পরীক্ষা করা যায়। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানিয়েছে, শিন এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ভুয়া জন্মসনদ জমা দিয়েছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকজন অভিভাবক স্কুলের নিরাপত্তা ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ভুয়া নথি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আরও পর্যালোচনা করার কথা জানায়।
পরবর্তী সময়ে শিন অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মে ২০২৩ সালে মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানায়, তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে প্রথমবারের অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত একটি বিচারপূর্ব কর্মসূচিতে তিন বছর অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে ভুয়া পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিলেন, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে শিক্ষার্থী বা স্কুলের কর্মীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreচিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে বৈষম্যের ঝুঁকিও সামনে আসছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এআইয়ের ভুল পূর্বাভাস বা পক্ষপাতপূর্ণ সুপারিশ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ঝুঁকি কমিয়ে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করতে গবেষণা করছেন ইরানি-আমেরিকান গবেষক মারজিয়েহ ঘাসেমি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক এবং স্বাস্থ্যসেবায় যন্ত্রশিক্ষার ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সের মূল অনুষদ সদস্য এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ঘাসেমি হেলদি এমএল ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এবং সেসব সিদ্ধান্তে রোগীভেদে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি তৈরি করা। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঘাসেমির গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চিকিৎসায় এআইয়ের কার্যকারিতা শুধু গড় নির্ভুলতার ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে মডেলটি সমানভাবে নির্ভরযোগ্য কি না, ভুল তথ্য থেকে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত শিখছে কি না এবং বাস্তবে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ঘাসেমির গবেষণাগারে এআই মডেলের ব্যর্থতা শনাক্ত করা, পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা, পক্ষপাত কমানো এবং চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসায় এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণে নতুন চ্যালেঞ্জ: ঘাসেমির গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে রোগীর কখন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বা জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, তা আগেভাগে অনুমান করা। এ কাজে রোগীর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক পরিমাপ, পরীক্ষাগারের ফলাফল, চিকিৎসকদের লিখিত নোট এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিনগত ও পরিবেশগত তথ্য ব্যবহার করা হয়। তবে এসব তথ্য এক ধরনের নয়। কোনো তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়, আবার কোনো পরীক্ষা করা হয় নির্দিষ্ট প্রয়োজন দেখা দিলে। চিকিৎসকদের নোটও বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়। পাশাপাশি সব রোগীর ক্ষেত্রে সমান পরিমাণ বা একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া একটি জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকেরা পুনরাবৃত্ত নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং কনভল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো যন্ত্রশিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এসব পদ্ধতির সাহায্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে কখন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তা অনুমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মডেল কোনো পূর্বাভাস দিতে পারলেই সেটিকে সরাসরি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা নিরাপদ হয়ে যায় না। ঘাসেমির মতে, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে তৈরি মডেল পূর্বাভাসের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের আগে মডেলটি কী শিখেছে এবং কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা পরীক্ষা করা জরুরি। চিকিৎসায় এআইয়ের একটি বড় উদ্বেগ হলো, প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যেই যদি বৈষম্য থাকে, তাহলে মডেলও সেই বৈষম্য শিখে নিতে পারে। কোনো রোগী গোষ্ঠীর তথ্য পর্যাপ্ত না থাকলে অথবা তথ্যের মধ্যে বিদ্যমান অসমতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে, মডেলটি এক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভালো ফল দিলেও অন্য গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা রোগ শনাক্তকরণ, রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ কিংবা চিকিৎসার সুপারিশে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শুধু সামগ্রিকভাবে একটি মডেল কতটা নির্ভুল, তা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এবং ভুলের ধরনও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ঘাসেমির গবেষণা এই ঝুঁকিগুলো শনাক্ত ও কমানোর উপায় খুঁজছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এমন পদ্ধতি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে এআইয়ের সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর পক্ষপাত সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। চিকিৎসায় এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, প্রযুক্তির নির্ভুলতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঘাসেমির গবেষণা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তবে গবেষণার উদ্দেশ্য সব ধরনের বৈষম্য ইতিমধ্যে দূর করা নয়; বরং চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এআই মডেলের সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা এবং রোগীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করা।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার করার উদ্যোগ, বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪ বছর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ালমার্ট কর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হয় কেবল এক তোড়া ফুল
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) দশম বার্ষিক সম্মাননা নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তা, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব, পেশাগত সাফল্য, জনসেবা ও কমিউনিটির প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়। নিউইয়র্কের কুইন্সে ডিএ মাইকেল ইলাজিও পার্টি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছয় শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এটি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগ ও প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের কমিশনার জেসিকা এস. টিশ বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও অবদানের প্রশংসা করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আত্মত্যাগের জন্য স্মরণ করা হয় পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে। নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক শহরে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যরা কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এ অনুষ্ঠানে তাঁদের নির্দিষ্ট অবদানের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। বাপার সভাপতি ক্যাপ্টেন এ কে এম প্রিন্স আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি পুলিশ বিভাগ ও কমিউনিটির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সার্জেন্ট এসডিএস এরশাদুর সিদ্দিকী সদস্যদের ঐক্য, পেশাগত উন্নয়ন ও কমিউনিটির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাপার সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ জামিল সরওয়ার স্পনসর, সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবক ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের শিল্পী শুভ্রদেব এবং প্রবাসের শিল্পী রাজীব ভট্টাচার্য ও শশী। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। বাপার দশম বার্ষিক সম্মাননা আয়োজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাগত অর্জন ও নেতৃত্বকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচিতি, সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে পেশাগতভাবে যুক্ত হওয়ার আগ্রহও উৎসাহিত হতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাব; অনুষ্ঠানের ফলে এমন পরিবর্তন ঘটেছে—এমন কোনো পরিমাপযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
কুইনসে বাড়িতে ঢুকে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে মৃতের অভিনয় করলেন ব্যক্তি
জুতার দোকানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাসের শিশু, নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল নক্সের
ইলহান ওমরের বাসায় ফেডারেল তল্লাশি, তদন্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল তৈরি, রোগীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই এবং বকেয়া চিকিৎসা ঋণ আদায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। চিকিৎসকের কক্ষে রোগীর কথোপকথন থেকে তথ্য সংগ্রহ, চিকিৎসাসেবার বিল নির্ধারণ এবং বকেয়া পরিশোধের বার্তা পাঠানোর কাজেও যুক্ত হচ্ছে এই প্রযুক্তি। এর মধ্যেই স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন কমানোর কারণে আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি মানুষ চিকিৎসার ঋণের চাপে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল ও ঋণ আদায়ের প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আসছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, বিল প্রস্তুত এবং অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করছে। আরবান ইনস্টিটিউট ও রবার্ট উড জনসন ফাউন্ডেশনের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজনের বেশি চিকিৎসাসংক্রান্ত ঋণ থাকার কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিমা থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও প্রায় প্রতি চারজনের একজনের চিকিৎসার ঋণ রয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও অনেক আমেরিকান চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারছেন না। ন্যাশনাল কনজিউমার ল সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এপ্রিল কুয়েনহফ বলেছেন, আগামী বছরগুলোতে স্বাস্থ্যবিমা থাকা এবং না থাকা উভয় ধরনের মানুষের চিকিৎসার ঋণ বাড়তে পারে। কারণ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় চিকিৎসার খরচের বড় অংশ রোগীদের নিজেদের বহন করতে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ বিমার খরচ বহন করতে না পেরে কভারেজ হারাতে পারেন। আবার কেউ নতুন কঠোর শর্ত পূরণ করতে না পারায় বিমার সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন। অন্যদিকে যাঁরা বিমা ধরে রাখতে পারবেন, তাঁদেরও বেশি ডিডাক্টিবল, কো-পে এবং নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্তও এই পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে ফেডারেল ব্যয় প্রায় এক লাখ কোটি ডলার কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ওবামাকেয়ারের স্বাস্থ্যবিমা বাজারে অতিরিক্ত ভর্তুকির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্ত হলে বিমাবিহীন মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফের হিসাব অনুযায়ী, এসব নীতিগত পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ অতিরিক্ত মানুষ স্বাস্থ্যবিমার বাইরে চলে যেতে পারেন। তবে এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির পূর্বাভাস, ইতিমধ্যে বিমা হারানো মানুষের সংখ্যা নয়। স্বাস্থ্যবিমাবিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়লে হাসপাতালের অনাদায়ী বিলও বাড়তে পারে। চিকিৎসা নেওয়ার পর রোগী অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে সেই খরচ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হয়। স্বাস্থ্য খাতে এই পরিস্থিতিকে অনাদায়ী চিকিৎসাসেবার ব্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আরবান ইনস্টিটিউটের একটি হিসাবে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যনীতি পরিবর্তনের ফলে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত অনাদায়ী চিকিৎসাসেবার ব্যয় ২৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপে থাকা হাসপাতালগুলো বকেয়া অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার চেষ্টা করতে পারে। এই সুযোগে চিকিৎসার বিল ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিডার নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যেটি হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের বিল তৈরি, রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা পরিচালনায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সিডারের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা ডুগান উইঙ্কি জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যবিমাবিহীন এবং মেডিকেইড পাওয়ার যোগ্য রোগীদের নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের বিমা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বিল পরিশোধের সুবিধা সম্পর্কে জানায়। সিডারের প্রযুক্তিতে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে রোগীর বিল পরিশোধের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রোগীর জন্য ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন একক মায়ের ১০ হাজার ডলারের চিকিৎসার বিল এবং উচ্চ আয়ের একজন কর্মকর্তার ৫০ ডলারের কো-পে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। রোগীর আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগাযোগ ও পরিশোধের ব্যবস্থা আলাদা করার চেষ্টা করে প্রতিষ্ঠানটি। সিডার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি কথোপকথন ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে, যার নাম কোরা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীরা চিকিৎসার বিল নিয়ে প্রশ্ন করতে এবং অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারেন। এতে হাসপাতালের বিল বিভাগে সরাসরি ফোন করার প্রয়োজন কমানো সম্ভব বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। তবে রোগীর আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিভেদে আলাদা ছাড় নির্ধারণের বিষয়টি নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন এর আগে ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে পণ্য বা সেবার দাম নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চিকিৎসার বিল আদায়ে একই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা স্বচ্ছ, সেটিও আলোচনায় এসেছে। এদিকে চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর কথোপকথন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি তৈরি এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কিছু ব্যবস্থা চিকিৎসকের কক্ষে কথোপকথন শুনে তা লিখিত নথিতে রূপান্তর করে। পরে সেই নথি ও রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে বিলের জন্য প্রয়োজনীয় কোডের পরামর্শ দেয়। ২০২৬ সালের বসন্তে ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সন্তান জন্মদানের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য রোগীদের বিল দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অথচ একই সময়ে রক্ত দেওয়ার হারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নথি তৈরি ও কোড নির্ধারণের ব্যবস্থা হাসপাতালের বিলের পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাদের আরেকটি বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, এ ধরনের প্রযুক্তির কারণে এক বছরে স্বাস্থ্যসেবার খরচ অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার বেড়েছে। তবে হাসপাতালগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশন এই ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, বিলের কোড ব্যবহারের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ থেকে হাসপাতালগুলো ভুলভাবে বিল তৈরি করছে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অযৌক্তিক খরচ বাড়ছে, তা প্রমাণিত হয় না। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসার নথি তৈরির সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিলের নির্ভুলতা বাড়ানোর দাবি করছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকপ্রতি বছরে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ডলার আয় তৈরি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আরও নির্ভুলভাবে চিকিৎসাসেবার কোড নির্ধারণের মাধ্যমে এই আয় সম্ভব। শুধু হাসপাতাল নয়, স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু বিমা প্রতিষ্ঠান অ্যালগরিদম ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবার অনুমোদন বিলম্বিত কিংবা প্রত্যাখ্যান করছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা একইভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারও কিছু চিকিৎসাসেবার আগাম অনুমোদন যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত পদ্ধতির সঙ্গে এই উদ্যোগের মিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল তৈরি থেকে বকেয়া অর্থ আদায় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থাকে বিল ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং অর্থ আদায়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে রোগীদের আর্থিক চাপ, বিলের নির্ভুলতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তা অধিকারকর্মী ও স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকেরা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসার, পুরুষদের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের হার বেশি
মারা গেছেন ছয় গ্রাহক, তবু অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ হাজার ডলার উধাও! গ্রেপ্তার ব্যাংককর্মী